জামাত-শিবির নিধনঃ পূর্ব পরিকল্পনারই ফসল

শিবির ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের আগুনে ঘি ঢেলে উস্কে দিয়েছে। গডমাদারের আশীর্বাদে দেশব্যাপী চলছে রক্তের হোলি খেলা। কে আপন-কে পর, কে ভালো কে মন্দ, তা বিচারের সুযোগ কোথা, গডমাদারের অনুপ্রেরণায় উন্মত্ত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই পায় না সাংবাদিক, শিক্ষক কেউ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় সহকারী প্রক্টর ও ৯ সাংবাদিক আহত হলেও ছাত্রলীগের গুনকীর্তনে মশগুল মিডিয়া। কলমের যাদুতে শিবিরের কর্মীর লাশ পরিচিতি পায় ছাত্রলীগ নেতায়। সাবাস! মিডিয়া, সাবাস! হলুদ সাংবাদিকতা

শিবির উৎখাতে টুকুর ‘নির্দেশ’ পালনে দেশ ব্যাপী শুরু হয়েছে চিরুনী অভিযান, আওয়ামী পুলিশ ও ছাত্রলীগের ত্রাসে কাঁপছে দেশ, চাপাইয়ে গুলিতে ও চট্টগ্রামে কুপিয়ে শিবির কর্মী হত্যা করেছে ওরা। লাশের রাজনীতিতে একের পর এক ঝরে যায় নিরীহ মেধাবী সন্তান, তবু ওদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে টুশব্দটি করারও কেউ নেই।

অথচ জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ কোন রাজনৈতিক দল নয়। জামায়াত নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল, সংসদে যাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, জনতার সমর্থন রয়েছে যাদের রাজনীতিতে। ছাত্রশিবির উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন ছাত্র সংগঠন নয়, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই রয়েছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম, অধিকাংশ বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আছে তাদের অকুন্ঠ সমর্থন। আদর্শিক মোকাবেলায় ছাত্রলীগ ব্যর্থ বলেই ওদের মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস লেলিয়ে দেয় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কাপুরুষতায় লজ্জা পায় দেশ, শুধু নেংটোরই লাজশরমের বালাই নেই, ছিঃ আওয়ামী নগ্নরাজনীতি।

শিবির নিধন কি বিচ্ছিন্ন কোন ব্যাপার? হঠাৎ করে রাজশাহীতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুতেই কি এর সূত্রপাত? মোটেই নয়, সুপরিকল্পিত অপারেশনের বাস্তবায়ন এটি, অনেক দিন থেকেই আওয়ামী লীগ এমন একটি দিনের অপেক্ষায় ছিল, শুধু প্রয়োজন ছিল লাশের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকই পড়েছিল ছাত্রের লাশ, যদিও তা বুমেরাং হয়ে যায়, কিন্তু সুচতুর আওয়ামী লীগের সুযোগ পেতে মোটেই বেগ পেতে হয়নি, রাতের আধারে পুলিশের নাকের ডগায় নিহত হয় ছাত্রলীগ কর্মী, লাশ টেনে টেনে ফেলা হয় ম্যানহোলে। আসলেই কি শিবিরের আঘাতে প্রাণ দিয়েছিল ফারুক, নাকি আওয়ামী লাশের রাজনীতিতে ফারুকের লাশের জোগান দিয়েছিল আওয়ামী পুলিশ ? পুলিশের সামনে দিয়ে লাশ টেনে টেনে ম্যানহোলে ফেলা সহজ, নাকি পুলিশেরই কাজ এটি, ভেবে দেখা উচিত। রগকাটা রাজনীতির যে দূর্ণাম রয়েছে ছাত্রশিবিরের, তাতে আর যাই হোক রগ কেটে দূর্ণামে বোঝা ভারী করার মতো নির্বোধ শিবির নয়, নাকি শিবিরের রগকাটা দূর্ণাম সত্যে পরিণত করতেই ফারুকের লাশ ক্ষতবিক্ষত করেছে আওয়ামী পুলিশ?

বারে বারে কেন শিবিরের উপর রাষ্ট্রীয় নগ্ন হামলা। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলেও ছাত্রশিবির নিধনযজ্ঞে মেতে উঠেছিল ছাত্রলীগ-পুলিশলীগ কাধে কাধ মিলে, এবার নেমেছে ওরা পরিকল্পিত ভাবে। উদ্দেশ্য কি যুদ্ধাপরাধের বিচার? মোটেই নয়, বরং যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে চাইলে প্রায় শতভাগ জনসমর্থনপুষ্ট আওয়াম লীগ কেন সেদিন যুদ্ধাপরাধের ফায়সালা করে নি? আসলে যুদ্ধাপরাধ বাহানা মাত্র, উদ্দেশ্য জামায়াত-শিবির নামে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়া। রাজনীতির অপসংস্কৃতির মাঝে জামায়াতই কেবল আদর্শিক রাজনীতির ধারক। গনগন্ত্র গনতন্ত্র নামে যারা গলা ফাটায়, যুগের পর যুগ বাবার নাম ভাঙ্গিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক পন্থায় ধরে রেখে গনতন্ত্রের শ্রাদ্ধ করে চলেছে আওয়ামী লীগ। অথচ জামাত-শিবিরে শতভাগ গনতান্ত্রিক পন্থায় চলে নির্বাচন, হয় ক্ষমতার হাত বদল। এমন সুশৃংখল আন্দোলনকে আদর্শিক ভাবে মোকাবেলা করা যায় না, ভালো করেই জানে শেখ হাসিনা। তাইতো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ছোবলে বার বার আক্রান্ত হয় জামাত-শিবির।

আওয়ামী লীগের বাকশালী রাজনীতির পক্ষে প্রধান বাধা জামাত-শিবির। বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও মাঠে ময়দানে তাদের গা বাঁচানো তৎপরতা সম্পর্কে আওয়ামী লীগ খুব ভালো খবরই রাখে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ রাজপথ কাঁপাতে পারে কেবল জামাত-শিবির। তাই বিএনপিকে কোনঠাসা করে রাখতে জামাত-শিবির নিধনের কোন বিকল্প খুঁজে পায় না আওয়ামী লীগ। বিএনপি এককভাবে ক্ষমতার স্বাদ পায় না ইদানিং, ক্ষমতার মসনদে যেতে তাদের জামাত-শিবিরে সাহায্য ছাড়া চলে না মোটেই। অথচ বিএনপি জেনেও না জানার ভান করে, সুযোগ পেলে ওরাও শিবির খেদাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অথচ ওরা বুঝে না, “ডিভাইড এন্ড রুল” সূত্র ধরেই এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিরোধীদলশূন্য বাকশালী দেশ গড়তে জামাত-শিবির নিধনে যুদ্ধাপরাধী ইস্যু তুলে লম্ফঝম্প করছে ওরা, এতটুকু সত্য উপলব্ধি করার মতো যোগ্যতাও বিএনপির মোটামাথার রাজনীতিবিদদের যে নেই তা আওয়ামী লীগ জানে। তাই নির্বিচারে চলতে জামাত-শিবির নিধন।

আসলে আওয়ামী লীগ একটি অযুহাত খুঁজছিল, রক্তের নেশায় হাত নিশপিশ করছে ওদের বহুদিন থেকেই। অযুহাত খুঁজছে জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার। একে একে খেদিয়ে খেদিয়ে জামাত-শিবিরকে তাই কোনঠাসা করে চলেছে ওরা। ওরা জানে ধৈর্যেরও সীমা আছে, অস্তিত্ব রক্ষার্থে জামাত-শিবির প্রতিরোধ গড়ে তুলুক এমনটাই চায় ওরা। আর তখনই জঙ্গি জঙ্গি রবে মিডিয়া কানের পর্দা ফাটাবে, তথাকথিত বিশ্ব বিবেক অনুমোদন দেবে জামাত-শিবিরকে চীরতরে নিশ্চিহ্ন করার, এমনই একটি সুযোগের অপেক্ষায় ওরা। কিন্তু ভুলে গেছে ওরা, আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের মোটেই সহ্য করেন না। ওরা সীমাকে অতিক্রম করেছে, সময় হলো বুঝি আল্লাহর গজবের, সময় হল বুঝি সীমালংঘনকারীদের ভয়ংকর পরিণতির দিকে তাকানোর।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“জামাত-শিবির নিধনঃ পূর্ব পরিকল্পনারই ফসল” লেখাটিতে 5 টি মন্তব্য

  1. noyon বলেছেন:

    Comment censored

    [উত্তর দিন]

  2. দামাল ছেলে বলেছেন:

    নেংটোকে দেখে লজ্জা লাগে? রাজাকার নিজামী যে ম্যাডাম খালেদার আচল ধরে ঘুরে বেরায় তা দেখ না?

    যদিও আমি লীগ বা কোনটাই করি না, যা বুঝি তা হল , সব একই গোয়ালের গরু।

    [উত্তর দিন]

  3. নিলয় বলেছেন:

    Comment censored

    [উত্তর দিন]

  4. Robi Bormon বলেছেন:

    bangladeshe oporajnitir jonmodata awmi lig er pokhhe nijeder chhatrolig orofe kuttalig ke samlano somvob na jenei ei opokorme nemese, but shesh rokhha hobe na,
    utta ligke mugurer jobab dibe sadharon santiprio manush

    [উত্তর দিন]

  5. helal বলেছেন:

    Allah must be help us and Allah must get a new light about our movement.

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন