নীলকষ্ট (দুই)

ধানমন্ডি থানা হাজত থেকে যেদিন পুরান ঢাকার আদালতের বদ্ধসেলে চালান দিল, সেদিনের মতো বিস্মিত আর কখনো হয়েছি কি না মনে পড়ে না। অবশ্য পথে প্রিজন সেলে যেভাবে গাদাগাদি করে দাড়িয়ে উত্তপ্ত তাফালে ধানের মতো সিদ্ধ হলাম সেটা কোন অংশেই কম নয়, তবে পুলিশি ভ্যান বলে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম বলেই অতটা ধাক্কা খাইনি। কিন্তু আদালত, যেখানে সাধারণ মানুষ যায় ন্যায় বিচারের আশায় সেখানে যেভাবে বার্ড ফু আক্রান্ত মুরগীর মতো অন্ধকার বদ্ধ সেলে কবর দেয়া হলো তা আজো ভাবলে গা শিউরে উঠে। Continue reading “নীলকষ্ট (দুই)”

নীলকষ্ট

শেষ পর্যন্ত দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়ে গেল। সবারই মন খারাপ। ভেতরে ভেতরে আমিও প্রচন্ড নার্ভাস হয়ে আছি, বিশেষ করে রিমান্ড সমর্্পকে এতোসব কিচ্ছা-কাহিনী শুনেছি যে পিলে চমকে যাওয়ার যোগার।
হাত-পা ছড়িয়ে আকুল হয়ে কাঁদলেই তো আর রিমান্ড বন্ধ হবে না বরং ওতে পুলিশের উদ্যম আরো বেড়ে যাবে, তাই স্বাভাকিভাবেই পরিস্থিতি মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিলাম। যতণে রিমান্ডের জন্য ডাক না আসে ততণ ভয়ে নিজের উপর নিজেই রিমান্ডের আযাব চাপিয়ে দেয়ার কোন মানে হয় না। Continue reading “নীলকষ্ট”

বই পাগলা কয়েদী

মোস্তাফিজ ভাই কোথা খেকে যেন একটা উপন্যাস সংগ্রহ করেছে। মরু পথিকের মতো এক ফোঁটা জল দেখে আমার তৃষ্ণা লক্ষ গুণ বেড়ে গেল। যে করেই হোক বইটা আমার চাই-ই চাই।
কয়েকদিন ধরে আমরা ১১ জন সেন্ট্রাল জেলের নাইনটি সেলে বন্দী জীবন কাটাচ্ছি। জেল খানা হলো দূনিয়ার ভেতর আজব আরেক দূনিয়া। আর নাইটি সেল সেই দূনিয়ার জেলখানা অথাৎ জেলখানার জেলখানা। অন্য বন্দীরা জেলের এদিক সেদিক ঘুরে দেখানোর সময় পায়, শুক্রবারে জুমুয়ার নামাজে যায়, কিন্তু নাইনটি সেলের বাউন্ডারীর বাইরে যাওয়া আমাদের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ। ভোরবেলা মুরগীর খোপগুলো খুলে দিলে একটু বাউন্ডারীর ভেতরে পায়চারি করি আবার বিকেল হলেই খোপের ভেতরে আত্মগোপন। Continue reading “বই পাগলা কয়েদী”