যত দোষ নন্দ ঘোষ : পাপ করে হংকং-সাংহাই, সাজা পায় ইসলামী ব্যাংক

মার্কিন সিনেটে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের অর্থ পাচারে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এইচএসবিসি ব্যাংককে, গতকাল বিশ্বব্যাপী এটিই ছিল প্রধান আলোচ্য সংবাদ। অভিযোগে বাংলাদেশের দুটো ব্যাংকের সাথে এইচএসবিসির লেনদেনকেও সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। আর এতেই তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকটির নাম মুহুর্তেই ম্লান হয়ে সেখানে দোর্দান্ড প্রতাপের সাথে ভেসে ওঠে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) এর নাম। যারা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সংবাদটি দেখেননি, বাংলাদেশী মিডিয়ার রিপোর্ট দেখে তাদের এ ভুল ধারণা হতে পারে যে বিশ্বব্যাপী মানিল্ডারিং করে বেড়াচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, এইচএসবিসি তাদের ক্ষুদ্র সহযোগীমাত্র। বলা যায় মার্কিন সিনেটের রিপোর্টটির পানে একবারও দৃষ্টি না বুলিয়ে কিংবা দৃষ্টি বুলালেও অর্থ না  বুঝে অথবা অর্থ বুঝলেও ইচ্ছেকৃতভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকদুটোর আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুন্ন করতে বাংলাদেশী কিছু পত্র-পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়ে। চিলে কান নেয়ার কথা শুনেই চিলের পানে ছুটে চলার বাংলাদেশের কিছু মিডিয়ার যে অসীম আগ্রহ রয়েছে তা গতকালকের এইচএসবিসির মানিলন্ডারিং অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদে আরো একবার স্পষ্ট হলো।

কি অভিযোগ আনা হয়েছে এইচএসবিসির বিরুদ্ধে? আসুন ধৈর্য ধরে একবার পুরো রিপোর্টটি পড়ে নেই। রিপোর্টটিতে মূলত মেক্সিকোর মাদব ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের অর্থ পাচারে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে এইচএসবিসির বিরুদ্ধে। সঙ্গে বোনাস হিসেবে উঠে এসেছে তথাকথিত জঙ্গী অর্থায়ন প্রসঙ্গ। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে জঙ্গী অর্থায়নকারী হিসেবে জ্ঞান করে এদের সাথে এইচএসবিসির লেনদেনকেও মানিলন্ডারিং বলে মার্কিন সিনেট অদ্ভূত রিপোর্ট পরিবেশন করে। সম্ভবত প্রচন্ড ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় কোন যাচাই বাছাই ছাড়াই উন্নয়নশীল কোন দেশের অভাবনীয় সাফল্যমন্ডিত কোন ব্যাংককে জড়িয়ে এমন উদ্ভট রিপোর্ট  কেবলমাত্র মার্কিনিদের পক্ষেই প্রকাশ করা সম্ভব। বাংলাদেশী মিডিয়ার ও সরকারের পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল, উল্টো গতকাল বাংলাদেশী মিডিয়াগুলো মার্কিন এ রিপোর্টটির মেক্সিকোর মাদক চোরাচালান সংক্রান্ত ভযংকর অংশটিকে বাদ দিয়ে গুরুত্বহীন অংশটিকে এতটাই গুরুত্বদিল যে পাঠকের মনে হওয়াই স্বাভাবিক, ইসলামী ব্যাংক সম্প্রতি বড় ধরণের কোন অর্থপাচারের ঘটনায় জড়িয়ে বিশ্ব নিন্দার পাত্র হয়েছে। অথচ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ছয় বছর আগেকারে একটি মৃত ইস্যুকে টেনে হিচড়ে নিছক ব্যাংকটির সুনাম ক্ষুন্ন করতে জেনে বুঝেই বাংলাদেশী কিছু মিডিয়া ইসলামী ব্যাংককে জড়িয়ে প্রধান শিরোনাম করে রিপোর্ট করেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিয়ার রহমানকে ধন্যবাদ না দিলে কৃপনতা করা হবে। অতীতে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে মিডিয়ার রিপোর্টিংএ তৎকালীন গভর্নর সাহসী ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান আওয়ামী সরকার মনোনীত গভর্নর স্পষ্ট ভাষায় সাংবাদিকদের জানালেন যে, ইসলামী ব্যাংক ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি আনা হয়েছে তা একটি মৃত ইস্যু। দেখুন ড. আতিয়ার রহমানের বক্তব্যে ভিডিও: Continue reading “যত দোষ নন্দ ঘোষ : পাপ করে হংকং-সাংহাই, সাজা পায় ইসলামী ব্যাংক”

ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০৪

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি এক, অদ্বিতীয় ও মুখাপেক্ষীহীন। তিনি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশালী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়্। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সকলই তাঁর। দৃষ্টির সামনে কিংবা দৃষ্টির আড়ালে যা কিছু রয়েছে সে সব কিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞান সীমা থেকে কোন কিছুই গোপন করা সম্ভব নয়, তিনি সর্বজ্ঞ। তিনিই রাতকে দিনের ভেতর প্রবেশ করার, দিনকে প্রবেশ করান রাতের আধাঁরে, তিনি জীবিত কে মৃতের ভেতর থেকে বের করেন, মৃতকে বের করেন জীবিতের ভেতর থেকে। তিনি যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন, তাঁর হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। তিনি সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। তিনি না কাউকে জন্ম দিয়েছেন আর না তাঁকে কেউ জন্ম দিয়েছে, বরং তিনি জন্মমৃত্যু থেকে পবিত্র। তিনি জীবিত সবকিছুর ধারক। Continue reading “ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০৪”

ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০৩

ইসলামী অর্থনীতি সমাজকে কতটুকু স্বচ্ছল করতে সক্ষম তা আগেই পরিষ্কার করা দরকার । অনেকেরই ধারণা ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে গরীব ধনীর মাঝে আর কোন ভেদাভেদ থাকবে না, সমাজে কেউ দশ তলা আর কেউ গাছ তলায় অবস্থান করবে না, বরং সবাই প্রাচুর্যের মাঝে আয়েশী জীবন যাপন করবে। আমার জানা মতে ইসলাম আদৌ তেমন কোন স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখায় নি। বরং ইসলাম এমন একটি অর্থব্যবস্থার কথা বলে যে অর্থব্যবস্থা কায়েম হলে ধনী-গরীবের ব্যবধান সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে। ইসলাম অন্তত এতটুকু স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখায় যে সমাজে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রতিটি নাগরিক পর্যাপ্ত সম্পদের অধিকারী হবে। ইসলাম অনাহারে না থাকার নিশ্চয়তা দেয়, সবার জন্য কোরমা-পোলাওয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। Continue reading “ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০৩”

ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০২

প্রশ্ন হতে পারে, বিশ্বে এত নামীদামী অর্থব্যবস্থা থাকার পরও ইসলামী অর্থনীতি নামে আরেকটি অর্থব্যবস্থার আদৌ কি প্রয়োজন আছে? কিংবা দেড় হাজার বছর আগের অর্থব্যবস্থা বর্তমান সময়ে কি আদৌ কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে? এ প্রশ্নের জবাবে আমি বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের জটিল জটিল ফর্মুলার দারস্ত হতে রাজি নই। সূত্র দিয়ে গণিতের মতো বিষয়ে একটা উপসংহারে পৌঁছা যায়, অর্থনীতিতে সমীকরণই শেষ কথা নয়, হতে পারে না কিছুতেই। কারণ আগেই বলেছি, মানুষ যতটা যুক্তিবাদী ঠিক ততটাই যুক্তিবিবর্জিত আবেগী প্রাণী। তাই যে প্রাণীর জন্য অর্থনীতি সে প্রাণীর চরিত্রের সাথে মানানসই অর্থনীতিই প্রযোজ্য, যুক্তিভিত্তিক বা সমীকরণ সর্বস্ব অর্থনীতি তার কল্যাণে আসতে পারে না। (এ লেখায় সযতনে কঠিন কঠিন থিউরী গুলো এড়িয়ে যাব, যেহেতু ওগুলো আমারও বোধের অগম্য) Continue reading “ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০২”

ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০১

আদিতে মানুষের জীবন-পদ্ধতি কেমন ছিল? অনুমান করা যেতে পারে যে আদিতে মানুষের জীবন ছিল সহজ-সরল এবং বৈচিত্রহীন। সহজ সরল এ অর্থে যে মানুষের কাজকর্ম ফলমূল সংগ্রহ, আত্মরক্ষা ইত্যাদি ছঁকে বাঁধা কিছু গন্ডির মাঝেই সীমাবন্ধ ছিল। কিন্তু সব মানুষের কাজের ক্ষমতা সমান নয়, সবার চিন্তাশক্তি, ইচ্ছে-আকাংখা, ভালোলাগা-ভালোবাসা এক রকম নয়। প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে সকল কাজে কিছুটা ভিন্নতা। তাই সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবন হয়েছে বৈচিত্রময়, হয়েছে জটিল থেকে জটিলতর।

সময়ের আবর্তনে মানুষ ক্রমশ একে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে শুরু করে, বিশেষ করে নিজের সকল প্রয়োজন আদি মানব সম্প্রদায় সহজে মেটাতে পারতো কিন্তু মানুষের প্রয়োজনের পরিধির ব্যাপক পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা মানুষকে ক্রমশ অসহায় করে ফেলে। আর বর্তমান সময়ে অন্যের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের এক মূহুর্তও কল্পনা করা যায় না। আমাদের সকল প্রয়োজনীয় উপকরণের যোগান দিচ্ছে অন্য কেউ, বিনিময়ে আমরাও কোন না কোন প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলে দিচ্ছি অন্যদের হাতে। Continue reading “ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০১”

আইবিবিএল’র এমডির সাক্ষাৎকার

আইবিবিএল’র এমডির সাক্ষাৎকার বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি : মু. ফরীদউদদীন আহমাদ

প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০তম শাখার মাইলফলক স্পর্শ করল। এ প্রেক্ষাপটে আপনার অনুভূতি কি?

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী ব্যাংক ১৯৮৩ সালে ঢাকার লোকাল অফিস শাখার উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া শাখা উদ্বোধনের মাধ্যমে ২০০তম শাখার মাইলফলক স্পর্শ করেছে। পার্বত্য জেলাসহ দেশের সব জেলাতেই আমাদের শাখা সমপ্রসারিত হয়েছে। এ বছর আরও ১১টি শাখা খোলা হবে। ছোট ও মাঝারি শিল্প বিকাশে গত বছর খোলা হয়েছে ১০টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার। এ বছর খোলা হবে আরও ১০টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়ে এদেশে যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল আজ ইসলামী ব্যাংকিং এক অনিবার্য বাস্তবতা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আমাদের কাছে শাখা খোলার আবেদন আসছে। আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমরা এ আবেদনে সাড়া দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই আমরা আমানত, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে এক নম্বর স্থান অর্জন করছি। দেশের মোট রেমিটেন্সের ২৫ ভাগের অধিক আমরা একাই আহরণ করছি। ব্যাংকিং সেক্টরে এটা বিরাট সাফল্য। বছর শেষে আমরাই সর্বোচ্চ মুনাফা করছি। ব্যাংকিং সেক্টরে সরকারকে সবচেয়ে বেশি আয়কর প্রদান করছি। আমাদের এ সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এদেশে আরো ৭টি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে। আরও ক’টি ব্যাংক সনাতনী ব্যাংকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং উইনডো চালু করেছে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের ২০০তম শাখা উদ্বোধনের এ শুভক্ষণে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। Continue reading “আইবিবিএল’র এমডির সাক্ষাৎকার”

ইসলামী ব্যাংকঃ অবিচল আস্থার নাম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আর অপপ্রচারের কোন সীমা-পরিসীমা নেই। পত্র-পত্রিকায় ছাঁপানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিগুলো বাদ দিলে দেশের সব কটি ব্যাংকের পক্ষে যতগুলো সংবাদ প্রকাশিত হয় তার চেয়ে অনেক বেশী সংবাদ প্রকাশিত হয় ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে। অথচ ব্যাংকটির সাফল্য আর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ এসকল অপপ্রচার কিছুতেই ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না। জঙ্গি অর্থায়ন, ইসলামকে পুঁজি করে ব্যবসা, সুদকে ঘুরিয়ে খাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি অপপ্রচারের পরও ব্যাংকটির অগ্রযাত্রা দিন দিন আরো জোরদার হচ্ছে। সূত্রমতে, ৩০ জুন ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর আমানতের পরিমাণ ২১৯,৯৫৮ মিলিয়ন টাকা, বিনিয়োগের পরিমাণ ২০৪,২১৮ মিলিয়ন টাকা এবং বৈদিশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২১৭,৯৯৬ মিলিয়ন টাকা। বৈদেশিক বাণিজ্যের মধ্যে শুধু ফরেন রেমিটেন্স এর পরিমাণই ৯১,৬৪৬ মিলিয়ন টাকা যা দেশে আসা মোট রেমিটেন্স এর ২৫% এরও বেশী। অর্থাৎ ১১৮২টি শাখাসমৃদ্ধ সোনালী ব্যাংক, ৯৫২ টি শাখাসমৃদ্ধ কৃষি ব্যাংক, ৮৪৯ টি শাখা সমৃদ্ধ জনতা ব্যাংক, ৪৯২ টি শাখা  সমৃদ্ধ রূপালী ব্যাংকসহ তফসিলি ৪৭টি ব্যাংক, বেশ কিছু এনজিও তথা ৩৩২৪টি শাখার সুবিস্তৃত নেটওয়ার্কের এনজিও আশা,   ৩০৪২টি বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ ব্রাক এবং দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা এবং বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ফরেন রেমিটেন্স আসছে ৭৫ %, আর শুধু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড তার ২০০ টি শাখা ও ১২ টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার নিয়ে দেশের মানুষের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে এক চতুর্থাংশ বৈদেশিক মুদ্রা, যা বিশ্বে বিরল।

তাহলে ইসলামী ব্যাংকের মূল শক্তি কোথায়? কি যাদুমন্ত্রবলে ইসলামী ব্যাংক সাফল্যের শীর্ষস্থান ধরে রাখছে বছরের পর বছর? Continue reading “ইসলামী ব্যাংকঃ অবিচল আস্থার নাম”

ইসলামী ব্যাংকিং-এ জীবন ইসলামীয় দর্শনঃ উদ্দেশ্য কি (দুই)

ইসলামী ব্যাংক একটি ভিন্নতর ব্যাংকিং ব্যবস্থা। সুদের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে দেশে একটি কল্যাণকর হালাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন এমন একদল যোগ্য অফিসার যারা ইসলামকে জীবন বিধান হিসেবে মানে। যে লোক ইসলাম মানে না, ইসলামী অর্থনীতি বুঝতে চায় না, সুদ ও ব্যবসার ভেতর কোন পার্থক্য খুঁজে পায় না, ব্যবসাকে ঘুরিয়ে সুদ খাওয়া মনে করে এমন লোকদের নিয়ে ইসলামী ব্যাংকিং চালু করলে সে ব্যাংক কি ইসলামী ব্যাংকিং করতে পারবে? কিছুতেই নয়। বরং ইসলামী ব্যাংকিং চালু রাখতে ইসলামকে যারা জানে ও মানতে চায় তাদের দিয়েই ইসলামী ব্যাংকিং সচল রাখা সম্ভব। ইসলামী ব্যাংক তাই নিয়োগের সময় আধুনিক ও ইসলামী জ্ঞানের দিক থেকে এগিয়ে থাকা ছাত্রদেরকেই লিখিত পরীার মাধ্যমে বেঁছে নেয়। ছাত্রদল-ছাত্রলীগ বা বামছাত্র সংগঠনগুলোর ছাত্রদের চেয়ে আধুনিক ও ইসলামী জ্ঞানে জামাত-শিবিরের ছেলেরা যদি এগিয়ে থাকে তবে এটাকে দলীয় নিয়োগ বলা যায় না বরং এটা যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হিসেবে প্রশ্নাতীতভাবেই বৈধ। Continue reading “ইসলামী ব্যাংকিং-এ জীবন ইসলামীয় দর্শনঃ উদ্দেশ্য কি (দুই)”

ইসলামী ব্যাংকিং-এ জীবন ইসলামীয় দর্শনঃ উদ্দেশ্য কি? (এক)

মাদারীপুরের সাবেক গোবিন্দপুর নিবাসী আমার পরিচিত জনৈক ফকির মাঝে মাঝে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে পাখি ডাকা, ছায়াঘেরা অপরূপ প্রকৃতির টানে কিংবা কোষ্টকাঠিন্যের জ্বালায় টাট্টিখানায় গভীর ধ্যানে মগ্ন হন। এভাবেই তিনি আবিস্কার করেন মহা মহা যত সমস্যার অলৌকিক সমাধান।

একদিন তিনি আমাদের বললেন, চুল ছোট-বড় রাখা জায়েজ কেন জানো? আমরা নতুন রহস্যেও গন্ধ পাই, তাই কৌতুহলে জিজ্ঞেস করি কেনো কেনো? তিনি বেশ আগ্রহ ভরে বলেন, “আমি টাট্টিখানায় গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে দেখি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) নাজ্জাশির দরবারে হাজির। নাজ্জাশী রাসূলের (সাঃ) কোকড়া চুল টেনে ঘাড় পর্যন্ত লম্বা করে ফেললেন, আবার চুল ছেড়ে দিতেই তা কুকড়িয়ে কানের লতি পর্যন্ত ছোট হয়ে গেল, এ জন্যই চুল বড় ছোট রাখা জায়েজ”।
Continue reading “ইসলামী ব্যাংকিং-এ জীবন ইসলামীয় দর্শনঃ উদ্দেশ্য কি? (এক)”