সংবিধান সংশোধন : ইসলামের অবমাননা ও দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়াই লক্ষ্য !

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বরাবরই এ অভিযোগটি ছিল যে ওরা ইসলামের দুশমন। কথাটি শুনতে যতটা খারাপ হোক না কেন, বিশেষ করে আ’লীগের অনেকেই যেখানে নামাজ রোজাও করেন, নামের আগে আলহাজ্ব টাইটেলও লটকে নেন, সেখানে তাদেরকে ইসলামের দুশমন আখ্যা দিলে কিছুটা খটকা লাগাটাই স্বাভাবিক। আসলে মুসলমানের ছদ্মবেশে আওয়ামী লীগ যে ইসলাম ধ্বংসের ভয়ংকর হাতিয়ার তা বোঝা যায় তাদের ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড দেখে। বিশেষ করে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক ইসলামী মূলনীতির উপর চরম আঘাতের মাধ্যমে তাদের ইসলাম বিদ্বেষী কুৎসিত চেহারাকে উন্মোচিত করেছে। আর এর সবচেয়ে নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হতে পারে বর্তমান সংবিধান সংশোধনের নামে বাংলাদেশ থেকে ইসলাম নির্মূল আন্দোলন। আর এ দায়িত্বটি অত্যন্ত দৃঢ়তা, আন্তরিকতা ও শঠতার সাথে শেষ করে এনেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। সংবিধান সংশোধনের দায়িত্ব যখন সুরঞ্জিতের মতো কোন কট্টরপন্থী মৌলবাদী হিন্দু নেতার হাতে থাকে তখন সে সংবিধানে ইসলামের স্থান কতটা করুণ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

প্রথমেই চোখ ফেরানো যাক সংবিধানের প্রস্তাবনার ২য় অনুচ্ছেদের দিকে। ২য় অনুচ্ছেদে যেখানে  “সর্বশক্তিমান আল্লাহের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” কথাগুলো লিপিবদ্ধ ছিল তা বাতিল করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি। শুধু কি তাই? সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদ মূলনীতি থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেয়া হচ্ছে, একই সাথে বিলুপ্ত করা হচ্ছে “সর্বশক্তিমান আল্লাহের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসই হইবে যাবতীয় কার্যাবলীর ভিত্তি” লাইনটিও।

যে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ, তা পরিবর্তনেও সচেষ্ট ওরা। তবে ইতোমধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় আপাতত রক্ষা পাচ্ছে রাষ্ট্রধর্ম। কিন্তু তাতে আশ্বস্ত হওয়ার কিছু নেই বরং উদ্বিগ্ন হওয়ার অনেক কিছুই রয়েছে। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখার পাশাপাশি সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদের সংশোধনের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের সাথে হিন্দু, বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মকেও সমান মর্যাদা ও সমান অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামকে নামে মাত্র রাষ্ট্রধর্ম রাখা হলেও প্রকৃতপক্ষে অন্য সকল ধর্মকেই রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। আর এ জন্যই সংবিধানের শুরুতে ভূমিকার উপরে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীমের সাথে সাথে “পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে।” শব্দগুলিও অর্ন্তভূক্ত করার ধৃষ্টতা দেখানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দিতে না পেরে অন্য ধর্মগুলোকেও সমান অংশীদার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে ২য় আরেকটি দফায় “জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন” সংযুক্ত হচ্ছে, যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। এর মাধ্যমে মূলত সরকার সিডো চুক্তিকে সাংবিধানিক শক্তিশালী ভীতের উপর প্রতিষ্ঠিত করছে, যার মাধ্যমে বিতর্কিত নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সামাজিক অস্থিরতা, বিশৃংখলা, বেহায়পনার সূতিকার যে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল হয়েছিল, আজ তা আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সংবিধানে। আনা হচ্ছে আরো বেশী শক্তিশালী রণসাজে সজ্জিত করে, ইসলামের শান্তির পতাকা ভূলুন্ঠিত করার অভিপ্রায়ে। নতুন ৪টি দফাসহ পুনরুজ্জিত করা হচ্ছে ১২ নং অনুচ্ছেদকে যার মাধ্যমে মূলত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে নতুন ৪টি দফা সংযুক্তির মাধ্যমে মূলত ধর্মীয় রাজনীতি, সংগঠন, এনজিও, ক্লাব, পাঠাগার সবকিছুই নিষিদ্ধ করা সম্ভব হবে। একই সাথে ভারতের বিরোধীতাকারী যে কোন সংগঠনকেও বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ তৈরী হবে এ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে। ফলে ফেলানীর মতো হাজারো কিশোরী কাঁটাতারে ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির নগ্নতা বিশ্ববিবেকের কাছে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট করে তুললেও তার বিরুদ্ধে টুশব্দটি করার অধিকার থাকবেনা দেশপ্রেমী বাংলাদেশীদের।

সংশোধিত সংবিধান বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের জন্য ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে ধেয়ে আসছে। সংশোধিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭ এর খ দফা (৩) এর মাধ্যমে ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন অর্ন্তভূক্ত করার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী, জামায়াত নেতৃবৃন্দ কিংবা কোন নেতাকে মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব হবে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬ এর সংশোধনের মাধ্যমে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। অনুচ্ছে ১২২ এর ঙ ধারা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, কর্মীদেরকে ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

তবে সবচেয়ে আতংকের বিষয় হলো সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছের ২ দফাও বাতিল করা হচ্ছে। এ দফায় উল্লেখ রয়েছে, “রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করিতে সচেষ্ট হইবেন।” এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের যে সীমাহীন দূরত্বের সৃষ্টি হবে, তাতে বাংলাদেশের কূটনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। মধ্যপ্রাচে কর্মরত বাংলাদেশের অর্ধকোটি শ্রমিক পড়বেন ঝুকির মুখে, হারাবেন চাকুরী। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারো পরিণত হবে তলাবিহীন ঝুড়িতে, পরিণত হবে ভারতের ভৃত্যরাষ্ট্রে।

তবে অন্ধকারের মাঝে আলোর একচিলতে বিচ্ছুরণও দেখা যায়। বর্তমান সংবিধানের কারণে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় নাতি-নাতনী, নাতবৌ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যোগ্য নয়। বর্তমান প্রস্তাবিত সংবিধানে যেমন শেখ মুজিবের কোষ্ঠিকাহিনী লিপিবদ্ধ হয়েছে, যেমন তার প্রতিকৃতি যেখানে সেখানে টাঙ্গিয়ে রাখার বিধান করা হয়েছে, যেমন তাকেই স্বাধীনতার ঘোষক বানানো হয়েছে, ঠিক তেমনি তার নাতী-নাতনী-নাতবৌদেরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বানানোর সুযোগ করে দিয়েছে। অনুচ্ছেদ ৬৬ এর ২ (ক) ও ২(খ) প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিদেশ প্রবাসী সন্তানদের এদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যোগ্য করার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে সংবিধান সংশোধনের নামে যে তামাশা চলছে তা দেখে যাদের হৃদয়ে ইসলামের এতটুকু আলোও অবশিষ্ট রয়েছে তাদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধনের নামে বাংলাদেশ থেকে ইসলামের নাম-নিশানা নিশ্চিহ্ন করতে চায়। নিশ্চিহ্ন করতে চায় পৌত্তলিকতা আর ধর্মহীন অনৈতিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইসলাম আন্দোলনকে। হত্যা করতে চায় ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীদের। যারা ইসলামে বিশ্বাসী নয়, তাদেরও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, সংবিধান সংশোধন কেবলমাত্র গুটিকয়েক ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থহাসিলের জন্যই, ইসরাইল-ভারতের চর জয়-ক্রিস্টিনা-পুতুলদের জন্য। এ সংশোধনী যদি অনুমোদন পায় সংসদে, তবে তা হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলংকজনক অধ্যায়। তাই, সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক ও ইসলামী তৌহিদী জনতাকে এখুনি ঝাপিয়ে পড়তে হবে আওয়ামী বাকশালীদের বিরুদ্ধে। ইসলাম ও দেশ আজ বন্দি হিংস্র হায়েনার থাবায় । দেশপ্রেমী তৌহিদী জনতার জেগে ওঠার এইতো সময়।

*************************************************

সংবিধান সংশোধন

৫১ সুপারিশ

সংবিধান সংশোধনে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ৫ জুন রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে।
এতে যে ৫১টি সুপারিশ করা হয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ এখানে প্রকাশ করা হলো :
১. সংবিধানের প্রস্তাবনার ওপর সনি্নবেশিত হবে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে/পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে।’
২. সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম অনুচ্ছেদে ক) ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’ শব্দের পরিবর্তে ‘জাতীয় মুক্তির ঐতিহাসিক সংগ্রামের শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। খ) প্রস্তাবনার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত হবে ‘আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এ সংবিধানের মূলনীতি হইবে।’
৩. সংবিধানের অনুচ্ছেদে প্রতিস্থাপিত হবে ‘২ ক) রাষ্ট্রধর্ম-প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।’
৪. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪-এ নতুন দফা (৫) সংযোজিত হবে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে।’
৫. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৪ ক) বিলুপ্ত হবে।
৬. অনুচ্ছেদ ৬ এর পরিবর্তে ‘৬ (১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে। (২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলিয়া পরিচিত হইবেন।’ প্রতিস্থাপিত হবে।
৭. অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীদের শাস্তির বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৭ এর পর নতুন অনুচ্ছেদ ৭ ক) সনি্নবেশিত হবে। এতে এটিকে অপরাধ বিবেচনায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে এবং ওই ব্যক্তির রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হবে বলে উল্লেখ করা হয়। অপরাধে দোষী ব্যক্তি সংসদের আইন দ্বারা অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দ-ের মধ্যে সর্বোচ্চ দ-ে দ-িত হবে।
৮. সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার জন্য নতুন অনুচ্ছেদ ৭ খ) সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয় ‘এ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহাই কিছু থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম ক-ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলি সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের অনুচ্ছেদ ১৫০-সহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোর বিধানাবলি সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।’
৯. অনুচ্ছেদ-৮ এর রাষ্ট্রীয় মূলনীতির দফা ১ ও ১ ক) এর পরিবর্তে ‘(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা_ এ নীতিসমূহ এবং তৎসহ এ নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে’ প্রতিস্থাপিত হবে।
১০. বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৯-এ প্রতিস্থাপিত হবে ‘ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।’
১১. অনুচ্ছেদ ১০-এ প্রতিস্থাপিত হবে ‘সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি মানুষের ওপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।’
১২. ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবায়নের জন্য ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান, গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার ও ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার ওপর নিপীড়ন-বিলোপ করা হইবে’ প্রতিস্থাপিত হবে।
১৩. অনুচ্ছেদ ১৮-এর পর নতুন অনুচ্ছেদ ১৮ ক) পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সনি্নবেশিত হবে। এতে বলা হয়-‘পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা বিধান করিবেন।’
১৪. ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’ অনুচ্ছেদ ১৯ এর দফা (৩) সংযোজিত হবে।
১৫. উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশ নামে ২৩ ক) নতুন অনুচ্ছেদ সনি্নবেশিত হবে। সুপারিশে বলা হয় ‘রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’
১৬. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫ এর দফা (২) বিলুপ্ত হবে।
১৭. অনুচ্ছেদ ৩৮ এর পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত হবে- ‘সংগঠনের স্বাধীনতা’ (১) জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে; তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির উক্ত রূপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি ক) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; খ) উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে জঙ্গিকার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা উহার গঠন ও উদ্দেশ্য এ সংবিধানের পরিপন্থী হয়।
১৮. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪২ এর দফা ২ ও ৩ এর পরিবর্তে ‘২ এ অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত আইনে ক্ষতিপূরণসহ বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখলের বিধান করা হইবে এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ কিংবা ক্ষতিপূরণ নির্ণয় ও প্রদানের নীতি পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হইবে; তবে অনুরূপ কোন আইনে ক্ষতিপূরণের বিধান অপর্যাপ্ত হইয়াছে বলিয়া সেই আইন সম্পর্কে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না’ প্রতিস্থাপিত হবে।
১৯. অনুচ্ছেদ ৪৪ এর পরিবর্তে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ ‘(১) এ ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের ১ দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল। (২) এ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতাদান করিতে পারিবেন’ প্রতিস্থাপিত হইবে।
২০. মূল সংবিধানের কতিপয় আইনের হেফাজত সংক্রান্ত বিধান এবং যুদ্ধাপরাধী বিষয়ে ৪৭ অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ রয়েছে।
২১. নির্দলীয় তত্ত্বাববধায়ক সরকারের মেয়াদকালে কতিপয় বিধানের অপ্রযোজ্যতা (অনুচ্ছেদ ৫৮ ক) অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হইবে।
২২. নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২-ক পরিচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ ৫৮-খ, ৫৮-গ, ৫৮-ঘ ৫৮-ঙ)। এতে বলা হয়, সংবিধানের ২-ক পরিচ্ছেদ বিলুপ্ত হবে।
২৩. অনুচ্ছেদ ৬১-এ সংশোধনের সুপারিশে বলা হয় ‘নিয়ন্ত্রিত হইবে এবং যে মেয়াদে ৫৮-খ অনুচ্ছেদের অধীনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকিবে সেই মেয়াদে উক্ত আইন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পরিচালিত হইবে’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘নিয়ন্ত্রিত হইবে’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে।
২৪. সংসদে নারী আসন বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৬৫ এর ক দফার (৩) এর ‘পঁয়তালি্লশটি আসন’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘পঞ্চাশটি আসন’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হবে।
২৫. সংসদ সদস্য প্রার্থী হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা ৬৬ অনুচ্ছেদের ক দফায় ‘ঙ তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন যে কোন অপরাধের জন্য দ-িত হইয়া থাকেন;’ খ দফায় ‘(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা (খ) অন্যক্ষেত্রে পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে- ‘প্রতিস্থাপিত হবে।
২৬. অনুচ্ছেদ ৭০-এ ‘রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া (১) কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি_ ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে; তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না’ প্রতিস্থাপিত হবে।
২৭. রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বিলে সম্মতিদান বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৮০ এর ক-দফা (৩) এর ‘সম্মতি দান করিবেন’ শব্দগুলির পরে ‘কিংবা তাহাতে সম্মতিদানে বিরত রহিলেন ঘোষণা করিবেন’ শব্দ সনি্নবেশিত হবে। খ-দফা (৪) এর ‘মোট সংসদ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের দ্বারা’ শব্দগুলি বিলুপ্ত হবে।
২৮. আর্থিক ব্যবস্থাবলি সম্পর্কিত বিলে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৮২-এর শর্তাংশে ‘তবে শর্ত থাকে যে’ শব্দগুলি ও কমার পরিবর্তে ‘কোন অর্থ বিলে’ শব্দগুলি সনি্নবেশিত হবে।
২৯. সংসদ ভঙ্গ অবস্থায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ প্রণয়ন ক্ষমতার সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের দফা (১) এর ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হবে।
৩০. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৯৫ এর পরিবর্তে ‘৯৫ (১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন’ প্রতিস্থাপিত হবে। বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকে এ অনুচ্ছেদে ২ ও ৩ দফাও প্রতিস্থাপিত হবে।
৩১. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও বিচারকের ন্যায় অপসারণযোগ্য পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের অপসারণ পদ্ধতি বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৯৬ এ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রেখে কিছু সুপারিশ রাখা হয়েছে।
৩২. অনুচ্ছেদ ৯৮-এর সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ বিষয়ে ‘যে কোন অস্থায়ী মেয়াদের জন্য আপিল বিভাগে আসন গ্রহণের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ রয়েছে।
৩৩. অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের বিচার বিভাগীয়/আধা-বিচার বিভাগীয় পদে নিয়োগের বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৯৯-এ বলা হয়, ‘তারা প্রজাতন্ত্রের কোন লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না। তবে আপিল বিভাগে ওকালতি বা কার্য করতে পারবেন।
৩৪. সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ ‘সুপ্রিম কোর্টের আসন : ‘রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকিবে, তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লইয়া প্রধান বিচারপতি সময়ে সময়ে অন্য যে কোন স্থান বা স্থানসমূহ নির্ধারণ করিবেন, সেই স্থান বা স্থানসমূহে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে’ প্রতিস্থাপিত হবে।
৩৫. সংবিধানের ১০১ ও ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার/কতিপয় আদেশ ও নির্দেশদানে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার বিষয়ে কিছু প্রস্তাব প্রতিস্থাপনে কমিটির সুপারিশ করা হয়।
৩৬. আপিল বিভাগের এখতিয়ার বিষয়ে সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ এর সংশোধন এনে ‘খ দফায় কোন মৃত্যুদ- বহাল করিয়াছেন কিংবা কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদ-ে বা যাবজ্জীবন কারাদ-ে দ-িত করিয়াছেন; অথবা’ প্রতিস্থাপিত হবে।
৩৭. সুপ্রিম কোর্টের বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা বিষয়ে অনুচ্ছেদ ১০৭ এর সংশোধিত দফা ২ ও ৩ প্রতিস্থাপনের সুপারিশ রয়েছে।
৩৮. অনুচ্ছেদ ১১৬-এ অধঃস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিষয়ে প্রতিস্থাপিত হবে ‘বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে তা প্রযুক্ত হবে।
৩৯. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে’ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর দফা ১ এ তা প্রতিস্থাপিত হবে।
৪০. ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা সংক্রান্ত ১২২ অনুচ্ছেদের দফা ২-এ সংশোধনী এনে ‘(গ), (ঘ) ও ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দ-িত না হইয়া থাকেন’ প্রতিস্থাপন করা হবে।
৪১. নির্বাচনের মেয়াদ অনুষ্ঠানের সময় সংক্রান্ত সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে দফা ৩ এর পরিবর্তে ‘৩) সংসদ সদস্যের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে’) মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে; তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার ক) উপদফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ উক্ত উপ-দফায় উলি্লখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না’ প্রতিস্থাপিত হবে।
৪২. জরুরি অবস্থার মেয়াদ নির্ধারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১৪১ ক এর দফা (১) এর ‘তাহা হইলে তিনি’ শব্দগুলির পর ‘অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য’ শব্দগুলি সনি্নবেশিত হবে।
৪৩. সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা বিষয়ে সুপারিশ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে প্রতিবেদনে।
৪৪. আন্তর্জাতিক চুক্তি রাষ্ট্রপতি ও সংসদে পেশ সংক্রান্ত ১৪৫ ক অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপনের সুপারিশ রয়েছে।
৪৫. প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পদ সংক্রান্ত ১৪৭ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হবে। সেই সঙ্গে এ অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ রয়েছে।
৪৬. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত ১৫০ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
৪৭. অনুচ্ছেদ ১৫২ এর উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা বিলুপ্ত হবে। এ অনুচ্ছেদে সংশোধনীর সুপারিশ রয়েছে।
৪৮-৫০. সংবিধানের প্রথম তফসিল (অনুচ্ছেদ ৪৭), তৃতীয় তফসিল (অনুচ্ছেদ ১১৮), চতুর্থ তফসিল (অনুচ্ছেদ ১৫০) সংশোধনের প্রস্তাব করেছে কমিটি।
৫১. জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম এবং ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (অনুচ্ছেদ ১৫০ (২) চতুর্থ তফসিলের পর ‘সংবিধানের পঞ্চম তফসিল, ষষ্ঠ তফসিল ও সপ্তম তফসিল সংযোজিত হবে’।

 

 

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“সংবিধান সংশোধন : ইসলামের অবমাননা ও দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়াই লক্ষ্য !” লেখাটিতে 2 টি মন্তব্য

  1. Zia বলেছেন:

    Hasina, the Hinda of Makka will suffer here and hereafter

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন