লিবাসুত তাক্বওয়া : অবশেষে শার্ট ছেড়ে পাঞ্জাবী গায়ে জড়ালাম

ইভটিজিং-এর কারন ও প্রতিকার প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে “নারীর কোন অঙ্গ সবচেয়ে আকর্ষণীয়?” শিরোনামে একটি ব্লগ লিখেছিলাম, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছিলাম নারীর কোন কোন অঙ্গ পুরুষদেরকে আকৃষ্ট করে, কোন কোন অঙ্গের প্রদর্শনীতে বখাটেরা ইভটিজিংএ অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। কারন আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম যে নারী শরীরের কিছু স্পর্শকাতর  অঙ্গ প্রদর্শনই ইভটিজিং এর প্রধান কারণ, যা সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক সময়ের তুখোড় অভিনেতা ও বর্তমান তৃণমূল সরকারের বিধায়ক চিরঞ্জিত প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তার ভাষায় “মেয়েদের পোশাকের ধরন বদলাচ্ছে। সেটা পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য। তা নিয়ে কটূক্তি করলেই তাকে ‘স্ল্যাং’ বা ‘টন্ট’ বলা হয়”। তার এমন উক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে সমালোচনার ঝড় উঠলেও অভিনেত্রী  স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় প্রায় একই সুরে মন্তব্য করেন, “উটকো ঝামেলার হাত থেকে বাঁচতে বেশি খোলামেলা পোশাক রাস্তায় না পরাই ভাল”। না, আজ আমি নারীদের পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে আলোচনা করবো না, বরং আজ আমি পুরুষদের কিছু সমস্যা নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। আমার ধারণা বখাটে পুরুষরাই শুধু নারীদের আকর্ষণীয়ভাবে প্রদর্শিত স্পর্শকাতর অঙ্গ সমূহের পানে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে, নারীরা পছন্দ করে তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী রাখতে, সংযত আচরণ করতে অভ্যস্ত তারা। আমার ধারণার প্রথম অংশ তথা বখাটে পুরুষদের ক্ষেত্রে ঠিক থাকলেও নারীদের আচরণের ক্ষেত্রে আমি যে অনেকটা অন্ধকারে ছিলাম তা কিছু কিছু ঘটনায় আমার কাছে স্পষ্ট হতে থাকে। আমি পুরুষদের মাঝেই বখাটে খোঁজার চেষ্টা করেছি, যদিও নারী-পুরুষ উভয়ের মাঝেই বখাটে বিরাজমান। সুযোগ পেলে নারীরাও যে কম যায় না তা এখন বেশ বুঝতে পারছি। বছর খানেক ধরে বিভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে লক্ষ্য করেছি মেয়েরাও পুরুষের স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে পুরুষের চেয়েও আগ্রাসী মনে হয়েছে আমার কাছে। বিশেষ করে পুরুষরা নারীদের স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে তাকালেও চোখে চোখ পড়লে অনেকেই দৃষ্টি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়, তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে তার ভিন্নতা দেখেছি, যতক্ষণ না শিকার দৃষ্টির আড়াল হয় ততক্ষণ শকুনের দৃষ্টি আটকে থাকে প্যান্টের জিপারে। বিষয়টি প্রথমবার নজরে আসার পর থেকে বার বার পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ফলাফল একই, জিপারে আটকে আছে দৃষ্টি, ঠিক যেমন মাঝে মাঝে আটকে যায় শিশুদের “ইয়ে”। বিষয়টি নিয়ে নিজের স্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি, ‘ফ্যাশন শো’র মডেলদের মতো প্যান্ট পড়ে ক্যাটওয়াক করে দেখিয়েছি এবং তার সহায়তায় সত্যটি আবিস্কারে সফল হয়েছি যে আসলে যতটা যত্নসহকারে সতর্কতার সাথেই শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো প্যান্টের আড়ালে লুকোনোর চেষ্টা করি না কেন তা বিপরীত লিঙ্গের দৃষ্টিতে ঠিকই ধরা পরে যায়। ছোটবেলা থেকেই প্যান্ট-শার্ট পড়ায় অভ্যস্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কখনোই ভেবে দেখার সুযোগ হয়নি, বিশেষ করে কেউ কখনো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নি যে, প্যান্ট-শার্ট শরীরের আকর্ষণীয় অঙ্গগুলোকে শতভাগ ঢেকে রাখতে মোটেই সক্ষম নয়। এখন প্যান্ট-শার্ট গলে যদি স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো নারীদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং তারা যদি বখাটে পুরুষদের মতো অনৈতিক কাজে আমন্ত্রণ জানায়, তবে বর্তমান সময়ে সমাজের খুব কম পুরুষের পক্ষেই আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে ইউসুফের (আঃ) মতো নারীদের আমন্ত্রণ উপেক্ষা করা সম্ভব হবে।

কয়েকশ বছর আগে যখন ইউরোপিয় বণিকরা উপমহাদেশে বাণিজ্য করার নাম করে শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, তখন এদেশীয় আলেম-সমাজ ইউরোপীয় সংস্কৃতি বিশেষকরে পাশ্চাত্য পোশাক-পরিচ্ছদ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল, প্যান্ট-শার্টকে তারা কুফরী পোষাক বলেই মনে করতো যদিও প্যান্ট-শার্ট হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন দলীল কারো পক্ষে দেখানো অসম্ভব। ব্রিটিশরা এদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে ষাট বছরেরও বেশী আগে, এরপরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের পাঞ্জাবী শাসনামলেও শার্ট-প্যান্ট খুব একটা সুবিধা করতে পারে নি, তবে পাঞ্জাবী শোষণের হাত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরে ধীরে ধীরে প্যান্ট-শার্টই প্রধান পরিধেয় বস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দদের হাতে ইসলামের অপ্রয়োজনীয় আধুনিকায়নের ফলে ধীরে ধীরে পায়জামা-পাঞ্জাবী পড়ুয়া আলেম সমাজ কোনঠাসা হয়ে পড়ে, প্যান্ট-শার্টই হয়ে ওঠে ইসলামী আন্দোলনের অফিসিয়াল পোশাক। আজ শার্ট-প্যান্টই প্রগতিশীল মুসলমানদের প্রথম পছন্দের পোশাক, পায়জামা-পাঞ্জাবী ঠাই পেয়েছে কাঠমোল্লাদের গায়ে, আর লুঙ্গি টিকে আছে সমাজের নীচু জাতের অসভ্যদের (!) গায়ে, যদিও ঘরোয়া পরিবেশে ধনী-গরীব সবারই পছন্দের তালিকার শীর্ষে সেই লুঙ্গীই। ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের কাছে শার্ট-প্যান্ট এতটাই জনপ্রিয় যে, মাদরাসা পড়ুয়া যে সকল ছাত্রদের লম্বা পাঞ্জাবী শরীর ঢাকার পাশাপাশি রাস্তা পরিস্কারের কাজেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতো, তারা ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের সাথে সাথেই পাঞ্জাবী ছেড়ে শার্ট-প্যান্ট পড়াকেই ফরজে আইন মনে করা শুরু করে, পাশাপাশি একমুষ্ঠি দাড়িও শার্ট-প্যান্টের সাথে মানানসই হওয়ার লক্ষ্যে ছোট হতে হতে এক সময় বিলুপ্ত হওয়া শুরু করে। সব ফরজের বড় ফরজ দ্বীন কায়েম করা, দ্বীন কায়েম হলে অন্য ফরজ ওয়াজিবগুলো এমনিতেই সবাই আদায় করতে বাধ্য হবে, অতএব দ্বীন কায়েমের জন্য পায়জামা-পাঞ্জাবী, দাড়ী-টুপি ঝেড়ে ফেলা অবশ্য কর্তব্য, এমটাই যেন ভেবে বসে আছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীসমর্থকরাও। দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে দ্বীনকে পশ্চিমা ধাঁচে আপটুডেট করাটাই ইসলামী আন্দোলনের অগ্রাধিকার কর্মসূচী। ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পন্ডিত মাওলানা আব্দুস শহীদ নাসিমের একটি আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিল আমার, একপর্যায়ে তিনি ঘোষণা করলেন, “টাই পড়া সুন্নত”। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা প্রতিবাদ করলেও তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে কোন ঘোরপ্যাঁচের মাসআলা ছাড়াই সরাসরি “টাই পড়া সুন্নত”। এভাবে ধীরে ধীরে শার্ট-প্যান্ট, কোর্ট-টাই দখল করে নিয়েছে ইসলামী আন্দোলনকে, পাগড়ী হয়ে গেছে চরমোনাই পীরের মুরিদদের ট্রেডমার্ক।

তবে শার্ট-প্যান্ট পড়ে যতটা আধুনিক হওয়া যাক না কেন, মাঝে মাঝে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয় অনেককে। আমার প্রতিষ্ঠানের এক টপ এক্সিকিউটিভ এমনই বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন জায়নামাজে। জামায়াতে নামাজ পড়ার সময় যখন তিনি সিজদায় গেলেন, তখনই স্বশব্দে তার প্যান্ট পেছন থেকে সেলাই ছুটে ভয়াবহ লজ্জার কারণ হয়েছিল। বিখ্যাত নেছারাবাদ মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করা আমার এই বস পায়জামা-পাঞ্জাবী ছেড়ে প্যান্ট-শার্ট পড়ে অতি আধুনিক হয়ে নিজেকে নিজেই জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করলেন। এমন অভিজ্ঞতার স্বাদ জীবনে দু’য়েকবার গ্রহণ করেনি এমন প্যান্ট-শার্ট পড়া ভদ্রলোক খুব কমই পাওয়া যাবে। ছাত্রবস্থায় আমি নিজেও এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, তবে ভাগ্য ভালো যে ঘটনা ঘটে যাওয়ার সাথে সাথেই টের পেয়ে যাই এবং সকলের নজর এড়িয়ে সোজা বাসায় ফিরে নিস্তার পাই। জীবনে যতদিন প্যান্ট-শার্ট পড়েছি, এমন কোন দিন নেই যে অন্তত একবার চেক করে দেখিনি যে প্যান্ট ছিড়ে কোন কেলেঙ্কারী ঘটানোর সম্ভাবনা আছে কি না।

প্যান্ট-শার্ট পড়ে নামাজ পড়ার সময় যেমন ছিড়ে যাওয়ার আতঙ্ক কাজ করে তারচেয়ে ভয়াবহ যে চিন্তাটি কাজ করে তা হলো পেছনের সারির মুসল্লীদের সামনে লজ্জাস্থানের প্রকৃতি ফুটে ওঠে কি না। হয়তো আজ একথা বলার আগে অনেকের কাছেই বিষয়টি একেবারেই অবান্তর বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে তবে আজ থেকে সবার কাছে অনুরোধ থাকবে একটু ভালোকরে পর্যবেক্ষণ করুন নামাজে প্যান্ট-শার্ট পড়া মুসল্লীদের অবস্থা। নামাজে সিজদার সময় অধিকাংশ প্যান্ট-শার্ট পড়া মুসল্লীদের লজ্জাস্থানই ভয়াবহ অশ্লীলভাবে ফুটে উঠতে দেখা যায়। আমার প্রতিষ্ঠানের আরেক বস যখন সেজদাবনত হন তখন অবস্থা এতটাই ভয়াবহ হয় যে ইচ্ছে হয় তাকে ভিডিও চিত্র ধারণ করে দেখিয়ে দেই যে কিভাবে প্যান্ট গলে নূনের মোচা ঝুলে থাকে। অনার্সে পড়ার সময় অর্ধস্বচ্ছ পায়জামা পরিহিতা আমার এক বান্ধবীকে সুযোগ পেয়ে বলেছিলাম যে সে যেন কখনো ওধরণের পোশাক পরে আর বাইরে বের না হয়, সে আমার কথায় লজ্জা পেলেও মেনে নিয়েছিল এবং আর কখনোই তাকে অমন পোশাকে কলেজে আসতে দেখি নি। ঠিক তেমনি করে আজ আমার বসকেও বলতে ইচ্ছে করে যে, প্যান্ট-শার্ট আপনার উপযোগী নয়। নামাজ যদি সব সময় জামায়াতে আদায় হতো তবে হয়তো সামনের সারির মুসল্লীদের অশ্লীল অবয়ব দেখা যেত না, কিন্তু তা কখনো হওয়া সম্ভব নয় কারণ সুন্নত নামাজ তো আর জামায়াতে পড়া যায় না।

ইসলামে পোশাকের কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে যে সম্পর্কে নীচে আলোচনা করবো। এর একটি হলো এই যে পোশাক এমন হতে পারবে না যে যাকিছু পোশাক দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে তা অন্যদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। প্যান্ট-শার্ট পড়লে পুরুষের লজ্জাস্থানের প্রকৃতি যেমন ফুঁটে ওঠে ঠিক তেমনি ভাবে পেছন থেকেও নিতম্ভের আকৃতিও ফুটে ওঠে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমানই ধর্মপরায়ন হওয়ায় এদেশে এখনো জাহেলিয়াত চূড়ান্তভাবে বিস্তার লাভ করে নি বিধায় এদেশের আলেম সমাজ সমকামীতা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন, তাই প্যান্ট-শার্ট নিয়েও চিন্তিত নন। একজন বখাটে পুরুষ যেমন নারী নিতম্ভের দুলুনিতে উত্তেজিত হয়ে ওঠে, রমনী রমনে পাগলপ্রায় হয়ে হামলে পড়ে ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো, একজন সমকামী পুরুষের দৃষ্টিতে আরেকজন পুরুষের প্যান্টের ভাজে ফুটে ওঠা নিতম্বও ততটাই আকর্ষণীয় হবে, এটাই স্বাভাবিক। আশঙ্কা হয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও সমকামিতা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে সমকামী পুরুষদের আক্রমনের শিকার হবে ইসলামী আন্দোলনের কোট-প্যান্ট-টাই পরা আপটুডেট আলেম সমাজ।

এবার আসুন একবার দৃষ্টি ফেরানো যাক পবিত্র কোরআনের দিকে, দেখা যাক যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা পোশাক সম্পর্কে কি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন:

“হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের জন্য পোশাক নাজিল করিয়াছি, যেন তোমাদের দেহের লজ্জাস্থানসমূহকে ঢাকিতে পার। ইহা তোমাদের জন্য দেহের আচ্ছাদন ও শোভা বর্ধনের উপায়ও। আর সর্বোত্তম পোশাক হইতেছে তাকওয়ার পোশাক। ইহা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি উজ্জ্বল নিদর্শন, সম্ভবত লোকেরা ইহা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করিবে। হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদিগকে তেমন করিয়া ফিতনায় ফেলিতে না পারে, যেমন করিয়া সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত হইতে বহিস্কৃত করিয়াছিল এবং তাহাদের পোশাক তাহাদের দেহ হইতে খুলিয়া ফেলিয়াছিল, যেন তাহাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের নিকট উন্মুক্ত হইয়া পড়ে। সে এবং তাহার সঙ্গী-সাথীরা তোমাদিগকে এমন এক স্থান হইতে দেখিতে পায়, যেখান হইতে তোমরা তাহাদিগকে দেখিতে পাও না। এই শয়তানগুলিকে আমরা ঈমানদার নহে এমন লোকদের জন্য পৃষ্ঠপোষক বানাইয়া দিয়াছি।” সূরা আল-আ’রাফ আয়াত ২৬-২৭।

উপরোক্ত আয়াত দু’টিতে আল্লাহ তায়ালা পোশাকের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছেন, বরং পোশাককে আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে উজ্জল নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পোশাক কেন পরিধান করতে হবে তার কারণ হিসেবে ৪টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তথা ১) লজ্জাস্থানসমূহ ঢেকে রাখা ২) দেহের আচ্ছাদন ৩) শোভা বর্ধন ৪) তাক্বওয়া তথা খোদাভীতি অর্জন। এর মধ্যে তাকওয়ার পোশাককেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে কারণ তাকওয়ার পোশাকের মাঝে প্রকৃতপক্ষে অন্য ৪টি উদ্দেশ্যেরও সন্নিবেশ ঘটে।

১। লজ্জাস্থান ঢাকা পোশাকের প্রধান উদ্দেশ্যঃ

লজ্জাস্থান কি কি তা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে এবং সে সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে নির্দেশনা:

“আর হে নবী! মুমিন মহিলাদিগকে বলিয়া দাও, তাহারা যেন নিজেদের দৃষ্টি বাঁচাইয়া চলে এবং তাহাদের লজ্জাস্থানগুলির হেফাজত করে তার তাহাদের সাজসজ্জা দেখাইয়া না বেড়ায় যাহা আপনা-আপনি প্রকাশ হইয়া পড়ে তাহা ছাড়া। আর তাহারা যেন তাহাদের ওড়নার আঁচল দ্বারা তাহাদের বুক ঢাকিয়া রাখে। আর যেন নিজেদের সাজ-সজ্জা প্রকাশ না করে,তবে এই লোকদের সামনে ছাড়া: নিজেদের স্বামী, পিতা, স্বামীর পিতা। নিজেদের পূত্র, স্বামীর পূত্র, নিজেদের ভাই, ভাইদের পূত্র, বোনদের পূত্র, নিজেদের মেলা-মেশার স্ত্রীলোক, নিজেদের দাস, সেইসব অধিনস্থ পুরুষ, যাহাদের অন্য কোন রকম গরজ নাই, আর সেইসব অবোধ বালক যাহারা স্ত্রীলোকদের গোপন বিষয়াদি সম্পর্কে এখনো ওয়াকিফহাল নয়। তাহারা যেন নিজেদের গোপন সৌন্দর্য লোকদিগকে জানাইবার উদ্দেশ্যে জামিনের উপর সজোরে পা ফেলিয়া চলাফিরা না করে। হে মুমিন লোকেরা! তোমরা সকলে মিলিয়া আল্লাহর নিকট তওবা কর; আশা করা যায়, তোমরা কল্যাণ লাভ করিবে।” সূরা আন-নূর ৩১

হে নবী! তোমার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ ও মুমিন নারীগণকে বলিয়া দাও, তাহারা যেন নিজেদের উপর নিজেদের চাদরের আঁচল ঝুলাইয়া দেয়। ইহা অধিকতর উত্তম রীতি-পদ্ধতি, যেন তাহাদিগকে চিনিয়া লওয়া যায় ও তাহাদিগকে উত্যক্ত করা না হয়। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল ও অশেষ দয়াবান। সূরা আল-আহযাব আয়াত ৫৯

নিজেদের গৃহে অবস্থান কর এবং পূর্বতন জাহিলী যুগের মত সাজসজ্জা দেখাইয়া বেড়াইও না। সূরা আহযাব আয়াত ৩৩।

রাসূল (সা:) বলেন, হে আসমা! জানিয়া রাখো, মেয়েরা যখন বালেগা হয়, তখন তাহার মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় ছাড়া দেহের অন্য কোন অঙ্গ প্রকাশিত হওয়া উচিত নয়। (আবু দাউদ)

উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রা:) রাসূলুল্লাহ্‌কে (সা:) প্রশ্ন করেন, ‘মেয়েরা নিজেদের কাপড়কে কতটুকা নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিবে?’ রাসূলুল্লাহ (সা:) জবাব দেন, ‘তারা স্বীয় পদতালুর সামনে অর্থাৎ, গোড়ালীর নিচে রেখে কাপড় পরবে। আয়েশা (রাঃ) পুন: প্রশ্ন করলেন, যখন তারা লম্বা কদমে হাঁটবে? উত্তরে রাসূল (সা:) বললেন, ‘তারা কখনও এক হাতের বেশী লম্বা কদমে হাঁটবে না।’ (বুখারী ও মুসলিম)

পুরুষদের ক্ষেত্রে নির্দেশনা হলোঃ

হে নবী! মুমিন পুরুষদিগকে বল: তাহারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে বাঁচাইয়া চলে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হিফাজত করে। ইহা তাহাদের পক্ষে পবিত্রতম নীতি। যাহা কিছু তাহারা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে পুরাপুরি অবহিত। সূরা আন-নূর আয়াত ৩০।

রাসূল (সা:) বলেছেন, নাভী হইতে হাটু পর্যন্ত হইল পুরুষের সতর (দারে কুতনী, বায়হাকী)

২। দেহকে আচ্ছাদিত করাঃ

দেহকে আচ্ছাদিত করে রাখা পোশাক নাজিলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। পুরুষ ও নারীদের জন্য নির্ধারিত লজ্জাস্থানসমূহ ঢেকে রাখলে যদিও পোশাকের মূল উদ্দেশ্য সাধিত হয় তবে তা অস্পূর্ণ থেকে যায়। কোন পুরুষ যদি কেবল নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত স্থানটুকু ঢেকে রাখে তবে তা যেমন দৃষ্টিকটু ঠিক তেমনি তা ইসলামী কিংবা অনৈসলামিক সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্যও বটে। পুরুষের যতটুকু সতর একজন নারী অপর নারীর সামনেও কেবল ততটুকু ফরজ। একবার ভাবুন তো যদি নারীরা অন্য নারীদের সামনে সতরের বাইরের অংশ প্রদর্শন করে বেড়ায় তবে তা কতটা নির্লজ্জতার কারণ হবে। তাই কেবল লজ্জাস্থান আচ্ছাদিত করাই নয় বরং দেহকেও আচ্ছাদিত করার জন্য পোশাকের গুরুত্ব রয়েছে। এক্ষেত্রে পুরুষরা যেমন মাথা থেকে শুরু করে পায়ের গোড়ালীর উপর পর্যন্ত ঢেকে রাখবে, ঠিক তেমনি নারীরাও হাতের কব্জি ও পায়ের পাতা বাদে বাকী সমস্ত অঙ্গ ঢেকে রাখবে এটাই পোশাকের দাবী। যদিও মুখমন্ডল খুলে রাখার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে বিতর্ক আছে এবং কোরআনে “যেন তাহাদিগকে চিনিয়া লওয়া যায়” কথার ভিত্তিতে পরিচয় জানার স্বার্থে মুখমন্ডল খুলে রাখার পক্ষপাতি, তথাপি আয়াতের অপর অংশের দিকে তাকালে এটাও মনে হয় যে এই “চিনে নেয়া”র অর্থ ব্যক্তিকে আইডেন্টাফাই করা নয় বরং একজন খোদাভীরু পর্দানশীল নারী হিসেবে চিনে নেয়ার কথাই বলা হয়েছে বলে মনে হয়।

দেহকে আচ্ছাদিত করার ক্ষেত্রে আরো কয়েকটি দিক উঠে আসে, বিশেষ করে ঋতু অনুযায়ী পোশাক পরিধান করার বিষয়টিও এখানে উল্লেখযোগ্য। শীতকালে শীতপ্রতিরোধক পোশাকে এবং গ্রীষ্মকালে লু হাওয়া তথা গরমের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করার জন্য উপযোগী পোশাক পড়াও জরুরী। এছাড়া যুদ্ধবিগ্রহসহ বিভিন্ন জরুরী অবস্থা ভেদে সময়োপযোগী পোশাক পরার মাধ্যমে দেহকে আচ্ছাদিত করে রাখা প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই প্রথম শর্তটি মেনে পরতে হবে। যেমন কোরআনে আল্লাহ বলেন,

আল্লাহ নিজের সৃষ্ট বহু জিনিস হইতে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করিয়াছেন, পাহাড়-পর্বতে তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানাইয়াছেন এবং তোমাদিগকে এমন পোশাক দান করিয়াছেন, যাহা তোমাদিগকে গরম হইতে রক্ষা করে। আরো কিছু ধরনের পোশাক, যাহা পারস্পরিক যুদ্ধে তোমাদের হিফাজত করে। এইভাবে তিনি স্বীয় নিয়ামতসমূহকে পূর্ণত্ব দান করেন। সম্ভবত তোমরা হুকুম পালনকারী হইবে। সূরা আন-নহল আয়াত ৮১

আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের গৃহসমূহকে স্থিতি লাভের স্থান বানাইয়া দিয়াছেন। তিনি জন্তু-জানোয়ারের চামড়া হইতে তোমাদের জন্য এমন তাবু সৃষ্টি করিয়াছেন, যাহা তোমাদের জন্য বিদেশ সফর ও নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান-উভয় অবস্থাতেই খুব হালকা হইয়া থাকে। তিনি ভেড়া উট দুম্বা ইত্যাদির পশম এবং চুল দ্বারা তোমাদের জন্য পরিধানের ও ব্যবহার করিবার অসংখ্য জিনিস পয়দা করিয়াছেন, যাহা জীবনের নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের কাজে লাগে। সূরা আন-নহল আয়াত ৮০

৩। শোভা বর্ধনঃ

‘আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) নিজে সুন্দর তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন।’ (সহীস মুসলিম) । তাই পোশাক পরিধানে উদাসীনতা নয় বরং তা যেন হৃদয় প্রশান্তির কারন হয় তার দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তবে বর্তমান সময়ে আধুনিক আলেম ওলামাগণ পোশাক সম্পর্কে এই একটি শর্তকেই প্রধান শর্ত হিসেবে মানা শুরু করেছে। ফলে অন্য শর্তাবলী শিথিল হয়ে পড়ছে, কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের দিকেই মুসলমানরা ধাবিত হচ্ছে। এ জন্য তারা অন্য শর্তকগুলো পূরণ করে যে সকল পোশাক তা বাদ দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধক পোশাক তথা কোট-প্যান্ট-টাই ঝুলিয়ে অতি আধুনিক হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো যখন কেউ পায়জামা পাঞ্জাবী পাগড়ী পড়ে তখন নাক সিটকানো হয় এই বলে যে, ওটা তো আরবীয় পোষাক, ইসলামী পোশাক নয়, আরবের মরুভূমিতে বসবাসকারী মুসলিম অমুসলিম সকলেই ও পোষাকে অভ্যস্ত এবং মরুঝড় থেকে আত্মরক্ষার্থে এ পোশাকের কোন বিকল্প নেই। তাদের কথার ধরণে বুঝা যায় যে বাংলাদেশ ধান-পাটের দেশ, তাই এখানে লুঙ্গি মালকোচা মেরে চলাটাই স্বাভাবিক। অথচ এরাই আবার প্রখর রোদের মাঝে পাশ্চাত্য কোর্ট-প্যান্ট-টাই পরে কুলকুল করে ঘামতে থাকে, আর যারা অর্থ-প্রাচুর্যের মাঝে বসবাস করে তারা পাশ্চাত্য পোশাক পরার স্বার্থে অফিসে এসি চালু করে রাখে, যেখানে কোট-প্যান্ট না পরলে সাধারণ প্রাকৃতিক বাতাসেই দাপ্তরিক কাজ সমাধা করা সম্ভব। সমাজ নিয়ন্ত্রণের ভার এদের হাতে যদি না থাকতো তবে সাধারণ মানুষ চৈত্রের কাঠ ফাটা রোদে কোট-প্যান্ট-টাই পরে ঘুরে বেড়ানো কুলিন ভদ্রলোকদের পাগল বলে ইটপাটকেল ছুড়ে মারতো।

৪। তাক্বওয়া তথা খোদাভীতি অর্জনঃ

আসুন আগে তাকওয়ার প্রকৃত স্বরূপ জেনে নেই। উমার (রাঃ) একবার উবাই বিন কা’বকে ‘তাক্বওয়া’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। উবাই বললেন, “আপনি কি কখনো দুর্গম কাঁটাযুক্ত পথে হেঁটেছেন?” ‘উমার বললেন, “হ্যাঁ।” উবাই জিজ্ঞেস করলেন, “তখন আপনি কী করেছেন?” তিনি বললেন, “কাপড় ও শরীরকে কাঁটা হতে রক্ষা করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করেছি।” উবাই বললেন, “তাক্বওয়াও এই রকমই নিজেকে রক্ষা করার নাম।”
শয়তান মানবজাতিকে সর্বপ্রথম লজ্জাস্থানকে একে অপরের সামনে উন্মুক্ত করার মাধ্যমেই স্বর্গচ্যুত করেছিল। যার লজ্জা নেই, তার ঈমান নেই, তার কাছে কোন অপকর্মই অসম্ভব নয়। তাই পোষাককে লজ্জা নিবারণের উপায় হিসেবে মানবজাতির জন্য বিধান করা হয়েছে। আর পোষাক পরিধানের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন তথা আল্লাহভীতি জাগ্রত থাকলেই কেবল সঠিকভাবে লজ্জা নিবারন সম্ভব, অশ্লীলতা-বেহায়াপনা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। পবিত্র কোরআনে তাকওয়ার পোশাককেই সর্বোত্তম পোশাক বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যে সকল আলেমগন কোট-প্যান্ট-টাইকে তাকওয়ার পোশাকের কাতারে ফেলতে চান তারা তাকওয়ার পোশাকের অর্থটাই পাল্টে নিয়েছেন। তাদের মতে তাকওয়ার পোশাক বলতে আল্লাহ তাকওয়াকেই পোশাকের সাথে তুলনা করেছেন। অথাৎ তাকওয়ার পোশাক নয় বরং তাকওয়াই এক ধরণের পোশাক। অর্থাৎ তারা বাহ্যিক পোষাক নয় বরং আধ্যাত্মিক পোষাকের কথা বলতে চেয়েছেন তথা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা, অন্তরে খোদাভীতি জাগ্রত রাখা, অন্তরে অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় না দেওয়াটাকেই লিবাসুত তাকওয়া বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু কোরআন হাদীসের বিভিন্ন বাণী থেকে এ কথা পরিস্কার যে পোশাকের মাঝে বিশেষ কিছু বৈশিষ্টের সন্নিবেশ করলেই তা লিবাসুত তাকওয়া তথা তাকওয়া সম্মত পোশাকে পরিণত হয়। বৈশিষ্টগুলো হলোঃ

ক) পোশাক হতে হবে ঢিলেঢালাঃ
পোশাক ঢিলেঢালা হতে হবে যাতে পোশাক দিয়ে শরীরের যে অঙ্গগুলো ঢেকে রাখা হয়েছে তার আকার আকৃতি ফুটে না ওঠে। ইদানিং নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় যে তারা এতটাই আটোসাটো করে পোশাক পরেন যে শরীরের প্রতিটি ভাজ স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে, এমনকি ব্রা ব্যবহারের ফলে মেদবহুল শরীরে যে ভাজের সৃষ্টি হয় তা পর্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এক্ষেত্রে বর্তমানে এমনকিছু বোরখা বাজারে পাওয়া যায় যা শরীরকে আবৃত করার চেয়ে শরীরকে প্রদর্শন করতেই বেশী ভূমিকা রাখে। নামে বোরখা হলেও এগুলো অশ্লীলতার চরম উপকরণমাত্র। শুধু মহিলা নয় পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা, এমনকি আলেমদের পায়জামা পাঞ্জাবীর ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এ রমজানে আমি যে মসজিদে নামাজ পড়ছি সে মসজিদের হাফেজ সাহেব যখন সিজদা অবনত হন তখন তার আন্ডারওয়ার পর্যন্ত ফুটে ওঠে যেন পাজামার ভেতরে নয় বরং মাইকেল জ্যাকসনের মতো বাইরেই আন্ডারওয়ার পড়েছেন তিনি। এমনকি একদিন তিনি তাড়াহুড়ো করে উল্টো করে অর্থাৎ সামনের দিকটা পেছনে ঘুরিয়ে আন্ডারওয়ার পড়েছেন যে তাও মুসল্লীদের দৃষ্টিগোচড় হয়েছে।

খ) পোশাক স্বচ্ছ, অর্ধস্বচ্ছ, পাতলা হতে পারবে নাঃ
এক্ষেত্রেও একই কথা। আজকাল রাস্তঘাটে নারী-পুরুষের পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে রাখা লজ্জাগুলো খুব সহজেই দৃশ্যমান হয়। বিশেষকরে নারীদের কামিজের কিংবা ব্লাউজের ভেতরে ব্রাএর রং ও আকার-আকৃতি কামিজের মতোই স্পষ্ট দৃশ্যমান। কিন্তু এ পোশাক না তাকওয়ার শর্ত পূরণ করে, না লজ্জাস্থান ঢেকে রাখার কাজটি করে। অথচ যারা এমন পোশাক পরিধান করেন তারা সমাজে সুশীল সভ্য নাগরিক হিসেবেই পরিচিত। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা:) এর বানী স্মরণযোগ্য, “কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষের লজ্জাস্থান দেখিতে না পায় এবং কোন স্ত্রীলোক যেন অপর কোন স্ত্রীলোকের লজ্জাস্থান দেখিতে না পায়”। (আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)

গ) বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করে এমন পোষাক পরা যাবে নাঃ
এমন অনেক পোশাক রয়েছে যা নিছক লজ্জাস্থানসমূহকে ঢেকে রাখা নয় বরং তা চিহ্নিত করার কাজেই ব্যবহৃত হয়। যেমন নর্তকীদের পোষাকের কথাই ধরা যাক, তাতে নিখুঁতভাবে বুকের ভাজগুলোকে ডিজাইনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। কিংবা স্কুল ড্রেসের কথাই ধরা যাক, মেয়েদের ড্রেসের সাথে যে ক্রস ওড়না পরা হয় তা কেবল বুকের সৌন্দর্যকেই চিহ্নিত করে মাত্র। কিংবা এমন ভাবে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরী করা ব্রা পড়া হয় যা পুরুষদেরকে দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে শতভাগ কার্যকরী। এধরনের পোষাক তথা কনিক্যাল ব্রা পরে গান করে ম্যাডোনা পাশ্চাত্য সমাজেও নিন্দা কুড়িয়েছিলেন।

ঘ) বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরিধান করা যাবে নাঃ
অর্থাৎ যে পোশাকগুলো নারীদের জন্য নির্ধারিত তথা যে পোশাকে সমাজের অবোধ শিশুরা পর্যন্ত সনাক্ত করতে সক্ষম যে পোশাকটি নারীর না কি পুরুষের সে পোষাক বিপরীত লিঙ্গের কারো জন্য পড়া বৈধ নয়। “আল্লাহর রাসূল (সা:) ঐ সকল পুরুষদের উপর অভিসম্পাদ (লা’নত) করেছেন, যারা স্ত্রীলোকদের পোশাক পরিধান করে। অপরদিকে ঐ সকল মেয়েলোকদের উপরও অভিসম্পাত (লা’নত) করেছেন, যারা পুরুষদের পোশাক পরিধান করে”। (আবু দাউদ, নাসায়ী)

ঙ) বিধর্মীদের পোশাক পড়া যাবে নাঃ
বিধর্মীদের পোষাক বলতে এখানে বিধর্মীদের সাধারণ পোষাক নয় বরং বিশেষ কিছু পোষাক সম্পর্কে বলা হয়েছে যা দেখলে একজন লোকের ধর্ম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা করা যায়। যেমন ধুতি-পৈতা দেখলে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে লোকটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী, মাথার মধ্যিখানে টাক ঢেকে রাখার উপযোগী ছোট আকৃতির টুপি দেখে যেমন বোঝা যায় লোকটি ইহুদী ধর্মাবলম্বী, বিশেষ ধরণের গলাবন্ধ দেখে যেমন চিহ্নিত করা যায় খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীকে, বিশেষভাবে জড়ানো পাগড়ীতে যেমন একজন শিখকে সনাক্ত করা যায়, গেরুয়া রঙের সেলাইবিহীন কাপড়ে যেমন সনাক্ত করা যায় বৌদ্ধকে। এ ধরণের পোষাক যা অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ পরিচয় বহন করে তা পরিধান করা যাবে না। অনেকেই পাঞ্জাবীকে হিন্দুদের পোষাক বলেন, কিন্তু শুধু সাধারণ পাঞ্জাবীতে কাউকে হিন্দু বলে সনাক্ত করা যায় না বরং ধুতি পাঞ্জাবী পড়লেই কেবল হিন্দু বলে চেনা যায়, তাই পাঞ্জাবীকে বিধর্মী পোশাক বলার কোন সুযোগ নেই। ঠিক তেমনি অনেকে মুহরিমদের পোশাককে বৌদ্ধদের পোশাক বলার চেষ্টা করেন তাও সঠিক নয়, কেননা মুহরিমগণ সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পড়েন, গেরুয়া নয়। তাই এক্ষেত্রেও তা কিছুতেই বিধর্মীদের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলার কোন সুযোগ নেই।

চ) গর্ব, অহংকার প্রকাশ পায় এমন পোষাক পরা যাবে নাঃ
কোন পোষাক যদি গর্ব অহংকারের প্রতীক হয়ে ওঠে তবে তা পরিহার করতে হবে। প্রাক ইসলামী যুগে আরবরা যেমন লম্বা জুব্বা পড়তো, অহংকারবশত তারা তা এতটাই বড় করে তৈরী করতো যে জামা দুপাশ থেকে ধরে তবেই পথ চলতে হতো। এ দ্বারা তারা তাদের আভিজাত্য ও প্রাচুর্যের বার্তা পৌছানোর চেষ্টা চালাতো। তাই রাসূল (সা:) এমন অহংকারী লোকদের সম্পর্কে বলেন, “আল্লাহ সে ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না, যে অহংকারের সাথে তার পোশাক টেনে চলে” (বুখারী)
তিনি আরো বলেন, “এক ব্যক্তি চিত্তাকর্ষক জোড়া কাপড় পরে চুল আচঁড়াতে আঁচড়াতে পথ চলছিল, হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেন। কিয়ামত পযর্ন্ত সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে।”

ছ) (পুরুষদের জন্য) টাখনুর নীচে কাপড় পড়া যাবে নাঃ
আমাদের সমাজে এ রোগটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্যান্ট তৈরী করার সময় এতটাই ঝুলিয়ে দেয়া হয় যে তা সিটি কর্পোরেশনের ঝাড়ুদারের কাজও সম্পাদন করে। এমন পোষাক পড়ে এরা যখন আবার মসজিদে নামাজে দাড়ায় তখন তা ভাজ করে নেয়, যেন কেবলমাত্র নামাজেই টাখনুর নীচের কাপড় পড়া হারাম, অন্য সময় বৈধ। সমস্যা এতটাই প্রকট যে দর্জির কাছে প্যান্ট ছোট করে তৈরী করার কথা বললেও তারা তা মানে না, নিছক ফান হিসেবে উড়িয়ে দেয়। আমার নিজের প্যান্ট বানানোর সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি অনেকবার যে তাদের সাথে রুঢ় আচরণ করতে বাধ্য হয়েছি। টাখনুর উপরে প্যান্ট পড়াকে এরা অসভ্যতা বলে মনে করে, অথচ সংস্কৃতির দিক থেকে যাদেরকে প্রভূ মানে সেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যখন বাংলাদেশে এলেন তখন তিনি যে প্যান্ট পরে ছিলেন তা টাখনুর উপরে ওঠানো ছিল, না ভাজ করে নয় বরং ছোট করে তৈরী করা হয়েছিল সে প্যান্টটি। টাখনুর নীচের কাপড় পড়লে তাতে নাপাকী বস্তু লাগার সম্ভাবনা থেকে যায় অথচ নামাজের জন্য পোষাক পবিত্র থাকা অন্যতম প্রধান শর্ত। তাই রাসূল (সা:) সতর্ক করেন “পোষাক যে পরিমান টাখনুর নীচে যাবে, সে পরিমান জাহান্নামে যাবে” (বুখারী ৫৩৭১)

জ) (নারীদের ক্ষেত্রে) হিজাব অধিক সুগন্ধিময় হতে পারবে নাঃ
রাসূলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেছেনঃ মেয়েরা যখন সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করে পুরুষদের কোন সমাবেশের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন পুরুষরা বলাবলি শুরু করে দেয় যে, এই মহিলাটা এমন, এমন, এমন। (তিরমিযী)

ঝ) পোষাক হতে হবে পবিত্রঃ
ঈমানদারদের পোষাক অপবিত্র হতে পারবে না। এ উদ্দেশ্যে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেনঃ
“হে কম্বল জড়াইয়া শয়নকারী! উঠ এবং সাবধান কর, আর তোমার রব্ব-এর শ্রেষ্ঠত্ব-বড়ত্বের ঘোষণা কর। আর নিজের পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ। আর মলিনতা ও অপবিত্রতা হইতে দূরে থাক। আর অনুগ্রহ করিও না অধিক পাওয়ার উদ্দেশ্যে। আর নিজের রব্ব-এর জন্য ধৈর্য ধারণ কর।” সূরা আল-মুদ্দাসসির আয়াত ১-৭।

ঞ) (পুরুষদের জন্য) রেশনী কাপড় পড়া যাবে নাঃ
রাসূল (সাঃ) বলেন, “দূনিয়ায় রেশমী কাপড় সে ব্যক্তিই পরবে যার আখিরাতে কোন অংশ নেই”। (বুখারী)

ট) (পুরুষদের জন্য) জাফরানী (লাল) রঙের কাপড় পড়া যাবে নাঃ
রাসূল (সা:) পুরুষদের যাফরানী রং-এর কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী)

ঠ) জীব-জন্তুর ছবিযুক্ত পোশাক পরা যাবে নাঃ
রাসূল (সাঃ) বলেন, ” ফেরেস্তারা সে ঘরে প্রবেশ করে না যে ঘরে ছবি, কুকুর ও যৌন মিলনে অপবিত্র পুরুষ থাকে। (আবু দাউদ)

ড) শিকারী প্রাণীর চামড়া দিয়ে তৈরী পোষাক পরা যাবে নাঃ
রাসূল (সাঃ) শিকারী প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন (আবু দাউদ)

ঢ) অপবিত্র প্রাণীন চামড়া দিয়ে তৈরী পোষাক পরা যাবে না।

ন) স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে এমন প্রাণীর চামড়া দিয়ে তৈরী পোষাকও পরা যাবে না।

ইত্যাদি ইত্যাদি।

উপরো যে সকল শর্তাবলী উল্লেখ করা হলো এ সবই লিবাসুত তাকওয়ার অংশ। তাহলে একবার যাচাই করে নিন আপনি যে শার্ট-প্যান্ট পড়ছেন তা কি লিবাসুত তাকওয়ার মাপকাঠীতে উতরে যাবে? যদি না যায় তবে কি একজন ঈমানের দাবীদার হিসেবে আপনার ব্যক্তিগত ভালোলাগা না লাগার উপর আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশ-নিষেধকে অগ্রাধিকার দেবেন না যে সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই পবিত্র কোরআনে সতর্ক করেছেন?

“আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল যখন কোন বিষয়ে ফায়সালা করিয়া দেন, তখন কোন মুমিন পুরুষ ও কোন মুমিন স্ত্রীলোক সেই ব্যাপারে নিজে কোন ফায়সালা করার ইখতিয়ার রাখেনা। আর যে লোক আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের নাফরমানী করিল, সে নিশ্চয়ই সুস্পষ্ট গুমরাহীতে লিপ্ত হইল”। সূরা আহযাব আয়াত ৩৬।

একজন মুমিনের হৃদয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়সালার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারে না, তাই আপনি আপনার হৃদয়ের কথা শুনুন। কারণ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) নিজের বুকের দিকে ইঙ্গিত করে তিনবার বলেছেন, তাক্বওয়া (আল্লাহ্‌ ভীরুতা) এখানেই। (বুখারী ও মুসলিম)। আপনার হৃদয়ে যদি তাকওয়ার প্রতিধ্বনি শুনতে পান, আপনার সৎ কাজ যদি আপনাকে আনন্দ দেয়, অসৎ কাজে যদি অন্তরে কষ্ট অনুভূত হয় তবেই আপনি প্রকৃত মুমিন।

এবার একবার চোখ ফেরান তো বিশ্বের সেরা আলেমদের দিকে, তাদের কাউকেই কি আপনি দেখতে পান কোট-প্যান্ট-টাই পড়ে নামাজ পড়াচ্ছেন, ওয়াজ নছিহত করছেন। আপনার নিজের কথাই ধরুন, আপনি যখন মসজিদে জুমুয়ার নামাজে কিংবা দুই ঈদের নামাজে যান তখন কোন পোষাক পড়ে যান? পায়জামা পাঞ্জাবী থাকলে অবশ্যই তাকে অগ্রাধিকার দেন, নয় কি? তাহলে ইসলামী কোন অনুষ্ঠানের কথা মনে হলে, ঈদ-জুমুয়ার জামায়াত, ওয়াজ নছিহতে যোগদানের ক্ষেত্রে আপনার কাছে প্রথমেই যে পোশাকের কথা মনে ওঠে তা কেবল পায়জামা-পাঞ্জাবী-টুপি। তাহলে আপনি কিন্তু অবচেতন মনে ঠিকই ইসলামী পোশাক তথা লিবাসুত তাক্বওয়া বলতে পায়জামা পাঞ্জাবীকেই মেনে নিচ্ছেন, তাহলে তর্কের খাতিরে মিছে মিছে কেন পায়জামা পাঞ্জাবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাবেন? কেন আপনাকে পড়তেই হবে পাশ্চাত্য পোষাক?

অহেতুক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির পিছে মিছে মিছে ঘোরার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন নেই মডারেট মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সার্টিফিকেট। কেননা আল্লাহ আগেই সতর্ক করেছেন, “ইয়াহুদী ও খৃষ্টানগণ কখনো তোমার প্রতি সন্তষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর।” (সূরা বাকারা, ২ : আয়াত ১২০)। অপরদিকে রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিদের ধর্মাদর্শকে এমনভাবে আস্তে আস্তে অল্প অল্প করে, এক হাত এক হাত করে অনুসরণ অনুকরণ করবে শেষ পর্যন্ত তারা যদি হিংস্র জন্তুর গুহায়ও প্রবেশ করে তাহলে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। সাহাবায়ে কিরাম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল ! পূর্ববর্তী জাতি বলতে কি ইয়াহুদী নাছারা? রাসূলুল্লাহ‌ (সা:) উত্তরে বললেন: এরা ছাড়া আর কারা? (মুসলিম)

সবকিছু বিবেচনা করে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে শার্ট আদৌ তাকওয়া সম্পন্ন পোষাক নয়। প্যান্ট কিংবা পাজামায় তেমন কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় না যদি তা ঢেকে থাকে পাঞ্জাবীর কাপড়ে। একজন প্যান্ট/পায়জামা-পাঞ্জাবী পড়া নামাজীর লজ্জাস্থান কিছুতেই উন্মুক্ত হবে না যদি তা ঢেকে থাকে পাঞ্জাবী দিয়ে। তাই এ পবিত্র রমযানে সার্টকে চীরতরে বিদায় জানালাম, পাঞ্জাবীকেই লিবাসুত তাকওয়া হিসেবে গ্রহণ করলাম।

আসুন, অপ্রয়োজনীয় আধুনিকতার নামে ইয়াহুদী নাছারাদের অনুসরণ থেকে বিরত থাকি এবং একজন পরিপূর্ণ মুসলমান হিসেবে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার প্রতিযোগিতায় শামিল হই।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“লিবাসুত তাক্বওয়া : অবশেষে শার্ট ছেড়ে পাঞ্জাবী গায়ে জড়ালাম” লেখাটিতে 10 টি মন্তব্য

  1. mushfiq বলেছেন:

    guru kay salam.
    hazar bar ei kotha gulo bhabi kintun likhtay pari ni

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    মুশফিক ভাই, আপনাকেও ছালাম।
    এ লেখাটা পাবলিশ করার আগে আমিও হাজারবার ভেবেছি, এ লেখাটি পড়ে মনক্ষুন্ন হবে কারা, কষ্ট পাবে কারা, বিব্রত হবে কারা এবং চারিপাশে শুধু আমার প্রিয় মুখগুলোকেই দেখতে পেয়েছি। আপনার মন্তব্য পেয়ে বুঝলাম, যাদেরকে নিয়ে চিন্তিত ছিলাম, তারাও আসলে শার্ট নিয়ে আমার মতো অন্তরে একই রকম যন্ত্রণায় ছটফটিয়ে মরছে। আশাকরি আমার সেসকল বন্ধুরাও পারিপার্শ্বিক ভয়কে জয় করে একমাত্র আল্লাহভীতি তথা তাক্বওয়াকেই অন্তরে স্থান করে দেবেন।

    [উত্তর দিন]

  2. টাচ মাই ড্রিম বলেছেন:

    সালাম গুরু!!! সত্য প্রকাশে দ্বিধাহীন চিত্তে এগিয়ে যান, আমরা সত্তের পথিকরা আছি পাশে সবসময়।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    আপনাকেও সালাম। ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য। সত্যের পথে আমরা যদি একে অন্যকে উৎসাহিত করি তবে নিশ্চিত বাংলাদেশে ইসলাম বিরোধী অপশক্তির কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
    আবারো ধন্যবাদ।

    [উত্তর দিন]

    টাচ মাই ড্রিম উত্তর দিয়েছেন:

    নাস্তিক, ইহুদী, বৈদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টান-দের বিষদাত ভেঙ্গে এই বাংলাদেশে ইসলামের পতাকা উড়বেই ইনশাআল্লাহ্‌

    [উত্তর দিন]

  3. mushfiq বলেছেন:

    amader prio mukh boltay tari jara Quran SUNNAAR Distri tay prio. kono dol ba organisation bibachcho noy.

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    শতভাগ সত্য কথা। “কাউকে ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা করা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হওয়া উচিত” এ কথা আমরা প্রায়শঃ ভুলে যাই। ধন্যবাদ মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।

    [উত্তর দিন]

  4. monir বলেছেন:

    sattya prokashe aposhhin. thanks….

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ মনির ভাই।
    যাক, অনেক দিন পর আপনার সাড়া পেলাম। মাঝে মাঝে আওয়াজ না দিলে বুঝব কি করে যে কাছেই আছেন?

    [উত্তর দিন]

  5. টাচ মাই ড্রিম বলেছেন:

    নাস্তিক, ইহুদী, বৈদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টান-দের বিষদাত ভেঙ্গে এই বাংলাদেশে ইসলামের পতাকা উড়বেই ইনশাআল্লাহ্‌
    নাস্তিক, ইহুদী, বৈদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টান-দের বিষদাত ভেঙ্গে এই বাংলাদেশে ইসলামের পতাকা উড়বেই ইনশাআল্লাহ্‌
    নাস্তিক, ইহুদী, বৈদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টান-দের বিষদাত ভেঙ্গে এই বাংলাদেশে ইসলামের পতাকা উড়বেই ইনশাআল্লাহ্‌

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন