ভদ্রবেশী শয়তান

মুগদা মাছবাজারে দেখা হয়ে গেল ইবলিশের খালাতো ভাইয়ের সাথে। খুবই ভদ্র চেহারায় এ দোকান সে দোকান ঘুরে ঘুরে দরদাম করে মাছের। শৈশবরের পুরনো প্রিয় বন্ধু শিমুলকে নিয়ে মাছ কিনতে আমরাও ঘুরছি বাজারে। হঠাৎ করেই চোখ আটকে যায় শয়তানের চেলার দিকে, বন্ধু আর আমি দু’জনেই থমকে যাই, প্রকাশ্য বাজারে কিভাবে ভদ্রবেশী শয়তানদের হাতে লাঞ্ছিত হয় নারী সমাজ, দেখে স্তম্ভিত হই। ভীরের সুযোগে মুহুর্তেই নিতম্বে চাপড় মেরে মুখ ঘুরিয়ে নেয় জানোয়ারটা, যেন সে কিছুই জানে না, তার মতো নীরিহ চতুষ্পদজন্তু আরেকটিও যেন মিলবেনা হাজার মাইল খুঁজলেও। ভদ্রমহিলা বিব্রত, সম্ভ্রমহানীর আশংকায় আতঙ্কিত কিন্তু কিছুই বলার নেই, চারপাশে ঘুরে বেড়ায় ভদ্রবেশী ইবলিশের দল, কার দিকে নিক্ষেপ করবেন সন্দেহের তীর?

স্পষ্টই দেখলাম, ইচ্ছে হল কসাইয়ের দোকান থেকে চাপাতিটা টেনে নিয়ে নামিয়ে দেই হাত দুটো, কিন্তু চিন্তাগুলো বদ্ধ মাথাতেই ঘুরপাক খেয়ে থেমে যায়। middleclass sentiment কিংবা সম্ভ্রবহানির ভয়ে ভদ্রঘরের নারীরা প্রতিবাদ করতে জানে না, সম্ভ্রব বাঁচাতে পারে না। তার পক্ষে দাড়ালে হয়তো কিছুই হয়নি এমন সম্মান বাঁচানো কথায় উল্টো আমাদেরই মাসুল গুনতে হতে ভেবে নিবৃত হই।

অফিস পথে বাসে চড়তে হয়, বেশ কিছু অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে জানাশুনাও হয়েছে বাসযাত্রার কল্যাণে। স্যুটেট বুটেট ভদ্রলোকের মাঝেও মাঝে মাঝে মিলে যায় দু’একজন ভদ্রবেশী শয়তান। এমনই এক নেড়ী কুত্তার দৃষ্টি কাড়ে আমার, প্রায়ই দেখি খালি বাসগুলোকে এড়িয়ে ভীড়বাট্টা ঠেলে যায়গা করে নেয় বাসে, ঠিক ইঞ্জিন কভারের মাঝে। চারপাশে মেয়েদের ঠাসাঠাসি, কোন ভ্রুক্ষেপ নেই তার, যেন সংসারত্যাগী সন্যাসী, সংসারের কোন কিছুতেই আর আকর্ষণ নেই ওর। কখনো কখনো তাকে দেখি রড ধরে ঝুলে থাকতে, পেছনে পরে থাকে খালি সীট। কয়েক দিনেই বুঝতে পারি ভদ্রতার মুখোখে কি ভয়ংকর দগদগে পচাঁ ঘা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় জানোয়ারটা। শহরের দুটো স্টপেজ থেকে স্কুল কলেজগামী ছাত্রী ওঠে যুদ্ধ করে, ছাত্রদের স্থান হয় বাসের ছাদে। ধীরে ধীরে মেঘ কেটে আমার চিন্তার আকাশ পরিস্কার হয়ে যায়, আসলে এই মেয়েগুলোর জন্যই ওরা রড ধরে ঝুলে থাকে, বিধ্বস্ত রাস্তায় চলা লক্করঝক্কর বাসের ঝাকুনির অপেক্ষায়ই থাকে ওরা নারীদেহে হামলে পড়ার আশায়।

ভদ্রঘরের রমণীরা সম্ভ্রম বাঁচাতে জানে না, লোকলজ্জার ভয় কেড়ে নেয় সম্ভ্রম, রাস্তাঘাটে রমণের নিত্য শিকার হন তারা। কিন্তু রাস্তায় যদি নামতে হয়, তবে জানতে হবে রাস্তায় চলার নিয়ম। রাস্তায় চলতে গেলে যুদ্ধ কৌশল জানতে হয়, প্রতিবাদ করতে জানতে হয়, প্রতিরোধ করা শিখতে হয়। এমই এক প্রতিরোধের মুখে পড়ে যায় ভদ্রবেশী জানোয়ারটা, গার্মেন্টস কর্মীর গায়েও তুলেছিল হাত। রাস্তায় চলে অভ্যস্ত মেয়ে, অভ্যস্ত হাতে হাতেনাতে খুলে দেয় ভদ্রলোকী মুখোশ। সবার সামনে চলে অকথ্য চিৎকার, সাথে এলোপাথারি খামচাখামচি, ঘুষোঘুষি। ভদ্রলোকটি তার ভদ্রতার মুশোখ আকড়ে ধরায় ব্যস্ত, যেন সে কিছুই জানে না, বাসের ধাক্কায় হাত পড়েছে মেয়েটার গায়ে,অসভ্য নারীর খপ্পরে বিপন্ন তার সম্মান এমন নীরিহ সুরে যাত্রীদের করুণা পাবার চেষ্টা চলে তারা। “কোনটা গাড়ীর ধাক্কা আর কোনটারে কয় বুকে হাত দেয়া তোর কাছে শিখতে হবে শুওরের বাচ্চা”, বকে যায় মেয়েটি। যাত্রীরা নির্বিকার, ওরা সিনেমা দেখায় অভ্যস্ত, সিনেমার ভিলেনকে তো আর কেউ তেড়ে যায় না সিনেমার পর্দায়, কিংবা ওদের মাঝেও হয়তো লুকিয়ে আছে হায়েনার দল, সুযোগের অপেক্ষায়, নারী দেহে হামলে পড়ার অপেক্ষায়। যা করার একাকীই করতে হয় মেয়েটিকে, জুতিয়ে জুতিয়ে বাস থেকে ছুড়ে দেয় পশুটাকে লাথাতে লাথাতে।

তবু সমাজ পক্ষ নেয় ভদ্রবেশী শয়তানদের, ধর্ষকেরা সেঞ্চুরী করে উল্লাসে মাতে, ধর্ষিতাদের গলায় শোভা পায় ফাঁসের মালা। সমাজ যে অপয়া, নির্লজ্য মেয়েদের ভার বইতে অক্ষম, সমাজটা চালায় যে ভদ্রবেশী জানোয়ার।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ভদ্রবেশী শয়তান” লেখাটিতে 3 টি মন্তব্য

  1. mohi বলেছেন:

    jamat-shibir win
    your writing on above heading inspires us to dare all their fasist effort. Thanks for such type of writings , we hope your writing would be more rich.

    [উত্তর দিন]

  2. পাশা বলেছেন:

    খুব ভাল লেখছেন।

    [উত্তর দিন]

  3. S Kabir বলেছেন:

    বর্তমান বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তা মনে হচ্ছে একটি বিশেষ আদর্শের বিরোদ্ধে এরকটি ভ্রান্ত আদর্শের সংগ্রাম। সহজ কথায় সত্য আর মিথ্যার লড়াই।

    এই লড়াই জয় হয়েছে কাদের ? প্রশ্নের উত্তরটা একবোরেই সহজ। জয় হয়েছে সত্যের। পরাজিত হয়েছে মিথ্যার। কারণ-

    সত্যকে আঁকড়ে ধরে যারা নিরবে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে চলেছিল। কারো সাথে কোন বিবাদে জড়াবার প্রয়োজন যাদের ছিলনা। বরং কুকুর কুকুরে কামড়াকামড়িতে মিথ্যাবাদীরা জর্জরিত। ঠিক এমন সময় সত্যের পতাকাবাহী নিরিহ মানুষগুলোর উপর হঠাৎ করেই নেমে এল চরম ঈমানের পরীক্ষা।

    কুকুরদের মধ্যে মারামারি বন্ধ করার জন্য কুকুরগুলোকে অন্যদিকে ডাইবার্ট করার উদ্দেশ্যে শান্তিপ্রিয় সত্যের পতাকাবাহী নিরিহ মানুষগুলোর বিরোদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার চালিয়ে তাদের ঈমানের পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে কুকুরের মুনিবেরা।

    যারা ঈমানের পরীক্ষায় পড়েছে তারা যানে তাদেরকে বারবার ঈমানের পরীক্ষায় পড়তে হবে। এর জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণের। তাই তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত। কিন্তু এই প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ ছিলনা এতদিন । কুকুরের মুনিবেরা ভেবেছে ওদেরকে জেল জুলুম আর হত্যার মাধ্যমে নির্মূল করে দেবে। কিন্তু তারা যানে না এই দুনিয়াই হচ্ছে মুমিনদের জন্য জেলখানা। আর দুনিয়ায় যদি মুমিনদেরকে জেলে ঢুকানো হয় তাহলে সেই জায়গাটি মুমিনের জন্য প্রশিক্ষণের স্থান। সেখানে মুমেনেরা দিন রাত আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আল্লাহর দরবারে ধরনা দেবে। আল্লাহর দরবারে ধরনা দেয়া এবং ঈমানের পরীক্ষায় উত্তির্ণ হওয়ার জন্য দুনিয়ার জেলখানা হচ্ছে মুমিনদের উৎকৃষ্ট স্থান।

    মৃত্যু হচ্ছে মুমিনদের নিজ স্থায়ী ঠিকানা জান্নাতে যাওয়ার এক মাধ্যম সেখানে মিলিত হবে সেই মহান মাবুদের সাথে যার ভালবাসা পাওয়ার জন্য মুমিনেরা উদগ্রিব।

    তাই জেল জুলুম অত্যাচার আর হত্যার মাধ্যমে সত্যের বাহিনিকে পরাজিত করা যায় না। বরং ওরা জয়ী আর মিথ্যা পরাজিত।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন