মিডিয়া ব্লাকআউট : মানবিক বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ

truthভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। বাকস্বাধীনতা আর মানবাধিকার নামক শব্দদুটিকে মুছে ফেলা হয়েছে বাংলাদেশের অভিধান থেকে। এখানে এখন কেবলই হায়েনার হুংকার, শ্বশ্বানের থমথমে ভীতিকর গুমোট হাওয়ায় বাংলাদেশের দমবন্ধ হওয়ার জোগার। দেশের গ্রাম-গঞ্জ, শহর-নগর-বন্দর, রাজধানীর অলি গলি রাজপথে চলছে ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতাকে দমনের নামে রক্তের হোলি খেলা। ১৪ বছরের ফুটফুটে গোলাপের কোন মূল্য নেই আফিমচাষীদের, পৌশাচিক নির্যাতনে, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চোখ উপড়ে ফেলে পুলিশ হত্যা করেছে নবম শ্রেণীর ছাত্রকে, নির্বিচারের হত্যাযজ্ঞ চলছে প্রকাশ্য রাজপথে। কেবলমাত্র শিবির করার অপরাধে স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ধরে ধরে হাত-পা-মাথায় পিস্তল-শর্টগান ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে তাড়িয়ে তাড়িয়ে মৃত্যুযন্ত্রণা উপভোজ করছে পুলিশ নামের আওয়ামী হায়েনারা। এর পাশাপাশি পুশাসনের ছত্রছায়ায় পুলিশের কাধে কাধ মিলিয়ে পুলিশের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলে পড়ছে পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়। আক্রমন করছে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায়, আক্রমণ করছে গভীর রাতে। নির্যাতন চালাচ্ছে নিরস্ত্র নিরপরাধ নারী-পুরুষকে। বাড়ী-বাড়ী তল্লাশী করে দাড়ি-টুপিওয়ালা পুরুষদের, বোরকাওয়ালী পর্দানশীল নারীদের হয়রানি করছে, গ্রেফতার করছে, নির্যাতন করছে, হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলছে, চোখে সুঁচ ফুঁটিয়ে অন্ধ করে দিচ্ছে, লজ্জাস্থানে ইলেক্ট্রিক শক দিচ্ছে, নির্বিজকরণ ইনজেকশন পুশ করে তরুণ যুবসমাজকে বন্ধ্যা করে দিচ্ছে। আর এ সবকিছুই ঘটছে সমাজের বিবেক নামে খ্যাত মিডিয়াগুলোর সামনে। একই দিনে বগুড়ায় ৪ জনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো, চট্টগ্রামে নির্মমভাবে যখম করে বিনা চিকিতসায় রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে হত্যা করা হলো আরো ৪ জনকে, মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হাটু মুড়িয়ে রাস্তায় বসিয়ে ক্যামেরার সামনেই হত্যা করলো এক তরুনকে। অথচ বাংলাদেশের মিডিয়া মুখে শক্ত করে খিড়কি এটে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এ ঘটনাগুলো যাতে বহিঃবিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য শাহবাগ মোড়ে রঙ্গীন সিনেমার শুটিং শুরু করে দিল মিডিয়াগুলো।

বিশ্বের দেশে দেশে মিডিয়া দমনের বহু নজীর আছে, আধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার মিডিয়াগুলোর ওপর সেন্সরশীপ জারী করে। বাংলাদেশেও এর নজীর রয়েছে। শেখ মুজিবের আমলে মাত্র ৪টি পত্রিকা বাদে বাকী সকল পত্রিকা নিষিদ্ধ করে গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার বাংলাদেশে যে মিডিয়া ব্লাকআউটের ঘটনা ঘটল তা নজীরবিহীন। না, সরকার সরাসরি মিডিয়াগুলোতে সেন্সরশীপ জারী করেনি বরং সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে বামপন্থীদের নিয়ন্ত্রণাধীন মিডিয়াগুলো নিজেরাই সিন্ডিকেশন করে জামায়াত-শিবির তথা ইসলামী আন্দোলনের সংবাদগুলো বর্জন করা শুরু করে। যেখানে বাংলাদেশে ক্রসফায়ারে আহত একজন ছাত্রের পা কাটা যাওয়ায় বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো দিনেরপর দিন মাসের পর মাস এমনকি এখনও ক্ষণ ক্ষণে লীড নিউজ করছে, লিমন কি দিয়ে ভাত খায়, কিভাবে শৌচ করে সবকিছুর চুলচেরা বিশ্লেষণ তুলে ধরে অথচ দেশে ভিন্নমতের আরেকটি ছেলে কেবলমাত্র নামাজী হওয়ার অপরাধে, কেবলমাত্র ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসারী হওয়ার অপরাধে, কেবলমাত্র শিবির করার অপরাধে তার সংবাদটি চেপে গেল। অপরদিকে বিভিন্ন মিডিয়ার যেসব বামপন্থী কর্মী ব্লগিং করেন সরকার ও বামপন্থী নেতাদের মদদে এবং বিদেশী একটি রাষ্ট্রের অর্থায়নে শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সারাদেশের তরুণ-যুব সমাজের অকৃতিম দেশপ্রেমকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য, ইসলাম বিরোধী কাজে ব্যবহারের জন্য, ইসলামী আন্দোলনকে নিস্তব্ধ করার জন্য ডজন ডজন মুভি ক্যামেরা, শত শত স্টিল ক্যামেরা আধুনিক সব যন্ত্রপাতি নিয়ে শাহবাগে ঘৃণার চাষ করেছে,  সে ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে। “একটা দুইটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর” শ্লোগানে শ্লোগানে দেশের তরুণ প্রজন্মকে হিংসাত্মক কর্মকান্ডে জড়িয়ে দিয়েছে, লেলিয়ে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, ব্যাংক-বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল, কোচিং সেন্টার, বাসা-বাড়ী-মেসে ভয়ংকর আক্রমন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, গুলি-বোমা-গ্রেনেড হামলা। অথচ যে তরুন প্রজন্ম নিখাদ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে মাঠে নেমেছে তাদেরকে সেই একই ধরণের ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধে হেসে-খেলে জড়িয়ে ফেললো বাংলাদেশের বামপন্থী মিডিয়াজগত।

patritismমিডিয়াগুলো কেবল ইসলামী আন্দোলনের সংবাদগুলোই বর্জন করে নি, পাশাপাশি ইসলামী মতের সকল মিডিয়া বন্ধের জন্যও দেশপ্রেমে উজ্জীবীত তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। ইতোমধ্যেই শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ভিন্নমতের মিডিয়াকর্মীদেরকে, দিগন্ত টিভির সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন শহরে, আমারদেশ, নয়াদিগন্ত, সংগ্রামসহ ভিন্নমতের পত্রিকার বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন স্থানে, পত্রিকার কপি শাহবাগে পুড়িয়ে সরাসরি সম্প্রচার করে দেশবাসীকে এসকল মিডিয়ার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে, নয়াদিগন্ত অফিসে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়েছে, আমারদেশের প্রেসে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আক্রমন করা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে আর্থিক সকল ইনডেক্সে প্রথম স্থান আধিকারী ইসলামী ব্যাংকের বেশ কয়েকটি শাখায় আক্রমণ করা হয়েছে, রাজধানীতে এটিএম বুথ ভাংচুর করা হয়েছে, খুলনায় এটিএম বুথে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, ভাংচুর হয়েছে দেশের আরো অনেক স্থানে। হামলা হয়েছে  দেশের সবচেয়ে নামী-দামী হাসপাতাল ইবনে সীনা ও ইসলাম ব্যাংক হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ইসলামপন্থীদের কোচিং সেন্টারগুলো, বুয়েট, মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ক্ষেত্রে যেখান থেকে ৮০-৯০% ছাত্রছাত্রী উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হয়।

আথচ এ সবকিছুই মিডিয়াগুলো সযতনে এড়িয়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে নিরপরাধ ইসলামী ব্যক্তিত্বদের ফাঁসি দেয়ার জন্য মিডিয়াগুলো জনমত সৃষ্টি করছে, অপরদিকে সাধারণ তরুন-যুবাদের মানবতাবিরোধী অপরাধে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে একটি সন্ত্রাসী প্রজন্ম দেশকে উপহার দিচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো এ বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের এ বিষয়গুলো যেমন মিডিয়াগুলো ব্লাকআউট করছে, ঠিক তেমনি যেসকল স্যোশাল মিডিয়া এ সংবাদগুলো পরিবেশন করছে তাও বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে জনপ্রিয় সব ফেসবুক পেজ অপরদিকে মাসের পর মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দ্বিতীয়  সর্বোচ্চ জনপ্রিয় সাইট ইউটিউব। এর সাথে সুর মিলিয়েছে বিদেশী একটি শক্তিশালী রেডিও। এভাবে তারা ইসলামী আন্দোলনকে সকলদিক থেকে আক্রমন করে ধ্বংস করে দিতে চায়। এমনকি জামায়াত-শিবিরের সকল সংবাদ বিশেষ করে হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন সংবাদ ব্লাকআইট করারমতো জঘন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠবে, জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হবে, মোটকথা নেমে আসবে মানবিক বিপর্যয়।

বাংলাদেশের মানুষ এখন শুধু সরকারের দমন নিপীড়নের শিকারই নয়, বরং মিডিয়া পরিচালিত তথ্য ও সশস্ত্র সন্ত্রাসে ক্ষতবিক্ষত। প্রতিনিয়ত দেশকে এক অনিবার্য সংঘাতের দিকে হাকিয়ে নেয়া হচ্ছে, প্রতিনিয়ত গৃহযুদ্ধের উস্কানী দিয়ে বাংলাদেশকে রুয়ান্ডারমতো বিধ্বস্ত শ্বশ্বানে পরিণত করছে। এর থেকে পরিত্রান চায় দেশবাসী। তাই বিশ্বের নামী-দামী মিডিয়াগুলোর এখনই বাংলাদেশ নিয়ে খোঁজ খবর নেয়ার সময় এসেছে। ভয়াবহ সংঘাতের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে বিশ্ববিবেক তথা গণমাধ্যমগুলো এগিয়ে আসবে এটাই কামনা। তবে একটি অন্যায় যুদ্ধকে জিইয়ে রেখে দিনের পর দিন ভয়াবহ সব রিপোর্টে পত্রিকার পাতা ভরে ফেলা, টিভির পর্দায় বিশ্বব্যাপী লাইভ টেলিকাস্ট করার মতো রোমাঞ্চকর আভিজ্ঞতার লোভ বিশ্বমিডিয়া সংবরণ করতে পারে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“মিডিয়া ব্লাকআউট : মানবিক বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ৫টি সংবাদ মাধ্যমকে বর্জন ১৪ দলের
    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

    ঢাকা: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট দেশের ৫টি সংবাদ মাধ্যমকে বর্জন করেছে। বুধবার জোটের একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম, ইসলামিক টিভি ও দিগন্ত টিভিকে।

    সম্মেলনের আগে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক এসব সংবাদ মাধ্যমকে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

    গত শুক্রবার শাহবাগের সমাবেশ থেকেও এই ৫টি সংবাদ মাধ্যমকে বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছিলো।

    আন্দোলনকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব সংবাদ মাধ্যমকে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়‍া হয়েছে বলে জানিয়েছে ১৪ দল সূত্র।

    [উত্তর দিন]

  2. সাইদ বলেছেন:

    আমি কোন দল বুঝিনা আমি বুঝি বাংলাদেশকে বিশ্বে সামনে যেন আর অপমানীত না হতে হয়।তাই আমাদের দেশের মানুষকে নতুন কোন সরকার তৈরী করতে হবে।এখন আওয়ামী লীগ যাহা করতেছে।তাহা বিশ্বের বাজারে আমাদের অনেক ছোট করবে।যারা বাংলাদেশের বাহিরে কাজ করছেন এক মাত্রা তারা জানেন বাংলাদেশের মানুষকে কিভাবে ঘৃনা করে।কুকুরে দাম
    আছে বাংলাদেশের মানুষের দাম নেই।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন