বাঙালি সংস্কৃতির নামে হিন্দু রীতিনীতির পরিকল্পিত অনুপ্রবেশ

পহেলা বৈশাখ এবার বৃহস্পতিবারে হওয়ায় এক নাগারে তিন দিনের সরকারী ছুটি পেয়ে গেলাম। ছুটিতে গ্রামগঞ্জের এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি, দেখছি বাঙালীপনার নানা আয়োজন। বাবা ফোন করে আগেই জানিয়েছিলেন আমাদের উপজেলায় এবার সরকারীভাবে চারদিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে। চারিদিকে তাই সাজসাজ রব। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এতবড় মহাযজ্ঞ এর আগে কখনো হয়েছি কি না মনে পরছে না। বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ সরকার খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে, ঘুরে ফিরে বারে বারে যদি ক্ষমতায় আসতে হয় তবে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার শক্ত ভীত গড়ে তুলতে হবে। আর এ জন্য এমন কিছু অনুষ্ঠানকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যা জনতাকে দিশেহারা হয়ে ঘরের বাইরে ছুটে আসতেই হবে। যান্ত্রিক এ পৃথিবীতে অভাব আর অজ্ঞতার মাঝে এতটুকু বিনোদনের জন্য সাধারণ মানুষের মন ব্যাকুল হয়ে থাকে। বর্ষবরণ, বসন্ত উৎসব, একুশে ফেব্রুয়ারী এসব কিছুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে তাই সরকারের ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। জনপ্রিয় শিল্পীদের দিয়ে সাজানো জমকালো এসব অনুষ্ঠান তাই ক্ষণিকের জন্য হলেও হারিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে। Continue reading “বাঙালি সংস্কৃতির নামে হিন্দু রীতিনীতির পরিকল্পিত অনুপ্রবেশ”

ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ ধেয়ে চলেছে যৌনতার কৃষ্ণগহ্বরে

সতর্কতা: বাস্তবতা তুলে ধরতে কিছু অশ্লীল শব্দ, ঘটনা  ও লিংক সন্নিবেশিত হয়েছে।

এক)

শিখাদের ঠাকুমা। মাথাভর্তি সজারুর কাঁটার মতো ছোট ছোট পাকা চুল। গায়ে বৈধব্যের সাদা শাড়ী। মুখে অশ্রাব্য গালাগালি।
পাড়ার সবাই তার তিরিক্ষ মেজাজে তটস্থ। সারাক্ষণই এটা ওটা নিয়ে বকে চলেন। বিশেষ করে বড় পুতের বউয়ের সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া লেগেই থাকে। বড় বউটাও শয়তানের ধাড়ি, শ্বাশুড়ীর খিস্তি খেউড়ের ডিপোয় দিয়াশলাইয়ের শলাকার মতো অনুচ্চস্বরে নোংরা শব্দ ছুড়ে দিয়ে তামাশা দেখেন। ফলাফল অফুরন্ত স্টক থেকে অনর্গল গালাগাল, পুরো পাড়ায় নরক গুলজার।
স্কুল থেকে ফিরেই শুনি ক্লাস থ্রিতে পড়ুয়া অরুণী দি’র বিয়ে। চারিদিকে হৈ চৈ, সাজসাজ রব। আত্মীয়-স্বজনে পুরো উঠোন ভরা গাঙ্গের মতো থৈ থৈ। পুকুর পাড়ে বুড়ো বয়েসী দিদিমারা খোশগল্পে মশগুল। চৈত্রের মাঠের মতো নীরস ঠাকুমাও শামীল হয়েছেন আড্ডায়।
হঠাৎ করেই বিয়েতে বর কনের কান্ডকারখানা নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে বুড়িদের আড্ডাঘর। কার বাসরে কি ঘটেছে, কার বর কতটা সুপুরুষ ইত্যাদি ইত্যাদি বুড়ো বয়েসী ভিমরতী ধরণের কথা বার্তায় আমরা পাড়ার শিশুরা আগ্রহী হয়ে উঠি। বুঝতে পারি আজ নতুন কিছু হতে চলেছে। Continue reading “ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ ধেয়ে চলেছে যৌনতার কৃষ্ণগহ্বরে”

কনসার্ট কি শ্লীলতাহানির হাতিয়ার?

শ্লীলতাহানি অতীতেও ছিল বর্তমানেও আছে, দিনদিন এর প্রকোপ মহামারী আকারে বাড়ছে। খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে শ্লীলতাহানি ঘটছে দেশের সবচেয়ে নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে, ঘটছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে বাঁধনের শ্লীলতাহানি মিডিয়ায় যে তুমুল ঝড় তুলেছিল তার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ ধরণের অপকর্ম চীরতরে বিলুপ্ত হওয়াটাই সচেতন মানুষের আকাঙ্খা ছিল, কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীদের সম্ভ্রম লুটের মহোৎসব বেড়েই চলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে প্রভাতফেরী থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিমউদ্দিন হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি  আব্দুর রহমান জীবনের অনুসারীরা সবার সামনেই ওড়না টানে, অভিবাবকসহ ছাত্রীকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে।  গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সেই আবদুর রহমান জীবনের সংগঠন ‘মুক্তবাণ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নববর্ষ কনসার্টে আবারো নারীরা লাঞ্ছিত হলো, কমপক্ষে ১৫ টি মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করে বাড়ীতে পৌছে দেয়। শিক্ষার্থীসহ অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কনসার্ট চলাকালে পুরো এলাকার হাজার হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যে মেয়েরা এসে পড়লে বখাটেরা তাদের লাঞ্ছিত করে।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারী রাতে আনন্দমোহন কলেজের শতবর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে একদল তরুণ পুলিশ-র‌্যাব, রাজনৈতিক নেতা ও কলেজের শিক্ষকদের সামনেই পাঁচশতাধিক নারীর শ্লীলতাহানি করে। প্রত্যক্ষদর্শী এক উদ্ধারকর্মী যুবকের ভাষ্যমতে তিনি নিজেই সজ্ঞাহীন ৪০ থেকে ৫০ জন নারীকে উদ্ধার করতে দেখেছেন। অবস্থা দেখে মনে হয় নারীদের শ্লীলতাহানির হাতিয়ার হিসেবেই হয়তো ঘটা করে রাতবিরাতে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। Continue reading “কনসার্ট কি শ্লীলতাহানির হাতিয়ার?”

জীবনের মূল্য কত?

ঝড় এলো, এলো ঝড়
আম পর আম পর
কাঁচা আম পাঁকা আম
টক টক মিষ্টি
এই যাহ!
এলো বুঝি বৃষ্টিইইই!

দূর্ভাগ্য, গাছে এখনো আম ধরে নি, তাই আম পরে না, ঘাড়ে পরে বিলবোর্ড। Continue reading “জীবনের মূল্য কত?”

পহেলা বৈশাখ

(পহেলা বৈশাখে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চড়ক পূজাঁর দৃশ্য। ছবি ঋণ: মহলদার )

সে অনেক আগের কথা। কয়েক পুরুষ আগের কথা। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যা কিছু দেখতেন, সম্মোহিত হতেন, সবকিছুর সম্মানের কাছে, সব কিছূর শক্তির কাছে তারা নিজেদেরকে নিতান্ত ক্ষুদ্র মনে করতেন। সাপ-বিচ্ছু থেকে শুরু করে বস্তুজগতের এমন কোন শক্তি কিংবা প্রাণের অস্তিত্ব ছিল না যা মানুষের পূজার সামগ্রীতে পরিণত হয় নি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা মানুষের ভেতর সৃষ্টিকরে রেখেছিল শ্রেণীভেদ, একের স্পর্শে অন্যের পবিত্রতা নষ্ট হতো, একের উপস্থিতিতে অন্যের আসবাবপত্র, বাসন কোসন সবকিছু অপবিত্র হতো। তখনকার সমাজে ইশ্বরের বানীও ছিল গুটিকয়েক মানুষের সম্পত্তি, ইশ্বরের বানী শোনার অধিকার ছিল সংরক্ষিত। তাই তো কারো কানে ইশ্বরের বানী ভুলেও পৌঁছুলে তাকে গুনতে হতো চরম মাশুল, গলিত সীসায় বন্ধ করে দেয়া হতো তার কান । Continue reading “পহেলা বৈশাখ”