আরবী ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হোক

বাংলাদেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক আরবী ভাষা বুঝতে পারেন, অনেকেই অনর্গল কথা বলতে পারেন, অন্তত আরবী পরিবেশে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো আরবী শিক্ষিত লোকের সংখ্যা অনেক। আমার চেনা জানা বন্ধুদের মাঝে অনেকেই আরবী এবং ইংরেজী দু’টো বিদেশী ভাষায়ই সমান পারদর্শী। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মাদরাসা শিক্ষার কল্যাণে আরবী ভাষা সম্পর্কে মানুষের ধারণা যেমন বেড়েছে তেমনি তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তারপরও আরবী ভাষা বাংলাদেশে অবহেলিত, আরবী শিক্ষিত লোকদের অবস্থার আরো করুণ। যদিও এ দেশের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং আরবী ভাষায় তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন অবতীর্ণ তাই এ ভাষার প্রতি মানুষের রয়েছে সীমানীন শ্রদ্ধা ও আগ্রহ। তারপরও নিছক সিদ্ধান্তের অভাবে অথবা আরবী ভাষার গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েই হয়তো আমরা আরবী ভাষাকে অবহেলা করছি, অবজ্ঞা করছি।

বিশ্বের আটাশ কোটি লোক মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহার করেন এবং আরো পঁচিশ কোটি লোক দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে আরবীকে ব্যবহার করছেন। জনসংখ্যার দিক থেকে ইংরেজী এবং ফ্রেঞ্চ ভাষার পরেই আরবী ভাষার অবস্থান। তবে জনসংখ্যার তুলনাভিত্তিক আরবী ভাষার গুরুত্ব বিবেচনা না করে বরং দেশ ভিত্তিক আরবীর অবস্থান বিচার করাই যুক্তিযুক্ত, যেহেতু জনসংখ্যার তুলনায় দেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের পঁচিশটি দেশের দাপ্তরিক ভাষা আরবী, এমনকি জাতিসংঘের ছয়টি দাপ্তরিক ভাষার অন্যতম এই আরবী ভাষা। এছাড়া বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম অধ্যুষ্যিত এলাকাগুলোর আরবী ভাষা শিক্ষিত লোক সংখ্যা বিবেচনা করলে এ ভাষার গুরুত্ব সহজেই অনুমান করা যায়।

একজন মুসলমান হিসেবে আরবী ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার দাবী জানানো সংগতকারণেই আমি যৌক্তিক মনে করি তবুও এমন কিছু অনিবার্য কারণ রয়েছে যা কিছুতেই অগ্রাহ্য করা যায় না। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেহেতু বৈদেশিক রেমিটেন্স নির্ভর এবং এ ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণই বেশী। আর বিদেশ থেকে আসা অর্থের ডাটা বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রার অর্ধেকের বেশী আসে আরব দেশসমূহ থেকে, যাদের ভাষা আরবী।

বাংলাদেশী শ্রমবাজার অনেকটা আরব নির্ভর, বরং বলা উচিত অর্ধেকের বেশী রেমিট্যান্স আসে আরব দেশগুলো থেকে। অথচ এ দেশের শ্রমিকরা আরব দেশগুলোতে আরবী ভাষা না জানার কারনে প্রথমেই বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। এ ক্ষেত্রে অনেকেই অন্য দেশের শ্রমিকদের মতো ন্যায্য মজুরী পান না। আরবী ভাষায় এরা যদি পারদর্শী হয়ে বিদেশে যেতে পারে তবে আরো ভালোভাবে সেসব দেশে কাজ করে আরো বেশী অর্থ প্রেরণ করতে সক্ষম হবে বলে বিশ্বাস করি।

এ ছাড়া মুসলিম জাতীয়তাবাদের তুলনায় আরব দেশগুলোতে আরবীয় জাতিয়তাবাদ দিনে দিন জোরদার হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আরবী ভাষাজ্ঞান থাকলে আরব দেশগুলোতে এ দেশের শ্রম বাজার আরো সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মনে হয়।

এ ছাড়া আরব দেশগুলোই আমাদের দূর্যোগ-দূর্ভোগে বন্ধুর মতো কাছে আসে। বিগত সিডর পরবর্তী ত্রাণ হিসেব সবচেয়ে বেশী সাহায্য এসেছিল আরব দেশগুলো থেকে বিশেষ করে সৌদি আরব থেকে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে যদি আমরা তাদের ভাষাকে গুরুত্ব দেই তবে দেশের জন্য মঙ্গলজনকই হবে। বিশেষ করে পঁচিশটি দেশের মাতৃভাষাকে যদি আমরা সম্মান জানাতে পারি তবে তাতে আমাদের কুটনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরণের সাফল্য আসবে বলে মনে হয়।

আমাদের স্কুলগুলোতে আরবী ভাষার চর্চা হয় না। তবুও আরবী ভাষা শেখার প্রতি মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। মক্তবে কিংবা বাসায় হুজুর রেখে আমরা ঠিকই আরবী বর্ণমালা শিখছি, কোরআন পড়া শিখছি। এর পাশাপাশি স্কুল গুলোতে যদি আরবী ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হতো তবে ইংরেজী ভাষা শিক্ষা আমাদের কাছে যতটা কঠিন মনে হয় ততটা কঠিন হতো না।

এ ছাড়া ভাষাবিদরা একমত হবেন যে আরবী ব্যাকরণ অন্যান্য ভাষা থেকে সহজ ও ছন্দবদ্ধ। এর ব্যকরণ এতটাই সমৃদ্ধ যে খুব সহজেই একটি শব্দকে অর্ধশত শব্দে তা তারো বেশী শব্দে পরিণত করা যায় যা অন্যান্য ভাষায় সহজ নয়। এ ছাড়া খুব কম শব্দ দিয়ে অনেক বেশী অর্থ প্রকাশ করা সম্ভব যা অত্যন্ত সাহিত্যসম্মতও বটে। তাই স্কুল কলেজে যদি ইংরেজীর মতো আরবী ভাষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে শেখানো বাধ্যতামূলক করা হয় তবে নিশ্চিত যে ইংরেজী ভাষার অর্ধেক পরিশ্রমে আরবী ভাষাকে শেখানো সম্ভব যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরো তরান্বিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

লেখাটি প্রথমআলোব্লগে প্রকাশের সাথে সাথেই “উস্কানীমূলক লেখা প্রকাশের জন্য”আমাকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

alo

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“আরবী ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হোক” লেখাটিতে 12 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    লেখার শুরুটা এভাবে হলে কেমন হতো?

    “শিরোনাম দেখেই যারা আমার প্রতি মনে মনে রেগে আছেন তাদেরকে বলছি, আগেই রেগে না গিয়ে পুরো লেখাটি পড়ে আপনার একটি মন্তব্য দেবেন আশা করি।”

    [উত্তর দিন]

  2. helal বলেছেন:

    এতো ভালো একটা লিখা PROTHOM-ALO BLOG বাদ দিলো…

    [উত্তর দিন]

  3. aKIl বলেছেন:

    আসলেও লেখাটা খুব যুক্তিনির্ভর। এ ধরনের লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

    [উত্তর দিন]

  4. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ধন্যবাদ আরাফাত ভাই। প্রবাদ আছে, ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষও হয়তো শিরোনাম দেখেই ভয় পেয়েছে। যারা দড়ি দেখে সাপ সাপ বলে চেঁচায় তাদের চেয়ে মানষিক রোগী আর কে হতে পারে।

    [উত্তর দিন]

  5. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ধন্যবাদ হেলাল ভাই, আমি বিস্মিত।

    [উত্তর দিন]

  6. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ধন্যবাদ aKIl, অনুপ্রাণিত হলাম।

    [উত্তর দিন]

  7. monir007 বলেছেন:

    যারা আলোকে সহ্য করতে পারেনা তারাই এর বিরোধিতা করে। তবে হতাশ হবেননা। আলো আসলে তমাসা দুরিভুত হবেই।

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ মনির ভাই।

    [উত্তর দিন]

  8. Hossain Md.Sayedur Rahman Talukder বলেছেন:

    shahriah u are very fine

    [উত্তর দিন]

  9. shahid বলেছেন:

    hi shahriar u r a fine man & i like u

    [উত্তর দিন]

  10. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ধন্যবাদ আপনাদের। আপনাদের ভালোবাসার সম্মানে ভালো হয়ে চলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবো। দোয়া করবেন।

    [উত্তর দিন]

  11. SD Shahad বলেছেন:

    ‘Prothom Alo’ is a slow poison to brain-wash the society for implementing a certain Philosophy and ideology. Any writing goes against that Philosophy will be banned with artificial false excuses. Even though I admit their presentation is so articulated and full with literary masterpeieces, yet their brilliant and continious techniques of news prsentation can easily influence common people towards that targeted ideology, and create hatred for the opposition of their Philosophy. If you don’t believe my claim, just observe the news of Prothom Alo only for one month, you will see the result.

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন