ঘোড়া দাবড়ানোর দিন এলো আবার

রমজানে খতম তারাবী কোন হাফেজ সাহেব কত দ্রুত পড়াতে পারেন, সাধারণত তার উপর হাফেজ সাহেবদের সম্মান ও সম্মানী নিভর্র করে। এ ক্ষেত্রে রমজান শুরু হতেই শোনা যায় যে এপাড়ার মসজিদের হুজুর চল্লিশ মিনিটে খতম তারাবী পড়ান তো ওপাড়ার মসজিদে আধা ঘন্টায় খতম তারাবী পড়ানো হয়। ফলে রিক্সা ভাড়া দিয়ে হলেও সবাই দৌড়ায় এসব মহান মহান ব্যক্তিদের মসজিদে, যারা কোরআন তেলাওয়াতকে নামিয়ে এনেছেন পুরোহিতদের মন্ত্রপাঠের স্তরে। তারা যা পড়েন তা তারা নিজেরাও বোঝেন কিনা সন্দেহ, তবে আমরা আম জনতা যে দুয়েকটি সূরা ছাড়া বাকি তেলাওয়তের বিন্দু বিসর্গও বুঝি না তা তারা বোঝেন না কিংবা বলা যায় তারা বোঝার চেষ্টাও করেন না। ফলে প্রথম দিন সূরা ফাতিহা আর সূরা বাকারার কয়েক আয়াত আমাদের সবারই কিছুটা জানা থাকায় কষ্ট হয় না, তবে দ্বিতীয় দিন থেকেই ঘুমকাতুরে নামাজীর দল ভারী হতে থাকে, অনেকে নামাজের ফাঁকে একটু ঝিমিয়ে নিয়ে প্রথম রাকাতের রুকুর তাকবীর দেয়ার পর নামাজে সামীল হন। দিনে দিনে এদের পাল্লা ভারী হয়, ভারী হয়  খতম তারাবী নেকীর (!) পাল্লা। খতমে তারাবী পড়ানোর নামে ঘোড়া দাবড়ানোয় ছিটকে পড়ে মুসল্লির দল। তাই শেষ রোজার দিকে এক কাতার মুসল্লীও তাই পাওয়া যায় না মসজিদগুলেতো ,আর যারা থেকে যান তারাও প্রতি রাকাতে গুনতে থাকেন আর কত রাকাত আর বাকী তারাবীর। তাহলে শুধু মাত্র ছওয়াবের নিয়তে এ ধরণের হাস্যকর নামাজের কি আদৌ প্রয়োজন আছে? যদি খতম তারাবী সত্যিই পড়ার আগ্রহ থাকে তবে সঠিক ভাবে ইমাম নিয়োগ করা উচিৎ যারা সহিহ সুদ্ধ ভাবে স্পষ্ট উচ্চারণে কোরআনকে হৃদয়ঙ্গমের সাথে আবৃত্তি করে মুসল্লীদের শোনাবেন, যাতে সত্যিকারের সওয়াবের ভাগীদার হতে পারেন তারা। নয়তো ঘোড়া দাবড়ানো খতম তারাবীর চেয়ে ধীরস্থির ভাবে ছোট ছোট সূরা দিয়ে সূরা তারাবী পরাই সমিচিন নয় তি?

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন