প্রতি বেলায় কত মন চাল খান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কেউ যখন মুসলমানদের কোন কাজের দায়িত্বে নিযুক্ত হয়ে দায়িত্বে অবহেলা করে, তাদের প্রয়োজন ও অভাব সম্পর্কে উদাসীন থাকে তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহও তার প্রতি উদাসীন থাকবেন এবং তার অভাব ও প্রয়োজনের ব্যাপারে অমনোযোগী থাকবেন। -আবু দাউদ, ইবনে মাজা

হযরত আবু বকর (রাঃ) মুসলিম জাহানের প্রথম আমিরুল মুমেনিন বা বিশ্বাসীদের নেতা নির্বাচিত হলেন। নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে তিনি কাপড়ের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

আমিরুল মু’মেনিন নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রতিদিনের মতো তিনি রুটি রুজির আশায় কিছু কাপড় হাতে ঝুলিয়ে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। বাজারের কাছেই দেখা হয়ে যায় তার প্রিয় বন্ধু ওমর ফারুক (রাঃ) এর সাথে। আ’মিরুল মুমেনিন শুধু বিশ্বাসীদের নেতাই নন, সারা মুসলিম জাহানের শাসনকর্তা। মুসলিম বিশ্বের শান্তি শৃংখলা, নিরাপত্তা, অন্ন, বস্ত্র বাসস্থানসহ মৌলিক প্রয়োজন পূরণের নিশ্চয়তা বিধানের গুরু দায়িত্ব তার কাঁধে। আ’মিরুল মু’মেনিন যদি নিজের রুটি রুজির জন্য বাজারেই সময় কাটাবেন তবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজের তদারকি করবে কে? Continue reading “প্রতি বেলায় কত মন চাল খান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?”

জাহেলিয়াত

উনুনের মতো উত্তপ্ত মরু পাড়ি দিয়ে বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে ফিরে এলাম মক্কায়। ঘরে ঢুকেই যে খবর পেলাম তা মেজাজটাকে মরুভূমির তপ্ত বালুর চেয়েও বেশী উত্তপ্ত করে তোলে। আমার মতো শরীফের উরসে কন্যা জন্মেছে, এর চেয়ে অপমানের আর কি হতে পারে? মেজাজটাকে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না, মুহুর্তেই হাত চলে যায় তরবারীর বাটে। তবু হাত থেমে যায়, সবার ওজর আপত্তির কাছে আপাতত পরাজিত হয় ক্রোধ। অথচ মুখ দেখানোর পথ নেই কোন, কিভাবে দাড়াবো মেয়ের বাবা হয়ে আবু জেহেল, আবু লাহাব, শাইবা ওতবার দরবারে? Continue reading “জাহেলিয়াত”

Thy necessity is yet greater than mine

৬৩৬ সন। ইয়ারমুকের ময়দান। ইসলামের অগ্রযাত্রা প্রতিরোধে খৃষ্টীয় জোট হেনেছে মরণ ছোঁবল। চারিদিকে শুধু লাশের ছড়াছড়ি, লাশের গন্ধে ভারী হয়েছে আকাশ বাতাস। চারিদিকে শোকের মাতম, বাঁচার আকুতি, আর্ত-চিৎকার।

এর একপাশে পানি পানি অস্ফুট রবে ডেকে যায় কেউ কেউ। ছোট্ট পানির মশক হাতে এগিয়ে যান হযরত আবু জাহাম বিন হুজাইফা (রাঃ)। এগিয়ে যান চাচাতো ভাইয়ের পানে,  শাহাদাতের দোর গোড়ায় হযরত হারেস বিন হিশাম (রাঃ)। এর ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার। তৃষ্ণার্ত ঠোটের কাছে পোঁছে যায় পানির মশক। তবু থেমে যান তিনি, পানির মশকের দিকে চাতকের ন্যায় তাকিয়ে আছেন হযরত ইকরামা বিন আবি জাহল (রাঃ)। ফিরিয়ে দিলেন পানির মশক, ভাইয়ের তৃষ্ণার্ত মুখ দেখে ভুলে গেলেন নিজের যন্ত্রণা, ইশারায় দেখালেন, যাও, আগে ইকরামাকে পানি পান করাও।

পানির মশক নিয়ে ছুটে যান ইকরামার (রাঃ) পানে, তৃষ্ণার্ত চোখ চকচক করে ওঠে আনন্দে, যেন এ পানিটুকুর জন্যই চলছে ইয়ারমুকের কঠিন সমর। পানির মশক তুলে নিলেন হাতে, ছোঁয়াবেন ঠোটে, থেমে যায় হাত হঠাৎ। চোখ চলে যায় হযরত আইয়াশ বিন আবি রাবিয়ার (রাঃ) পানে, তাকিয়ে আছেন তৃষ্ণার্ত নয়নে, এক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার শুধু। ফিরিয়ে দিলেন পানির মশক, বললেন, যাও, আগে আইয়াশকে পানি পান করাও। Continue reading “Thy necessity is yet greater than mine”