পহেলা বৈশাখ

(পহেলা বৈশাখে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চড়ক পূজাঁর দৃশ্য। ছবি ঋণ: মহলদার )

সে অনেক আগের কথা। কয়েক পুরুষ আগের কথা। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যা কিছু দেখতেন, সম্মোহিত হতেন, সবকিছুর সম্মানের কাছে, সব কিছূর শক্তির কাছে তারা নিজেদেরকে নিতান্ত ক্ষুদ্র মনে করতেন। সাপ-বিচ্ছু থেকে শুরু করে বস্তুজগতের এমন কোন শক্তি কিংবা প্রাণের অস্তিত্ব ছিল না যা মানুষের পূজার সামগ্রীতে পরিণত হয় নি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা মানুষের ভেতর সৃষ্টিকরে রেখেছিল শ্রেণীভেদ, একের স্পর্শে অন্যের পবিত্রতা নষ্ট হতো, একের উপস্থিতিতে অন্যের আসবাবপত্র, বাসন কোসন সবকিছু অপবিত্র হতো। তখনকার সমাজে ইশ্বরের বানীও ছিল গুটিকয়েক মানুষের সম্পত্তি, ইশ্বরের বানী শোনার অধিকার ছিল সংরক্ষিত। তাই তো কারো কানে ইশ্বরের বানী ভুলেও পৌঁছুলে তাকে গুনতে হতো চরম মাশুল, গলিত সীসায় বন্ধ করে দেয়া হতো তার কান । Continue reading “পহেলা বৈশাখ”

ফাল্গুন

সকালে সুনয়নার ফোনে বাসন্তী শুভেচ্ছা পেয়ে জানতে পারলাম যে আজ পহেলা ফাল্গুন। বাংলাদেশের একজন শিক্ষিত সচেতন নাগরিক হয়েও বাংলা সন তারিখের হিসেব মনে থাকে না, এ দায় কিছুতেই এড়ানো যায় না। ব্যক্তিগতভাবে আমি এবং সমষ্টিগতভাবে আমরা কেউ কি এ দায় এড়াতে পারি?

পহেলা বৈশাখে আমার বন্ধুদের কাছে একটি সাধারণ প্রশ্ন রেখেছিলাম, গতকাল চৈত্রের কত তারিখ ছিল? হতাশার কথা এই যে অধিকাংশ বন্ধুই সঠিক উত্তর দিতে পারে নি, আর যারা পেরেছে তারাও জবাবে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায় নি। এ দায় এড়ানোর আদৌ কোন পথ আছে কি?