ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০২

প্রশ্ন হতে পারে, বিশ্বে এত নামীদামী অর্থব্যবস্থা থাকার পরও ইসলামী অর্থনীতি নামে আরেকটি অর্থব্যবস্থার আদৌ কি প্রয়োজন আছে? কিংবা দেড় হাজার বছর আগের অর্থব্যবস্থা বর্তমান সময়ে কি আদৌ কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে? এ প্রশ্নের জবাবে আমি বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের জটিল জটিল ফর্মুলার দারস্ত হতে রাজি নই। সূত্র দিয়ে গণিতের মতো বিষয়ে একটা উপসংহারে পৌঁছা যায়, অর্থনীতিতে সমীকরণই শেষ কথা নয়, হতে পারে না কিছুতেই। কারণ আগেই বলেছি, মানুষ যতটা যুক্তিবাদী ঠিক ততটাই যুক্তিবিবর্জিত আবেগী প্রাণী। তাই যে প্রাণীর জন্য অর্থনীতি সে প্রাণীর চরিত্রের সাথে মানানসই অর্থনীতিই প্রযোজ্য, যুক্তিভিত্তিক বা সমীকরণ সর্বস্ব অর্থনীতি তার কল্যাণে আসতে পারে না। (এ লেখায় সযতনে কঠিন কঠিন থিউরী গুলো এড়িয়ে যাব, যেহেতু ওগুলো আমারও বোধের অগম্য)

কেন পারেনা সে প্রশ্নের জবাব না খুঁজে বরং ইতিহাসের পাতায় পাতায় চোঁখ বুলালে এর উত্তর দেখতে পাই। দেখতে পাই, প্রচলিত সব অর্থনীতিই কখনো কখনো হয়তো চমক দেখিয়েছে কিন্তু সাফল্য দেখাতে পারে নি। সবখানেই শুভংকরের ফাঁকি রয়ে গেছে। প্রচলিত অর্থব্যবস্থাগুলো মানুষের বিশেষ একটা গোষ্ঠী বা অংশের উন্নয়ন ঘটিয়েছে, এবং একই সাথে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে পথে বসিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা নামের অর্থনীতির গালভরা থিউরী অর্থনীতির ব্যর্থতা ঢাকার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, বলা হয়ে থাকে প্রতি আট-দশ বছরে একটি অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

প্রচলিত অর্থনীতির সাফল্য এই যে অর্থনীতির ব্যর্থতা সবক্ষেত্রে সমানভাবে চোখে পড়ে না। হয়তো আমেরিকায় অর্থনীতির মন্দা হলো, এর প্রভাব কাটিয়ে উঠল উন্নয়নশীল কোন দেশের দূর্ভিক্ষ দিয়ে, কিংবা ব্যাপক রাজনৈতিক যোগলযোগের মাধ্যমে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির সুবিধা নিয়ে অন্য দেশের অর্থনীতি মেরুদন্ড সোজা করে দাড়িয়ে যায়। ফলে প্রচলিত অর্থনীতির কুফল সরাসরি চোখে পরার মতো নয়। অর্থনৈতিক মন্দার মতো দূর্ভিক্ষ ও চরমদারিদ্র্যাবস্থা প্রচলিত অর্থনীতি গুলোর অতি স্বাভাবিক বিষয়।

তাই জিডিপিকে গুরুত্ব না দিয়ে অর্থনীতিকে যদি পরিমাপ করা হয় দারিদ্রমুক্তি দিয়ে, তবে এ সকল অর্থব্যবস্থা কিছুতেই কল্যাণকর অর্থব্যবস্থা রূপে চিহ্নিত হতে পারে না। বিশেষ করে যখন দারিদ্র্যের হার দূনিয়াব্যাপী গড়ে বেড়েই চলেছে, তখন কিছুতেই এ সকল অর্থনীতিকে সুস্থ্য অর্থনীতি বলা যায় না। এমন একটি প্রচলিত অর্থনৈতিক মতবাদ পাওয়া যায় না যা দূনিয়াকে সামান্য সময়ের জন্যও দারিদ্রমুক্ত করেছে বলে দাবী করেছে। তাহলে এইসকল প্রচলিত মতবাদের বাইরে এমন একটি অর্থনীতির খৌঁজ অবশ্যই করা উচিত যা কোন এক সময় দারিদ্রমুক্ত সমাজ উপহার দিতে সক্ষম হয়েছিল, হোক না তা হাজার বছর কিংবা লক্ষ বছর আগের মতবাদ।

ইসলামই প্রচলিত অর্থব্যবস্থার সর্বোত্তম বিকল্প হতে পারে, অর্থনীতির ধ্বংসস্তুপ থেকে একটি ক্ষুধামুক্ত সমদ্ধ সমাজ বের করে আনতে পারে। কারন, ইসলাম এমন একটি অর্থনৈতিক মতবাদ মানব জাতিকে উপহার দিয়েছে যা সামান্য সময়ের জন্য হলেও দারিদ্র্যকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল, যেদিন অর্ধ-দূনিয়াব্যাপী ইসলামী সাম্রাজ্যে অনাহারে একটি কুকুরও মরার সুযোগ ছিল না।

তাই আমাদের ভেবে দেখা উচিত এমন অর্থনীতির বোঝা বয়ে বয়ে মরাই কি ভালো যা কেবল মুষ্টিমেয় লোককে অর্থের পাহাড়ের উপর তুলে দেয়, আর তাদের প্রার্চুয়ের স্তুপের নীচে চাঁপা পড়ে অনাহারে অর্ধাহারে মৃত্যুকে বরণ করে নেয় সমাজের শ্রমজীবি, কৃষিজীবী বৃহৎগোষ্ঠী। হ্যা, অবশ্যই আমাদের ভেবে দেখা উচিত কিসের অভাবে হাজারো বছর ধরে আধুনিক মতবাদগুলো মানুষকে দারিদ্র্যের অন্ধগুহা থেকে টেনে তুলতে গিয়ে নিজেরাই অন্ধকারে অন্ধের মতো হাতড়ে মরে, আর ইসলামী অর্থনীতিতে এমন কি যাদু ছিল যা দারিদ্র্যে অন্ধকুপের মুখ বন্ধ করে সমাজকে ক্ষুধামুক্ত করে।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০২” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    লেখগুলো বুকমার্ক করে রাখলাম।

    [উত্তর দিন]

  2. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ধন্যবাদ, অনুপ্রাণিত হলাম।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন