হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে

হঠাৎ করেই ব্যাংকের কাউন্টারগুলোতে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। ব্যাংকার, গ্রাহক উভয়ই মারমুখী। খুব সাধারণ বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডা, অথচ দু’পক্ষই নিজেদের যুক্তিতে অনঢ়। গ্রাহকের দাবী টাকার বান্ডিল সেলাই করে দিতে হবে, অপরদিকে ব্যাংকের যুক্তি টাকা সেলাই করা যায় না, বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে। তবু গ্রাহককে কিছুতেই থামানো যায় না, আর যাবেই বা কি করে, টাকার ক্ষেত্রে বাপকেও বিশ্বাস করা যায় না, সেখানে ব্যাংকতো অনেক দূরের বিষয়। ইদানিং ব্যাংকের বান্ডিলেও জাল টাকা পাওয়া যাচ্ছে, এমনকি ডাচ-বাংলার এটিএম বুথে জাল টাকা বেরোচ্ছে এমন সংবাদ পত্রপত্রিকায় ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। আর একবার গ্রাহকের হাতে টাকা  চলে গেলে জাল টাকার দায় ব্যাংক নিতে রাজি নয়, কারন ব্যাংকের যুক্তি গ্রাহককে গুণে বুঝে কাউন্টারে বসে অভিযোগ দিতে হবে, কাউন্টার ত্যাগের পর বান্ডিলে গ্রাহক কিংবা তৃতীয় কোন পক্ষ সুকৌশলে জাল নোট গুজে দিতে পারে, তাই তার দায় কিছুতেই ব্যাংকের নয়। তবে যারা নিয়মিত ব্যাংকে যান বিশেষ করে যারা ব্যবসায়ী তারা জানেন, ব্যাংকের কাউন্টার থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তা কিছুতেই কাউন্টারে বসে কাউন্ট করা সম্ভব নয়, পরবর্তী গ্রাহকরাতো আর অনন্তকাল অপেক্ষা করে থাকতে চাইবে না।

নতুন জিজাইনের টাকাগুলো এতবেশী জাল হচ্ছে যে নতুন ডিজাইনের কোনটা আসল কোনটা নকল তা সাধারণের বুঝে উঠতে গলদঘর্ম হচ্ছে। আরো অবাক করা বিষয় যে মাত্র ৭ হাজার আসল টাকায় পাওয়া যাচ্ছে লক্ষ টাকার জাল নোট। জাল টাকার এত বেশী দাপট যে ইদানিং আসল নোটের চেয়ে জাল নোটই যেন বাজারে বেশি পাওয়া যায়। অথচ কিছুদিন আগেও কিছু জাল টাকা পাওয়া যেত যা কম মূল্যমানের নোটের উপর ছাপানো হতো, ফলে মেশিনে ধরা পড়তো না, গ্রাহকও বুঝতে পারতো না। আমার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবার হাতে কিছুকাল আগে দুটো ৫শত টাকার জাল নোট এসেছিল। একশ টাকার নোটের উপর প্রিন্ট করা। আমি বাবাকে যতভাবেই বুঝানোর চেষ্টা করি না কেন যে এটার এই এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারনে এটি জালনোট, ভালো করে দেখলে একশ টাকার ছাপ এখনো দেখা যায়, কিন্তু বাবা কিছুই বুঝলেন না, তার চোখ এখন আর আসল নকল নোটের ভেদ করতে পারে না। কিন্তু ইদানিং যে নকল নোটগুলো বাজারে আসতে তা একেবারেই ফালতু নোট, অথচ তারপরও সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। কারন একটাই, অতিমাত্রায় রংচং ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত দূর্বল কাগজে নোটগুলো ছাপানো হয়েছে একেবারে নকলের আদলে। দেখেই মনে হয় যেন স্ক্যান করা নকল নোট। তাই যেখানে আসল নোটগুলোই নকল নকল মনে হয় সেখানে নকল নোট আর আসল নোটের মাঝে সাধারণ মানুষ পার্থক্য করবে কি ভাবে। তাই গ্রাহক কিছুতেই নোটের বান্ডিল সেলাই ছাড়া নিতে রাজি নয়, যাতে কোন জাল ধরা পরলে বান্ডিলসহ ব্যাংকে ফেরত দিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়। অথচ টাকার বান্ডিল সেলাই করার আদৌ কোন সুযোগ বর্তমানে ব্যাংকগুলোর নেই।

না, ব্যাংকে নিয়মটি হঠাৎ করে চালু হয় নি বরং টাকায় ছিদ্র করা অনেক আগে থেকেই নিষিদ্ধ। টাকায় ছিদ্র হলে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও সরকারী বেসরকারী সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানেই মহা ধুমধামে টাকায় সেলাই করার রেওয়াজটি চালু ছিল। এতে লেনদেনে জটিলতা কমে, স্বচ্ছতা বাড়ে। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবত দেশে আর্থিক সংকট থাকায় গত ঈদের মৌসুমে জাতির জনকের ছবি সম্বলিত রেকর্ড সংখ্যক নতুন নোট ছাপিয়ে অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে সচেষ্ট হয়েছেন। পত্রিকায় দেখা যাচ্ছে আর্থিক সংকট মেটাতে আরো টাকা ছাপার উদ্যোগ নিয়েছে সরবার। তো জাতির জনকের ছবি সম্বলিত নোট প্রচলেনর পর থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে পুরনো আইনটিকে ঘসে মেজে শানিত করেছে, কিছুতেই টাকায় সুঁই বেধানো যাবে না। না, বাংলাদেশ ব্যাংক আইনের প্রতি চরম শ্রদ্ধাশীল হয়ে হঠাৎ করে কঠোর হস্তে আইন পরিপালনে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে নি, বরং সরকারের উপর মহলের রাঘোববোয়ালদের হুমকি ধামকিতেই এমন আচরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারনটি খুবই পরিস্কার, নতুন টাকায় জাতির জনকের ছবি সেটে দেয়া হয়েছে, আর ছবিটি এমন স্থানেই বসানো হয়েছে যে টাকার বান্ডিলে সুই ঢুকালেই সরাসরি জাতির পিতার চোখে নয়তো মুখে নয়তো নাকে মোটকথা মুখমন্ডলের কোথাওনা কোথাও ঠিকই বিধে যাচ্ছে। আর এতেই সরকারের উচ্চ মহল প্রমাণ গুণতে শুরু করেছেন। জাতির জনকের সম্মান দেখানোর এমন প্রচেষ্টা এখন সরকারেরই মান সম্মান ধুলার সাথে মিশিয়ে দিতে বসেছে।

কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, ব্যাংকগুলো টাকার বান্ডিল করে দিতে রাজী না হলেও নতুন টাকার মাঝে বলতে গেলে শতকরা একটি  নোটও পাওয়া যাচ্ছে না যাতে জাতির জনকের ছবি অবিকৃত রয়েছে। ঠিক চোখ বরাবরে কিংবা মুখের মাঝে তথা মুখমন্ডলের কোথাও না কোথাও ছিদ্র ঠিকই বেরিয়ে আসছে। অনেকে ঠিকই বান্ডিলে ফুটো করছেন, তবে সেলাই করা বারণ বিধায় সেলাই করছেন না। আর সেলাই না করে বান্ডিল জমা দিলেও কারো দোষ হচ্ছে না, কে না কে ফুটো করেছে তার জন্য কাকেই বা দোষী করে শাস্তি দেয়া যায়! শুধু ফুটো করেই যদি সবাই থেমে যেত তবে তাতে কিছুটা হয়তো মান থাকতো, কিন্তু হঠাৎ করেই দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিভার বিকাশ ঘটা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশী প্রতিটি জনগণের মাঝে যে এক একজন লিওনার্দো,পিকাসোরা লুকিয়ে ছিল তা জাতির জনকের ছবি সম্বলিত নতুন নোট বাজারে না এলে হয়তো কোনদিনই জানা সম্ভব হতো না।

 আসলে ভালোবাসা মোটেই বাহ্যিক কোন বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি অনেক গভীরের বিষয়, অন্তরের বিষয়। জোর করে ভালোবাসা আদায় করা যায় না, ভালোবাসায় জোর খাটালে মিলনেও ধর্ষণের শাস্তি জোটে। ভালোবাসা কেবল ভালোবাসা দিয়েই আদায় করা যায়। মান্না দে সেই কবে গেয়ে গেছেন ভালোবাসার গান, তবুও দেশের রাজনীতিবিদরা কেবলই জোর খাটাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। কারন রাজনীতিবিদদের যত ক্ষমতাই থাকুক না কেন, ভালোবাসার ক্ষমতা নেই। ভালোবাসতে হৃদয় লাগে,  হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে।

যদি কাগজে লেখ নাম, কাগজ ছিড়ে যাবে
পাথরে লেখ নাম, পাথর ক্ষয়ে যাবে
হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে।।

বর্তমান সরকার সকল সমস্যাকেই টেনে হিচড়ে একাত্তরে নিয়ে ফেলে দেয়। আসুন আমরাও একটু একাত্তরে ঘুরে আসি। দেখে নেই জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ড. হুমায়ুন আহমেদের আগুনের পরশমনির একটি বিশেষ দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা যায় জনৈক দোকানী দোকানে পাকিস্তানের স্বৈরশাসকের ছবি টানিয়ে রেখেছেন, ছবিটি নিয়ে দোকানীর তামাশা নিজ দায়িত্বে দেখে নেবেন।

আসল নোট চিনে নিন, প্রতারক থেকে সাবধান থাকুন:

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. Abubakar Siddique Mizi বলেছেন:

    ব্যাংকগুলো টাকার বান্ডিল করে দিতে রাজী না হলেও নতুন টাকার মাঝে বলতে গেলে শতকরা একটি নোটও পাওয়া যাচ্ছে না যাতে জাতির জনকের ছবি অবিকৃত রয়েছে। ঠিক চোখ বরাবরে কিংবা মুখের মাঝে তথা মুখমন্ডলের কোথাও না কোথাও ছিদ্র ঠিকই বেরিয়ে আসছে। অনেকে ঠিকই বান্ডিলে ফুটো করছেন, তবে সেলাই করা বারণ বিধায় সেলাই করছেন না। আর সেলাই না করে বান্ডিল জমা দিলেও কারো দোষ হচ্ছে না, কে না কে ফুটো করেছে তার জন্য কাকেই বা দোষী করে শাস্তি দেয়া যায়! শুধু ফুটো করেই যদি সবাই থেমে যেত তবে তাতে কিছুটা হয়তো মান থাকতো, কিন্তু হঠাৎ করেই দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিভার বিকাশ ঘটা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশী প্রতিটি জনগণের মাঝে যে এক একজন লিওনার্দো,পিকাসোরা লুকিয়ে ছিল তা জাতির জনকের ছবি সম্বলিত নতুন নোট বাজারে না এলে হয়তো কোনদিনই জানা সম্ভব হতো না।
    আসলে ভালোবাসা মোটেই বাহ্যিক কোন বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি অনেক গভীরের বিষয়, অন্তরের বিষয়। জোর করে ভালোবাসা আদায় করা যায় না, ভালোবাসায় জোর খাটালে মিলনেও ধর্ষণের শাস্তি জোটে। ভালোবাসা কেবল ভালোবাসা দিয়েই আদায় করা যায়। মান্না দে সেই কবে গেয়ে গেছেন ভালোবাসার গান, তবুও দেশের রাজনীতিবিদরা কেবলই জোর খাটাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। কারন রাজনীতিবিদদের যত ক্ষমতাই থাকুক না কেন, ভালোবাসার ক্ষমতা নেই। ভালোবাসতে হৃদয় লাগে, হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে।
    যদি কাগজে লেখ নাম, কাগজ ছিড়ে যাবে
    পাথরে লেখ নাম, পাথর ক্ষয়ে যাবে
    হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে।।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন