নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছেই

দ্রব্যমূল্য বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। চলতি সপ্তাহেও তেলের দাম লিটার প্রতি ১১ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে মোটা চালের দামও। কেজি প্রতি এক সপ্তাহে ১ টাকা থেকে দেড় টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরা মৌসুমেও সবজির দাম আকাশছোঁয়া। বার্ড ফ্লু আতংক থাকার পরও কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগিতেও। আর তাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে চরম ব্যর্থতায় মহাজোটের নেতৃবৃন্দ মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় খোলামেলা সমালোচনা করেছেন মহাজোট সরকারের প্রধান শরীক জাতীয় পার্টি প্রধান সাবেক স্বৈর শাসক এরশাদ। ইনু বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা গোপনের সুযোগ নেই। কমকথা বলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বাজারমূল্য নিয়ে মন্ত্রীদের ভেবে চিন্তে কথা বলারও উপদেশ দেন তিনি।
Continue reading “নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছেই”

কিছু মন্ত্রীকে টিভিতে দেখা গেলেই দ্রব্যমূল্য বাড়ে : যুবলীগ

বাজার সিন্ডিকেটের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর যোগসাজসে যে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায় তার স্পষ্ট ইংগিত দিল যুবলীগ। যুবলীগের দাবী, কিছু মন্ত্রীকে টিভি পর্দায় দেখা গেলেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগ কার্যালয়ে আয়োজিত কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা সভায় নেতারা বলেন, জনগণ বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের অনেক মন্ত্রীকে ভয় পায়। তাদের পতাকাবাহী গাড়ি দেখলেই জনগণের মনে ভয় জাগে। এছাড়া কিছু মন্ত্রীকে টিভিতে দেখা গেলেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে।উল্লেখ্য কিছুদিন আগে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর  বৈঠকের পরপরই ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। এভাবে বিভিন্ন মন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি দিন দিন বিপর্যয়ের মাঝে ডুবে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মালয়েশিয়া থেকে সাড়ে চার লাখ অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিককে ফিরে আসতে হবে, মন্ত্রীর এমন দাবীর পর পরই মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ধরপাকর শুরু হয় বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ঠিক তেমনি অর্থমন্ত্রী যখন বলেন, তেত্রিশ লাখ বিনিয়োগকারীর বাজারে ধস নামানো যাবে না, তার পর পরই পুঁজিবাজার ভূপতিত হয়েছে। যুবলীগ সরাসরি কোন মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করলেও এটা স্পষ্ট যে যুবলীগের অপকর্মে যেমন সরকার বিব্রত, ঠিক তেমনি সরকারের কিছু মন্ত্রীর অপকর্মে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনও বিব্রত। তবে জনগণের তো আর বিব্রত হওয়ার সুযোগ নেই, তারা হয় বিদ্রোহী। আর তাই তো ইতোমধ্যেই সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ, যার প্রমাণ পৌর নির্বাচন।

তেলের তেলেসমাতি

আজ খুচরাবাজারে ভোজ্য খোলা তেলের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দেয়া হল ৮৬ টাকায়, বোতলজাত তেলের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত  মূল্য যোগ হবে, যা কার্যকর হচ্ছে ৭ ডিসেম্বর থেকে (ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতই ভালো জানে)। আজ রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক এক দীর্ঘ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন সাফল্যে সরকার গর্ব করতেই পারে। তবে সমস্যা অন্য খানে, তেলের ক্ষেত্রে হয় যা আর কি, সব কিছুই পিছলে যায়। তেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাফল্যও ফুটো তেলের ড্রামের মতো চুইয়ে চুইয়ে ঝড়ে যায়, নিখুঁত অভিনয়ও ফাঁস হয়ে যায়। রঙ্গমঞ্চের লিকসে উঁকি দিলেই উইকিলিকসের মতো বেড়িয়ে পড়ে বিবেক নামের চরিত্রটি, যে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে বাণিজ্যমন্ত্রীকে, ‘আজ তুমি খোলা তেলের দাম ৮৬ টাকায় নির্ধারণ করলে, এক সপ্তাহ আগে ৯১ করেছিলে তবে কোন যুক্তিতে?” Continue reading “তেলের তেলেসমাতি”