যুদ্ধাপরাধের বিচার : জাতিকে বিভক্তির মাধ্যমে হিংসাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হলো ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা ও ঢাকসুর সাবেক জিএস, ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আজমকে। তাকে গ্রেফতার করা হবে, এটি বছর খানেক আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ যেমন জানতেন, জানতেন রাজনীতি সচেতন মহল, ঠিক তেমনি ভাবে অধ্যাপক গোলাম আযমও তার গ্রেফতারের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন, এবং বলা যায় এ কারনে নিশ্চিন্তও ছিলেন তিনি। গ্রেফতার যখন হতেই হবে, তখন শুধু শুধু চিন্তা করে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। তাইতো তিনি কিছুদিন আগে একুশে টিভির নাছোরবান্দা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “জুলুম করলে জুলুম সহ্য করতে হবে“। তিনি যেমন জানতেন প্রহসনের বিচারের নামে তার উপর জুলুম করা হবে, ঠিক তেমনি তিনি এটিও জানতেন যে আল্লাহই সর্বক্ষমতাবান, তাঁর কাছেই সবাইকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাই তিনি ছিলেন নির্ভিক, তাইতো তিনি দৃপ্তকন্ঠে ঘোষণা করেন, “যদি অন্যায়ভাবে মৃত্যু দেয়া হয়, তাহলে শহীদ হওয়ার গৌরব পাওয়া যায়। সে হিসাবে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসাবে, শাহাদাতের কামনা করি” । তবে আদালতে যে ফাঁদে ফেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চমহল ছাড়া আর কারোই জানা ছিলনা বলেই মনে হয়। কেননা আদালত অধ্যাপক গোলাম আযমকে ১১ তারিখ হাজিরা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়, অন্যথায় গ্রেফতারী পরোয়ানার কথা জানানো হয়। নির্দিষ্ট তারিখে সকালেই আদালতে হাজিরা দিতে এসে সরকারের প্রতারণার ফাঁদে আটক হন বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত নব্বই বছর বয়সী মজলুম জননেতা অধ্যাপক গোলাম আযম।

জীবনে বহুবার গ্রেফতার হয়েছি। আর মোমেন তো মৃত্যুকে ভয় করে না। যদি অন্যায়ভাবে মৃত্যু দেয়া হয়, তাহলে শহীদ হওয়ার গৌরব পাওয়া যায়। সে হিসাবে, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসাবে, শাহাদাতের কামনা করি। সুতরাং ভয় কিসের? আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করা তো জায়েজই না। আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করার অনুমতি নাই। -গোলাম আযম

 অধ্যাপক গোলাম আযমকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সরকার তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। বাংলাদেশ থেকে ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করার যে সুদূর প্রসারী নীলনক্সা আওয়ামী লীগ ও রাম-বাম সংগঠনগুলো দীর্ঘ দিন ধরে করে আসছিল, তার একটি চূড়ান্ত পরিণতি হলো অধ্যাপক গোলাম আযমের গ্রেফতারের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে আইন করে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করাসহ মাঠে ময়দানে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গতবছর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাজেদা চৌধুরী জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং গত মাসের শেষ দিকে পাড়ায় ও মহল্লায় রাজাকারদের খুঁজে খুঁজে ধরে বিচার এমনকি এদের বংশধরদেরও গ্রেফতার করে বিচার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মহাজোট নেতৃবৃন্দ। সবকিছু প্রমাণ করে কি হীন উদ্দেশ্যে চলছে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।

কিন্তু কেন জামায়াতের বিরুদ্ধে আ’লীগের এত ক্ষোভ, কেন স্বাধীনতার ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধী ইস্যু নিয়ে এতো উত্তেজনা? এর উত্তর খুঁজতে হলে একটু পেছনের দিকে তাকাতে হয়। ইসলামী মূল্যবোধকে পুঁজি করে হাজার মাইল দূরত্বের দু’টো ভূখন্ড যে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল, তা অনিবার্যভাবে বিভক্ত হয়েছিল আরেকটি ভিন্ন জাতীয়তাবাদের কারণে। ইসলামী মূল্যবোধকে ছুড়ে ফেলে পশ্চিম পাকিস্তানীরা হঠাৎ করেই পূর্ব পাকিস্তানের প্রভূ রাষ্ট্রে পরিণত হয়, পাকিস্তানী চেহারা পাল্টে হয়ে যায় পাঞ্জাবী/পশ্চিমপাকিস্তানী। ফলে পূর্ব পাকিস্তানে জন্ম লাভ করে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। পাকিস্তান রাষ্ট্রের মূল শক্তি ইসলামী মূল্যবোধের বিপরীতে দুই অঞ্চলে দুটি ভিন্ন জাতীয়তাবাদ আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠায় দেশ অনিবার্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, ফলাফল বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সৈন্য আত্মসমর্পন করে রেসকোর্স ময়দানে। পাকিস্তানী এসকল সৈন্যদের হাতেই ঝড়েছে বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-সেনা, তরুণ-যুবাদের প্রাণ, উদ্বাস্তু হয়েছে লাখ লাখ বাঙ্গালী, সম্ভ্রম হারিয়েছে এদেশের মা-বোনেরা। অথচ শেখ মুজিবুর রহমান এদেরকে ক্ষমা করে দিলেন, মুক্তি দিলেন। কিন্তু কেন? উদ্দেশ্য একটাই, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পূনর্গঠিত করা, বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি আদায় করা, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। একইভাবে যেসকল বাংলাদেশী পাকিস্তানী সরকারের অধীনে রাজাকার বাহিনীতে চাকুরী করেছে, তাদেরসহ অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনকারীদের দালাল আইনে গ্রেফতার করে বিচার করা হয়, অনেককেই সাজা দেয়া হয়, কয়েকজনার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় এবং অবশেষে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি, সমৃদ্ধির স্বার্থে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাধারণ ক্ষমায় এদের মুক্ত করা হয়।

শহীদদের কবরের মাটি শুকাতে না শুকাতেই, বিধবাদের চোখের জল মুছে যাবার আগেই শেখ মুজিব দেশের বৃহৎ স্বার্থে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। যদি তাই হয়, তাহলে স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে মীমাংসিত একটি বিষয়কে কেন নবজীবন দেয়া, শুকিয়ে যাওয়া পুরনো ক্ষতকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বাংলাদেশের শরীরে কেন পঁচন ধরানো, কিসের স্বার্থে? যদি ধরে নেয়া হয়, শেখ মুজিব যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটির মীমাংসা করে যান নি, তাহলে তাৎক্ষণিক পাকিস্তানী সৈন্যদের ও তাদের দোসরদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন কেন? ব্যক্তিগত কোন সুযোগ সুবিধা আদায়ের জন্য? সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা কিংবা পাকিস্তানী সৈন্যদের মুক্তি দিতে কি ভয়ংকর কোন দূর্ণিতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান?

যে ব্রিট্রেনের কাছ থেকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে স্বাধীন হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, আজ সেই ব্রিটেনকেই পরমবন্ধু ভাবে আমেরিকা। দুটো দেশ যে আসলেই দুটো আলাদা দেশ, একটা মহাসাগরের দুই প্রান্তের দুটি দেশ, তা তাদের বন্ধুত্ব দেখে বিশ্বাস করাই কষ্টকর। এমন নজীর বাংলাদেশও দেখিয়েছিল। ১৯৬৫ সালে যে ভারতের সাথে যুদ্ধ হলো, বুকে মাইন বেধে এদেশের যুবকেরা ভারতীয় ট্যাংক উড়িয়ে দিয়েছিল, সেই ভারতীয়দেরই মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে সবচেয়ে আপনজন হিসেবে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ, যে অটুট বন্ধুত্ব দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাহলে দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে দেশেরই এক-চতুর্থাংশ জনগোষ্ঠী এবং তাদের সহযোগী আরো ৩৪% জাতীয়তাবাদী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ভয়ংকর যুদ্ধের উস্কানী দিচ্ছে তার কারন কি? যুদ্ধ বাধিয়ে প্রতিবেশী সেই পরম বন্ধুর সহায়তায় এদেশের সংখ্যাগরিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শকে পরাজিত করে প্রতিবেশী দেশের সাথে একাকার হয়ে যাওয়াই কি উদ্দেশ্য, ঠিক যেমনটি চেয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান? ভারতের স্বাধীনতার পরপরই স্বাধীন রাজ্য হায়দারাবাদের ভারতপ্রেমী জনগোষ্ঠীর আমন্ত্রণে যেমন ভারত অপারেশন পোলার মাধ্যমে হায়দারাবাদ দখল করে ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করেছিল, ঠিক তেমনি এক ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগও কি চায় ভারতীয় সেনাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করতে, যেমন আমন্ত্রণ ইতোমধ্যে তারা একবার জানিয়েও ফেলেছে পিলখানা হত্যাকান্ডের পরে?

এদেশের সাধারণ মানুষ কি চায়? তারা শান্তিতে থাকতে চায়, দু’বেলা দু’মুঠো ভাত পেতে চায়, সবার হাতে কাজ চায়, দূর্ণীতিমুক্ত বাংলাদেশ চায়। অথচ সরকার প্রচার করে বেড়াচ্ছে, দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় এবং এজন্যই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে জনগণ। অথচ আওয়ামী লীগকে জনগণ ক্ষমতায় বসায় নি, ব্যাগভর্তি ভারতীয় টাকা ও বুদ্ধিপরামর্শে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে এ কথা আজ প্রমাণিত। শেখ হাসিনা নিজেও প্যারিসে এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, ২০০১ নির্বাচনে তিনি ক্ষমতায় আসতে পারেন নি বিদেশী বন্ধুর স্বার্থ যথাযথ রক্ষা না করার কারনে। ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে তা শিকার করেছেন দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল। যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আওয়ামী লীগকে জনগণ বিজয়ী করতো তবে গত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী পূর্ববর্তী নির্বাচনের চেয়ে ভোট বেশি পেত না। মূলক জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। যুদ্ধাপরাধ বিচারের সাথে সাধারণ মানুষের কোন সম্পর্ক নেই, এটি বুদ্ধীজীবী, টকশোজীবী, আর শহুরে কিছু ছাত্রদের গলাবাজির বিষয় মাত্র।

আওয়ামী লীগের অপপ্রচারে বিএনপির নেতারাও প্রথমে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, তবে ইতোমধ্যেই তাদের কাছে যুদ্ধাপরাধ বিচারের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্দেশ্য আর কিছুই নয়, কেবলমাত্র আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দী বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা। আর এজন্য তারা প্রথমেই টার্গেট করেছে জামায়াতে ইসলামীকে, যাদের সমর্থন পেলেই বিএনপি ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়, যাদের সমর্থন পেলেই বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে গতি পায়। ইতোমধ্যে বিএনপি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বন্ধের দাবী তুলেছে, যুদ্ধাপরাধ বিচারের উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদেরা, প্রশ্ন তুলেছেন বিদেশী আইনজীবীরা, প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ বিশিষ্ট বুদ্ধীজীবীরা। এভাবে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে দিনে দিনে মুখ খুলতে শুরু করেছেন দেশের সচেতন মহল।

কেউ যখন প্রিয়জন হারান, তার হৃদয়ে জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। তাৎক্ষণিক সে আগুনে থাকে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক তেজ । দ্রুত ন্যায় বিচারে সে আগুন কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়। কিন্তু সময় যত যেতে থাকে প্রতিশোধের চেয়ে বেঁচে থাকাটাই তখন বাস্তবতা হয়ে পরে। আর সে সময়টি যদি হয় ৪০ বছর, তবে অধিকাংশের পক্ষেই আর নিহতের স্মরণে অশ্রুবর্ষণ সম্ভব হয়ে ওঠে না, অতি আবেগপ্রবণ দু’য়েকজন অশ্রুবিসর্জন দেয় মাত্র। না, প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসায় ভাটা পড়েনা বরং সময়ের প্রয়োজনে, জীবনের প্রয়োজনেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন বিচারের চেয়ে যারা বেঁচে আছে তাদের প্রতি যথাযথ সহমর্তিতা জানানো, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা, তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে ওঠে।

না, স্বাধীনতা যুদ্ধটি প্রতিশোধের কোন যুদ্ধ নয়, বরং পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্তি পাওয়াই ছিল তার লক্ষ্য। যুদ্ধ শেষে ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যার উদ্দেশ্যে আরো একটি যুদ্ধ বাঁধানো, কিংবা তাদের উপর দিনের পর দিন প্রতিশোধ নেয়া আদৌ স্বাধীনতার চেতনা নয়, বরং স্বাধীনতার চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থাই হল প্রতিহিংসা। স্বাধীনতার পরে সবচেয়ে জরুরী ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া এদেশের প্রকৃত বীর যোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন, প্রয়োজন ছিল শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নির্নয়, প্রয়োজন ছিল প্রকৃত শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানো, প্রয়োজন ছিল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দূর্ণীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে ঝাপিয়ে পড়া, অথচ এর একটি কাজও সঠিকভাবে করা হয়নি বরং দেশকে দূর্ণীতিতে কয়েকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়ে বাংলাদেশ সম্মান, স্বাধীনতার বীর সেনাদের মহান আত্মত্যাগের গৌরবকে ভূলুন্ঠিত করা হয়েছে। অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে না তাকিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে নিছক পণ্য হিসেবে ফেরি করে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক স্বার্থই কেবল হাসিল করেছে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নয়, কেবল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ব্যস্ত। প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের ব্যাপারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শেখ হাসিনা সম্পর্কে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত তাই তো বলেই ফেলেছেন, “বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েন না“। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিহিংবার কোন যায়গা নেই। শুধুমাত্র আওয়ামী রাজনীতির স্বার্থে, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সাধারণ মানুষ কিছুতেই জাতিকে বিভক্ত করার নীলনক্সায় বাস্তবায়নে মেতে উঠতে পারে না। মনে রাখা দরকার, যুদ্ধাপরাধের বিচারের সাথে সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়া, আশা-আকাঙ্খা, সুখ-দুঃখের কোন স্থান নেই, এটি নিছকই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক এজেন্ডা, বিরোধী দল ও মত দলনের এজেন্ডা, বাকশাল কায়েমের এজেন্ডামাত্র।

নতুন প্রজন্মের যে সকল ভাইয়েরা শেখ হাসিনার মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত তাদের কাছে প্রশ্ন, আপনি কি জানেন এ দেশে বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত কতজন? বীরবিক্রম কতজন? বীর প্রতীক কতজন? বীরশ্রেষ্ঠদের সংখ্যা হয়তো সবাই জানেন, যেহেতে সংখ্যাটি মনে রাখা সহজ। আমি জানি, না দেখে হাজারে মাত্র ২/১ জন হয়তো সংখ্যাটি বলতে পেরেছেন। না, এতে আপনাদের লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, না জানায় দোষেরও কিছু নেই, কারন যারা মুক্তিযুদ্ধে খেতাব পেয়েছেন তাদের অনেকেই জানেন না যে তারা বীরপ্রতীক, বীর বিক্রম। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর এইতো গতমাসে আব্দুল খালেক জানতে পারলেন তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মহান মুক্তিযোদ্ধা,  বীরবিক্রম। ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে মহিলা মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিও ঠিক তেমনি জানতে পারেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মহান মুক্তিযোদ্ধা, বীরপ্রতীক। একবার ভাবুন, যারা স্বাধীনতার ৪০ বছরে দেশের বীর সন্তানদের যোগ্য সম্মানটুকু দেখাতে পারলো না, তারা যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে গলাবাজি করে তখন কারোই বুঝতে কষ্ট হয় না যে ওরা বিচার নয়, বিচারের নামে বিরোধী দল ও মতকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়।

আসুন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ব্যবসা করছে, যারা স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি বলে জাতির মাঝে বিভেদের দেয়াল তুলে দিচ্ছে, দেশকে ঠেলে দিচ্ছে অনিবার্য গৃহযুদ্ধের দিকে, যারা পানি ঘোলা করে প্রতিবেশী বন্ধুদের বাংলাদেশে আগ্রাসন চালানোর পথ করে দিচ্ছে, যারা হায়দারাবাদের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেও উৎসর্গ করতে চায় ভারতীয় দাদাদের পায়ে, তাদেরকে এখনই প্রতিরোধ করি। আপনার ভাই যদি আ’লীগের সমর্থক হন তবে তাকে এখনি বোঝান, আপনার বন্ধু যদি ভারতের দালাল হয় তবে তাকে এখনি থামান , আপনার সন্তান যদি ছাত্রলীগ হয় তবে তাকে এখনি নিরস্ত্র করুন, নয়তো এই ভাই-বন্ধু-স্বজনের হাতে প্রাণ যাবে আপনার, নয়তো সে-ই রক্তাক্ত হবে আপনার স্নেহের হাতে। বন্ধুগণ, অনিবার্য গৃহযুদ্ধ এই মুহুর্তে থামান।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“যুদ্ধাপরাধের বিচার : জাতিকে বিভক্তির মাধ্যমে হিংসাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা” লেখাটিতে 3 টি মন্তব্য

  1. suvo বলেছেন:

    আপনি যে future গোলাম আযম তা clear….

    [উত্তর দিন]

  2. Manarat বলেছেন:

    বিভক্ত জাতির কোন্দলে লাভবান পক্ষটির নাম আওয়ামী লীগ নয়। বিভক্ত জাতির দুর্বলতার সুযোগ পুরোপুরি নিচ্ছে ভারত। তাদের জুলুম চালিয়ে যেতে সুবিধা। এদেশের সাধারন জনগনের জীবন-জীবিকা ধ্বংসের সুবর্ন সুযোগের ফায়দা ভারত তুলে নিচ্ছে।
    জাতি তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

    [উত্তর দিন]

  3. ভারতের দালাল, ভুয়া লীগ, কমনিস্ট, বলেছেন:

    ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল!!!!
    যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ব্যবসা করছে, যারা স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি বলে জাতির মাঝে বিভেদের দেয়াল তুলে দিচ্ছে, দেশকে ঠেলে দিচ্ছে অনিবার্য গৃহযুদ্ধের দিকে, যারা পানি ঘোলা করে প্রতিবেশী বন্ধুদের বাংলাদেশে আগ্রাসন চালানোর পথ করে দিচ্ছে, যারা হায়দারাবাদের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেও উৎসর্গ করতে চায় ভারতীয় দাদাদের পায়ে, তাদেরকে এখনই প্রতিরোধ করি। আপনার ভাই যদি আ’লীগের সমর্থক হন তবে তাকে এখনি বোঝান, আপনার বন্ধু যদি ভারতের দালাল হয় তবে তাকে এখনি থামান , আপনার সন্তান যদি ছাত্রলীগ হয় তবে তাকে এখনি নিরস্ত্র করুন, নয়তো এই ভাই-বন্ধু-স্বজনের হাতে প্রাণ যাবে আপনার, নয়তো সে-ই রক্তাক্ত হবে আপনার স্নেহের হাতে। বন্ধুগণ, অনিবার্য গৃহযুদ্ধ এই মুহুর্তে থামান।
    ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল! ভারতের দালাল!

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন