ওরা কালা, বোবা, অন্ধ

সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সামনে এসেই থমকে যাই। সাত সকালে এতোবড়ো ধাক্কা খেতে হবে জানলে হয়তো আজ ঘর থেকে বেরোনো হতো না। এমন কঠিন সত্যের মুখোমুখি হয়ে অন্যরা কেমন করে জানি না, তবে আমি একেবারে বেকুব হয়ে গেলাম।

সূর্যের হাসি ক্লিনিকটা ডাক্তার পট্টিতে। নামে ডাক্তার পট্টি হলেও মূলত পুরো গলিটাই জুয়েলারীর দোকানে ঠাসা। সূর্যের হাসি ক্লিনিকটার পাশে বোধকরি শহরের সবচেয়ে দামী বাড়ীটা সগর্বে মাথা উচু করে দাড়িয়ে। আর ঠিক তার পাশেই মানবতার এমন ভূলুন্ঠিত রূপ দেখে যে কারোরই দিশেহারা হয়ে যাওয়ার কথা।

মোবাইলটা হাতেই ছিল। একবার উঠেও এসেছিল চোখের সামনে। তবুও ছবি তুলতে গিয়েও আবার হাতটা গুটিয়ে নেই। এত বড় লজ্জা তো আর জনে জনে দেখানোর বিষয় নয় অবশ্য বলে বেড়ানোও যে উচিত হচ্ছে তা নয়, তবে নিজের অপরাধবোধটা কিছুটা হালকা করতেই বলছি সবাইকে।

সূর্যের হাসি ক্লিনিকটার সামনেই একটা পঁচা আবর্জনায় ভরা ডাস্টবীন। ডাস্টবীনের সামনেই হাটুগেঢ়ে বসে আছে লোকটা। ডাস্টবীনের ভীতরে ঝুকে নেড়ে চেড়ে বেড় করে আনছে কিসব যেন, আর একমনে চেটেপুটে খাচ্ছে, গর্বের সাথে ডাস্টবীনে ফেলে দেয়া আভিজাত্যের প্রতীক যত উচ্ছিষ্ট। Continue reading “ওরা কালা, বোবা, অন্ধ”