অন্ধকারের হাতছানি

মানুষ সামাজিক জীব। সে যেমন পারেনা একা জীবন যাপন করতে ঠিক তেমনি এমন কিছু সে করার অধিকারও রাখেনা যা সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সমাজে গড়ে ওঠেছে বিভিন রসম রেওয়াজ, কৃষ্টি, সরকার ব্যবস্থা, ধর্ম ইত্যাদি। বেধে দেয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি যা পালন করতে মানুষ বাধ্য এবং যা পালন না করলে মানুষকে সমাজের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।
আলাহ তায়ালা প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালামকে তার প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করলেন। কিন্তু জ্ঞানের শ্রষ্টা আল্লাহ তার প্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের জন্য একজন মানব নয় বরং মানব জাতির প্রয়োজন অনুভব করেন, আর তাই তিনি আদম (আঃ) এর পাজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করেন হযরত হাওয়া (আ:) কে প্রথম মানবী রূপে। তাদেরকে শুধু একটি নিদিষ্ট গাছের কাছে যেতে নিষেধ করে বেহেস্তে অবাধে চলাফেরা ও আমোদের সুযোগ দেয়া হলো, ফলে বেহেস্তের স্নিগ্ধ পরিবেশে তারা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হন। কিন্তু শয়তান সিদ্ধান্ত নেয় তাদেরকে এ আরাম আয়েম থেকে বঞ্চিত করার।
শয়তান ভাল করেই জানত মানুষের দূর্বলতা কথা। মানুষের জীবনের সবচেয়ে প্রধান দূর্বলতা হচ্ছে জ্ঞান পিপাসা এবং দ্বিতীয়তঃ যৌনস্পৃহা । শয়তান তাই আদম ও হাওয়া (আঃ) কে জ্ঞানের অবারিত দ্বার খুলে দেয়ার কথা বলে নিষিদ্ধ ফল খেতে উৎসাহিত করে এবং এর ফল স্বরূপ তাদের চোখ খুলে যায়, পরস্পরের সামনে উন্মোচিত হয় উভয়ের লজ্জাস্থান। তারা তাদের ভুল বুঝতে পারলেন এবং গাছের পাতা দিয়ে লজ্জা নিবারণের চেষ্টা চালালেন। শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাদেরকে বেহেস্ত থেকে বিতারিত করলেন। আজো শয়তান মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য এই মোক্ষম অস্ত্রই ব্যবহার করছে।
যৌন জীবন মানুষের জীবনে একটি অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইসলাম যৌনস্পৃহাকে মন্দ চোখে দেখেনা এবং একে দমিয়ে রাখার পক্ষপাতিও নয় বরং ইসলাম একে নির্দিষ্ট নিয়মনীতির আলোকে সীমিত পরিসরে ব্যবহারকে ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানব জাতির যে ধারা অব্যাহত রয়েছে তা কেবল এই পরিশীলিত যৌন জীবনেরই ফল। মানুষের পারস্পরিক ভালবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের কারণেই মানুষ হাজারো বাধাকে পায়ে দলে আজকের অবস্থানে এসে পৌছেছে। শুধু বংশবৃদ্ধিই যদি আল্লাহর ইচ্ছে হতো তবে একটি এমিবা কিংবা হাইড্রা যেমন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে নতুন জীবনের সৃষ্টি করে কিংবা বংশ বৃদ্ধি করে, মানুষকেও আল্লাহ বংশবৃদ্ধির ঐ একই পদ্ধতি দিতে পারতেন কিংবা শুধু যৌনবাসনা পূরণের জন্যই যদি মানুষের জন্ম হতো তবে আল্লাহ পারতেন কেঁচোর মতো উভলিংগ প্রাণীতে পরিনত করতে। কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে আল্লাহ মানুষকে শুধু বংশ বৃদ্ধির জন্য কিংবা শুধু ক্ষুধা ও যৌন প্রয়োজন মেটানোর জন্যই সৃষ্টি করেননি। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সার্বজনীন ভালবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। Continue reading “অন্ধকারের হাতছানি”