একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু

সন্তান জন্মের আগ থেকেই সন্তান ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার হবে তা নিয়ে বাবা-মার মাঝে রিতিমত যুদ্ধ বেঁধে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তারের জয় হয়। গ্রাম বাংলায় অসুখ বিসুখ অনিবার্য নিয়তি, তাই ডাক্তারের সাথেই সাধারণ মানুষ সখ্যতা, ডাক্তারই বিপদের বন্ধু, কখনো কখনো এদের ফেরেস্তা বলে মনে হয়। বাংলার ঘরে ঘরে তাই শিশুরা মাতৃগর্ভ থেকেই ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে জন্ম লাভ করে, বেড়ে ওঠে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে, ডাক্তার হওয়াটা হয়ে যায় এইম ইন লাইফ এবং শেষতক এদের কেউ কেউ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছেও যায়। Continue reading “একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু”

বরিশাইল্যা

কাজল ভাই আর আমি এক হলে আলোচনা জমে ভালো। দু’জনই আঞ্চলিকতার ঘোর বিরোধী। কাজল ভাই নোয়াখালীর ছেলে হয়েও কখনো নোয়াখালী নিয়ে গর্ব করেন না, আমি বরিশাইল্যা বলে পরিচয় দিতেও কোন লজ্জা বোধ করি না। তাই কোন মজলিসে আঞ্চলিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে আমি বরিশালের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করি, কাজল ভাই করেন নোয়াখালী। আলাচনা যখন উত্তেজনায় রূপ নেয় তখন আমি হেসে বলি, ভাই, ভালো বলেন, মন্দ বলেন, দেশে জেলা বলতে তো ঐ দুটোই, বরিশাল আর নোয়াখালী। এতে কিছুটা কাজ হয়, পরিবেশটা হালকা হয়, কিন্তু সমাধান হয় না।
এস.এস.সি পাশের পূর্বে বরিশাইল্যা বলে কোন শব্দের সাথে পরিচয় ছিল না। লেখাপড়ার সূত্রে বরিশাল অঞ্চল ছাড়ার পর প্রতি পদে পদে আমাকে বরিশাইল্যা আর নোনা কাটা গালি হজম করতে হয়েছে। ইচ্ছে করলে আমি বরিশালের পক্ষে একগাদা দলিল পেশ করে বরিশালের গুণকৃর্ত্তন করতে পারতাম। বলতে পারতাম জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলাকে গান্ধীজী ‘সদা জাগ্রত বরিশাল’ বলে সম্বোধন করতেন, কিন্তু তাতেই কি সমাধান হতো। Continue reading “বরিশাইল্যা”