নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ

আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীতে রয়েছে অফুরন্ত সম্পদ। তবে সে সম্পদকে ব্যাবহার উপযোগী করে নেয়া সব সময় সহজ নয়। তাই এ অফুরন্ত সম্পদের মাঝে যতটুকু আমাদের আয়ত্বে এসেছে তা ব্যবহার করতে হবে পরিকল্পিতভাবে, পরিমিত ভাবে। বিশেষ করে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সম্পদকে ব্যবহার উপযোগী করে সরবরাহ করা পুরোপুরি সম্ভব নয়। তাই সবার পক্ষে সম্পদ সমানভাবে ভোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না, বিরাট একটি জনগোষ্ঠীকে চরম অভাবের মাঝে থাকতে হচ্ছে, যদিও অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে ক্ষুদ্র একটি অংশ ব্যবহার উপযোগী বিপুল পরিমাণ সম্পদ অপচয় করছে। Continue reading “নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ”

বজ্রদেবীর আগমন

দেবী এলেন, অচ্ছুৎ প্রজাকে দর্শন দিয়ে যথারীতি আবার চলেও গেলেন। যে ঈদের চাঁদের জন্য এগারোটি মাস অপেক্ষা, সে চাঁদও আধাঘন্টা স্থায়ী হয় না। বেশী সময় থাকলে যে অসীম শ্রদ্ধা অটুট থাকে না। শশুরবাড়ীতে বেশিদিন থাকলে নাকি জামাইয়েরও কদর থাকে না।

ঈদের চাঁদ সারারাত জেগে জেগে বাসর আলোকিত করে না, পূর্ণিমার মতো সে তেজও তার থাকে না। তাই বলে ঈদের চাঁদের চেয়ে পূর্ণিমার আলোর কদর কখনোই বেশী ছিল না। বজ্রদেবীও তেমনি ক্ষণিকের জন্য এলেন, আবার চলে গেলেন রাজ্যের অন্য কোথাও, আমাদের মতো নীচুজাতের প্রজারা যে তার পূণ্যদর্শনের অপেক্ষায়।

বজ্রদেবী এসেছিলেন, এসেছিলেন বৈদ্যুতিক তার বেয়ে বেয়ে, ক্ষনিকের জন্য। বড় ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে, নীবু নীবু কুপির মতো আলো বিলিয়ে আমাকে চীরকৃতজ্ঞ করে আবার চলেও গেলেন। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে তার মুখশ্রী দর্শনে আমরা আবেগাপ্লুত। আহারে, এতো আবেগ কোথায় রাখি। আবেগ ধরে রাখাই যে দায়, তাইতো চোখ ভেঙ্গে বৃষ্টির মতো আনন্দাশ্রু ঝড়ে ঝড়ে যায়।

সারাদিন তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় রেখে সন্ধ্যাবাতি হয়ে এসেছিলেন বজ্রদেবী শেখ হাসিনা। আমার মতো নগন্য দাসানুদাসের এ যে কতবড় প্রাপ্তি তা ক্রিতদাসেরাই শুধু বোঝে, এ নীচ জ্ঞান দূর্বোধ্য যে রাজা-বাদশাহদের কাছে। ক্ষণিকের তরে বজ্রদেবী যে টুকু আলো বিলিয়ে গেলেন তার যোগ্য আমি তো নই, সে তো শুধু চৌদ্দপুরুষের পুন্যেরই ফল। পূর্ব পুরুষগণ, তোমাদের পুণ্যে এ অধম সন্তান আজ দিনে আধা ঘন্টার জন্য হলেও বজ্রদেবীর সাক্ষাৎ পেয়েছে, তার ক্ষণিকের দর্শনেই অচ্ছুৎ প্রজার ব্যাটারীতে ৮০% চার্জ জমেছে।

পূণ্যবান পিতা, তোমাকে হাজার ছালাম।

বিদ্যুত বিড়ম্বনা

এক সাগর ঘামে ভেসে ভেসে খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল। বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে না, বিদ্যুৎ নেই। সকাল বেলাই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় ও বিদ্যুৎ ছিল না। বৌয়ের হাত পাখার বাতাস খেতে খেতেই ঘুমিয়েছিলাম। কিন্তু এরকম আর কতক্ষণ করা যায়?

বৌকে বললাম দিনে কবার বিদ্যুৎ আসে আর কবার যায় তার একটা চার্ট তৈরী করার জন্য। না, বিদ্যুৎ বিভাগের কোন ক্ষতি করা যাবে না, বা কারো কাছে নালিশ করার জন্যও নয়, শ্রেফ কতটা দুর্ভাগা এ ঝালকাঠীবাসী তা হৃদঙ্গম করার জন্য এর প্রয়োজন। আচ্ছা দেশের অন্য সবাই কেমন আছে? অন্য জেলার বাসিন্দারা? কেমন আছেন আধুনিক রাজধানীবাসীরা? Continue reading “বিদ্যুত বিড়ম্বনা”