রক্ষীবাহিনীর বর্বরতায় বেপরোয়া আওয়ামী লীগ, বিপন্ন মানবতা

প্রকাশ্যে, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া কর্মীদের ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ আর ফ্লাসের ঝলকানি উপেক্ষা করে জাতীয় সংসদের সামনে নির্মমভাবে আঘাতে আঘাতে আহত করা হলো জাতীয় সংসদেরই বিরোধী দলীয় চীপ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুককে। মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে ছুটে যেতে চেয়েছিলেন ন্যাম ফ্লাটের নিজের আবাসে। দাবড়িয়ে ধরা হলো তাকে, গরুর মতো পেটানো হলো লিফটের মাঝে। টেনে হিচড়ে পিকআপ ভ্যানে তুলে চলন্ত পিকআপ ভ্যান থেকেই ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলো তাকে। লাঞ্ছিত করা হলো সংসদের মহিলা সদস্য শাম্মী আক্তারকে। জয়নুল আবদীন ফারুকের রক্তে ভেসে যাওয়া শাম্মীর সাদা কামিজ যেন ধর্ষিত গনতন্ত্রেরই প্রতিচ্ছবি।

কেন এমন উদ্ধত আচরণ আওয়ামী লীগের, কেন এতোটা বেপরোয়া আওয়ামী রক্ষীবাহিনী? কারন একটাই, আওয়ামী লীগের প্রভূরা দারুন নাখোশ হয়েছেন বিএনপি ও সমমনা দলের হরতালে। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর আজকের বাংলাদেশ সফরের দিনে হরতাল ডেকে ভয়ানক বেয়াদবি করেছে বিরোধী দল। কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের বন্ধুত্বকে কটাক্ষ করে বিরোধীরা রাজনৈতিক ফসল তুলতে চায় এমনটাই মনে করছে ভারত। আর তাই প্রভূর অসম্মানে ক্ষুদ্ধ হাসিনা কুৎসিত দন্ত-নখর বাড়িয়ে হামলে পড়েছে বিরোধীদের উপর।

শকুনের অশুচি ডানায় ডুবে আছে বাংলাদেশের সুনীল আকাশ, স্বর্ণোজ্জল সূর্য কিরণ। নিকষ আঁধারে ঢাকা বাঙলা মায়ের সবুজ আঁচল। আধাঁর চীরে কেবলই কানাকুয়োর অশুভ কুপ কুপ ধ্বনি,  শেয়ালের হাক, পিলে চমকানো হায়েনার হাসি। চারিদিকে কেবলই মৃত্যুর হাতছানি। সময়ের দুষ্টচক্রে দুয়ারে দাড়ায়ে আবার বাকশাল, রক্ষিবাহিনীর পদধ্বনি। ত্রাসে কাঁপে বাংলাদেশ, এই বুঝি রাক্ষসের দল কেড়ে নিল নাড়ী  ছেড়ে ধন। এই বুঝি মুজিবের পেতাত্মা চুয়াত্তরের মতো হাতে কুঠার দিয়ে ”ছেলের মাথাটা কেটে দে, ফুটবল খেলবো‘ বলে আব্দার করে। এ যেন বিভিষীকাময় মৃত্যু উপত্যকা। কারো জান মালের নিরাপত্তা নেই, বেঁচে থাকার অধিকার নেই,  কি অপরাধে খুন করছে ওরা তারও কোন উত্তর নেই।

সোনার বাংলা আজ পরিণত হয়েছে মহাশ্বশানে। হত্যা, গুপ্ত হত্যা, ধর্ষণ, গণ ধর্ষণ চারিদিকে কেবলই পৌশাচিক বিভৎসতা। সভ্যতার দম্ভচূড়ায় দাড়িয়ে বিশ্ব কি করে জানবে বাংলাদেশের অপর নাম জাহান্নাম? কি করে বিশ্বাস করবে বিশ্ব বিবেক যে বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের মাত্র আড়াই বছরে দেশে খুন হয়েছে সাড়ে আট হাজার, দুঃস্বপ্নেও কি কখনো ভাবতে পারে যুদ্ধ ছাড়াই কোন দেশে সরকারের মাত্র আড়াই বছরে ধর্ষিত হয় ১ হাজার ২ শত ৩৯ জন মা-ভগ্নি-কন্যা? যুদ্ধের সময়েওকি কোন দেশের সীমান্তে মাত্র আড়াই বছরে প্রাণ হারায় ১৮৩ নিরীহ নাগরিক, তথাকথিত বন্ধুদেশের বিএসএফের পৈশাচিকতায় যা ঘটে গেলো বাংলাদেশে? অথচ এটিই এখন বাংলাদেশের বাস্তবতা। না, মু মুহূর্তে বাংলাদেশ কোন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে প্রত্যক্ষ সমরে অবতীর্ণ নয়, চলছে না ভয়ংকর কোন গৃহযু্দ্ধ। তবুও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের প্রতিটি কোনে কোনে কেন এই রক্ত ক্ষরণ? তবে কি বাংলাদেশের সরকার জনগণকেই প্রতিপক্ষ মনে করে, তবে আওয়ামী সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ১৬ কোটি নিরীহ শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশীদের সাথে?

কি অপরাধ বাংলাদেশের? কি অপরাধ বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের? এক সাগর রক্তের বিনিয়মে অর্জিত স্বাধীনতাকে প্রতিবেশী বন্ধুবেশী হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত বাংলাদেশীর নির্ভেজাল দেশপ্রেমই কি অপরাধ? ৯০ শতাংশ মুসলিম জনতার আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনই কি অপরাধ? অন্যায়, অপশাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী মানুষের রুখে দাড়ানোই কি অপরাধ?

বাঙলার স্বাধীনতা র্সূয যেমন পলাশীর প্রান্তরে অস্তমিত হয়েছিল মীরজাফরের মতো নর্দমার কীটের ষড়যন্ত্রে, আজো তেমনি বাংলার রক্তিম সূর্য ঢেকে দিতে চায় শেখ হাসিনার অস্পৃশ্য আঁচল। কে না জানে, প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্রে, আতাতের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। কেন এসেছে তারা ক্ষমতায় তাও কারো অজানা নয়। দেশের তেল-গ্যাস-সমুদ্রবন্দর দিতে হবে প্রভুদের, দিতে হবে ট্রানজিট ট্রান্সশিপমেন্ট। অথচ ইতোমধ্যে চলে গেছে আড়াইটি বছর। প্রভুদের তীব্র তাড়নায় বেসামাল আওয়ামী সরকার, বিরক্ত আওয়ামী লীগের প্রভূরাও। চারি দিকে শত্রুবেষ্টিত ভারতের কাছে বাংলাদেশের আওয়ামী কৃতদাসেরাই মরুভূমির মাঝে মরুদ্যানসম। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় ঢাকাকে দিল্লির প্রয়োজন ষোলো আনার উপর আঠারো আনা, এমনটাই দাবী ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকার।

আওয়ামী লীগ জানুক বা নাই জানুক, তাদের প্রভূরা জানে, আওয়ামী লীগের দিন শেষ হয়ে এসেছে বাংলাদেশে। দশটাকা সের চাল আর ঘরে ঘরে চাকুরীর যে মহা প্রতারণার ফাঁদে বন্দী করে বাংলাদেশের ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভুতের মতো জেকে বসেছে আওয়ামী লীগ, দুটো বছর যেতে না যেতেই বাংলার মানুষ প্রচন্ড আছাড়ে আওয়ামী মসনদ চূর্ন বিচুর্ন করে দিতে আজ বেপরোয়া। আর তাই ড্রাকুলার মতো ক্ষিপ্রতায় বাংলাদেশকে চুষে চুষে আখের ছোবড়া বানাতে পাগলপ্রায় আওয়ামী লীগের প্রভুরা। ওরা জানে, ষড়যন্ত্র করে বার বার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা যাবে না আওয়ামী লীগকে, জানে আমৃত্যু বোকা বানানো যাবে না ষোলকোটি বাংলাদেশীকে।

আওয়ামী লীগও জানে, প্রভুদের আস্থা ধরে না রাখতে পারলে জনরোষে ভষ্ম হতে হবে। জানে, লাঞ্ছনাকর ক্ষমতাচ্যূত হয়ে ওদের ঠাই নিতে হবে প্রভূদের পায়েই। আর তাই যে কোন মূল্যে প্রভূদের পায়ে তেল মর্দনে ব্যস্ত ওরা। তড়িঘড়ি একের পর এক অপমানজনক চুক্তিতে দেশকে শৃংখলিত করছে আওয়ামী লীগ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সম্পদ শোষণে প্রভূদের সহায়তা দিতে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ। আর তাই গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করছে আওয়ামী লীগ। তুলে দেয়া হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি মীমাসিংত ব্যবস্থা। বিশ্ব দরবারে এক ঘরে করে বাংলাদেশকে কেমবল মাত্র ভারতের সেবাদাসে পরিণত করতে সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারা। ব্রাহ্মণ্যবাদীদের তুষ্ঠ করতে, বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে হেয় করতে সংবিধান থেকে তুলে দেয়া হয়েছে আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা। ক্রমাগত খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশকে। আর এভাবেই বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার মাঝে ঠেলে দিচ্ছেন শেখ হাসিনা।

স্ফটিকের মতো বাঙলার স্বচ্ছ সরোবর ক্রমাগত ঘোলা করছেন শেখ হাসিনা। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান তিনি, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে লুটে পুটে সাবাড় করতে পারে আওয়ামী প্রভূরা, ঠিক যেমনটি লুটে পুটে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিল সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে। হয়তো ওরা আরো বেশী আত্মবিশ্বাসী। বিশ্ব রাজনৈতিক পেক্ষাপটে যে বাংলাদেশকে হাতের মুঠোয় পেয়েও হজম করতে সাহসী হয়নি ভারত সেই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, অস্থিতিমীল বর্তমান বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে হাত রেখে এবার হয়তো ঘোলা পানিতে বড়শিতে তুলে নিতে চায় ২৯তম রাজ্য হিসেবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ যদি ভাগ্যবান হয়, যদি ১৬ কোটি মানুষের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী প্রভূরা, তবে পানি ঘোলা করছে কেন আওয়ামী লীগ? বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলা বাংলাদেশকে আবার অতিদরিদ্র দেশে পরিণত করে অবশেষে কি ক্ষ্যান্ত হবেন শেখ হাসিনা? বাংলাদশে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেই কি তিনি মেনে নেবেন জনতার দাবী দাওয়া? তবে কি বিশেষ কোন প্রাণীর মতো পানি ঘোলা করে খেতেই পছন্দ শেখ হাসিনার?

 

জাতীয় সংসদের সামনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক নির্মমভাবে নির্যাতিত হন মুখোশধারী রক্ষাবাহিনীর হাতে। পরে ন্যাম ফ্লাটে নিয়ে আরেক দফা নির্যাতনে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“রক্ষীবাহিনীর বর্বরতায় বেপরোয়া আওয়ামী লীগ, বিপন্ন মানবতা” লেখাটিতে 5 টি মন্তব্য

  1. monirul islam বলেছেন:

    How fine your blog!

    [উত্তর দিন]

  2. Md Nazrul islam sagar বলেছেন:

    আপনাকে অনেক Thank you. jagoroner sur

    [উত্তর দিন]

  3. mamun বলেছেন:

    haqe kotha

    [উত্তর দিন]

  4. mushfiqur rahman বলেছেন:

    শকুনের অশুচি ডানায় ডুবে আছে বাংলাদেশের সুনীল আকাশ, স্বর্ণোজ্জল সূর্য কিরণ। নিকষ আঁধারে ঢাকা বাঙলা মায়ের সবুজ আঁচল। আধাঁর চীরে কেবলই কানাকুয়োর অশুভ কুপ কুপ ধ্বনি, শেয়ালের হাক, পিলে চমকানো হায়েনার হাসি। চারিদিকে কেবলই মৃত্যুর হাতছানি। সময়ের দুষ্টচক্রে দুয়ারে দাড়ায়ে আবার বাকশাল, রক্ষিবাহিনীর পদধ্বনি। ত্রাসে কাঁপে বাংলাদেশ, এই বুঝি রাক্ষসের দল কেড়ে নিল নাড়ী ছেড়ে ধন। এই বুঝি মুজিবের পেতাত্মা চুয়াত্তরের মতো হাতে কুঠার দিয়ে ”ছেলের মাথাটা কেটে দে, ফুটবল খেলবো‘ বলে আব্দার করে। এ যেন বিভিষীকাময় মৃত্যু উপত্যকা। কারো জান মালের নিরাপত্তা নেই, বেঁচে থাকার অধিকার নেই, কি অপরাধে খুন করছে ওরা তারও কোন উত্তর নেই।

    স্ফটিকের মতো বাঙলার স্বচ্ছ সরোবর ক্রমাগত ঘোলা করছেন শেখ হাসিনা। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান তিনি, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে লুটে পুটে সাবাড় করতে পারে আওয়ামী প্রভূরা, ঠিক যেমনটি লুটে পুটে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিল সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে। হয়তো ওরা আরো বেশী আত্মবিশ্বাসী। বিশ্ব রাজনৈতিক পেক্ষাপটে যে বাংলাদেশকে হাতের মুঠোয় পেয়েও হজম করতে সাহসী হয়নি ভারত সেই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, অস্থিতিমীল বর্তমান বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে হাত রেখে এবার হয়তো ঘোলা পানিতে বড়শিতে তুলে নিতে চায় ২৯তম রাজ্য হিসেবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ যদি ভাগ্যবান হয়, যদি ১৬ কোটি মানুষের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী প্রভূরা, তবে পানি ঘোলা করছে কেন আওয়ামী লীগ? বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলা বাংলাদেশকে আবার অতিদরিদ্র দেশে পরিণত করে অবশেষে কি ক্ষ্যান্ত হবেন শেখ হাসিনা? বাংলাদশে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেই কি তিনি মেনে নেবেন জনতার দাবী দাওয়া? তবে কি বিশেষ কোন প্রাণীর মতো পানি ঘোলা করে খেতেই পছন্দ শেখ হাসিনার? shekh hasina jodi ei lekha gulo porty? khaleda zia kay jodi a lekha gulo paratay partam taholy tar attobishsha bary jeto

    [উত্তর দিন]

    monirul islam উত্তর দিয়েছেন:

    Thank you for your fantastic article!

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন