যত দোষ নন্দ ঘোষ : পাপ করে হংকং-সাংহাই, সাজা পায় ইসলামী ব্যাংক

মার্কিন সিনেটে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের অর্থ পাচারে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এইচএসবিসি ব্যাংককে, গতকাল বিশ্বব্যাপী এটিই ছিল প্রধান আলোচ্য সংবাদ। অভিযোগে বাংলাদেশের দুটো ব্যাংকের সাথে এইচএসবিসির লেনদেনকেও সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। আর এতেই তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকটির নাম মুহুর্তেই ম্লান হয়ে সেখানে দোর্দান্ড প্রতাপের সাথে ভেসে ওঠে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) এর নাম। যারা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সংবাদটি দেখেননি, বাংলাদেশী মিডিয়ার রিপোর্ট দেখে তাদের এ ভুল ধারণা হতে পারে যে বিশ্বব্যাপী মানিল্ডারিং করে বেড়াচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, এইচএসবিসি তাদের ক্ষুদ্র সহযোগীমাত্র। বলা যায় মার্কিন সিনেটের রিপোর্টটির পানে একবারও দৃষ্টি না বুলিয়ে কিংবা দৃষ্টি বুলালেও অর্থ না  বুঝে অথবা অর্থ বুঝলেও ইচ্ছেকৃতভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকদুটোর আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুন্ন করতে বাংলাদেশী কিছু পত্র-পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়ে। চিলে কান নেয়ার কথা শুনেই চিলের পানে ছুটে চলার বাংলাদেশের কিছু মিডিয়ার যে অসীম আগ্রহ রয়েছে তা গতকালকের এইচএসবিসির মানিলন্ডারিং অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদে আরো একবার স্পষ্ট হলো।

কি অভিযোগ আনা হয়েছে এইচএসবিসির বিরুদ্ধে? আসুন ধৈর্য ধরে একবার পুরো রিপোর্টটি পড়ে নেই। রিপোর্টটিতে মূলত মেক্সিকোর মাদব ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের অর্থ পাচারে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে এইচএসবিসির বিরুদ্ধে। সঙ্গে বোনাস হিসেবে উঠে এসেছে তথাকথিত জঙ্গী অর্থায়ন প্রসঙ্গ। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে জঙ্গী অর্থায়নকারী হিসেবে জ্ঞান করে এদের সাথে এইচএসবিসির লেনদেনকেও মানিলন্ডারিং বলে মার্কিন সিনেট অদ্ভূত রিপোর্ট পরিবেশন করে। সম্ভবত প্রচন্ড ক্ষমতার অধিকারী হওয়ায় কোন যাচাই বাছাই ছাড়াই উন্নয়নশীল কোন দেশের অভাবনীয় সাফল্যমন্ডিত কোন ব্যাংককে জড়িয়ে এমন উদ্ভট রিপোর্ট  কেবলমাত্র মার্কিনিদের পক্ষেই প্রকাশ করা সম্ভব। বাংলাদেশী মিডিয়ার ও সরকারের পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল, উল্টো গতকাল বাংলাদেশী মিডিয়াগুলো মার্কিন এ রিপোর্টটির মেক্সিকোর মাদক চোরাচালান সংক্রান্ত ভযংকর অংশটিকে বাদ দিয়ে গুরুত্বহীন অংশটিকে এতটাই গুরুত্বদিল যে পাঠকের মনে হওয়াই স্বাভাবিক, ইসলামী ব্যাংক সম্প্রতি বড় ধরণের কোন অর্থপাচারের ঘটনায় জড়িয়ে বিশ্ব নিন্দার পাত্র হয়েছে। অথচ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ছয় বছর আগেকারে একটি মৃত ইস্যুকে টেনে হিচড়ে নিছক ব্যাংকটির সুনাম ক্ষুন্ন করতে জেনে বুঝেই বাংলাদেশী কিছু মিডিয়া ইসলামী ব্যাংককে জড়িয়ে প্রধান শিরোনাম করে রিপোর্ট করেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিয়ার রহমানকে ধন্যবাদ না দিলে কৃপনতা করা হবে। অতীতে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে মিডিয়ার রিপোর্টিংএ তৎকালীন গভর্নর সাহসী ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান আওয়ামী সরকার মনোনীত গভর্নর স্পষ্ট ভাষায় সাংবাদিকদের জানালেন যে, ইসলামী ব্যাংক ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি আনা হয়েছে তা একটি মৃত ইস্যু। দেখুন ড. আতিয়ার রহমানের বক্তব্যে ভিডিও:

ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে আমার অনেকটা জানাশোনা থাকায় বছর ৩ পরে আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু ফোন করে গতকালের রিপোর্ট নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানালেন। ইসলামী ব্যাংকে তার ১ হাজার টাকার ১০ বছর মেয়াদী একটি এমএসএস (ডিপিএস) আছে, ইতোমধ্যেই ৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। তার প্রশ্ন, পত্রপত্রিকার রিপোর্টে ব্যাংকের কি কোন ক্ষতি হবে, হলে যেন তাকে আগেই পরামর্শ দেই যাতে তিনি একাউন্টের টাকা তুলে নিতে পারেন। আমি তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতোই আশ্বস্ত করলাম যে, বিষয়টি একটি মৃত ইস্যু, মীমাংসিত ইস্যু, এ ইস্যুতে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কোন কারণই নেই। ইসলামী ব্যাংকের দেশী-বিদেশী যে সকল গ্রাহক একই প্রশ্ন মনে পুষছেন, ইসলামী ব্যাংকের একজন শুভাকাঙ্খী হিসেবে তাদেরকে আমিও একটি প্রশ্ন করতে চাই, আপনার একাউন্টটি কি ২০০৬ সালের আগে খুলেছেন? যদি তাই হয়, তবে ৬ বছর আগেই আপনার ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা ছিল, যেহেতু অদ্যাবধি ক্ষতিগ্রস্ত হননি বরং নিয়মিত ব্যাংকের মুনাফা পাচ্ছেন, অতএব নিশ্চিন্তে কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন। ইসলামী ব্যাংক পৌণে এক কোটি গ্রাহকের ব্যাংক, একটি মীমাংসিত ইস্যুকে কবর থেকে টেনে হিচড়ে তুলে এনে কিছুতেই ইসলামী ব্যাংকের সুনাম সুখ্যাতির বিরুদ্ধে দাড়া করানো সম্ভব হবে না।

আসুন একবার দৃষ্টি ফেরাই অতীতের পানে, দেখে আসি কি অভিযোগের কারণে ইসলামী ব্যাংককে ৬ বছর পরে আবারো মিডিয়ার কাঠগড়ায় দাড়াতে হলো। তার আগে আমার এক সাংবাদিক বন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দেই, ২০০৬ সালে ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে যখন সাংবাদিকবন্ধুরা ইসলামী ব্যাংক বধে কলম নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিল সে সময়ে আমি তাদের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সঙ্গী ছিলাম। কয়েকমাস ব্যাপী সংঘটিত পুরো ঘটনাটি নীবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছিল আমার সে সময়ে। ইসলামী ব্যাংকের ছোট-বড় কর্মকর্তা যাকেই পাওয়া যেত প্রধান কার্যালয়ে, তারই একটা ছোটখাট ইন্টারভিউ নেয়ার হিড়িক পড়ে যেত তখন। ব্যাংকের তৎকালীন এমডি (এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট) এর সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য আমরা বাইরে অপেক্ষমান ছিলাম। আমার অভিজ্ঞ সাংবাদিক বন্ধুটি এক ফাঁকে আমাকে জিজ্ঞেস করেই ফেললেন, শাহরিয়ার ভাই, মানিলন্ডারিং বিষয়টা আসলে কি? একবার ভাবুনতো পাঠক, যে মানিলন্ডারিং নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পিন্ডি চটকানো হচ্ছে কয়েকদিন ধরে, সে বিষয়ে যিনি ইন্টারভিউ নিতে এসেছেন তিনি আদৌ জানেন না মানিলন্ডারিং বিষয়টা কি। এমন সাংবাদিক বন্ধুদের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ২০০৬ সালে ইসলামী ব্যাংক প্রভূত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, তখন প্রথমআলো পত্রিকাসহ বেশ কিছু পত্রিকা ইসলামী ব্যাংককে জঙ্গী অর্থায়নকারী হিসেবে সাব্যস্ত করায় আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছিল। অভিযোগগুলো এতটাই হাস্যকর ছিল যে সাধারণ যে কোন ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ অভিযোগটি উড়িয়ে দেয়া সম্ভব হতো, তবে ইসলামী ব্যাংক প্রশ্নে মিডিয়ার কাছে অসহায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে সতর্ক করতে বাধ্য হয়েছিল, এবং কেবলমাত্র মিডিয়ার অপপ্রচারে বাধ্য হয়ে ইসলামী ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাররিচ্যুত করা হয়েছিল। অথচ একই সময়ে মানিলন্ডারিং বিষয়ে বাংলাদেশে কয়েকটি বিদেশী ব্যাংক এবং দেশীয় কয়েকটি ব্যাংক এরচেয়ে বড় ধরনের অভিযোগে নামমাত্র জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে গেছে, ইসলামী ব্যাংকের সেক্ষেত্রে কোন জরিমানার প্রশ্নই ছিল না। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ইসলামী ব্যাংক সে সময়ে মিডিয়ার কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছিল, নিরীহ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অহেতুক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। প্রথমআলোর এক সাংবাদিক বন্ধু আক্ষেপ করে আমাকে বলেছিল, “ইসলামী ব্যাংক যদি প্রথমআলোর চায়ের দাওয়াতে রাজী হতো, তবে কোটি কোটি টাকার খেসারতও দিতে হতো না, বেচারাদের চাকুরীও যেত না”।

কি করেছিল ইসলামী ব্যাংক? সে সময়ে সিলেটের সূর্যদীঘল বাড়ীতে শায়খ আব্দুর রহমান গ্রেফতার হলে ঐ বাড়ীটি থেকে ইসলামী ব্যাংকের একটি চেকবই পাওয়া যায়। এ একাউন্টটি এমন এক সময়ের যখন বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কোথাও জেএমবির কোন অস্তিত্ব ছিল না এবং চেকের মালিক তৎকালীন সময়ে একজন সাধারণ আলেম হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাই একজন আলেম/ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার/রাজনীতিবিদ ভবিষ্যতে কোন এক সময়ে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করবেন এবং সে অভিযোগে এখনই তার একাউন্ট খুলতে বাধা দেয়ার মতো উদ্ভট ব্যাংকিং পৃথিবীর কোথাও চালু নেই, সম্ভবও নয়। ইসলামী ব্যাংকের কাছে মিডিয়ার দাবীটা ছিল ঠিক এমন যে, শায়খ আব্দুর রহমানের একাউন্ট ইসলামী ব্যাংক কেন খুলল? মিডিয়াকে খুশী করতে হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় কমপক্ষে একজন জোতিষী নিয়োগ দিতে হবে যেন তারা মানুষের মুখ দেখেই ভবিষ্যৎ বাতলে দিতে পারেন, যে এই নির্দিষ্ট ব্যাক্তি ভবিষ্যতে অপকর্ম করবেন কি করবেন না। এমনটা করা সম্ভব হলে ব্যাংকগুলোতো বেচেই যেত, বিনিয়োগ দেয়ার সময়ই জানা যেন কে ভবিষ্যতে ঋণখেলাপী হবে, এবং তাকে ব্যাংকের ঋণ দেয়া থেকে বিরত রাখা যেত। বরং জোতিষীতো থাকা উচিত মিডিয়াগুলোতে, থাকলে সাগর-রুনি আগেই ডকুমেন্টারী তৈরী করে রেখে যেতে পারতো কে কে তাদের হত্যাকরবে, আর কে কে মামলার তদন্তে বাধা দেবে।

ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে তখনকার সময়ে শিরোনাম করেছিল পত্রিকাগুলো যার একটি শিরোনাম, “নেতৃত্বে জেএমবি, টাকা আসে ইসলামী ব্যাংক থেকে”। অত্যন্ত হাস্যকর ছিল বিষয়টি, ইসলামী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা থেকে ৮টি টিটির মাধ্যমে একটি একাউন্টে ৪ লাখের মতো টাকা ট্রান্সফার হয়েছিল। মিডিয়ার অভিযোগ ঐ টাকা দিয়ে জেএমবি নাশকতামূলক কাজ চালিয়েছে। যারা ব্যাংকে নিয়মিত লেনদেন করেন তারা বুঝতে পারছেন বিষয়টি কতটা হাস্যকর ছিল, কেননা ৮টি টিটি মিলে ৫ লাখেরও কম, অথচ ব্যাংকগুলোকে ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট (সিটিআর) করতে হয় ৮ লাখ টাকার উপর লেনদেনের ক্ষেত্রে, এবং যদি কোন লেনদেনে সন্দেহ হয় যে লেনদেনটি অনৈকিত কোন কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে সন্দেহ হলে এসটিআর  করতে হয়। এখন চিন্তা করে দেখুন, ৮টি টিটি  মিলেও যেখানে ৫ লাখ টাকা হয় না সেখানে প্রতিটি টিটিকে যদি সন্দেহ করা হয় তাহলে আদৌ কি ব্যাংকিং করা সম্ভব? ছোট ছোট লেনদেনও সন্দেহযুক্ত হতে পারে, সেক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের অত্যন্ত চৌকষ হতে হয়, কিন্তু সে চৌকসেরও তো একটা মাত্রা আছে। তাই ইচ্ছে করলেই সন্দেজনক লেনদেন সনাক্ত করা সম্ভব হয় না, বরং এটি সম্ভব হতে পারে ট্রেনিং পিরিয়ডে কিংবা নীরিক্ষাকালীন সময়ে। প্রতিটি লেনদেন ঘন্টাখানেক সময় ব্যয় করে আতশীকাঁচ দিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তবেই সম্ভব সন্দেহজনক লেনদেন সনাক্তকরা। সন্দেহজন লেনদেনের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অর্থের পরিমাণ, একজন সাধারণ লোক যখন বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করে তবে সন্দেহ জাগে, কিন্তু একজন লোক হাজার পঞ্চাশেক টাকা ট্রান্সফার করলেই যদি তাকে সন্দেহভাজন মনে হয় তবে ব্যাংকিং বাদ দিয়ে ব্যাংকগুলোকে শার্লক হোমসের ব্যবসায় নেমে পড়তে হয়। কিন্তু ৮টি টিটির মাধ্যমে অল্প কিছু টাকা লেনদেনকে পাঠক কিংবা ব্যাংকের গ্রাহকগণ যতটাই হাস্যকর মনে করুন না কেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে মিডিয়ার নিছক ছেলেখেলায় ব্যাংকের কয়েকটি শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত হতে হয়েছিল।

আবার ফিরে আসি মার্কিন সিনেটের রিপোর্ট প্রসঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু-মিত্রের তালিকাই বাংলাদেশের শত্রু-মিত্রের তালিকা হতে পারে না, হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র নীতিতে চোখবুজে বিশ্বাস করলে স্বাধীনতা পেতাম না। বর্তমানেও যুক্তরাষ্ট্রে শত্রুমিত্রদেরকে আমাদেরও শত্রুমিত্র  হিসেবে জ্ঞান করার সুযোগ নেই। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধু, বাংলাদেশ কিন্তু আজো রাষ্ট্রটিকে স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয় নি। ইরানের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য আমেরিকানদের কাছে জঙ্গী অর্থায়ন, বাংলাদেশের তেমনটি মনে করার যুক্তি নেই। আল-রাজী ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে  পঁচা ব্যাংক, বাংলাদেশের তেমনটি ভাবার সুযোগ নেই, বরং বাংলাদেশের ১ নম্বর বন্ধু ব্যাংক আল-রাজি ব্যাংক। এসআইবিএল ব্যাংকটিকে তাদের কুয়েতি শেয়ারহোল্ডারদের কারণে জঙ্গী অর্থায়নকারী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের মতো দারিদ্রপীড়িত দেশে ঐ সকল শেয়ারহোল্ডারদেরকে আমরা দাতা হিসেবেই চিনি। আমেরিকার শত্রুকে শত্রু ভেবে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই তার সকল বন্ধুদেরকে, দাতাদেরকে হারাতে চাইবে না।

মার্কিন সিনেটের মতে সৌদি আরবের বিখ্যাত আল-রাজি ব্যাংক জঙ্গী অর্থায়নের সাথে সম্পৃক্ত, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু যারা মধ্যপ্রাচ্যের সাথে ব্যবসা করেন, বিশেষ করে যে সকল দেশের শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত তারা সকলেই জানেন মধ্যপ্রাচ্যে লেনদেনের ক্ষেত্রে আল-রাজি ব্যাংককে অস্বীকার করে কোন কিছু করা প্রায় অসম্ভব। আর শ্রমবাজার থেকে বাংলাদেশে যত বৈদেশিক মুদ্রা আহরিত হয় তার সবচেয়ে বড় অংশটি আসে সৌদি আরব থেকে। শুধু তাই নয়, সৌদি আরব থেকে যত টাকা বাংলাদেশে আসে তার প্রায় অর্ধেক টাকা শুধুমাত্র আলরাজী ব্যাংকের মাধ্যমেই আসে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের পক্ষে কিংবা বাংলাদেশের সরকারের পক্ষে আদৌ কি সম্ভব আল-রাজি ব্যাংকের সাথে লেনদেন নিষিদ্ধ করা? ঠিক তেমনিভাবে এক্সপোর্ট, ইমপোর্ট, রেমিট্যান্স আহরণ, এমনকি আমানত ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ১ নম্বর ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।  আল-রাজী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের স্পন্সর বা শেয়ারহোল্ডার নয় এবং ব্যাংকটির সাথে ইসলামী ব্যাংককে জড়িয়ে রিপোটিংও হাস্যকর। বরং আবদুল্লাহ আবদুল আজিজ আল রাজী ও ইউসিফ আবদুল্লাহ আল রাজী এবং আল রাজী কোম্পানী ফর ইন্ডাষ্ট্রি এন্ড ট্রেড ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার। মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবসার ক্ষেত্রে যেমন আল-রাজী ব্যাংককে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, ঠিক তেমনি বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে বাদ দিয়ে কোন কিছু চিন্তা করারও সুযোগ নেই, এ দুটো ক্ষেত্রেই কেবল ব্যাংকদুটোর মাঝে দারুন মিল রয়েছে। দেশের সেরা ব্যাংক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংককেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় আন্তর্জাতিক শীর্ষ ব্যাংক এইচএসবিসি, সিটি ব্যাংক এনএ, আল-রাজি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো। শুধু তাই নয়, আমার জানা মতে বাংলাদেশে আভ্যন্তরীণ  লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় এইচএসবিসির কালেকশন একাউন্ট পরিচালিত হয় অর্থাৎ বলতে গেলে বাংলাদেশে এইচএসবিসি আভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমেই সুসম্পন্ন করে। ঠিক তেমনি স্টান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটি ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো দেশীয় লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের শাখাগুলোয় কালেকশন একাউন্ট পরিচালনা করে। কারণ, ব্যাংকিংএ সেবা, আন্তরিকতা, সততায় বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকই সেরা। আর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ একবাক্যে স্বীকার করে, “ইসলামী ব্যাংক, আমার ব্যাংক”।

নাইজেরিয়ায় প্রস্তাবিত জায়েজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জনশক্তিসহ যাবতীয় সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংকের চুক্তি

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“যত দোষ নন্দ ঘোষ : পাপ করে হংকং-সাংহাই, সাজা পায় ইসলামী ব্যাংক” লেখাটিতে 4 টি মন্তব্য

  1. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ইসলামী ব্যাংকের প্রতিবাদ

    অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দৈনিক নয়াদিগন্ত

    এইচএসবিসি’র সাথে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে জড়িয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ও পত্র-পত্রিকায় ১৭ ও ১৮ জুলাই পরিবেশিত সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ নয় এবং বিভ্রান্তিকর বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে ইসলামী ব্যাংক বলেছে, এইচএসবিসির মাধ্যমে মেক্সিকোর মাদক ব্যবসার অবৈধ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বাজারে প্রবেশের ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত মার্কিন সিনিটের একটি উপ-কমিটি যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে তাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্পর্কে জঙ্গী অর্থায়ন বা অবৈধ লেনদেন নিয়ে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তাছাড়া এইচএসবিসিসহ বিভিন্ন করসপনডেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের কোনো লেনদেন কখনোই কেউ সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেনি।
    ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের স্পন্সর হিসেবে আল-রাজী ব্যাংককে উল্লেখ করে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তাও সঠিক নয়। আল-রাজী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের স্পন্সর বা শেয়ারহোল্ডার নয়। সৌদি আরবের আল রাজী কোম্পানী ফর ইন্ডাষ্ট্রি এন্ড ট্রেড, এ্যারাবসাস ট্রাভেল এন্ড টুরিস্ট এজেন্সি এবং আবদুল্লাহ আবদুল আজিজ আল রাজী ও ইউসিফ আবদুল্লাহ আল রাজী নামে প্রতিষ্ঠান ও বক্তিবর্গ ইসলামী ব্যাংকের ২৭.৫১শতাংশ শেয়ারের অংশীদার। ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসিফ আবদুল্লাহ আল রাজীও আল রাজী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার নন। তারা কখনোই ইসলামী ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার করেন না। পরিচালনা পরিষদের যাবতীয় সিদ্ধান্ত পরিচালকদের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত আল রাজীসহ কোনো পরিচালকই ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করতে পারেন না।
    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ১৯৮৩ সালে ৭০ শতাংশ বিদেশী উদ্যোক্তা যেমন ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), আলরাজী কোম্পানী ফর কারেন্সী এক্সচেঞ্জ এন্ড কমার্স, কুয়েত আওকাফ পাবলিক ফাউন্ডেশন, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক, জর্দান ইসলামিক ব্যাংক, কাতারের ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট এন্ড এক্সচেঞ্জ কর্পোরেশন, ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং এস.এ. লুক্সেমবার্গ, দুবাই ইসলামিক ব্যাংক, কুয়েতের দ্যা পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর স্যোসাল সিকিউরিটি, মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস, ডিপার্টমেন্ট অব মাইনর এ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং ৫ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী ও তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে।
    ইসলামী ব্যাংক জঙ্গী অর্থায়ন করেছে বলে কোন কোন পত্রিকায় যে কথা বলা হয়েছে তাও সঠিক নয় বলে ব্যাংকের প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রেগুলেটর নিয়মিত আমাদের কার্যক্রম তদারকি করে অদ্যাবধি এ ধরনের কোনো অভিযোগের প্রমাণ পায়নি। জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের নামে ইসলামী ব্যাংকে কখনোই কোনো একাউন্ট ছিল না। ইসলামী ব্যাংকে জঙ্গী অর্থায়নের জন্য জরিমানা করা হয়েছিল বলে যে তথ্য পরিবেশিত হয়েছে তা সঠিক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট প্রেরণে বিলম্ব ঘটায় ২০০৬ সালে কয়েকটি ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংককেও জরিমানা করা হয়। যা একটি মীমাংসিত বিষয়।
    ইসলামী ব্যাংক বলছে, এই ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কখনোই জঙ্গী অর্থায়ন করেনি এবং বিষয়টি অবান্তর। এ ব্যাংক জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। জঙ্গী অর্থায়নের মতো ইসলাম পরিপন্থী, দেশের স্বার্থবিরোধী, ঘৃণ্য, অমানবিক, অনৈতিক ও নাশকতামূলক কোন কাজে ইসলামী ব্যাংকের মতো পরিপালনকারী জনকল্যাণধর্মী আইনানুগ বাণিজ্যিক ব্যাংকের জড়িত থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। ইসলামী ব্যাংকের বুকস অব একাউন্স এবং বার্ষিক প্রতিবেদন সবার জন্য উন্মুক্ত ও সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রেগুলেটরী অথরিটি নিয়মিতভাবেই অন্যান্য ব্যাংকের মতো এ ব্যাংকে অডিট সম্পন্ন করে। ইসলামী ব্যাংক তার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাফল্যের জন্য ইতোমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকপর্যায়ে বিভিন্নভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
    এ ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত ব্যাংক। আইডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে এ ব্যাংক শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক খ্যতিমান ফাইন্যান্সিয়াল ম্যাগাজিন ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্স’ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডকে বাংলাদেশের সেরা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৬ বার পুরস্কৃত করেছে। এছাড়া এ ব্যাংক কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ডিসকোজার এওয়ার্ড ২০১০-এর যৌথ বিজয়ী হিসেবে সাফা এওয়ার্ড পেয়েছে। এছাড়া সাফা ২০১০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের জন্য সার্টিফেকেট অব এপ্রিসিয়েশনও প্রদান করেছে।
    প্রতিবাদলিপিতে ব্যাংক বলেছে, ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি সর্ববৃহৎ ব্যাংকের সম্পর্কে সঠিক অবস্থান যাচাই না করে করে খবর প্রকাশ বিস্ময়কর ও দুঃখজনক। তাই এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রদানে বিরত থাকার জন্য আমরা সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
    http://www.dailynayadiganta.com/details/58789

    [উত্তর দিন]

  2. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর প্রতিক্রিয়া:
    ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন আমরা দেখেছি। এখানে ইসলামী ব্যাংক জঙ্গি অর্থায়ন করে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। প্রতিবেদনে আল রাজি গ্রুপের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের সম্পর্ক খারাপভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের আল রাজি গ্রুপকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসির অনুমোদনসাপেক্ষেই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দেওয়া হয়েছিল।

    সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক এর প্রতিক্রিয়া:
    সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, মানি লন্ডারিং বা কোনো রকম অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে আমরা জড়িত নই। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন-কানুন মেনেই আমরা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
    http://www.samakal.com.bd/print_news.php?news_id=277960&pub_no=1116

    [উত্তর দিন]

  3. শাহরিয়ার বলেছেন:

    বাংলাদেশে এইচএসবিসি ব্যাংকের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক
    http://www.dw.de/dw/article/0,,16105590,00.html

    [উত্তর দিন]

  4. amikeuna বলেছেন:

    see eprothom-alo: http://eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2012-07-18

    but see in which page the curtailed version of the news appears in the website: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-07-17/news/274521

    see the US senate press release on the report: http://www.hsgac.senate.gov/subcommittees/investigations/media/hsbc-exposed-us-finacial-system-to-money-laundering-drug-terrorist-financing-risks

    BBC: http://www.bbc.co.uk/news/business-18866018

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন