তার চেয়ে বড় অপরাধী আর কে হতে পারে যার হাতে কালেমা পড়েছেন সহস্র নওমুসলিম!

তার চেয়ে বড় অপরাধী আর কে হতে পারে যার হাতে কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছেন সহস্রাধিক অমুসলিম? তার কথার চেয়ে আর কার কথা বাতিলের গায়ে অসহ্য জ্বালা ধরাতে পারে, যিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকেন সুমিষ্ট আহ্বানে, ডাকেন আলোর পথে, সত্যের পথে, সৎ কাজের পথে এবং নিজেকে আল্লাহর দাস বলে স্বীকার করেন বিনয়াবনত চিত্তে?  ইতিহাসের বিচারে, বর্তমান সভ্য সমাজের বিচারে কিছুতেই এমন অপরাধীকে লালগালিচা সম্বর্ধনা দেয়া হয় না, লাল দালানের মোটা লাল চালের ভাতই তাদের প্রাপ্য। ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় পাতায় লেখা আছে হাজারো এমন অপরাধীর কথা, যাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পৌত্তলিকতার শেকল ছিঁড়ে দলে দলে ছুটে এসেছে মুক্তিকামী মানুষ, তাদের অধিকাংশকেই বরণ করতে হয়েছে নিষ্ঠুরতম চরম শাস্তি। কি করে ভুলে যাব আমরা হযরত যাকারিয়ার (আঃ) কথা, পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে কথা বলায়, আল্লাহর একত্ববাদের কথা বলার অপরাধে যাকে করাতের আচড়ে চিঁড়ে ফেলা হয়েছিল? কি করে ভুলে যাব আমরা মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর কথা, মুর্তিপূজক অবিশ্বাসীদের মাঝে ঈমানের বীজ বপনের দায়ে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন যিনি। ক’জন আল্লাহ প্রেরিত দূতের কথা বলে শেষ করা যায়, ক’জন নবী-রাসূলেরই বা নিস্তার মিলেছে সত্য প্রচারের অমন অপরাধে? ঈসা (আঃ)কে কি ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যার অপচেষ্টা হয় নি, তায়েফের উষ্ণভূমি কি সিক্ত হয়নি দয়াল নবীজির (সাঃ) এর পবিত্র লোহুতে? হ্যা, তিনি অপরাধ করেছিলেন, আর অদ্বিতীয় স্রষ্টা এক আল্লাহর পথে আহ্বানের চেয়ে বড় অপরাধ আর কি কিছুই কি হতে পারে? Continue reading “তার চেয়ে বড় অপরাধী আর কে হতে পারে যার হাতে কালেমা পড়েছেন সহস্র নওমুসলিম!”

বোকা লোকে শুধু ধোঁকা খায় …

কথায় আছে সাধ আর সাধ্য একসাথে আসে না। কথাটি যে একেবারে মিথ্যে নয় তা প্রতিনিয়ত প্রমাণ পাচ্ছি। বিশেষ করে দারিদ্র্যের ব্যাপারে এ কথাটি অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হননি এমন বিবেকবান মানুষ সমাজে খুব কমই পাওয়া যায়। তবে সমস্যা হলো যতক্ষণ বিবেক থাকে ততক্ষণ দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনের মতো অর্থকড়ি সাধারণত থাকে না। কিন্তু দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম চাবিকাঠি অর্থ যখন কারো হাতে এসে যায়, ততক্ষণে হয় তো অনেক দেরী হয়ে যায়, বিবেক মরে যায়, দারিদ্র্য হয়ে যায় অনেকটা সহনীয়। কিংবা বলা যায় ততদিনে দরিদ্র মানুষের নিপীড়ণে (?) তারা দারিদ্র্যকে অভিষাপ দিতে শুরু করেন। Continue reading “বোকা লোকে শুধু ধোঁকা খায় …”

কে যাবে জান্নাতে?

মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে, কে যাবে বেহেস্তে? মুসলিমদের ধারণা কেবল মুসলমানরাই বেহেস্তে যাবে, খৃষ্টানদের ধারণা, তারা ছাড়া আর কেউ যাবেন না বেহেস্তে, ইহুদীর বেলায়ও একই কথা। পবিত্র কোরআনে সূরা বাকারা ৬২ নম্বর আয়াতে এ প্রশ্নের মীমাংসায় ইংগিত আছে। তবে  আয়াতটার সঠিক অর্থ পাওয়া যায় না। একেকটি তাফসিরে একেক অর্থ। আয়াতে তিনটি শর্তের বিনিময়ে জান্নাতে স্থান দেয়ার ঘোষণা আছে, এক) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, দুই) আখেরাতের প্রতি ইমান আনা তিন) আমলে সলেহ করা, ইহুদী, খৃস্টান, সাবেয়ি কিংবা মুসলমান যেই হোক না কেন এ তিনটি শর্ত পালন করলে জান্নাতে স্থান পাবে। জানিনা আমি ভুল কিছু বলে ফেলছি কি না। Continue reading “কে যাবে জান্নাতে?”

বিশ্বাস

আল্লাহ। খুব ছোট একটি শব্দ। অথচ এই শব্দটি মানুষের জীবনে এনে দেয় বৈপ্লবিক পরির্বতন। কেউ আল্লাহকে বিশ্বাসী করেন, কেউ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চান স্রষ্ঠার অস্তিত্ব। আল্লাহকে বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস শক্তিশালী দুই মেরু। আল্লাহ আছেন, সারা বিশ্বকে তিনি সৃষ্টি করেছেন, সকল জীবের জীবন মরণ সবকিছুই তার আয়ত্বাধীন। কিন্তু সুস্পষ্ট কোন নিদর্শন দিয়ে এ বিশ্বাসকে প্রমাণ করা যায় না। আবার আল্লাহ বলতে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই এ কথা বলা সহজ হলেও অকাট্য যুক্তি দিয়ে একে প্রমাণ করা অসম্ভব। অথচ আল্লাহকে বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস মানুষের জীবনে শক্তভাবে প্রভাব বিস্তার করে। Continue reading “বিশ্বাস”

ইসলাম আমার বিশ্বাসঃ বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলা আমার অধিকার

প্রথম মানব হয়রত আদম (আঃ) কত যুগ আগে পৃথিবীতে মানবজাতির সূচনা করেছিলেন তা আমার জানা নেই, ইতিহাস গবেষকরা হয়তো এ ব্যাপারে ভালো যুক্তি দিতে পারবেন। মানবজাতির শুরু থেকে সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন দর্শন মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। শুরুতে মানুষের জীবনটা একেবারেই সাদামাটা বা সহজ-সরল হলেও সময়ের তালে তাল মিলিয়ে জীবন ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে। এক সময় মানুষ সমাজ তৈরী করে, সমাজ পরিচালনার জন্য সামাজিক নিয়ম-কানুন তৈরী করে, সল্প পরিসরে হলেও সামাজিক জীবনে রাজনীতি এসে যায়। মানুষ চলার পথে বিভিন্ন আচার-আচরণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, সাদামাটা মানব জীবনকে বর্ণিল করার জন্য সৃষ্টি করে কৃষ্টি, সংস্কৃতি। মানুষ প্রয়োজনে পণ্য বিনিময় শেখে, ক্রয়-বিক্রয় শেখে, আস্তে আস্তে তাদের সামনে অর্থনীতি ফুলে ফলে পল্লবে সুশোভিত হয়ে ধরা দেয়। প্রতিটি পদেেপ মানুষ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হয়ে খোঁজে এর যথোপযুক্ত উত্তর, সহজ-সরল মানুষের জীবনে ধীরে ধীরে বিজ্ঞান স্থান করে নেয়। এভাবে মানব জাতি পূর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে, সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলে, উন্নতির দিকে অগ্রসর হয়। Continue reading “ইসলাম আমার বিশ্বাসঃ বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলা আমার অধিকার”