এলোমেলো ভাবনা

আমাদের এলাকাটা হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় অনেকগুলো পুজো মন্ডপে ধুমধামের সাথে পুজো হতো। দলবেধে আমরাও আরতী অনুষ্ঠান দেখতে যেতাম। মানুষের আকৃতির বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি দেখে বিস্মিত হতাম। বিশেষ করে দূর্গা পুজোর আগ থেকেই আমরা বেশ আগ্রহ নিয়ে পুজো মন্ডপ ঘুরে ঘুরে দেখতাম। কি করে খড় দিয়ে দেবদেবীর দেহ কাঠামো তৈরী করা হয়, কি করে কাদা মাটি দিয়ে উন্নতবক্ষা দূর্গা ও তার মেয়েদের সৌন্দর্য ফুঁটিয়ে তোলা হয়, কি করে দামী দামী শাড়ি পেঁচিয়ে প্রেম জাগানিয়া অপরূপ সাজে দেবীদের উপস্থাপন করা হয়। সে অনেক আগের কথা, ক্লাস ওয়ান টুর সময়ের কথা। Continue reading “এলোমেলো ভাবনা”

ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ ধেয়ে চলেছে যৌনতার কৃষ্ণগহ্বরে

সতর্কতা: বাস্তবতা তুলে ধরতে কিছু অশ্লীল শব্দ, ঘটনা  ও লিংক সন্নিবেশিত হয়েছে।

এক)

শিখাদের ঠাকুমা। মাথাভর্তি সজারুর কাঁটার মতো ছোট ছোট পাকা চুল। গায়ে বৈধব্যের সাদা শাড়ী। মুখে অশ্রাব্য গালাগালি।
পাড়ার সবাই তার তিরিক্ষ মেজাজে তটস্থ। সারাক্ষণই এটা ওটা নিয়ে বকে চলেন। বিশেষ করে বড় পুতের বউয়ের সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া লেগেই থাকে। বড় বউটাও শয়তানের ধাড়ি, শ্বাশুড়ীর খিস্তি খেউড়ের ডিপোয় দিয়াশলাইয়ের শলাকার মতো অনুচ্চস্বরে নোংরা শব্দ ছুড়ে দিয়ে তামাশা দেখেন। ফলাফল অফুরন্ত স্টক থেকে অনর্গল গালাগাল, পুরো পাড়ায় নরক গুলজার।
স্কুল থেকে ফিরেই শুনি ক্লাস থ্রিতে পড়ুয়া অরুণী দি’র বিয়ে। চারিদিকে হৈ চৈ, সাজসাজ রব। আত্মীয়-স্বজনে পুরো উঠোন ভরা গাঙ্গের মতো থৈ থৈ। পুকুর পাড়ে বুড়ো বয়েসী দিদিমারা খোশগল্পে মশগুল। চৈত্রের মাঠের মতো নীরস ঠাকুমাও শামীল হয়েছেন আড্ডায়।
হঠাৎ করেই বিয়েতে বর কনের কান্ডকারখানা নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে বুড়িদের আড্ডাঘর। কার বাসরে কি ঘটেছে, কার বর কতটা সুপুরুষ ইত্যাদি ইত্যাদি বুড়ো বয়েসী ভিমরতী ধরণের কথা বার্তায় আমরা পাড়ার শিশুরা আগ্রহী হয়ে উঠি। বুঝতে পারি আজ নতুন কিছু হতে চলেছে। Continue reading “ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ ধেয়ে চলেছে যৌনতার কৃষ্ণগহ্বরে”

পূজো

“শক্তিমানেরা যা কিছু করেন তাই সঠিক, সবার উচিত শক্তিমানের পূজো করা”। জানি এ কথায় সবাই অবাক হবে, কিন্তু বাস্তবে আমরা সবাই শক্তিমানের পূজো করি, শক্তিমানদের যে কোন কথাকে ইশ্বরের বাণী বলে মনে করি। শক্তিমানেরা কেউ যখন কারো পক্ষে কথা বলেন, আমরা সেই বরপুত্রের পদচুম্বর করি, আবার কারো দিকে তর্জনি উঠালে অভিষপ্ত ব্যক্তিটিকে পায়ের তলে পিশে ফেলে উল্লাসে মেতে উঠি। Continue reading “পূজো”