রবিনহুড

হঠাৎ করেই দাড়ি রাখা শুরু করলাম। ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি।
দুই গালে পানামা আর সুয়েজ খাল প্রবহমান বিধায় চাপ দাড়ি রাখা হয়ে উঠেনি। এতো সুন্দর দুটি নদী থাকার পরও এর কূলে ঘন বন-বনানীর সৃষ্টি হয়নি ছড়ানো ছিটানো হালকা একপশলা দাড়ি ছাড়া।
সকালবেলা কলেজে লিপি বললো, হাই রবিন, কেমন আছিস?
রবিন! আমি অবাক হয়ে তাকাই, এমন একটা নাম আমার আর আমিই জানি না! Continue reading “রবিনহুড”

বন্ধুদের বিব্রত করার মজাই আলাদা

লুসির সাথে পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে দেখা হয়ে গেল। ও প্রতি বিকেলে একবার এখানে আসবেই।
পাবলিক লাইব্রেরীর সামনেই শ্যামল ভাইর নতুন কেনা সেকেন্ডহ্যান্ড প্রেস। ওখানে কয়েকদিন ধরে আমি কাজ করছি। শ্যামল ভাইয়ের ধারণা আমরা ইচ্ছে করলেই একটা নিয়মিত সাময়িকী বের করতে পারবো। তাই মধ্যরাত পর্যন্ত এখানে বেগার খাটা, যদিও শেষ পর্যন্ত পত্রিকা বের হয়নি।
কলেজে ভর্তি হওয়ার পর চার-পাঁচ মাস আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বলিনি, তাদের দিকে তাকাইনি, ওদের কেউ কোন প্রশ্ন করলে মুখ না তুলেই হ্যা-না জবাব দিয়েই কেটে পড়েছি। Continue reading “বন্ধুদের বিব্রত করার মজাই আলাদা”

ভালোবাসার সমীকরণ

সবকিছু ভাগ করা যায়, ভালোবাসা ভাগ করা যায় না…
টিভি এ্যাডের কল্যাণে গানটি স্মৃতিতে খোদাই হয়ে গেছে তবে গানের মূল অর্থটি আমার উর্বর মস্তিস্ক বুঝে উঠতে পারেনি।
আসলেই কি ভালোবাসা ভাগ করা যায় না?
মানুষের হৃদয়ে কার স্থান বেশি, ভালোবাসার নাকি ঘৃণার।
বাজি ধরে বলা যায় মানুষের অন্তর ভালোবাসায় পরিপর্ূণ। দুধে পরিপূর্ণ বালতিতে হয়তো মরা মাছির মতো ভেসে বেড়াচ্ছে অস্পৃশ্য ঘৃনা।
এতো যে ভালোবাসা তা কি কখনো একজনের জন্য হতে পারে না হওয়া উচিত। Continue reading “ভালোবাসার সমীকরণ”

তৌহিদকে মনে পড়ে

ক্রিং ক্রিং টেলিফোনের শব্দ বিরক্তিকর অফিসের কাজকে আরো তিক্ত করে তুলে।
তারপরও রিসিভার কানে ঠেকাতে হয়, না জানি কোন রাঘোব বোয়াল ওত পেতে আছে ফোনের ওপারে খুঁত ধরার আশায়।
রিসিভারটা কানে ঠেকাতেই মনটা আনন্দে ভরে গেল। চৈত্রের দুপুরে যেন একপশলা বৃষ্টি ভিজিয়ে দিল মনের খটখটে জমিনটা।মনে হলো আমি যেন হাজার বছর ধরে এ ফোনেরই অপেক্ষায় ছিলাম। Continue reading “তৌহিদকে মনে পড়ে”

ঝড়ো হাওয়াকে এক গ্লাস শরবত

কলেজে উপল, কামরুল আর সুনীল স্যার অসম্ভব মেধাবী ও জনপ্রিয়। তবে তাদের জনপ্রিয়তার দারুন একটি কৌশল আমার নজরে এসেছে। উপল স্যার ক্লাসে কামরুল আর সুনীল স্যারের সুনাম করেন, ওদের মতো শিক্ষক পৃথিবীতে দ্বিতীয়ওটি নেই, এমন। আবার কামরুল স্যারের ক্লাসে চলে উপল আর সুনীল স্যারের প্রশংসা, সুনীল স্যারের ক্লাসে কামরুল আর উপল স্যারের।

সামহো্যার ইন ব্লাগে এমনই এক বন্ধু ঝড়ো হাওয়া। বন্ধুদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে সবসময়। কিন্তু আমি তো আর উপল, সুনীল, কামরুল স্যারের মতো ভালো বন্ধু না, তাই ঝড়ো হাওয়ার সপ্তাহের সেরা ব্লগার হওয়ায় শুধু প্রশংসা করবো না, কিছু সমালোচনা করার জন্য আজকের এ লেখা। Continue reading “ঝড়ো হাওয়াকে এক গ্লাস শরবত”

আড্ডাঘর

“কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই…”

মফস্বলে তো আর কফি হাইজ নেই তাই আমাদের আড্ডার দৌড় সর্বোচ্চ নিরঞ্জন ‘কার দোকান পর্যন্ত। গ্রাম্য বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর কিংবা শকুনী লেকের স্বচ্ছ টলমল জলে রাজহংসীর মতো ভাসোমান ভাঙ্গা বোটটিও আমাদের আড্ডায় প্রাণ এনে দিত।

আড্ডা আমাকে বরাবরই আপন করে নিয়েছে। আমি আড্ডা ছাড়তে চাইলেও আড্ডা আমাকে নববধুর মতো আঁচলে বেধে রাখতে চায়। তাই যেখানেই আড্ডা, সেখানেই আমি কিংবা আমি যেখানে সেখানেই জমে ওঠে আড্ডার জমজমাট আসর। Continue reading “আড্ডাঘর”