পদ্মা সেতু: মানিলন্ডারিং ও চাঁদাবাজি উস্কে দিচ্ছে সরকার

আওয়ামী সরকারের দূর্ণীতির কারনে বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মানে প্রতিশ্রুত অর্থসহায়তা বাতিল করেছে বিশ্বব্যাংক, এটি পুরনো খবর।  অর্থায়ন থেকে সরে দাড়ানো সংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিও পাঠকের জানা আছে। “বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ঘটনায় চোখ বুজে থাকতে পারে না, তা উচিত নয় এবং থাকবেও না”-এমন দ্যর্থহীন শব্দমালায় বিশ্বব্যাংক আওয়ামী সরকারের গালে কষে চপেটাঘাত করেছে যে শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো বিশ্বই চমকে উঠেছে।  লাজশরমের মাথা খাওয়া আওয়ামী সরকার এতে লজ্জিত না হলেও ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংকের এমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে অসম্মানজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং রহস্যময় বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মা’ল মুহিত। তিনি ঋণচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাংকের নয় বরং বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী সভাপতি রবার্ট জোয়েলিকের ব্যক্তিগত বলে  মন্তব্য করে অপমানের মাত্রা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়েছেন যদিও বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নাকচ করে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি কারো ব্যক্তিগত নয় বরং প্রাতিষ্ঠানিক এবং সঠিক সিদ্ধান্ত। ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে উচিত ছিল দূর্ণীতি দমনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করা। কিন্তু তা তিনি করেন নি, বরং আওয়ামী লীগ তাদের পুরনো কৌশলী রাজনীতির পথেই আরো জোর কদমে এগিয়ে চলেছে।

রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের এ এক চমকপ্রদ নীতি, যে কোন পরিস্থিতিতে তারা তাদের সমস্যাকে সুকৌশলে নিজেদের ঘাড় থেকে জাতির ঘাড়ে স্থানান্তরে সক্ষম, আবার জাতীয় কৃতিত্বকে নিজেদের মাথার তাজ করে রাখতেও পারঙ্গম।  একাত্তরে যেমন পুরো দেশবাসী যুদ্ধকরে স্বাধীনতা এনেছিল, আওয়ামী লীগ চাতুর্যের সাথে পুরো কৃতিত্ব নিজেদের বলে চালিয়ে দিয়েছে। বিএনপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ে পদকপ্রাপ্ত ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা বেশী থাকলেও তারা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে নি যা আওয়ামী লীগ পেরেছে। জাতীয় যত অর্জন তা দাপটের সাথে নিজেদের অর্জন বলে চালিয়ে দিতে, দলীয় ব্যর্থতাগুলো জাতীয় ব্যর্থতা হিসেবে দেশবাসীর মাথায় চাপিয়ে ষোলকোটি বাংলাদেশীর মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খেতে অভ্যস্ত আওয়ামী লীগ। ঠিক তেমনি ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক দূর্ণীতির বোঝা পুরো দেশবাসীর মাথায় চাপিয়ে দেশবাসীকে তার মাশুল গুণতে বাধ্য করছে সরকার। জনগণ যেন ভুলে গেল আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের দূর্ণীতি, যেন দূর্ণীতি করেছে পুরো দেশবাসী। এক আবুলের দূর্ণীতির দায় পুরো জাতি মাথায় দিয়ে ষোলকোটি বাংলাদেশীকেই আবুল (বোকা) বানানোর গভীর ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।

সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মা’ল আব্দুল মুহিত গতকাল ১৯ জুলাই ২০১২ তারিখে পদ্মাসেতু নির্মানে তিনটি অপশনের কথা বলেন। প্রথমত: বিশ্ব ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও পুরোনো কাঠামো বহাল রেখেই পদ্মা সেতু নির্মাণ, দ্বিতীয়ত: বিশ্ব ব্যাংক সরে গেলে আরো যে তিনটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আছে তাদের আর্থিক প্রস্তাব বাড়ানোর অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্তকরণ কিংবা বাংলাদেশ সরকারও এতে যোগ দিতে পারে এবং তৃতীয়ত: নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। অর্থাৎ এখনো প্রথম পছন্দ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সাথে দেনদরবার করছে সরকার এবং জাইকা প্রেসিডেন্টকেও এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের সাথে আলোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই “নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় হতে পারে” বলে মত দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ  (আইসিসিবি)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিবিদগণ, অথচ তৃতীয় অপশনটিকে পুঁজি করে ইতোমধ্যেই ভয়াবহ দূর্ণীতিতে জড়ানো হয়েছে পুরো দেশবাসীকে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক এইচএসবিসির মানিলন্ডারিংএর অভিযোগ নিয়ে সারাবিশ্ব যেখানে তোলপাড়, যেখানে অহেতুক বাংলাদেশের দুটো ব্যাংকের নাম জড়ানোয় বাংলাদেশী মিডিয়াগুলো ব্যাংকদুটোর সুনামক্ষুন্ন করতে ও ব্যবসায়িক প্রভূত ক্ষতি সাধনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, ঠিক সে সময়ে বাংলাদেশের বহুপ্রত্যাশিত পদ্মাসেতু বিষয়ে সরকার দেশবাসীকে সরাসরি মানিলন্ডারিং করতে উৎসাহিত করছে, উঁস্কে দেয়া হচ্ছে চাঁদাবাজি। “পদ্মা সেতু তহবিলে অর্থ দান করলে উৎস্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে না বরং তা হবে করমুক্ত”-সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের একটি নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে যে ব্যাপারে দু’একদিনের মধ্যে সার্কুলার জারি হচ্ছে। একবার চিন্তা করুন যারা সৎ ভাবে উপার্জন করছেন, তাদেরকে বিপুল অঙ্কের কর দিতে হচ্ছে অথচ ঘুষ-দূর্ণীতি, চুরিচামারী, মাদক-চোরাচালানী, অস্ত্র ও নারীপাচারসহ ভয়াবহ অপরাধের মাধ্যমে যে কালো টাকা অর্জিত হচ্ছে তা কোন ধরনের আয়কর ছাড়াই সাদা করার সুযোগ করে দিয়ে সরকার সততা নীতি-নৈতিকতাকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, উৎসাহিতকরছে অপরাধ-অপকর্মকে, পুরস্কৃত করছে মানিলন্ডারদের। সরকার দেশবাসীকে মানিলন্ডারিং এ উৎসাহিত করছে কিভাবে তা আরো ভালো করে বুঝতে হলে আগে একবার মানিলন্ডারিং এর সংজ্ঞাটির পানে চোখ ফেরানো যাক:

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ২ ধারার ‘ফ’ দফায় মানিলন্ডারিং এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে:
(ফ) “মানিলন্ডারিং” অর্থ
(অ) নিম্ন বর্ণিত উদ্দেশ্যে অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত সম্পত্তি জ্ঞাতসারে স্থানান্তর বা রূপান্তর বা হস্তান্তরঃ
(১) অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন বা ছদ্মাবৃত্ত করা; অথবা
(২) সম্পৃক্ত অপরাধ সংগঠনে জড়িত কোন ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ হইতে রক্ষার উদ্দেশ্যে সহায়তা করা;
(আ) বৈধ বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বা সম্পত্তি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচার করা;
(ই) জ্ঞাতসারে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করিবার উদ্দেশ্যে উহার হস্তান্তর, বিদেশে প্রেরণ বা বিদেশ হইতে বাংলাদেশে প্রেরণ বা আনয়ন করা;
(ঈ) কোন আর্থিক লেনদেন এইরূপভাবে সম্পন্ন করা বা সম্পন্ন করিবার চেষ্টা করা যাহাতে এই আইনের অধীন উহা রিপোর্ট করিবার প্রয়োজন হইবে না;
(উ) সম্পৃক্ত অপরাধ সংঘটনে প্ররোচিত করা বা সহায়তা করিবার অভিপ্রায়ে কোন বৈধ বা অবৈধ সম্পত্তির রূপান্তর বা স্থানান্তর বা হস্তান্তর করা;
(ঊ) সম্পৃক্ত অপরাধ হইতে অর্জিত জানা সত্ত্বেও এই ধরণের সম্পত্তি গ্রহণ, দখলে নেওয়া বা ভোগ করা;
(ঋ) এইরূপ কোন কার্য করা যাহার দ্বারা অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করা হয়;
(এ) উপরে বর্ণিত যে কোন অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ, সম্পৃক্ত থাকা, অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র করা, সংঘটনের প্রচেষ্টা অথবা সহায়তা করা, প্ররোচিত করা বা পরামর্শ প্রদান করা।

ইতোমধ্যেই সরকারের আবুলায়ন প্রক্রিয়ায় সাড়া দিয়েছে বেশকিছু চাটুকার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলেই জানেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসনসহ নানাবিধ সমস্যা সম্পর্কে। অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব হয় না, একই বেডে গাদাগাদি করে ঘুমাতে হয় একাধিক ছাত্রকে, নামাজের রুমে ঘুমানো ছাত্রদের দেখে মনে হয় যেন বিশ্ববিদ্যালয় নয়, জেলখানার আমদানী কিংবা খাতায় ইলিশ ফাইল দিয়ে সাজা ভোগ করছে ভংকর অপরাধী সব কয়েদীরা। অথচ এ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে সরকারকে দান-খয়রাত করার আশ্বাস দিয়েছে, এমনকি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রায় পঙ্গু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও পদ্মাসেতু নির্মানে ১ কোটি টাকা খয়রাত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ১০ কোটি টাকা দেয়ার ঘোষাণা দিয়েছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। নিশ্চিতভাবে এরা ছাত্রছাত্রীদের উপর অতিরিক্ত ফি ধার্য করে ব্যয়বহুল শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো অসহনীয় করে তুলবে। ইতোমধ্যেই দেশব্যাপী পদ্মাসেতু নিয়ে হরিলুট শুরু হয়ে গেছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজরা পদ্মাসেতুর নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেছে। ১২ জুলাই কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সোবহান যার পরিনামে চাঁদা ভাগাভাগি নিয়ে সোহেল নামের ছাত্রলীগের এক নেতাকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মরতে হয়েছে। পদ্মাসেতুর নাম ভাঙ্গিয়ে বিমানবন্দরের যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ। বলাই বাহুল্য, এর কোনটিই অনুমোদিত নয়, পুরো টাকাই চলে যাবে লুটেরাদের হাতে এবং অবশ্যই সিংহভাগ জমা পড়বে দূর্ণীতির সুঁতিকাগার সুধা ভবনে, ঠিক যেভাবে পৌঁছে যেত রেল ভবনের দূর্ণীতির টাকা

আওয়ামী লীগের দূর্ণীতির দায় সাধারণ মানুষের কাধে চাপাতে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, জনগণের মাথায় করের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা পাকা হয়েছে। সিনেমা হল, বাস, লঞ্চ, ট্রেনের টিকিট, আমদানিকৃত পণ্য, ভ্যাট আরোপযোগ্য সকল ক্রয়-বিক্রয়সহ সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে সারচার্জ আরোপ করে দেড় হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পীকার জাতীয় সংসদে বসেই মোবাইল/ফোন কল প্রতি ২৫ পয়সা করে অতিরিক্ত কর আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। এদিকে দুই আবুল মন্ত্রী সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে আরেক আবুল দেশবাসীকে কয়েকটি ‘যদি’ মিশ্রিত অলিক খাত এবং কয়েকটি আনক্লিনড ব্যাম্বো খাতসহ মোট ১৪টি খাত দেখিয়েছেন যা দিয়ে ৪ বছরে মোট ৯৮ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে চুষে নেয়া সম্ভব হবে এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হলে এই পরিমাণ ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা হওয়াও অসম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। ১৪টি খাত হলো: ১) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, ২) প্রবাসীদের পাঠানো হুন্ডিকৃত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা, ৩) বন্ড বা আইপিওতে (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলা, ৪) পেনশন ফান্ড, ৫) দেশজ ব্যাংক ব্যবস্থা, ৬) দেশজ বীমা কোম্পানি, ৭) প্রবাসে বাংলাদেশিদের সঞ্চয়, ৮) দেশের মধ্যে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ, ৯) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অব্যয়িত অর্থ এবং স্বল্প গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প স্থগিত করে তার বরাদ্দ অর্থ, ১০) স্বাস্থ্যহানীকর তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত কর, ১১)ব্যক্তিপর্যায়ে বছরে ১ কোটি টাকা বা তদূর্ধ্ব আয়কর দাতাদের সংখ্যা বাড়ানো, ১২)মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের উপর সারচার্জ আরোপ করা, ১৩) কৃচ্ছৃতা সাধন ১৪) অনুদান।

আচ্ছা বলুন তো, পদ্মাসেতু হলে বাস-গাড়ী কি টোলফ্রি সুবিধা পাবে? না, বরং এখন পদ্মায় ফেরি পারাপারে যে ফি দিতে হয় তার দেড়গুণ টোল দিতে হবে এবং কমপক্ষে ২৫ বছর টোল আদায় করা হবে। ২০১৫ সাল নাগাদ প্রতিদিন এ সেতুর ওপর দিয়ে ২১ হাজার ৩০০ যানবাহন চলাচল করতে পারবে, ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রতিদিন ৪১ হাজার ৬০০টিতে। তাহলে কি বিপুল পরিমান টোল আদায় হবে একবার কল্পনা করুন। কিন্তু এ টোল জনগণের হাতে কি ফিরবে? না, দানের টাকা কখনো লাভসহ ফেরত আসে না, দান হয় স্বত্বত্যাগেই। সরকার জনগণকে বোকা বানিয়ে তাদের অর্থ আত্মসাতের ফাঁদ পেতেছে, জনগণ সরকারের হাতে দান তুলে দেবে, সে দানের কিছু অংশ যাবে নেতাদের পকেটে, কিছু পয়সায় তৈরী হবে পদ্মাসেতু এবং সে সেতুর টোলের টাকা পাচার হবে বিদেশী কোম্পানীর হাতে; এতো পুকুর চুরি নয়, বঙ্গোপসাগর চুরির মহাপরিকল্পনা। যেখানে দেশের একটি রাস্তাও ভাল নেই, সেখানে পদ্মাসেতুর নামে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাদ দেয়া সাধারণ মানুষ যেমন মেনে নিতে পারে না, ঠিক তেমনি দেশপ্রেমের নামে অতিরিক্ত করের বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে তুলে দিয়ে জাতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়ার ষড়যন্ত্রও মেনে নেয়া হবে না, মেনে নেয়া হবে না দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে জনগণের পকেট কাটার নীলনক্সাও।

 বিশ্বব্যাংক বিশ্বাস করেনি আওয়ামী সরকারকে, দূর্ণীতির অভিযোগে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। অথচ জনগণ মুক্তহস্তে তাদের অর্থসম্পদ ঢেলে দেবে দূর্ণীতিবাজ সরকারের হাতে, কিসের স্বার্থে? যদি তাই হয় তবে আওয়ামী সরকারের আবুলায়ন প্রক্রিয়া সফল বলেই ধরে নিতে হবে এবং বাংলাদেশের নাম পাল্টে রাখতে হবে আবুলিস্তান। কিন্তু দেশবাসী আবুল নয়, তারা যেমন আবুলের  মতো অন্যের কথায় নিজেদের সর্বনাশ করবেন না, ঠিক তেমনি সেয়ান আবুলদের মতো নিজেদরকে দূর্ণীতিতেও জড়াবে না, এটাই প্রত্যাশা। তবে সরকার যদি সত্যিই পদ্মাসেতু নির্মানে আন্তরিকতা দেখাতে পারে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে কেবলমাত্র তখনই সরকারকে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে সহযোগিতা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, পদ্মাসেতুর জন্য কোন প্রকার দান খয়রাত করা যাবে না কিংবা পদ্মাসেতুকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী করে জনগণকে শেয়ার ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হলে তাও সযত্নে এড়িয়ে চলছে হবে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে আওয়ামী দরবেশরা লুটপাট ও অর্থ পাচারের জন্য যেভাবে ওঁৎ পেতে বসে আছে সেখানে পদ্মাসেতুর শেয়ার ক্রয়ের মতো বোকামীর কোন প্রশ্নই আসে না। কেবলমাত্র পদ্মাসেতুর নামে  সুনির্দিষ্ট সুদ ঘোষণা করে বন্ড ছাড়া হলে অথবা সুদবিহীন সুনির্দিষ্ট লাভ/লসের ভিত্তিতে ইসলামী বন্ড ছাড়া হলে  এ কাজে সাধারণ মানুষ অংশ গ্রহণ করতে পারে। তবে দেশীয় অর্থায়ন তথা বন্ডের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ফলে দেশীয় ব্যাংক-বীমা এবং এ সকল প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল শিল্প-কারখানাগুলোর কি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, দেশের তৈরী পোষাক শিল্প কি ধরণের দূর্যোগের মধ্যে পড়বে তা সর্বাগ্রে ভেবে দেখা প্রয়োজন। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা অক্ষুন্ন রেখে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের ঋণগ্রহণ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সামনে দ্বিতীয় কোন অপশন খোলা নেই। তাই নিছক আওয়ামী সরকারের জেদের কাছে মাথা নত করে দাতাদের সাথে শত্রুতা বাড়িয়ে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার মহোৎসবে জনগণ কিছুতেই মেতে উঠতে পারে না।

**************নীচের অংশটুকু একান্ত ব্যক্তিগত***************

বৃহত্তর ফরিদপুরের মেয়ে বিয়ে করে বন্ধু-বান্ধবদের অনেক মশকরা সহ্য করতে হয়েছে, যাকে বলে রেসিজম। বঙ্গবন্ধু চোরের খনি আবিস্কারের পর থেকে তার জন্মস্থান ফরিদপুর অঞ্চল পরিচিতি পায় “চোর, চো***, খেজুরের গুড়ের দেশ” হিসেবে। এলাকাটি খেজুরের গুড়ের জন্য যেমন বিখ্যাত, ঠিক তেমনি দেশের সর্ববৃহৎ বেশ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় আকারের যৌনপল্লী থাকায় এলাকার এমন নামকরণ। আমি যেহেতু আঞ্চলিকতার ঘোর বিরোধী এবং বর্ণবাদকে তীব্রভাবে ঘৃণা করি তাই বরাবরই ফরিদপুর অঞ্চলের নামে এমন বদনামকে জোড়ালো ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছি। তবে ফরিদপুর অঞ্চলে  এখনো যেমন মিষ্টি খেজুরের গুড় পাওয়া যাচ্ছে, ঠিক তেমনি রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের বেশ্যালয়গুলোর জৌলুসও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকারের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সফল বাস্তবায়নের ফলে দেশব্যাপী অবাধ যৌনাচারও ব্যাপকতা পেয়েছে। আবার বিগত আওয়ামী সরকার আমলে দূর্ণীতির দায়ে পদচ্যুত প্রতিমন্ত্রী বৃহত্তর ফরিদপুরের কীর্তি সন্তান সৈয়দ আবুল হোসেনকে এবারে পূর্ণমন্ত্রী করে চুরির লাইসেন্স দেয়ায় কৃতিত্বের সাথে চুরি-চামারী করে যেমন ধরা খেয়েছেন, ঠিক তেমনি রেলভবনের দূর্ণীতি এবং পদ্মাসেতুর দূর্ণীতিকে বীরবিক্রমে নিরাপত্তা দিয়ে ফরিদপুরের আরেক কীর্তিমান সন্তান শেখ হাসিনা ফরিদপুরের পুরনো “চোর, চো***, খেজুরের গুড়ের দেশ” পদবীকে আবারো ঘষে মেজে চকচকে উজ্জল করে তুলেছেন। ফরিদপুরের সন্তান শেখ হাসিনার অপকর্মের দায়ে যেমন পুরো দেশের বিশেষ করে ফরিদপুর অঞ্চলের বদনাম হয়েছে ঠিক তেমনি শালা (গালি নয়, আমার শ্বশুরের দেশের বড় কুটুম, তাই এই সম্বোধন করলাম) আবুল পুরো দেশবাসীকেই আবুল (বোকা) বানিয়েছে।

জয় আবুল, জয় আবুলিস্তান।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন