যড়যন্ত্রের বেড়াজালে শিবির

ইসলামী ছাত্রশিবির যতবড় সমাবেশ মিছিল যাই করুক না কেন চ্যানেল আই, দেশ টিভির মতো কোন টিভি চ্যানেল সে সংবাদ প্রচার করে না, করে না এ কারণে হয়তো যে সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে মজবুত একটি ছাত্রসংগঠন সমাবেশ করলে তা বড় রাজনৈতিক দলের সমাবেশের মতোই বিশাল হবে এটা হয়তো তারা মেনেই নিয়েছে, তাই একটি স্বাভাবিক সংবাদ প্রচার করে মূল্যবান সময় অপচয়ের কোন অর্থ তারা খুঁজে পায় না বরং এরচেয়ে ব্রিটল বিস্কুটের কোমরদোলানী অনেক লাভজনক। শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন কিংবা কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের সংবাদও সবসময় গণমাধ্যমগুলো এড়িয়ে যায়। এ নির্বাচনগুলো এতটাই স্বচ্ছ যে এখানে কোন দলাদলী, কোন কোন্দল এমনকি কারো পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট চাওয়ারও কোন সুযোগ থাকে না। প্রত্যক্ষ গোপন ভোটে নির্বাচিত হন শিবির সভাপতি। এখানে সকল সদস্যই ভোটার এবং সকল সদস্যই প্রার্থী, শুধু নিজেকে নিজে ভোট দেয়ার অধিকার নেই কারো, নিজের চেয়ে যোগ্য কাউকে ভোট দিতে হয়, নইলে ভোটটি বাতিল বলে গণ্য হয়। এমন নিরস, নিরুত্তাপ একটি নির্বাচনী কার্যক্রম গণমাধ্যমের দৃষ্টি কাড়তে পারে না, তাই কে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হলো আর কে মনোনীত হল সেক্রটারী জেনারেল তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানার সুযোগ হয় না সাধারণ জনতার।

কিন্তু ইদানিং শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারী জেনারেল, কার্যকরী পরিষদ নিয়ে মিডিয়াগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং কার্যকরী পরিষদের মাঝে মতানৈক্য নিয়ে মিডিয়াগুলো সরগরম। অথচ একটি সংগঠনের জন্য এটি খুব অস্বাভাবিক নয়। ছাত্রশিবির যারা করেন বিশেষ করে এর সদস্য ও সাথীরা ছাত্রশিবিরের সংবিধানের বিভিন্ন ধারা গুলো সম্পর্কে ভালো খবর রাখেন। সংবিধানে স্পষ্ট করেই উল্লেখ আছে কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং কার্যকরী পরিষদের মাঝে মতানৈক্য হলে কি প্রক্রিয়ায় তার সমাধান হবে, কার্যকরী পরিষদ সদস্যরা কেন্দ্রীয় সভাপতির বিরুদ্ধে কিভাবে অনাস্থা আনবেন কিংবা কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের বিরুদ্ধে কিভাবে অনাস্থা প্রস্তাব আনবেন, সুস্পষ্টভাবে তার উল্লেখ আছে।

শিবির সম্পর্কে যাদের মাত্রাতিরিক্ত অন্যায় আগ্রহ তাদের জানা উচিত শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা যায় দুটো কারণে, এক) যদি তিনি স্বেচ্ছায় শরীয়তের স্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করেন অথবা তার কার্যক্রমে সংগঠনের ক্ষতির আশংকা দেখা দেয়। কিন্তু কার্যকরী পরিষদ সদস্যরা যদি একযোগে পদত্যাগ করেন তাহলে ছাত্রশিবিরের ক্ষতির আশংকা সুষ্পষ্টভাবে মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তাই ছাত্রশিবিরের কোন নেতার পক্ষে সংগঠনের একজন ব্যক্তির উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে সংগঠনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ার ধৃষ্টতা দেখানোর কথা নয়। যদি এভাবে কেউ সংগঠনকে ধ্বংসের দিকে টেনে নেয়ার বৃথা প্রচেষ্টা চালায় তবে তারা যে বিপদগামী তা কারো বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজ হলো কার্যকরী পরিষদ নির্বাচন। দুঃখের বিষয়, দেশব্যাপী সংগঠনের বিরুদ্ধে দমন-নীপিড়ন শুরুর কারণে সংগঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এখনো করা সম্ভব হয়নি। ছাত্রশিবিরের উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনসহ নতুন সেশনের সকল নির্বাচন যে কোন মূল্যে সম্পন্ন করা। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক, কর্মী, সাথী, সদস্য এবং সুভাকাঙ্খীদের উচিত নয় তথ্যসন্ত্রাসে বিভ্রান্ত হয়ে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রজ্জলিত অগ্নিকুন্ডে ঘি ঢেলে দেয়া। ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে এখন বিশ্বব্যাপী যড়যন্ত্র চলছে, চলছে আন্দোলনকে সমূলে নির্মূল করার অপচেষ্টা। এ অপচেষ্টা রুখে দিতে আন্দোলনের পক্ষ শক্তিকে আল্লাহর উপর ভরসা করে ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

বিজ্ঞ পাঠকদের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের পদচ্যুতি সংক্রান্ত ধারাগুলোসহ পুরো সংবিধানটি তুলে ধরলাম।

প্রথম অধ্যায়

নাম

ধারা ১: এই সংগঠনের নাম ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ধারা ২: এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী মানুষের সার্বিক জীবনের পুনর্বিন্যাস সাধন করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন।

কর্মসূচি

ধারা ৩: এই সংগঠনের কর্মসূচি

এক: তরুন ছাত্রসমাজের কাছে ইসলামের আহ্বান পৌঁছিয়ে তাদের মাঝে ইসলামী জ্ঞান অর্জন এবং বাস্তব জীবনে ইসলামের পুর্ণ অনুশীলনের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।

দুই: যে সব ছাত্র ইসলামী জীবনবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত তাদেরকে সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করা।

তিন: এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ ছাত্রদেরকে ইসলামী জ্ঞান প্রদান এবং আদর্শ চরিত্রবানরূপে গড়ে তুলে জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ার কার্যকরী ব্যবস্থা করা।

চার: আদর্শ নাগরিক তৈরীর উদ্দেশ্যে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনের দাবিতে সংগ্রাম এবং ছাত্রসমাজের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান।

পাঁচ: অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক গোলামী হতে মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী বিপ্লব সাধনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।

দ্বিতীয় অধ্যায়

সদস্য

ধারা ৪: একজন শিক্ষার্থী যদি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে তার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করেন, এ সংগঠনের কর্মসূচী ও কর্মপদ্ধতির সাথে পূর্ণ ঐক্যমত পোষণ করেন ও তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, এ সংগঠনের সংবিধানকে সম্পূর্ণরূপে মেনে চলেন, তার জীবনে ইসলাম নির্ধরিত ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ যথাযথভাবে পালন করেন, কবীরা গোনাহ্ সমূহ থেকে দূরে থাকেন এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও কর্মসূচির বিপরীত কোন সংস্থার সঙ্গে কোন সম্পর্ক না রাখেন, তাহলে তিনি এই সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করতে পারেন।

ধারা ৫: সদস্যপদ লাভে ইচ্ছুক কোন কর্মী কেন্দ্রীয় সভাপতি হতে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে তা যথযথভাবে পূরণ করতঃ কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত পন্থায় কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে পাঠিয়ে দেবেন এবং কেন্দ্রীয় সভাপতি তা মঞ্জুর করবেন এবং তার সদস্য পদের শপথ নেয়ার ব্যবস্থা করবেন। মঞ্জুর না করলে তার কারণ কার্যকরী পরিষদের নিকট ব্যাখ্যা করতে বাধ্য থাবনেন।

ধারা ৬: কোন সদস্য যদি সংবিধানের ৪ নং ধারায় বর্ণিত বিষয়সমূহ আংশিক বা পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেন অথবা সদস্য হওয়াকালীন প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন অথবা সংগঠনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেন অথবা তাকে সংশোধনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংগঠনের কাজে অবহেলা করে চলেন, তাহলে কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক গৃহীত নির্ধারিত পন্থায় তার সদস্যপদ বাতিল করা হবে।

ধারা ৭: যদি কোন সদস্য তার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিতে চান তাহলে তাকে কেন্দ্রীয় সভাপতির নিকট পদত্যাগপত্র পেশ করতে হবে। কেন্দ্রীয় সভাপতি তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার সাথে সাথে তার সদস্যপদ মুলতবী হয়ে যাবে এবং কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুমোদনের পর পরই তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।

ধারা ৮: কোন সদস্যের ছাত্রজীবন সমাপ্ত হলে তার পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবার দু’মাস পর তার সদস্যপদ আপনা-আপনি বিলুপ্ত হবে।

সাথী

ধারা ৯: যদি কোন শিক্ষার্থী সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে ঐক্যমত পোষণ করেন, এ সংগঠনের কর্মসূচী ও কর্মপদ্ধতির সাথে সচেতনভাবে একমত হন, ইসলামের প্রাথমিক দায়িত্বসমূহ পালন করেন এবং সংগঠনের সামগ্রিক তৎপরতায় পূর্ণভাবে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে তিনি এ সংগঠনের সাথী হতে পারেন।

ধারা ১০: সাথী হতে ইচ্ছুক কোন শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় সংগঠন কর্তৃক নির্ধারিত সাথী হবার আবেদনপত্র পূরণ করে তা কেন্দ্রীয় সভাপতি অথবা তার কোন স্থানীয় প্রতিনিধির কাছে জমা দেবেন এবং কেন্দ্রীয় সভাপতি বা তার স্থানীয় প্রতিনিধি সে আবেদন মঞ্জুর করে নেবেন।

ধারা ১১: যদি কোন সাথী সংবিধানের ৯নং ধারায় বর্ণিত নিয়মসমূহ আংশিক বা পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেন, তাহলে কেন্দ্রীয় সভাপতি বা তার স্থানীয় প্রতিনিধি উক্ত সাথীর সাথীপদ বাতিল করতে পারবেন।

তৃতীয় অধ্যায়

কেন্দ্রীয় সংগঠন

ধারা ১২: কেন্দ্রীয় সংগঠন কেন্দ্রীয় সভাপতি, কার্যকরী পরিষদ এবং একটি সেক্রেটারিয়েট সমন্বয়ে গঠিত হবে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি

ধারা ১৩: এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।

ধারা ১৪: যদি কোন কারণবশত কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ স্থায়ীভাবে শূন্য হয় তাহলে কার্যকরী পরিষদ, পরিষদের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িকভাবে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত করে যথাশীঘ্র সম্ভব সদস্যদের ভোটে সেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। যদি কেন্দ্রীয় সভাপতি সাময়িকভাবে ছুটি গ্রহণে বাধ্য হন তাহলে তিনি কার্যকরী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে পরিষদের মধ্য থেকে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী সভাপতি নিযুক্ত করতে পারবেন।

ধারা ১৫: কেন্দ্রীয় সভাপতি বা অস্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত বা নিযুক্ত হবার পর কার্যভার গ্রহণের পূর্বে সদস্যদের সম্মেলনে অথবা কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে সংবিধানের পরিশিষ্টে বর্ণিত সভাপতির শপথ গ্রহণ করবেন।

ধারা ১৬: কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, এই সংগঠনের মূল উদ্দে্শ্য হাসিল, পরিচালনা, কর্মসূচীর বাস্তবায়ন এবং সর্বোৎকৃষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ।

ধারা ১৭: কেন্দ্রীয় সভাপতি সব সময় কার্যকরী পরিষদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করবেন। কিন্তু দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন ও কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত নেই এমন কোন বিষয়ে জরুরী ও সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন হলে তিনি এ নিয়মের অধীনে থাকবেন না।

ধারা ১৮: সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় কেন্দ্রীয় সভাপতিকে যে সব ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, তিনি নিজে অথবা কর্মীদের মাধ্যমে সেগুলো প্রয়োগ করতে পারবেন।

কার্যকরী পরিষদ

ধারা ১৯: সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতি ১২৫ জনে একজন হারে এবং অবশিষ্ট সংখ্যার জন্য একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে কার্যকরী পরিষদ এক বছরের জন্য গঠিত হবে এবং সভাপতি প্রয়োজন বোধ করলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি হবে না, এমন সংখ্যক সদস্যকে এবং কার্যকরী পরিষদের প্রাক্তন সদস্যদের মধ্য থেকে অনূর্ধ্ব দু’জনকে কার্যকরী পরিষদের পরামর্শক্রমে পরিষদের অন্তর্ভূক্ত করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকলী পরিষদের সভাপতি থাকবেন এবং সেক্রেটারী জেনারেল পদাধিকার বলে কার্যকরী পরিষদের সদস্য হবেন।

ধারা ২০: কার্যকরী পরিষদের সদস্যগণ কেন্দ্রীয় সভাপতির ব্যবস্থাপনায় শপথ গ্রহণ করবেন।

ধারা ২১: কার্যকরী পরিষদের কোন নির্বাচিত সদস্যদের পদ শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যেই তা পূরণ করতে হবে।

ধারা ২২: সামগ্রিকভাবে কার্যকরী পরিষদের ও ব্যক্তিগতভাবে এর সদস্যদের দায়িত্ব হচ্ছে নিজেদের তত্ত্বাবধান, কেন্দ্রীয় সভাপতির তত্ত্বাবধান, সংগঠনের ইসলামী নীতির অনুসৃতির তত্ত্বাবধান, সংগঠনের কর্মসূচী বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ, সংবিধান অনুসৃতির তত্ত্বাবধান, সংগঠনের যে কোন ত্রুটি দূরীকরণ, সংগঠনের সামগ্রিক কাজের মৌলিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় সভাপতিকে পরামর্শ দান, নিঃসংকোচে মত প্রকাশ এবং কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে নিয়মিত যোগদান অথবা অভিমত প্রেরণ।

ধারা ২৩: বছরে কার্যকরী পরিষদের দু’টি সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রয়োজন বোধ করলে অথবা কার্যকরী পরিষদের এক-পঞ্চমাংশ সদস্য অথবা সংগঠনের সদস্যদের এক দশমাংশ কেন্দ্রীয় সভাপতির নিকট লিখিতভাবে দাবি করলে কার্যকরী পরিষদের অধিবেশন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। কার্যকরী পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের দাবি পেশ করার দিন থেকে এক মাসের মধ্যেই অধিবেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ধারা ২৪: কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত হলেই কোরাম হবে। কিন্তু কোরাম না হওয়ার কারণে কোন অধিবেশন মুলতবী হলে পরবর্তী অধিবেশনের জন্য কোরাম প্রয়োজন হবে না। কার্যকরী পরিষদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত উপস্থিত সদস্যদের অধিকাংশের মতানুযায়ী গৃহীত হবে।

ধারা ২৫: যদি কোন ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কার্যকরী পরিষদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং যদি একে অপরের রায় মেনে নিতে না পারেন, তাহলে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতানুযায়ী নির্ধারিত হবে।

সেক্রেটারিয়েট

ধারা ২৬: কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে সেক্রেটারী জেনারেল ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিভাগীয় সেক্রেটারীর সমন্বয়ে সেক্রটারিয়েট গঠন করবেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনবোধে পূর্ণ বা আংশিকভাবে তার সেক্রেটারীয়েটের রদবদল করতে পারবেন।

ধারা ২৭: সেক্রেটারী জেনারেলের সেক্রেটারিয়েটের বিভাগগুলোর কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব থাকবে। অধঃস্তন সংগঠনগুলোর ও কর্মীদের উপর দৃষ্টি রাখা এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিকে সমস্ত বিষয়ে ওয়াকিফহাল রাখা তার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ধারা ২৮: কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করাই সেক্রেটারীয়েটের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং সেক্রটারীয়েট কাজের জন্য সভাপতির নিকট দায়ী থাকবে।

অন্যান্য স্তর

ধারা ২৯: প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের পরামর্শক্রমে সংগঠনের অন্যান্য স্তর উদ্ভাবন ও প্রশাসন পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারবেন।

সদস্য শাখা

ধারা ৩০: দু’য়ের অধিক সদস্য নিয়ে ‘সদস্য শাখা’ গঠিত হবে। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সদস্য শাখার সভাপতি এক বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। অনিবার্য কারণে কেন্দ্রীয় সভাপতির নির্দেশে সদস্যগণ বছরের যে কোন সময়ে সদস্য শাখার সভাপতি নির্বাচিত করতে পারবেন।

ধারা ৩১: কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে সংগঠনের কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও কেন্দ্রীয় সভাপতির নির্দেশাবলী পালনই সদস্য শাখার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

সাথী শাখা

ধারা ৩২: যেখানে সদস্য শাখা নেই সেখানে দু’য়ের অধিক সাথী নিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুমোদনক্রমে ‘সাথী শাখা’ গঠিত হবে। সাথীদের প্রত্যক্ষ ভোটে এক বছরের জন্য সাথী শাখার সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন

ধারা ৩৩: নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন পরিচালনা করবেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুইজন সহকারী নির্বাচন কমিশনার সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। সংগঠনের সর্ব পর্যায়ের নির্বাচন পদ্ধতি কার্যকরী পরিষদ নির্ধারণ করবেন।

ধারা ৩৪: এই সংগঠনের সভাপতি বা কার্যকরী পরিষদের সদস্য বা অন্য কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি নির্বাচন করা কালে ব্যক্তির আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি আনুগত্য, তাক্বওয়া, আদর্শের সঠিক জ্ঞানের পরিসর, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা, শৃঙ্খলাবিধানের যোগ্যতা, মানষিক ভারসাম্য, উদ্ভাবনী ও বিশ্লেষণী শক্তি, কর্মের দৃঢ়তা, অনঢ় মনোবল, আমানতদারী এবং পদের প্রতি লোভহীনতার দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।

ধারা ৩৫: এই সংগঠনের যে কোন নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্যানভাসের অনুমতি থাকবে না। কারো পক্ষে বা বিপক্ষে কোন গ্রুপ সৃষ্টি করা যাবে না। তবে পরামর্শ নেয়াটা ক্যানভাসের অন্তর্ভূক্ত হবে না। নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তিই নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবেন।

অর্থ-ব্যবস্থা

ধারা ৩৬: সংগঠনের প্রত্যেক স্তরে বায়তুলমাল থাকবে। কর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের দান, সংগঠন-প্রকাশনীর মুনাফা এবং যাকাতই হবে বায়তুলমালের আয়ের উৎস।

ধারা ৩৭: সংশ্লিষ্ট সভাপতি সংগঠনের কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে বায়তুলমালের অর্থ ব্যয় করবেন।

ধারা ৩৮: বায়তুলমালের যাকাত সংগ্রহ করতে হলে পূর্বাহ্নে কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুমতি নিতে হবে এবং যাকাত থেকে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব পৃথক রাখতে হবে। এই অর্থ কেবলমাত্র শরীয়ত নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা যাবে।

ধারা ৩৯: অধ্বঃস্তন সংগঠনগুলো বায়তুলমাল থেকে নিয়মিতভাবে নির্ধারিত অংশ উর্ধ্বতন বায়তুলমালে জমা দেবে।

ধারা ৪০: কেন্দ্রীয় সভাপতি সামগ্রিকভাবে বায়তুলমালের আয়-ব্যয় সম্পর্কে কার্যকরী পরিষদের নিকট দায়ী থাকবেন এবং অধ্বঃস্তন সংগঠনগুলোর বায়তুলমালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করবেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে অডিট কমিটি গঠন করবেন। অডিট কমিটি বছরে একবার কেন্দ্রীয় ও শাখা বায়তুলমাল অডিট করবে। অডিট রিপোর্ট কার্যকরী পরিষদে পেশ করা হবে।

পদচ্যুতি

ধারা ৪১: কেন্দ্রীয় সভাপতি যদি স্বেচ্ছায় শরীয়তের স্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করেন অথবা তার কার্যক্রমে সংগঠনের ক্ষতি হবার আশঙ্কা দেখা দেয় তাহলে তাকে পদচ্যুত করা যাবে।

ধারা ৪২: যদি কার্যকরী পরিষদের অধিকাংশ সদস্য কেন্দ্রীয় সভাপতির প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব পাস করেন, তাহলে এক মাসের মধ্যে পূর্ণ বিষয়টি সদস্যদের নিকট পেশ করতে হবে। অধিকাংশ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে কেন্দ্রীয় সভাপতি পদচ্যুত হবেন। অধিকাংশ সদস্য সভাপতির সমর্থনে ভোট দিলে কার্যকরী পরিষদ পদচ্যুত হবেন এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ধারা ৪৩: সদস্যদের মধ্য হতে কেন্দ্রীয় সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করতে হলে এ প্রস্তাবের পক্ষে প্রমাণাদিসহ সদস্যদের এক দশমাংশের স্বাক্ষর নিয়ে লিখিতভাবে কার্যকরী পরিষদের নিকট তা পেশ করতে হবে। এর পরে অনাস্থা প্রস্তাবটি এক মাসের মধ্যে কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে পেশ করতে হবে। কার্যকরী পরিষদের অধিকাংশ সদস্য কেন্দ্রীয় সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবটি পাশ করলে এক মাসের মধ্যেই পূর্ণ বিষয়টি সদস্যদের নিকট পেশ করতে হবে। অধিকাংশ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে কেন্দ্রীয় সভাপতি পদচ্যূত হবেন। অধিকাংশ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিলে কার্যকরী পরিষদ পদচ্যুত হবেন এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ধারা ৪৪: যদি কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের অথবা কার্যকরী পরিষদের কোন নির্বাচিত সদস্যের রদবদল করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, তাহলে তিনি সংগঠনের সদস্যদের মতামত গ্রহণ করবেন। যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তার মতের পক্ষে রায় দেন, তাহলে উক্ত নির্বাচিত সদস্য অথবা কার্যকরী পরিষদ পদচ্যুত হবেন। কিন্তু যদি কার্যকরী পরিষদের সমষ্টিগত পদচ্যুতির ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য কেন্দ্রীয় সভাপতির মতের বিরোধিত করেন, তাহলে এক মাসের মধ্যে কার্যকরী পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে কেন্দ্রীয় সভাপতি অবশ্যই পদত্যাগপত্র দাখিল করবেন।

ধারা ৪৫: কার্যকরী পরিষদের কোন সদস্য তখনই তার সদস্যপদ হারাবেন, যখন তিনি সংগঠনের সদস্য না থাকেন অথবা উপযুক্ত কারণ ব্যতীত কার্যকরী পরিষদের অধিবেশনে পর পর দু’বার অনুপস্থিত থাকেন অথবা কার্যকরী পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং সভাপতি তা মঞ্জুর করেন অথবা যারা তাকে নির্বাচিত বা মনোনীত করেছেন, তাদের অধিকাংশ যদি তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেন।

ধারা ৪৬: কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রয়োজনবোধে যে কোন সাথী শাখাকে ভেঙ্গে দিতে এবং যে কোন সদস্য শাখাকে সাসপেন্ড করতে পারবেন। কিন্তু কোন সদস্য শাখাকে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে দিতে হলে তাকে কার্যকরী পরিষদের পরামর্শ নিতে হবে।

সংবিধানের সংশোধন

ধারা ৪৭: এ সংবিধানের কোন সংশোধনী সরাসরি সদস্যদের সম্মেলনে সমস্ত সদস্যদের অধিকাংশের ভোটে মঞ্জুর করা যাবে। কিন্তু উক্ত সংশোধনীর নোটিশ সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার দুই সপ্তাহ আগে কেন্দ্রীয় সভাপতির নিকট পৌঁছাতে হবে। এই সংবিধানের কোন সংশোধনী কার্যকরী পরিষদের অধিকাংশের ভোটেও মঞ্জুর করা যাবে। কিন্তু এরূপ কোন সংশোধনী গৃহীত হবার দুই মাসের মধ্যেই সমস্ত সদস্যদের অধিকাংশের ভোটে তা মঞ্জুর করে নিতে হবে।

ধারা ৪৮: এ সংবিধানের কোন ধারা বা বিষয়ের ব্যাখার ব্যাপারে কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

বিবিধ

ধারা ৪৯: জানুয়ারী মাস থেকে এ সংগঠনের সাংগঠনিক বছর শুরু হবে।

ধারা ৫০: এ সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব ছাত্রের শিক্ষাজীবন সমাপ্ত হয়ে যাবে তাদেরকে নিয়ে এ সংগঠনের একটি ভ্রাতৃশিবির গঠিত হবে।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“যড়যন্ত্রের বেড়াজালে শিবির” লেখাটিতে 5 টি মন্তব্য

  1. abhimani বলেছেন:

    batil shakti sotter jagoronke sajya korte parena.

  2. Munjur Morshed বলেছেন:

    ভাই আপনার সব কথা বৃঝলাম। তবে শিবিরের সাবেক সেক্রোটারী জেনারেল বা সাধারণ সম্পদক শিশির মো: মনিরকে সরাল সংবিধানের কোন ধারয় একটু বিশ্লেষণ করবেন প্লিজ।

    আর আমার জানামতে কাযকরি পরিষদ এবং শিবিরের সদস্যরা দুইবার অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। জামায়াত সংবিধানের কোন ধারায় সেই অনস্থা প্রস্তাবে হস্তক্ষেপ করেছে একটু বলবেন প্লিজ।

    তবে একটা কথা যখন নিজেদের মধ্যে ঐক্য ভেঙ্গে যায় তখন বাইরের লোক তো সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবে। এটাতো খুব সাভাবিক ব্যপার।

  3. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ঘরের মাঝে কোন সমস্যা থাকলে সেটা ঘরেই সমাধানের চেষ্টা চালানো উচিত। অহেতুক বাইরের লোকদের শালিশ মেনে নিজেদেরকে সর্বশান্ত করার কোন মানে হয় না।
    শিশির মোঃ মনির ভাই এমন কোন অভিযোগ করেছেন বলে আমার জানা নেই। প্রতি বছরই প্রচুর সদস্য ছাত্রজীবন শেষ করে বৃহৎ আন্দোলনে চলে যায়, এটা নতুন কোন বিষয় নয়। ছাত্র আন্দোলনই শেষ কথা নয়, প্রস্তুতি মাত্র, এখানে ছাত্রজীবন শেষ হলো কি হলো না তা বিবেচনা না করে বৃহৎ আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়াই সময়ের দাবী।

  4. Shamim বলেছেন:

    Sotti! Janar ase onek kisu…

  5. সমকাল হতে পারে হলুদ সাংবাদিকতার উৎকৃষ্ট নমুনা | শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস বলেছেন:

    […] […]