ধর্ষিত গণতন্ত্রের ঘায়ে প্রথম আলোর নুণের ছিঁটা

সুসময়ে বন্ধু বটে অনেকেই হয়, অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়। দু:সময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। আর এ বন্ধুত্বের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা। প্রথম আলো পত্রিকাটি প্রথম থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। তবে অন্য সব দলীয় পত্রিকা থেকে এ পত্রিকাটির ভিন্নতা এখানেই যে এটি সার্বক্ষণিক দলীয় প্রচার প্রচারণা চালানোর পক্ষপাতি নয় বরং মোক্ষম সময়ে আঘাত করার পক্ষপাতি। কারো পক্ষে সার্বক্ষণিক বকবক করে গেলে সবাই তাকে চাটুকার কিংবা দালাল ভাবে, আবার সার্বক্ষণিক একটা নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ ভাব নিয়ে কারো পক্ষে কথা বললে সবাই তাকে সত্যিজ্ঞান করে। প্রথম আলো পত্রিকাটি বিজ্ঞতার সাথে সে দায়িত্বটিই যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। তারা জানে কি করে পাঠক ধরে রাখতে হয় এবং কিভাবে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে হয়।

সংসদে বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুককে সংসদ ভবনের সামনে ছাত্রলীগ থেকে বাছাই করে পুলিশে নিয়োগ দেওয়া সন্ত্রাসীদের দ্বারা পৈশাচিক নির্মমতায় পিটিয় পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়, এটি সকল পাঠকের জানা। কারন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে তারা ঘটনাটি চাক্ষুস করেছেন। পেটাতে পেটাতে ফারুকের টিশার্ট খুলে ফেলা হয় এবং এক পর্যায় তার প্যান্টও অর্ধেকটা খুলে প্রায় দিগম্বর হয়ে যান। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন ফারুক দিগম্বর হয়নি বরং গণতন্ত্রকেই ন্যাংটো করে ধর্ষণ করা হয়েছে। অথচ এমন একটি ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা দুটো বিভ্রান্তিকর ছবি প্রকাশ করে সাংবাদিক সমাজের মাথা লজ্জায় হেট করে দিয়েছে। পুলিশের নির্যাতন থেকে বাঁচতে ছুটে চলা আহত ফারুকের ব্যান্ডেজ টেনে তাকে থামাতে চেষ্টা করে হিংস্র রক্ষীবাহিনী। এ মুহুর্তের একটি স্নাপ তুলে নেয় প্র্রথম আলো, পুলিশের টানে উর্ধ্বে ওঠা মোবাইল ক্যামেরাসহ হাতটিকে ঢিল ছোড়ার ভঙ্গি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে। পরে, ব্যা্ন্ডেজ খুলে পুলিশ ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আরো একটি স্ন্যাপ নেয়া হয়, ক্যাপশন করা হয় “বাধা দিতে গিয়ে তার ধাক্কায় পড়ে যান পুলিশ র্কমর্কতা”। কি নির্লজ্জ মিথ্যাচার, মিথ্যের পক্ষে কি অসভ্য অবস্থান। ধর্ষিত গণতন্ত্রের ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকাটি হলুদ সাংবাদিকতায় যে নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করলো তা সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের জন্যই লজ্জার।

পত্রিকার কাটতি বাড়াতে সরকারের দোষ তুলে ধরতে হয় এটাই নিয়ম। নানাবিধ নাগরিক যন্ত্রণায় বিতশ্রদ্ধ সাধারণ মানুষ সরকার বিরোধী কথাবার্তাই পত্রিকায় দেখতে ভালোবাসে। প্রথম আলো পত্রিকা তাদের পাঠকপ্রিয়তা ধরে রাখতে সে পথই অনুসরণ করে। এতে এক সাথে দুটো কাজ হয়, পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষভাব বজায় থাকে, অন্যদিনে সরকার বিরোধী লেখালেখির আড়ালে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করে মূল লক্ষ্য অর্জন করে। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা বিদেশী বিশেষ শক্তির প্রত্যক্ষ মদদে এবং তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই প্রতিষ্ঠিত এ পুরণো ধারণা একটু খেয়াল করলেই পরিস্কার হয়ে যায়। র‍্যাব নিয়ে এই যে নিয়মিত প্রপাগান্ডা তার পেছনেও কিন্তু একই উদ্দেশ্য। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগেই র‍্যাব বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছিল, ক্ষমতায় এসে র‍্যাবকে দলীয়ভাবে দলন নীপিড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার তাদের ক্লীন ইমেজকে কালিমালিপ্ত করেছে। আর সরকারের সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে র‍্যাবকে নিয়ে একের পর এক রিপোর্ট করে প্রথম আলো পত্রিকা প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণরূপে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রথম আলোর রিপোর্টিং প্রকৃতপক্ষে সরকারের যোগসাজশেই করা মাত্র, উদ্দেশ্য একটাই, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সমুহকে বিতর্কিত দেশে অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা, প্রতিবেশী কোন দেশের সেবাদাসে পরিণত করা। আর যত অরাজকতা ততই সংবাদ, ততই পত্রিকার কাটতি, ততই বিজ্ঞাপন, আখের গোছানো।

প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় আপদকালেই প্রমাণিত হয়। আর তার প্রমান দিতে সরকারের সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। জয়নুল আবদীন ফারুকের উপর আঘাতের ফলে বিশ্বে সরকারের ভাবমূর্তি যেভাবে বিপন্ন হয়েছে তা থেকে উদ্ধার করতে প্রথম আলোর আর নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ খেলা করার সুযোগ ছিল না। তাই সঠিক সময়ে বন্ধুর পাশে দাড়িয়ে প্রথম আলো প্রমাণ করলো, “যা কিছু কালো, তার সাথে প্রথম আলো”।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন