চাটুকারের তেলে পিছলে যায় আওয়ামী মসনদ

আওয়ামী লীগ দলের যেমন রয়েছে সাফল্যের ইতিহাস তেমন রয়েছে উচ্চ পদস্থ চাটুকারদে তেলে ক্ষমতা থেকে পিছলে পড়ার লজ্জাজনক ইতিহাস। আগের শাসনামলে তৈল মর্দনে বিশেষ পারদর্শিতা অজর্নের জন্য জিল্লুর তেল শব্দটি মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল, আওয়ামী লীগের ভরাডুবির জন্য অমন তৈলমর্দন অন্যতম কারণ হয়েছিল। উত্থান-পতনের খেলায় আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করেছে। শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেব খুব দ্রুতই এ দলটি তাদের অবস্থানকে সুসংহত করতে পারে, তাই আবার ক্ষমতায় যেতে খুব বেশী দেরী করতে হয় নি। ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ অতীতের যত মধুর ভুলগুলিকে স্মরণ করেছে, সম্মানিত করেছে। তৈল মর্দনকারীরা তাই আজ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ভালো কিছু করার উদ্যেগ যে নেয় নি তা নয় বরং বলতেই হবে যে সকল সরকারই অনেক ভালো ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, আর আওয়ামী লীগ তার ব্যতিক্রম নয়। তবে ব্যতিক্রম এখানেই যে, আওয়ামী লীগ যথনই কোন সিদ্ধান্ত নেয় তখন তৈলমর্দনকারীরা ড্রামে ড্রামে তৈল ঢালতে থাকে নীতি নীর্ধারকদে পায়ে, ফলে টলে যায় পরিকল্পনা, ভূপতিত হয় উন্নয়ন।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের ব্যাপক সাফল্যকে পুঁজি করে আবার তৈলমর্দনকারীরা ইতোমধ্যেই তাদের আখের গোছাতে উঠে পড়ে লেগেছে। এরই প্রথম পরিকল্পনা হিসেবে তারা ডিজিটাল টাইম (ডেলাইট সেভিংস) প্রবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীকে চমৎকৃত করে। যুক্তি ছিল এর ফলে বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। কিন্তু আদৌ কোন উন্নয়ন নেই। অবশ্য লজ্জা ঢাকতে মন্ত্রীরা বলে বেড়াচ্ছেন যে অনেক বিদ্যুত সাশ্রয় হয়েছে, যদিও আমরা সাধারণ ভোক্তারা কোন ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করি নি বরং মফস্বল অঞ্চলে অতীতের তুলনায় বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে। ধারণা করা হয়, মফস্বলের বিদ্যুতের ঘাটতি ঘটিয়ে মহানগরীতে লোডশেডিং কিছুটা কমিয়ে ডিজিটাল টাইমের ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকার চেষ্টা হয়েছে।

মন্ত্রীরা বলে বেড়িয়েছেন, মানুষ ডিজিটাল টাইমে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, কথাটা শহরে সত্য হতে পারে কিন্তু মফস্বল শহর ও গ্রামগুলোতে এখনও আগের সময়েই সাধারণ মানুষ চলছে, অনেকেই আদৌ ঘড়ির সময় পরিবর্তন করেন নি, আর যারা করেছেন তারা ঘরে দুটো সময়ই চালু রেখেছেন। ফলে অফিস আদালতে ব্যাপক সমস্যা দেখা যায়, বিশেষ করে সাধারণ জনগন একঘন্টা পরে অফিসে আসায় একটি ঘন্টা কর্মহীন বসে থাকতে হয় অফিসারদের এবং বাকী সময়টা গাধার খাটুনি খাটতে হয়ে গ্রাহকের বাড়তি চাপে। তাইতো বিভিন্ন অফিসে সময়সুচিতে, বিভিন্ন বিয়ে, অনুষ্ঠানে সময়ের সাথে বন্ধনীর মাঝে ডিজিটাল শব্দটির লেখা দেখতে পাই।

ইতোমধ্যে যানযট নিরসনে অফিস আদালত, ব্যাংক-বীমা আর স্কুল কলেজের জন্য আলাদা সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই এ সিদ্ধান্ত রাজধানীর যানযটকে আরো প্রকট করে তুলেছে, তা আজকের পত্রপত্রিকার দিকে তাকালেই বুঝা যায়। প্রকৃতপক্ষে তৈলমর্দনকারীদের চাপে কোন বিচার বিশ্লেষণ বা গবেষণা ছাড়াই দেশের ষোলকোটি মানুষকে গিনিপিগে পরিণত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সর্ম্পকে একটি বড় অভিযোগ প্রচলিত যে দলটি ইসলাম বিদ্বেষী। কথাটি সত্য কি মিথ্যা সে প্রসঙ্গে যেতে চাচ্ছি না, তবে তৈলবিদরা আওয়ামী লীগকে দিয়ে একের পর এক এমনসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় যা তাদেরকে ইসলাম বিদ্বেষীরূপেই পরিচিত করে। ইতোমধ্যেই তারা নতুন শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধকে হত্যা করার আয়োজন করেছে যা ইসলাম বিদ্বেষীরূপেই তাদের চিত্রিত করছে। যদিও আওয়ামী লীগের ধারণা তারা যা করছে তা একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে, কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা মানেই কি ধর্মহীনতা? ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবায়নে যদি সকল ধর্মকে বিসর্জন দিতে হয় তবে সে ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের জন্য আদৌ প্রযোজ্য কি না তা ভেবে দেখা উচিত। সরকার বাংলাদেশে আবার ৭২এর সংবিধান ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে চাচ্ছে, সরকারের কি উচিত নয় আদৌ বাংলাদেশের মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতা নামের ধর্মহীনতার মাকাল ফলটি উগড়ে দেবে কি না তা যাচাই করা?

ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম জুমআর খুতবায় পাঠ করার জন্য তৈলবিদরা প্রস্তাব রেখেছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ তৈলে যে ভেসে যাবে তা নিশ্চিত, বিশেষ করে দলের নেতা শেখ হাসিনা তৈলমর্দনকারীদের দ্বারা বেষ্টিত থাকাই পছন্দ করেন। আর এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের সকল মসজিদে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তার দায়ভার কে নেবে? নিশ্চিতভাবেই বলা যায় আওয়ামী লীগের অনুসারী নামাজীরা মসজিদে এ ধরণের খুতবা প্রত্যাখ্যান করবে। তাই জোর করে সবার কানে বঙ্গবন্ধুর নাম প্রবেশ না করিয়ে বরং কাজের মাধ্যমে সবার হৃদয়ে স্থান দেয়াই সমিচিন নয় কি?

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সমস্যা জনগন তাদের কাছ থেকে কি চায়, কি জন্য তাদের ক্ষমতায় পাঠানো হয় তা তারা আদৌ অনুধাবন করার চেষ্টা চালায় না বা বলা যায় বোঝেন না। আর এ অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তৈলমর্দনকারীরা বিভিন্ন পরিকল্পনা ফেঁদে তাদের আখের গুছিয়ে নেয়। পরিনামে অতি পিচ্ছিল পথে বার বার আওয়ামী লীগ কে হোচট খেতে হয়।

তবুও তৈল মর্দনকারীরা ক্ষ্যান্ত হন না। কারণ তৈলমর্দণকারীরা জানে তৈলে পিছলে গিয়ে আওয়ামী আপাত হোচট খেলেও তাদের ভাগ্য খুলে যাবে, শক্তিশালী আওয়ামী লীগ আবার ঠিকই দৃঢ় পায়ে দাড়াবে, আর নতুন আওয়ামী লীগ তাদেরকে বসাবে সর্বোচ্চ সম্মানের আসনে।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“চাটুকারের তেলে পিছলে যায় আওয়ামী মসনদ” লেখাটিতে 4 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    হে বাহে আমার যাহা যাহা ভালো লাগিয়াছে তাহা এখানে তুলিয়া দিলাম, আধুনিক কালে যাহাকে কপি পেস্ট বলা হইয়া থাকে।

    “যথনই কোন সিদ্ধান্ত নেয় তখন তৈলমর্দনকারীরা ড্রামে ড্রামে তৈল ঢালতে থাকে নীতি নীর্ধারকদে পায়ে, ফলে টলে যায় পরিকল্পনা, ভূপতিত হয় উন্নয়ন।”

    “একটি ঘন্টা কর্মহীন বসে থাকতে হয় অফিসারদের এবং বাকী সময়টা গাধার খাটুনি খাটতে হয়ে গ্রাহকের বাড়তি চাপে।”

    “ইতোমধ্যেই তারা নতুন শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধকে হত্যা করার আয়োজন করেছে যা ইসলাম বিদ্বেষীরূপেই তাদের চিত্রিত করছে।”

    “নিশ্চিতভাবেই বলা যায় আওয়ামী লীগের অনুসারী নামাজীরা মসজিদে এ ধরণের খুতবা প্রত্যাখ্যান করবে।”

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ আরাফাত ভাই, জানিনা কতবার আছাড় খেলে একজন ঝানু এ্যাক্রোবেট হওয়া যায়, কতবার ক্ষমতা হারালে একজন যোগ্য রাজনীতিবিদ হওয়া যায়!!!

    [উত্তর দিন]

  2. শাহাবুদ্দিন আহমদে বলেছেন:

    kkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkতততততততততততততততততততত
    মতমমমমমমমমমমমমমমমমম

    [উত্তর দিন]

  3. ডিজিটাল টাইমের ভূত নেমেছে | শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস বলেছেন:

    […] না হয় গলার কাঁটা” শিরোনামে। যদিও আওয়ামী তৈলবিদ আমলা ও মন্ত্রীদের কারনে অন্ধ […]

মন্তব্য করুন