শবে ক্বদর

 শবে ক্বদর কি?

আমি এই (কুরআনকে) ক্বাদ্‌রের রাত্রিতে নাযিল করিয়াছি। তুমি কি জান, ক্বাদ্‌রের রাত্রি কি? ক্বাদ্‌রের রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম। ফেরেশতা ও রূহ এই (রাত্রিতে) তাহাদের রব্ব-এর অনুমতিক্রমে সব হুকুম হইয়া অবতীর্ণ হয়। এই রাত্রটি পুরাপুরি শান্তি ও নিরাপত্তাময় ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সূরা আল-ক্বাদ্‌র, আয়াত ১-৫)

শবে ক্বদর কেন?

শপথ এই সুস্পষ্ট প্রকাশকারী কিতাবের; আমরা ইহাকে এক বড় কল্যাণময় ও বরকতপূর্ণ রাতে নাযিল করিয়াছি। কেননা আমরা লোকদিগকে সাবধান করিতে চাহিয়াছিলাম। ইহা ছিল সেই রাত যে রাতে আমাদের নির্দেশে প্রতিটি ব্যাপারের বিজ্ঞোচিত ফায়সালা প্রকাশ করা হইয়া থাকে। আমরা একজন রাসূল পাঠাইতে যাইতে ছিলাম, তোমার রব্ব-এর রহমত স্বরূপ। নিঃসন্দেহে তিনিই সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু জানেন। (সূরা আদ্‌-দুখান, আয়াত ২-৬)

শবে ক্বদর কোন মাসে?

রমযানের মাস, ইহাতেই কুরআন মজীদ নাযিল হইয়াছে, যাহা গোটা মানব জাতির জন্য জীবন যাপনের বিধান আর ইহা এমন সুস্পষ্ট উপদেশাবলীতে পরিপূর্ণ, যাহা সঠিক ও সত্য পথ প্রদর্শন করে এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য পরিষ্কাররূপে তুলিয়া ধরে। কাজেই আজ হইতে যে ব্যক্তি এই মাসের সম্মুখীন হইবে, তাহার পক্ষে এই পূর্ণ মাসের রোযা আদায় করা একান্ত কর্তব্য।…. (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৫)

শবে ক্বদর কোন তারিখে?

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে বলেনঃ তোমরা তাকে (শবে কদর) রমযানের ১৭, ২১ ও তেইশের রাতে অন্বেষণ কর। অতপর তিনি (সাঃ) চুপ থাকেন। (আবু দাঊদ ১৩৮৪)

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) রমযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন এবং বলতেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কাদর তালাশ  কর। (বুখারী ১৮৯৩)

আবু সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রমযান মাসের মাঝের দশকে ই’তিকাফ করেন। বিশ তারিখ অতীত হওয়ার সন্ধ্যায় এবং একুশ তারিখের শুরুতে তিনি এবং তাঁর সংগে যারা ই’তিকাফ করেছিলেন সকলেই নিজ নিজ বাড়ীতে প্রস্থান করেন এবং তিনি যে মাসে ই’তিকাফ করেন ঐ মাসের যে রাথে ফিরে যান সে রাতে লোকদের সামনে ভাষণ দেণ। আর তাতে মাশাআল্লাহ, তাদেরকে বহু নির্দেশ দান করেন, তারপর বলেন যে, আমি এই দশকে ই’তিকাফ করেছিলাম। এরপর আমি সিদ্ধান্ত করেছি যে, শেষ দশকে ই’তিকাফ করব। যে আমার সংগে ই’তিকাফ করেছিল সে যেন তার ই’তিকাফস্থলে থেকে যায়। আমাকে সে রাত দেখানো হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। (রাসূলুল্লাহ সঃ বললেন)ঃ শেষ দশকে ঐ রাতের তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা তালাশ কর। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, ঐ রাতে আমি কাদা-পানিতে সিজদা করছি। ঐ রাতে আকাশে প্রচুর মেঘের সঞ্চার হয় এবং বৃষ্টি হয়। মসজিদে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সালাতের স্থানেও বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। এটা ছিল একুশ তারিখের রাত। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষে ফিরে বসেন তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই যে, তাঁর মুখমন্ডল কাদা-পানি মাখা। (বুখারী ১৮৯১)

শবে ক্বদরের আলামত কি?

ক্বদরের রাতের আলামত বা লক্ষণ হলোঃ সেই রাত শেষে সকালের সূর্য উদিত হবে তা উজ্জল হবে কিন্তু সেই সময় তার কোন আলোকরশ্মি থাকবে না। (মুসলিম ১৬৬২)

শবে ক্বদরে করণীয়?

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নবী (করীম (সাঃ) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন এবং রাতে জেগে থাকতেন ও পরিবার পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। (বুখারী ১৮৯২)

শবে ক্বদরের ফজিলত?

 আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লাইলাতুল কাদরে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করবে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমতা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে। বুখারী-১৭৮০

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে রমযান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় কিয়ামে রমযান অর্থাৎ তারাবীহর সালাত আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূজ মাফ করে দেয়া হবে। (বোখারী ১৮৮২)

রমযানের রাত্রে যা করণীয়ঃ

হে চাদর মুড়ি দিয়া শয়নকারী! রাত্রিকালে নামাযে দন্ডায়মান হইয়া থাকে; তবে কিছু কম, অর্ধেক রাত্র কিংবা উহা হইতেও কিছুটা করিয়া লও। অথবা উহাপেক্ষা কিছু বেশী বৃদ্ধি কর। আর কুরআন থামিয়া থামিয়া পড়। আমরা তোমার উপর একটা দুর্বহ কালাম নাযিল করিব। প্রকৃতপক্ষে রাত্রিকালে শয্যা ত্যাগ করিয়া উঠা আত্মসংযমের জন্য খুব বেশী কার্যকর এবং কুরআন যথাযথভাবে পড়ার জন্য যথার্থ। দিনের বেলায় তো তোমার খুব বেশী ব্যস্ততা থাকে। তোমার রব্ব-এর নামের যিকির করিতে থাক আর সব কিছু হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া তাহারই জন্য হইয়া যাও। (সূরা আল-মুয্‌যাম্মিল, আয়াত ১-৮)

 হে নবী! তোমাদের রব্ব জানেন যে, তুমি কখনো রাত্রির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সময় আর কখনও অর্ধেক রাত্র এবং কখনো এক-তৃতীয়াংশ রাত্র ইবাদাতে দাঁড়াইয়া থাক। আর তোমার সঙ্গী-সাথীদের মধ্য হইতেও কিছু সংখ্যক লোক এই কাজ করে। রাত্র ও দিনের হিসাব আল্লাহই রাখিতেছেন। তিনি জানেন যে, তোমরা সময়ের গণনা যথাযথভাবে রাখিতে পার না। এই কারণে তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিলেন। এক্ষণে যতটা কুরআন তুমি সহজে পাঠ করিতে পার ততটাই পড়িতে থাক। তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে কিছু লোক অসুস্থ হইতে পারে আর কিছু লোক আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে বিদেশ সফর করে। আর কিছু লোক আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে। কাজেই যতটা কুরআন খুব সহজেই পড়া যায় তাহাই পড়িয়া নাও। নামায কায়েম কর। যাকাত দাও আর আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিতে থাক। যাহা কিছু ভালো ও কল্যাণ তোমরা নিজেদের জন্য অগ্রিম পাঠাইয়া দিবে, উহাকে আল্লাহর নিকট সঞ্চিত ও মওজুদ রূপে পাইবে। উহাই অতীব উত্তম আর উহার শুভ প্রতিফলও খুব বড়। আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাহিতে থাক। নিঃসন্দেহে আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়াবান। (সূরা আল-মুয্‌যাম্মিল, আয়াত ২০)

অবশ্য মুত্তাকী লোকেরা সেই দিন বাগ-বাগিচায় ও ঝর্ণাধারাসমূহের পরিবেষ্টনে অবস্থান করিবে। তাহাদের রব্ব তাহাদিগকে যাহা কিছুই দিবেন, তাহা সানন্দে তাহারা গ্রহণ করিতে থাকিবে। নিশ্চয়ই তাহারা সেই দিনটির আগমনের পূর্বে সদাচারী ও ন্যায়নিষ্ঠ ছিল। তাহারা রাত্রিকালে খুব কম সময়ই শয়ন করিত। এবং তাহারাই রাত্রের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করিত। আর তাহাদের ধন-মালে প্রার্থনাকারী ও বঞ্চিতদের জন্য স্বত্ব ও অধিকার ছিল। (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ১৫-১৯)

রহমানের বান্দাহ তাহারা যাহারা জমিনের বুকে নম্রতার সহিত চলাফিরা করে আর জাহিল লোকেরা তাহাদের সহিত কথা বলিতে আসিলে বলিয়া দেয় যে তোমাদের প্রতি সালাম; যাহারা নিজেদের রব্ব-এর সমীপে সিজদা নত হইয়া বো দাড়াঁইয়া থাকিয়া রাত অতিবাহিত করে। (সূরা আল ফুরকান, আয়াত ৬৩-৬৪)

হে নবী! আমরাই তোমার প্রতি এই কুরআন অল্প অল্প করিয়া নাযিল করিয়াছি। অতএব, তুমি তোমার আল্লাহর আদেশ-নির্দেশ পালনে ধৈর্য ধারণ কর। আর ইহাদের মধ্য হইতে কোন দুষ্কৃতিকারী কিংবা সত্য অমান্যকারীর কথা মানিও না। তোমার রব্ব-এর নাম সকাল সন্ধ্যা স্মরণ কর। রাত্রি বেলায় তাঁহার হুযুরে সিজদায় অবনত হও আর রাত্রির দীর্ঘ সময়ে তাঁহার তসবীহ করিতে থাক। (সূরা আদ-দাহার, আয়াত ২৩-২৬)

নামায কায়েম কর সূর্য পশ্চিমে ঢলিয়া পড়ার সময় হইতে রাত্রির অন্ধকার আসন্ন হওয়ার সময় পর্যন্ত। আর ফজরে কুরআন পাঠের স্থায়ী নীতি অবলম্বন কর; কেননা ফজরের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকা হয়। আর রাত্রিবেলা তাহাজ্জুদ পড়। ইহা তোমার জন্য নফল। সেদিন দূরে নয়, তোমার রব্ব তোমাকে মাকামে মাহমুদে সুপ্রতিষ্ঠিত করিয়া দিবেন। (সূরা বনী-ইসরাইল, আয়াত ৭৯)

প্রতিটি রাতের শেষ সময়ই মাগফেরাতের সময়ঃ

রাসূল (সাঃ) বলেনঃ রাতের শেষ সময়ে আল্লাহ্ দূনিয়ার দিকে নাযিল হন এবং বলেন, “ডাকার জন্য কেউ আছে কি যার ডা আমি শুনব, চাওয়ার জন্যে কেউ আছে কি যাকে আমি দেব, গুনাহ মাফ চাওয়ার কেউ আছে কি যার গুনাহ আমি মাফ করব?” (বুখারী)

 শবে ক্বদরের দোয়াঃ

হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে পছন্দ কর। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করো।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“শবে ক্বদর” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. Guraba বলেছেন:

    আমাদের ষরিষা দানা পরিমাণ ঈমান থাকলেও ‘নাগরিক ব্লগ’ নামক নাস্তিকদের আড্ডা বন্ধ করা দরকার !!!

    ‘নাগরিক ব্লগ’ নামক নাস্তিকদের আড্ডায় রাসুল (সাঃ) ও সাহাবীদের নিয়ে আবার বিদ্রুপ!!
    ________________________________________

    সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য, অসংখ্য সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর।

    নাস্তিকরা তাদের মতো আড্ডা দিবে, যা ইচ্ছা চিন্তা করে বেড়াবে, এতে আমাদের কিছুই যায় আসে না।

    কিন্তু যখন নাস্তিক / কাফিররা / মালাউন-ইহুদী-নাসারাদের এজেন্টরা নাস্তিক সেজে আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন কটূক্তি করবে, তাঁকে নিয়ে অশ্লীল, কাল্পণিক যৌন-গল্প বলে বেড়াবে, যখন মুহাম্মদ (সাঃ) এর নাম বিকৃত করে ‘মুহাম্মাক’ বলবে তখন আমাদের চুপ করে বসে থাকা মানেঃ

    – নিজের সামনে নিজের স্ত্রীকে রেইপ হতে দেখেও চুপ করে বসে থাকার চেয়ে কঠিন।
    – নিজের সামনে নিজের বোনকে রেইপ হতে দেখেও চুপ করে বসে থাকার চেয়ে কঠিন।
    – নিজের সামনে নিজের মেয়েকে রেইপ হতে দেখেও চুপ করে বসে থাকার চেয়ে কঠিন।

    আমাদের কি জীবনে আর কিছুই নেই??? আমরা কি এত নীচ, এত অবোধ জন্তুর মতো হয়ে গেলাম যে, এসব দেখেও আমরা চুপ থাকবো।

    অথচ রাসুল (সাঃ) কে কটুক্তিকারী / হেয়কারীর শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। দেখুনঃ

    The scholars are unanimously agreed that a Muslim who insults the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) becomes a kaafir and an apostate who is to be executed. This consensus was narrated by more than one of the scholars, such as Imaam Ishaaq ibn Raahawayh, Ibn al-Mundhir, al-Qaadi ‘Iyaad, al-Khattaabi and others. (Ibn Taimia, Al-Saarim al-Maslool, 2/13-16)

    আর সাহাবী (রাঃ) গণ কারো অনুমতি, কারো হুকুমের অপেক্ষা না করেই এই রকম দুর্বিত্তদেরকে হত্যা করেছেন, এবং রাসুল (সাঃ) তা অনুমোদন করেছেন। দেখুনঃ

    Abu Dawood (4361) narrated from Ibn ‘Abbaas that a blind man had a freed concubine (umm walad) who used to insult the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) and say bad things about him. He told her not to do that but she did not stop, and he rebuked her but she did not heed him. One night, when she started to say bad things about the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) and insult him, he took a short sword or dagger, put it on her belly and pressed it and killed her. The following morning that was mentioned to the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him). He called the people together and said, “I adjure by Allah the man who has done this action and I adjure him by my right over him that he should stand up.” The blind man stood up and said, “O Messenger of Allaah, I am the one who did it; she used to insult you and say bad things about you. I forbade her, but she did not stop, and I rebuked her, but she did not give up her habit. I have two sons like pearls from her, and she was kind to me. Last night she began to insult you and say bad things about you. So I took a dagger, put it on her belly and pressed it till I killed her.” Thereupon the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “Bear witness, there is no blood money due for her.”
    (Classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh Abi Dawood, 3655)

    এবার দেখুন নাগরিক ব্লগে ‘থাবা’ নামক ব্লগার কি গল্প লিখেছেঃ

    http://www.nagorikblog.com/node/9991

    আমি এটা এখানে তুলে দিচ্ছি যাতে আমাদের অনেকে কষ্ট করে লিংক এ ক্লিক করে সেটা পড়তেও অনীহা বোধ করবেন। (পাশের রুমে আমাদের বোনকে রেইপ হতে শুনলে কি সেই রুমে গিয়ে সেটাকে যাচাই করতে আমরা আনীহা বোধ করি?)

    ——————-
    মোহাম্মকের সফেদ লুঙ্গী

    একদা মোহাম্মক তাহার সাহাবাদিগকে লইয়া বনি আল ইয়ালি গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাইতেছিল। অনেক দূরের পথ… কয়েক দিন লাগিয়া যাইবে। আর আরবের অবস্থা তখন ভয়ানক খারাপ… সাহারা খাতুন যেহেতু তাহাদিগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্র� �ের দায়িত্ব লওয়ার নিমিত্বে জন্মগ্রহন করে নাই, তাই আরবের আইনসৃংখলা পরিস্তিতিও শান্ত ও নিস্তরঙ্গ ছিল না। এক ঘন্টা পথ যাইতে দ্বাদশ বার তষ্করের সম্মুক্ষীন হইতে হইতো। আর মোহাম্মক তখনো আল্লার বান্ধা বান্দা হিসাবে খ্যাতি লাভ করে নাই, তদুপরি কাফের তষ্করেরা তাহাকে চিনিলেও মানিবে কেন? তাই তাহারা মোহাম্মক ও তাহার সাহাবীদিগের কনভয়কে মূহর্মুহ আক্রমন করিয়া নাজেহাল করিয়া ছাড়িল। ছোট খাট তষ্করদলকে পাত্তা দিবার কোন হেতু নাই, তবে গোল বাঁধে বৃহৎ কোন দল সম্মুখে পড়িলে। দূরে কোন বৃহৎ তষ্করের দল গোচরীভূত হইলে আল্লা জেব্রাইলকে পাঠাইয়া মোহাম্মককে সতর্ক করিয়া দেয়। মোহাম্মক তখন সাহাবী বকরীকে তুরন্ত তাহার লাল লুঙ্গী ও পিরান আনিয়া দিবার জন্য তাড়া লাগায়। খোকাবাবু থুক্কু মোহাম্মক তাহার সবুজ পোষাক বদলায় লাল লুঙ্গী-পিরান পরিধান করিয়া যুদ্ধ করে। প্রতিবারই যুদ্ধের পূর্বে মোহাম্মকের রক্তবর্ণের লুঙ্গী ও পিরানে যুদ্ধে মোজেজা কি তাহা লইয়া কানা-ঘুষা আরম্ভ হইলো সাহাবাদিগের মধ্যে। বনী ইয়ালি গোত্রের মরুদ্যানের নিকটবর্তী হইয়া সন্দেশ পাওয়া গেল যে গোত্রের সমস্ত পুরুষ মোহাম্মকের প্রতিরোধাক্রমনেই নিকেশ হইয়াছে, মরুদ্যানে কেবল নারী ও শিশুরাই রহিয়াছে। তৎখনাত সেখানেই শিবির স্থাপনের সিদ্ধান্ত হইলো। গেরাম খালি, তাই তাড়াহুরা কয়ার কোন কারন নাই। শিবির স্থাপন করিয়া রাত্তিরে জম্পেশ করিয়া উষ্ট্রী ও দুম্বার বারবিকিউ খাইতে বসিয়া সাহাবীরা মোহাম্মকের তাহাদের কৌতুহল পেশ করিল। মোহাম্মক তখন সাড়ম্বরে বয়ান শুরু করিল!

    “আমিই তিনি যাহাকে আল্লাপাদ নবী করিয়া পাঠাইয়াছে, আমিই তোমাদিগের নেতা স্বরুপ। আমি সকল ঘ্যান ও ভিদ্যার উৎস। কিন্তু আল্লাপাদ আমাকে পাঠাইয়াছেন মানুষের রূপে, যাহাতে তোমরা আমার দ্বারা প্রেরিত বানী সহজে অনুধাবন করিতে পার ও আল্লার অপার মহিমা দেখিয়া আপ্লুতো হইতে পার। কিন্তু মানবরূপী আল্লার রাসুলও তো যুদ্ধে জখম হইতে পারে, কারন সে তো সাধারন মানুষের রূপ ধরিয়া রহিয়াছে। কিন্তু রাসুল যুদ্ধে জখম হইলে তাহার সাহাবীদিগের মনোবলে চিড় ধরিবে। সেই জন্যই তোমরা যাহাতে আল্লার রাসুল জখম হইলেও তাহা দেখিয়া মনোবল না হারাও তাই আমি লাল লুঙ্গী ও পিরান পরিশান করিয়া যুদ্ধ করি, কার নিশ্চই লাল পোষাক লক্তের দাগ ঢাকিয়া দেয় এবং নিশ্চই আল্লা সর্বঘ্যানী”

    সাহাবাদিগের আল্লাদ দেখে কে… তাহাদিগের মধ্যে সত্বর মোহাম্মকের খেজুরীয় বানী শ্রবন করিয়া স্বীয় বস্ত্র বিসর্জন করতঃ মোহাম্মক যেই বর্ণের পোষাক পরিধান করিয়া ছিল সেই বর্ণের পোষাক পড়িবার ধুম পরিয়া গেল।

    হই হুল্লোড় হইতেছিল ভালই, কিন্তু ইহার মধ্যে বনি ইয়ালি গোত্রের অতিবৃদ্ধা এক দূতী আসিয়া হাজির হইলো। বৃদ্ধাকে সরাসরি নবীর সম্মুখে হাজির করা হইলো, তবে প্রোপার পর্দা সহযোগে, কারন তাহার নাতিশয় কদাকার আর কদাকার সুরত দেখিলে মোহাম্মকের বুকের গোবরগুলা ঘুটে হইয়া যায়। বৃদ্ধা একখানা শান্তি চুক্তি করিতে আসিয়াছে। তবে মোহাম্মকও সন্তু লারমার ন্যায় ধৈর্যশীল, সে বুড়ির প্রস্তাব শুনিল… বৃদ্ধা যাহা বলিল তাহা হইলো আপাতত গেরাম হইতে নাতিশয় খপসুরত তিনখান লরকী সে নবীর খেদমতে দিয়া যাইবেক, কিন্তু বিনিময়ে নবীর বাহিনী প্রাতঃক্কালে শান্তিপূর্ণ ভাবে মরুদ্যানে প্রবেশ পূর্বক কাতারবদ্ধ হইয়া গনিমতের মাল ভক্ষন করতে হইবেক। নবী বাহিনী দেখিল ইহা তো মন্দ নহে… এহা যে উষ্ট্র না চাইতেই মূত্র! আর কি চাই, নবী অঙ্গীকার করিলেন “তাহাই হইবেক”! আর আল্লার নবী মোহাম্মক ভঙ্গ করেন না অঙ্গীকার!

    বৃদ্ধা তাহার পর তিন সুন্দরীকে সভামইধ্যে হাজির করিল। তাহাদের অঙ্গে স্বচ্ছ মসলিনের পোষাক। দেখিয়া সকল ইমানদাদের ইমানী হালত খারাপ হইবার যোগাড়! মোহাম্মকের অবস্থাও তথৈবচ। তাহার ইমানী হালত শুধু খারাপই না, সাথে ওকাল পতন ধরিয়া রাখাও টাফ হইয়া যাইতেছিল। পাছে কেউ কিছু টের পায়, তাই কোন রকমে বকরীকে দিয়া তাহার সফেদ লুঙ্গী আর সাদা পিরান আনাইয়া পরিধান করিয়া তাহার অকাল পতনের লজ্জা ঢাকিল, আর সেই তো শ্রেষ্ঠ মুসলিম যে তাহার লজ্জা ঢাকিয়া রাখে!

    আসল কাহিনী ছিল বৃদ্ধা যে তিনজন সুন্দরী দিয়া গেল, তাহারা হইলো আমাদিগের অতি পরিচিত চার্লিজ এঞ্জেলস। তাহাদিগকে চিক্রেট মিশন দিয়া ভবিষ্যত হইতে পাঠানো হইয়াছে। তাহাদিগের মিশন হইলো নবী ব্যাতীত যতোজন পারে সাহাবী স্রেফ ভায়াগ্রার ওভারডোজ খিলাইয়া হত্যা করা। তাই প্রাতঃকালে বকরী আসিয়া যখন নাস্তার তশতরিতে সন্দেশ দিল যে ১০০ জনে মধ্যে ৭২ জন সাহাবী মালে গনিমত ভক্ষন করিয়া শহীদ হইয়াছে, শুনিয়া মোহাম্মকের ‘আক্কেল ঘচাং’ হইয়া গেল। মোহাম্মক সরে-জমিনে তদন্তে যাইয়া যাহা দেখিল তাহা হইলো তাহার আল-শহীদ সাহাবিগন চিৎ হইয়া শুইয়া শহীদ হইয়াছে, এবং তাহাদিগের লুঙ্গী তাম্বুপ্রাপ্ত হইয়াছে। সাহাবীরা মোহাম্মকের দেখাদেখি সফেদ লুঙ্গী পরিধান করিয়াছিল বলিয়া মোহাম্মকও টের পাইলো না যে তাহাদিগেরও অনুপ্রবেশ ব্যাতীতই উদ্গীরন হইয়াছিল, আর সেই অগ্নুৎপাতেই তাহারা শহীদ হইয়াছিল।

    সেই যে সাহাবীরা অকাল পতনের লজ্জা লুকাইতে সফেদ লুঙ্গী ও পিরান পরিধান করিয়াছিল, সেই স্মৃতি রক্ষার্থে আজও মোহাম্মকের উম্মকেরা মৃতের দেহে সফেদ লুঙ্গী ও পিরান(সেনা-বন্দ এবং তাহ-বন্দ) পরিধান করাইয়া মাটিচাপা দেয়!

    ——————————————————

    এখন আমাদের করণীয়ঃ

    ১। ‘থাবা’ নামক পোষ্টদাতাকে সনাক্ত করে তাকে ফাঁসি দেয়ার আহবান জানাতে হবে। একথা তো সুষ্পষ্ট যে এই ইসলাম বিরোধী সরকার এখন পর্যন্ত এ রকম সকল ঘটনার হোতাদেরকে রক্ষা করেছে, আড়াল করেছে।

    কারো সামর্থ ও সুযোগ থাকলে সে উপরে উল্লেখিত হাদিস অনুযায়ী কাজ করতে পারে।

    ২। যে কোন মূল্যে এই ‘নাগরিক ব্লগ’ নামক নাস্তিকদের আড্ডা এই দেশে ব্যান করতে হবে। এ দেশের ইসলামের শত্রু শাসক শ্রেণীকে এই কাজে বাধ্য করতে হবে।

    ৩। দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষকে এটা জানিয়ে দিতে হবে, যাতে এই ঘটনা এবং এই জাতীয় ঘটনার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠে। এবং এ রকম সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। যাতে এই আন্দোলনের ফসল স্বরুপ ‘নাগরিক ব্লগ’ এবং অন্যান্য সকল নাস্তিক ব্লগ বন্ধ হয়ে যায়। এবং এই দেশে রাসুল (সাঃ) এর নামে যার যা ইচ্ছা তা বলে বেড়াতে না পারে।

    ৪। যার পরিচিত কোন পত্রিকা সাংবাদিক আছে, তাদেরকে এই ঘটনা অবহিত করুন যাতে তা পত্রিকায় ছাপা হয়।

    ৫। যার পরিচিত কোন ইসলামী কোন সংস্থা আছে, কাওমী মাদ্রাসা আছে, আলিয়া মাদ্রাসা আছে, যে কোন ইসলামী দল আছে – তাদেরকে এই পোষ্ট এর ব্যাপারে অবহিত করুন। যাতে এই পোষ্ট এবং এই রকম সকল প্রকার আচরণ বন্ধ করা হয়। ফটোকপি করে এই নাস্তিকদের কর্মকান্ড সবার সামনে তুলে ধরুন।

    ৬। যারা হ্যাকিং পারেন তারা এই সাইট হ্যাক করুন, এই সাইট যাতে বিকল হয়ে যায় সে ব্যবস্থা করুন।

    মনে রাখবেন আল্লাহ বলেছেনঃ

    قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُواْ حَتَّى يَأْتِيَ اللّهُ بِأَمْرِهِ وَاللّهُ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

    ‘বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না’।

    এরপরও যদি আমরা আমাদের সাধ্যমতো এ রকম ঘটনা বন্ধ করার চেষ্টা না করি, তবে আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো, আমি সাধ্যমতো পৌঁছিয়ে দিয়েছি।

    হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো, আমি সাধ্যমতো পৌঁছিয়ে দিয়েছি।

    হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো, আমি সাধ্যমতো পৌঁছিয়ে দিয়েছি।

    সুত্রঃ https://www.facebook.com/pages/Only-Islam/316087461815607

    (এই পেইজটিকে সবাই ফেইসবুক ও অন্যান্য সকল সাইটে শেয়ার করে দিন)

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন