আইবিবিএল’র এমডির সাক্ষাৎকার

আইবিবিএল’র এমডির সাক্ষাৎকার বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি : মু. ফরীদউদদীন আহমাদ

প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০তম শাখার মাইলফলক স্পর্শ করল। এ প্রেক্ষাপটে আপনার অনুভূতি কি?

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী ব্যাংক ১৯৮৩ সালে ঢাকার লোকাল অফিস শাখার উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া শাখা উদ্বোধনের মাধ্যমে ২০০তম শাখার মাইলফলক স্পর্শ করেছে। পার্বত্য জেলাসহ দেশের সব জেলাতেই আমাদের শাখা সমপ্রসারিত হয়েছে। এ বছর আরও ১১টি শাখা খোলা হবে। ছোট ও মাঝারি শিল্প বিকাশে গত বছর খোলা হয়েছে ১০টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার। এ বছর খোলা হবে আরও ১০টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার অস্তিত্ব নিয়ে এদেশে যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল আজ ইসলামী ব্যাংকিং এক অনিবার্য বাস্তবতা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আমাদের কাছে শাখা খোলার আবেদন আসছে। আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমরা এ আবেদনে সাড়া দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই আমরা আমানত, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে এক নম্বর স্থান অর্জন করছি। দেশের মোট রেমিটেন্সের ২৫ ভাগের অধিক আমরা একাই আহরণ করছি। ব্যাংকিং সেক্টরে এটা বিরাট সাফল্য। বছর শেষে আমরাই সর্বোচ্চ মুনাফা করছি। ব্যাংকিং সেক্টরে সরকারকে সবচেয়ে বেশি আয়কর প্রদান করছি। আমাদের এ সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এদেশে আরো ৭টি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে। আরও ক’টি ব্যাংক সনাতনী ব্যাংকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং উইনডো চালু করেছে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের ২০০তম শাখা উদ্বোধনের এ শুভক্ষণে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

প্রশ্ন : বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : বিশ্বব্যাপী যে মন্দা সৃষ্টি হয়েছে তা মূলত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবিবেচনাসুলভ মাত্রাতিরিক্ত ঋণদান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের অপর্যাপ্ত বিধি-বিধান, অস্বচ্ছ লেনদেন, নানা ধরনের দুর্বোধ্য আর্থিক পদ্ধতির প্রচলন, ‘পতন ও লোকসান হবে না’ বলে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মিথ্যা অহঙ্কার, আর্থিক লেনদেনে ফটকাবাজি ও জুয়ার আধিক্য এবং অতিলোভ থেকে উদ্ভূত সঙ্কটের কারণে ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেমে তারল্য-সঙ্কট ও বিপুল লোকসান দেখা দেয়। কিন্তু ইসলামী ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেমে এ ধরনের কার্যক্রম থাকার কথা নয়।

প্রশ্ন : বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার মধ্যেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সকল পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ন রেখেছে। ইসলামী ব্যাংকের এ সাফল্যের মূল কারণ কি?

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : আমি আগেই বলেছি, সারাবিশ্বে ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। যে কারণে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডও তেমন কোন ঝুঁকির মধ্যে পড়েনি। তবে দুনিয়া জুড়ে যখন এর প্রভাব চলছে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা আঘাত তো আসতেই পারে। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবাণীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড তার পারফরমেন্সের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ সাফল্যের মূল কৃতিত্ব প্রথমেই দিতে হয় ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে। একই সঙ্গে ব্যাংকের গতিশীল নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, দক্ষতা ও ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের অগাধ আস্থার কারণে ব্যাংক মন্দা মোকাবেলার মাধ্যমে গত বছরগুলোর মতো এবারও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ ব্যাংকের সামগ্রিক জনশক্তি তথা পরিচালকরা, শেয়ারহোল্ডাররা, শরী’আহ্ কাউন্সিল এবং সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর আত্মনিবেদিত সমন্বিত প্রয়াস এ ব্যাংককে একদিকে যেমন দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের মর্যাদায় আসীন করেছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের জন্য সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে।

প্রশ্ন : চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানত, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে কতটা সফল হয়েছে ?

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড আমানত সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্য সমপ্রসারণে সাফল্য অব্যাহত রেখেছে। মে ২০০৯ পর্যন্ত ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা; পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ২০ শতাংশ। এ সময় বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা; পূর্ববর্তী বছর একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার ১৮ শতাংশ। এ সময় ব্যাংক মোট বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পাদন করেছে ১৭ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা; এর মধ্যে আমদানী ৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা, রপ্তানি ৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা এবং রেমিটেন্স আহরণ হয়েছে ৭ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা; এ ক্ষেত্রেও ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে তার শীর্ষ স্থান অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে আল হামদুলিল্লাহ।

প্রশ্ন : ইসলামী ব্যাংক দেশের মোট রেমিটেন্সের ২৫ ভাগের অধিক একাই আহরণ করছে। বৈদেশিক রেমিটেন্স আহরণের ক্ষেত্রে আপনাদের এ সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করবেন কি?

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : দেশের মোট রেমিটেন্সের ২৫ ভাগের অধিক ইসলামী ব্যাংক একাই আহরণ করছে। যা দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বিরল সাফল্য। এ সাফল্যের পেছনে মূল কারণ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের আস্থা ও বিশ্বাস। প্রবাসীদের টাকা দেশে আনার জন্য এ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮২টি ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেছে এবং বিশ্বের ৯১৯টি ব্যাংকের সঙ্গে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এর ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ইসলামী ব্যাংকের স্পট ক্যাশ সার্ভিসে দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন। আর স্পট ক্যাশ পদ্ধতিতে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা একাউন্ট ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকের যে কোন শাখা থেকে নগদে তুলে নেয়া যায়। প্রাপকের একাউন্টেও সরাসরি জমা হয়। এত দ্রুত ও নিরাপদ গ্রাহক সেবার কারণেও প্রবাসীরা আমাদের ওপর আস্থা রাখছে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের কেন্দ্রীয় রেমিটেন্স প্রসেসিং ডিভিশন এবং শাখাগুলো অনলাইন ব্যাংকিং, ইন্টারনেট, ই-মেইল আর উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সার্ভিস চালু হওয়ার ফলে প্রবাসীদের পাঠানো টাকা অতি দ্রুত প্রাপকের কাছে পেঁৗছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। আমাদের ২০০টি শাখার মধ্যে ১১২টি শাখাই ইতোমধ্যে অনলাইন সেবার আওতায় আসায় গ্রাহক দ্রুত সার্ভিস পাচ্ছেন।

প্রশ্ন : বিভিন্ন ব্যাংক এখন এসএমই ব্যাংকিংয়ের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইসলামী ব্যাংকের এসএমই ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলুন।

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : এসএমই খাত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। এ গুরুত্ব অনুধাবন করে ইসলামী ব্যাংক গত বছর ১০টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে এবং এ বছর আরো ১০টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার চালু করবে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলামী ব্যাংক জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন স্কিমের আওতায় এসএমই বিনিয়োগ প্রদান করে আসছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এসএমই’র ভূমিকা বিবেচনা করে ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে একটি স্বতন্ত্র ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করে এ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইসলামী ব্যাংক এসএমই’র আওতায় উৎপাদনশীল, ট্রেডিং ও সেবা খাতে ২ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে থাকে। ৩১ মার্চ ২০০৯-এ ব্যাংকের এসএমই বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। যা ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের ১৯ শতাংশ। এ খাতে বিপুল বিনিয়োগ প্রমাণ করে, ইসলামী ব্যাংক দেশের শিল্পায়ন, অর্থনীতির দ্রুত অগ্রগতি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে বদ্ধপরিকর। এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন সময় ব্যাংক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করে থাকে। এ খাতে বিনিয়োগে নারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নারীদের জন্য নারী উদ্যোক্তা বিনিয়োগ প্রকল্পও চালু করা হয়েছে।

প্রশ্ন : জাতীয় অর্থনীতিতে এবং এদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে ইসলামী ব্যাংকের অবদান সম্পর্কে বলুন?

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : জাতীয় অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকিং প্রভূত অবদান রেখে চলেছে বলে আমি মনে করি। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, রিয়েল এস্টেট ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ বিনিয়োগ করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। ইসলামী ব্যাংক দেশের শিল্প খাতে তার মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫৫ শতাংশ বিনিয়োগ করে দেশের শিল্প সমপ্রসারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। গত বছর এ ব্যাংক শীর্ষ ১০ করদাতা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে বিপ্লব সাধন করেছে। কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের ঈর্ষণীয় সাফল্য এবং দেশের মানুষের ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে নতুন নতুন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং অনেকে সনাতনী ব্যাংকিং ব্যবস্থা বাদ দিয়ে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং চালুর চিন্তা-ভাবনা করছে। ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে আমরা ব্যাপকভাবে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ করছি।

 প্রশ্ন : দেশের অধিকাংশ ব্যাংকই শহরভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইসলামী ব্যাংক গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য কি ভূমিকা রাখছে?

 মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগণ গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কোন দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের আওতার বাইরে রেখে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়_ বিষয়টি উপলব্ধি করে ব্যাংকের ২০০টি শাখার মধ্যে ৯২টি শাখা গ্রামাঞ্চলে চালু করা হয়েছে। এ বছর আরও ১১টি শাখা চালু করা হবে। এছাড়া আমাদের ১০টি এসএমই সার্ভিস সেন্টারের পাশাপাশি এ বছর আরও ১০টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার চালু হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব বলে আমরা সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনিয়োগ প্রদান করছি। ব্যাংকের ‘পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প’র মাধ্যমে গ্রামের হতদরিদ্র জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করে গ্রাম উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচনা করছে।

প্রশ্ন : গ্রাহকসেবা উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ডিভিশন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নতুন কম্পিউটারাইজড এপ্লিকেশনস এবং পরবর্তী সময় প্রযুক্তি ও পেশাগত সহায়তার উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রসারের জন্য দায়িত্বশীল। ব্যাংক গণব্যাংকিং করায় এর শাখাগুলোর কাউন্টারের ওপর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে, এটি স্বীকার্য। এ অতিরিক্ত চাপ লাঘব করার জন্য ইসলামী ব্যাংক অগ্রসর প্রযুক্তির সাহায্যে এটিএম সার্ভিস চালু করেছে। আমাদের ২৭টি এটিএম বুথের পাশাপাশি শিগগিরই আরও ২০০টি নিজস্ব এটিএম বুথ এবং ৫০০টি পিওএস স্থাপন করা হবে। যার মধ্যে ৫০টি এটিএম বুথ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই চালু হবে।

প্রশ্ন : করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ইসলামী ব্যাংক কি কি সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে?

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশব্যাপী জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন’ নামে একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা হয়েছে। এ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। ফাউন্ডেশন ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালে ৬টি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছে। সাতক্ষীরা, মানিকগঞ্জ, রংপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ ও দিনাজপুরে ৬টি কমিউনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছে। নওগাঁ, ময়মনসিংহ ও ফেনীতে আরও ৩টি হাসপাতালের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হচ্ছে। ব্যাংক তার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে সড়কদ্বীপের সৌন্দর্য বর্ধন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। সমপ্রতি পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত শহীদ পরিবারের জন্য ব্যাংক এককালীন সহযোগিতা ছাড়াও ৪ সেনা কর্মকর্তার পরিবারকে ১০ বছর আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।

প্রশ্ন : আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন।

মু. ফরীদউদদীন আহমাদ : আমরা ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সমপ্রসারিত করার লক্ষ্যে এবং দেশের আপামর জনগণের দোরগোড়ায় এর সেবা পেঁৗছে দেয়ার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরাই প্রথম বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর সুফল দেশের সর্বস্তরের জনগণের দোর গোড়ায় পেঁৗছে দেয়া আমাদের অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য ২০২০ সালের মধ্যে ৮৫ হাজার গ্রামে আমাদের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেশের প্রতিটি গ্রামকে আদর্শ গ্রামে রূপান্তরিত করতে চাই। আমাদের দেশের সম্পদ হলো জনশক্তি। আমরা এ সম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে চাই। দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচি জোরদার করতে চাই। বেকারত্ব অবসান করতে চাই যাতে প্রত্যেক ব্যক্তির আত্মসম্মান বোধ বাড়ানো যায়। শহর ও গ্রামের ব্যবধান কমিয়ে আনতে চাই। অনুন্নত এলাকায় শাখা খুলতে চাই। যেসব এলাকায় শিল্প সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে শিল্পের প্রসার ঘটাতে চাই। এসএমইসহ সব ধরনের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে আমরা এমনভাবে বিনিয়োগ করতে চাই যাতে বিনিয়োগ ও সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে পুঞ্জীভূত না হয় এবং বিশেষ কিছু অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমরা শিগগিরই বেশ কিছু সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রডাক্ট চালু করব। এ নিয়ে শরী’আহ বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ইসলামী ব্যাংক শিগগিরই দেশে বিদ্যমান ক্রেডিট কার্ডের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামী ব্যাংক খিদমাহ কার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগিরই এ কার্ড গ্রাহকদের হাতে পেঁৗছবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা এবং সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা এ ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিকমানের ব্যাংককে পরিণত করব ইন্শাল্লাহ। [সংগৃহীত]

Be Sociable, Share!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।