গোলাম আযমের বিচার : কারাগারে খুন হওয়ার আশঙ্কা!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তীব্র ঘৃণার সাথে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গোলাম আযমকে প্রিজনসেলে জামাই আদর করা  হচ্ছে না। নব্বই বছরের বৃদ্ধ এই মজলুম জননেতার প্রতি মানবিক দূর্বলতার কারনে কোন ধরণের সহানুভূতি কেউ না দেখিয়ে ফেলে, সে ব্যাপারেও তিনি সতর্ক করেন। স্পষ্ট বললেন, গোলাম আযমকে বেশী সুযোগ সুবিধা দিলে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। এর মাধ্যমে মূলত সাহারা খাতুন গোলাম আযমকে যাবতীয় সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত করার নির্দেশই দিলেন প্রিজনসেলের কর্মকর্তাদের। ইতোমধ্যে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের থাকা, খাওয়াসহ বেশ কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রিজন সেলে যেহেতু গোলাম আযমকে পুরোপুরি হেনস্তা করা যাচ্ছে না তাই যে করেই হোক তাকে দ্রুত জেল খানায় ঠেলে দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। গোলাম আযম সুস্থ্য আছেন, তার আর প্রিজন সেলে থাকার প্রয়োজন নেই ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন বক্তব্য দেয়ানো হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসকদের মাধ্যমে। অথচ প্রিজন সেলের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, নিয়মানুযায়ী এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনরূপ মন্তব্য করতে পারেন না। তারপরও হাসপাতালের ডাক্তারদেরকে বলির পাঠা বানিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করা হচ্ছে। কিন্তু কেন? সন্দেহ জাগে, কারাভ্যন্তরে অশুভ কোন ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছে সরকার যার দায় নিজেরা নিতে প্রস্তুত নয় সরকার দায় চাপাতে চায় ডাক্তারদের ওপর। অনেকেই ইতোমধ্যে আশংকা করছেন, হয়তো কারাভ্যন্তরেই হত্যা করা হবে তাকে, “তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও বার্ধক্যজনিত কারণে গোলাম আযম কারাগারে ইন্তেকাল করেছেন” এমন সংবাদ আওয়ামী মূখপাত্র পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রচার করলেই হলো। কারন, গোলাম আযমকে বিচারে দোষী সাব্যস্ত করার মতো প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের হাতে নেই, বিচারে তাকে ফাঁসির দন্ড দেয়া অসম্ভব। তাই হত্যাই হতে পারে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেয়ার আওয়ামী সরকারের বিকল্প হাতিয়ার।

এর কিছু আলামত ইতোমধ্যেই দেখা গেছে। অধ্যাপক গোলাম আযমকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও গোয়েন্দারা (ওয়াকিটকিসহ এসেছে বলে অনুমিত হয় তারা গোয়েন্দাবাহিনীর লোক) অধ্যাপক গোলাম আযমেরন বাসার গেট ভেঙ্গে আক্রমনে চেষ্টা চালিয়েছে, যদিও এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু কতদিন সাধারণ মানুষ রক্ষা করবে গোলাম আযমের পরিবারকে? যেখানে আওয়ামী ঘরানার মুক্তিযোদ্ধারা আদালতে সামনে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন “বিচারে গোলাম আযমের যা-ই হোক না কেন, হাতের নাগালে তাকে পেলে তারা হত্যা করতেন” সেখানে পুলিশবাহিনীতে নিয়োগকৃত আওয়ামী লীগের বাছাইকরা গুন্ডারা কারাভ্যন্তরে সবার অলক্ষ্যে কিধরণের অপরাধ ঘটাতে পারে তা ভাবতেই সাধারণ মানুষ শিউরে ওঠে।

গোলাম আযম শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি উপমহাদেশে ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ। বহির্বিশ্ব বাংলাদেশের ইসলামকে যেমন চেনে, ঠিক তেমনি ইসলামী আন্দোলনের এই মজলুম নেতাকেও জানে। তাই ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদেরকে অবিলম্বে তার মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ তীব্র গণআন্দোলন গড়েতোলা প্রয়োজন। মনে রাখা দরকার, ইসলামী আন্দোলন কাপুরুষদের জন্য নয়। গোলাম আযমসহ ইসলামী আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে আওয়ামী লীগের হিংস্র থাবা থেকে যদি রক্ষা করা না যায়, তবে বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে এদেশের ইসলামী আন্দোলনের নাম কলঙ্কিত হবে। বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের চারকোটি নেতা-কর্মী-সমর্থকের ধমনীতে যতদিন রক্ত প্রবাহিত হয়, ততদিন কারাভ্যন্তরে গোলাম আযমের দূর্বিসহ জীবন কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“গোলাম আযমের বিচার : কারাগারে খুন হওয়ার আশঙ্কা!” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. Rezaul Islam বলেছেন:

    Dear Moderator
    Assalamu Alaikum. I found this site is resourceful and want to be connected most of the time. For this purpose, this site should have registration & new issues update by mail facility. So please consider this and incorporate it with this site thereby promote us to be connected all time.

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন