মা দূর্গার আগমনে শেখ হাসিনার গোলা ভরে!

 হাটে হাড়ি ভাঙ্গা সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিক্‌স একের পর এক গোপন তারবার্তা ফাঁস করে বিশ্বব্যাপী রাঘব-বোয়ালদের যে ভাবে ফেঁসে দিয়েছে তা নজীরবিহীন। বিশ্বের মহা মহা শক্তিধর রাষ্ট্র ও ব্যক্তিত্বদের এত বেশী কেলেংকারী নিয়ে ওরা মেতে উঠেছিল যে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশের রাজনীতির নর্দমায় হাত দেবে কি না তা নিয়ে সকলেরই কৌতুহল ছিল। অবশেষে একে একে বেশ কিছু গোপন তারবার্তায় বাংলাদেশের নেতা-নেত্রী আর রাজনীতির বিভৎস্য কিছু চিত্র উঠে এসেছে। বলাই বাহুল্য, এ সকল তারবার্তা উইকিলিক্‌স এর নয়, বরং এগুলো বাংলাদশস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে প্রেরিত অত্যন্ত গোপনীয় তারবার্তা। তারবার্তায় উইকিলিক্‌সের মতামত প্রতিফলিত হয় না, ওগুলো বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন মাত্র।

২০০৬ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে প্রেরিত তারবার্তায় তৎকালীন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস লেখেন, “আওয়ামী লীগ দাবি করে থাকে যে এটি ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্যবোধে বিশ্বাস করে এবং সমর্থন করে। এটি আরো দাবি করে যে তারা ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধ শক্তি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাদের কাজে-কর্মে ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদের প্রতিফলন কদাচিৎ দেখা যায়”। উইকিলিক্‌সে প্রকাশিত এ রিপোর্টের পরে বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত দায়িত্বশীল পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে “আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার হলেও আচরণে ভিন্ন—উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া এ তথ্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?” শিরোনামে একটি অনলাইন জরিপ করে। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশের আড়ালে অধর্মের ব্যবসা করে, সাধারণ মানুষের এমন দাবী অনেক পুরনো। কিন্তু ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন পাঠকদের মতামত দেখে সকলেরই আক্কেল গুড়ুম হওয়ার জোগাড়। পত্রিকার অনলাইন পাঠকের ৮২.২% বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষ আচরণ করে না, মাত্র ১৬% আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষায় আস্থাশীল বলে জরিপে প্রতিয়মান হয়।

ধর্ম নিরপেক্ষতার যদিও একটা রংচঙা সংজ্ঞা আছে, তবে প্রকৃতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষা বলতে উপমহাদেশে ধর্মহীনতাকেই বোঝায়। তবে আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে ইচ্ছেমতো যে কোন ধর্মের যে কোন আচার অনুষ্ঠানকে পালন করাকেই ধারণ করে, মাঝারী ও প্রথম শ্রেণীর নেতাদের আচার আচরণে এটি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। আজ শেখ হাসিনা শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে মন্দির পরিদর্শনকালীন তার বক্তৃতায় এটি আরো স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, “গজে করে যখন মা দূর্গা আসে তখন দেশে নাকি অনেক ফসল হয়, এটা একটা কথিত আছে। কাজেই আমরা আশা করি আমরা আগামীতেও ফুলে ফলে ফসলে ভরে উঠব, দেশের মানুষ উন্নত হবে”। তার এমন বক্তব্য তুমুল কড়তালি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে উপস্থিত আওয়ামী নেতৃবৃন্দ ও হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে সমাবৃত হয়। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই দূর্গা দেবীর প্রতি শেখ হাসিনার অবিচল আস্থা দেখে দেশবাসীর মতো আমিও স্তম্ভিত। কি করে নিজেকে একজন মুসলমান বলে পরিচয় দেয়ার পরও শেখ হাসিনা দেব-দেবীতে বিশ্বাস স্থাপন করেন, কি করে তিনি আশা করেন দূর্গার গজে চেপে আগমনে দেশ ফুলে ফলে ফসলে সুশোভিত হবে?

এটিই প্রথম নয়, এর আগেও শেখ হাসিনা খাঁটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করেছেন। ভারতে গিয়ে তিনি কপালে তিলক ধারণ করেছেন, কোথাও কোথাও দূর্গা মূর্তিকে শেখ হাসিনার চেহারার আদলে তৈরী করা হয় বলে জনশ্রুতি আছে। এইতো কিছুদিন আগে জন্মষ্টমীর র‌্যালীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন নর্তনকূর্দন করে এলেন। একজন মন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হতেই পারেন, দলীয় স্বার্থে হয়তো তাকে কিছুটা সময় স্বধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতে হয়, কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে তো সে বাধ্যবাধকতা থাকার কথা নয়। অথব অনুষ্ঠান শেষে গাড়ীতে করে বাড়ী যাওয়ার সময়ও তাকে দেখা যায় জন্মাষ্টমী উৎসবের ক্যাপ পড়ে ঘুরে বেড়াতে। একজন মুসলমান সব সময়ই মুসলমান। তাকে জোর করেও ভিন্নধর্মের আচার অনুষ্ঠানে বাধ্য করা সহজ নয়। কিন্তু আওয়ামী নেতৃবৃন্দ মনেপ্রাণে হিন্দু ধর্মকে লালন করেন বলেই সামান্যতম সুযোগটির সদ্ব্যবহার করতে ছাড়েন না। যে কোন অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্ম-কর্মে ঝাপিয়ে পড়ার জন্যই যেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মুখিয়ে থাকেন।

শেখ হাসিনা তার মা দূর্গা দেবীর বর নিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী করতে পারুক বা নাই পারুক, লুটপাটের মহোৎসবে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের গোলা যে ভরে উঠবে তাতে আর সন্দেহ কি।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“মা দূর্গার আগমনে শেখ হাসিনার গোলা ভরে!” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. Shamsun Nahar বলেছেন:

    Hindur Nati to hindu-e hobe er beshi ki ar

    [উত্তর দিন]

  2. M M Hossain বলেছেন:

    Hasiner Gola noe,, Sona vore,haa…Haa.

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন