ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০১

আদিতে মানুষের জীবন-পদ্ধতি কেমন ছিল? অনুমান করা যেতে পারে যে আদিতে মানুষের জীবন ছিল সহজ-সরল এবং বৈচিত্রহীন। সহজ সরল এ অর্থে যে মানুষের কাজকর্ম ফলমূল সংগ্রহ, আত্মরক্ষা ইত্যাদি ছঁকে বাঁধা কিছু গন্ডির মাঝেই সীমাবন্ধ ছিল। কিন্তু সব মানুষের কাজের ক্ষমতা সমান নয়, সবার চিন্তাশক্তি, ইচ্ছে-আকাংখা, ভালোলাগা-ভালোবাসা এক রকম নয়। প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে সকল কাজে কিছুটা ভিন্নতা। তাই সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবন হয়েছে বৈচিত্রময়, হয়েছে জটিল থেকে জটিলতর।

সময়ের আবর্তনে মানুষ ক্রমশ একে অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে শুরু করে, বিশেষ করে নিজের সকল প্রয়োজন আদি মানব সম্প্রদায় সহজে মেটাতে পারতো কিন্তু মানুষের প্রয়োজনের পরিধির ব্যাপক পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা মানুষকে ক্রমশ অসহায় করে ফেলে। আর বর্তমান সময়ে অন্যের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের এক মূহুর্তও কল্পনা করা যায় না। আমাদের সকল প্রয়োজনীয় উপকরণের যোগান দিচ্ছে অন্য কেউ, বিনিময়ে আমরাও কোন না কোন প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলে দিচ্ছি অন্যদের হাতে।

প্রাচীন কাল থেকে এই সামাজিক মানব সম্প্রদায়ের জন্য সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্ষুধাকে নিবৃত করা তথা দারিদ্র্যমুক্ত থাকা। শুরুতে দারিদ্র্যের আকার এমন প্রকট হয়তো ছিলনা যেহেতু শারীরিকভাবে অক্ষম ও শিশু ছাড়া অন্য সবাই নিজের খাদ্য নিজেই সংগ্রহ করতে পারতো। কিন্তু আজ আমরা যতটাই শক্তিশালী হইনা কেন অন্যের সহযোগিতা ছাড়া এক বেলার আহারও সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।

জীবন মানেই বিনিময়। পন্যের বিনিময়, শ্রম ও শক্তির বিনিময়, সেবার বিনিময়, মেধা ও তথ্যের বিনিময়, ভাবের বিনিময়, তথা বিনিময়ই জীবন ধারণের প্রধান অবলম্বন। সকল বিনিময়েরই মূল্য আছে, মূল্যহীন কিছুই নয় পৃথিবীতে। আর এ বিনিময়কে সহজ করে তুলতে প্রচলন হয়েছে অর্থের, সৃষ্টি হয়েছে অর্থনীতি ও ব্যাংকিং নামের জ্ঞানের অপরিহার্য শাখার, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ব্যাংক, বীমা, পূঁজিবাজার ইত্যাদি ইত্যাদি। সব কিছুরই একই উদ্দেশ্য, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা।

পরিচিত জীব সম্প্রদায়ের মাঝে মানুষই সবচেয়ে বেশী বুদ্ধিমান প্রাণী, তাই সে সকল কাজেই যুক্তি খোঁজে। মানুষের মাঝে এর ঠিক উল্টো একটি স্রোতও বহমান, মানুষের রয়েছে সীমাহীন আবেগ-অনুভূতি, যাকে ভালোবাসা বলা যায়, যাকে যুক্তির মানদন্ডে কিছুতেই বিচার করা যায় না। তাই তাকে যুক্তি শেখায় স্বার্থপরতা, ভালোবাসা শেখায় নির্ভরতা। ভালোবাসার কারণেই একটি শিশু কোন বিনিময় ছাড়াই দিনের পর দিন পেয়ে যায় বেঁচে থাকার উপকরণ, শারীরিক বিকলাঙ্গ ব্যক্তিটিও পেয়ে যায় কারো না কারো ভালোবাসায় বেঁচে থাকার অবলম্বন।

ইসলাম এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতির স্বপ্ন দেখায় যে মোহনায় যুক্তি-বুদ্ধি আর বিবেক-ভালোবাসার আপাত বিপরীত দুটো স্রোতের মিলন ঘটায়, সামগ্রিক কল্যাণের মাধ্যমে ব্যক্তির সর্বোচ্চ অর্জনে অনুমোদন দেয়, যেখানে মুনাফার স্ফীতি নয় বরং আর্থিক কল্যাণের সম্প্রসারণই মূখ্য বিষয়।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ০১” লেখাটিতে 3 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    পড়লাম
    ধন্যবাদ।

    [উত্তর দিন]

  2. শাহরিয়ার বলেছেন:

    পড়ছেন জেনে আনন্দিত। ধন্যবাদ।

    [উত্তর দিন]

  3. Kona বলেছেন:

    ইসলামী অর্থনীতি ও ইসলামী ব্যাংকিং এর উপর কিছু বই-এর তালিকা দিতে পারবেন ? খুব দরকার আমার । লেখকের নাম সহ । kona_bristi@yahoo.com এই ঠিকানায় ।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন