ভার্সিটি পড়ুয়া সন্তানকে লেখা মায়ের চিঠি

বাবা ছোটন,

আশাকরি পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহপাকের কৃপায় কুশলে আছ। বেশ কিছুদিন যাবত তোমার কোন খবর না পাইয়া ব্যাকুল মনে এই চিঠি লিখিতে বসিয়াছি, আশাকরি পত্র পাওয়া মাত্র জবাব দিয়া তোমার এই জনম দুঃখিনী মাকে চিন্তামুক্ত রাখিবা।

ঢাকা হইতে তোমার বন্ধু রহমত দেশে ফিরিয়া আমাদের বাড়ী দেখা করিয়া গিয়াছে। তাহার কাছে তোমার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করিয়া মনটা ব্যাকুল হইয়া উঠিয়াছে। তুমি নাকি কোন দলের ছাত্র নেতাদের সাথে ওঠাবসা শুরু করিয়াছ শুনিয়া আমার মন দমিয়া গিয়াছে। তোমার মরা বাপের কসম লাগে, রাজনীতি নামের নর্দমা হইতে একশ হাত দূরে থাকিবা, রাজনীতি তোমার মত গরীরের সন্তানের জন্য না, রাজনীতি বড়লোকদের কারবার, তোমার মত গরীর ঘরের সন্তানদের ঘাড়ে পা রাখিয়া ওরা মন্ত্রীমিনিস্টার হইবে, জুতার তলায় পিষিয়া কে মরিল কি বাঁচিল তাতে ওদের কিছুই যায় আসে না। Continue reading “ভার্সিটি পড়ুয়া সন্তানকে লেখা মায়ের চিঠি”

সবাই বলে ওরা নাকি খুব খারাপ

ছেলেগুলো মাঝে মাঝে আসে। হাসি হাসি মুখ, কথাবলে বিনয়াবনত হয়ে। ওদের কেউ কলেজে পড়ে কেউবা স্কুলের ওপরের ক্লাসের ছাত্র।

অনেকেই বলে ছেলেগুলো খুব খারাপ, যদিও আমি কথাগুলো বিশ্বাস করার মতো কোন যুক্তি খুঁজে পাই না। এ বয়সে আর দশটি ছেলের সাথে কিছুতেই ওদেরকে মেলাতে পারি না। আজকালকার ছেলেদের মুখ থেকে সিগারেটের অসহ্য গন্ধ আসার কথা, কিন্তু ওদের কাছ থেকে তাও আসে না। আমাদের সময়েই এমন একটি ছেলেও পাওয়া যেত না যারা বিড়ি-সিগারেট খেয়ে মুখের দুর্গন্ধ ছড়াতো না, সকল ভালো-খারাপ বন্ধুরা সিগারেট খাওয়াকে ব্যক্তিত্ব হিসেবে জ্ঞান করতো। আর এখনকার যুগের ছেলেরা নেশা করবে, হিরোইন নেবে, এটাই স্বাভাবিক। অথচ ওদেরকে যাবতীয় নেশা থেকে মুক্ত বলেই সমাজের সবাই জানে, তবে কি করে ওদেরকে আমি খারাপ ভাবি? Continue reading “সবাই বলে ওরা নাকি খুব খারাপ”