ঘড়ির কাঁটা, যেন না হয় গলার কাঁটা

“Cut your coat according to your cloth”-এ প্রবাদে আমি বিশ্বাসী নই। টুপি বানানোর উপযুক্ত একটুকরো কাপড় কেটে যদি কেউ হাস্যকর কোট বানায় তবে তা শো-পিস হিসেবে সাজিয়ে রাখা ছাড়া আর কোন্ পুজোঁয় আসবে আমার জানা নেই। বরং কোট যদি বানাতেই হয় তবে শরীরের সাইজ অনুযায়ী বানানো উচিৰ এবং সে অনুযায়ী কাপড় জোগার করা উচিত। কিন্তু কৃচ্ছতাসাধনের জন্য কাপড় অনুযায়ী কোট কেটে কাপড়ের অপচয় করা কাম্য নয়।
ইদানিং বিদ্যুত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার ডিজিটাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৬ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ০৯ পর্যন্ত ঘড়ির কাটা এক ঘন্টা এগিয়ে আনার ব্যাপারে জোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে, অধিকাংশ মন্ত্রণালয় এর পক্ষে সায় দিয়েছে। সরকার ধারণা করছে যে এর ফলে ৫ শতাংশ জ্বালানী, ২.৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হবে। এতে আদৌ জ্বালানী, গ্যাস কিংবা বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে কি না কিংবা এর ফলে সাশ্রয় করতে গিয়ে আরো বেশী অপচয় হবে কিনা সে ব্যাপারে অনেক যুক্তি দেয়া যায়। কিন্তু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয় বরং ঘড়ির কাটা নিয়ে আমার মাথাব্যাথা।উন্নত বিশ্বের অনুকরণ আমাদের একটা বাজে স্বভাব। অনুকরণ কেন করবো কিংবা করলে লাভ হবে না কি ক্ষতি সে ব্যাপারে আমাদের মাথা ব্যথা নেই বরং অনুকরণ করতে গিয়ে সঙ সেজেই আমরা বেশি আনন্দ পাই, অন্তত লোক হাসানো তো যায়। দিনের আলোকে কাজে লাগানোর জন্য এক ঘন্টা আগেই পুরো দেশটিকে কর্মব্যস্ত করে তুলতে চায় সরকার, এতে দোষের কিছু নেই কিন্তু এক ঘন্টা আগে কাজ শুরু করতে ঘড়ির কাটা একঘন্টা এগিয়ে আনার যুক্তি আমার বোধগম্য নয়। যদি বলা হয় সকাল ৯ টার পরিবর্তে সকাল ৮ টায় অফিস শুরু হবে তবে তা মানিয়ে নিতে হয়তো একটু সমস্যা হবে কিন্তু ঘড়ির কাটা এক ঘন্টা এগিয়ে আনলে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে তা সামাল দেয় হবে অনেক জটিল। বিশেষ করে এদেশের সাধারণ মানুষের এ বিষয়টি হৃদয়ঙ্গম করতেই লেগে যাবে মাসখানেক, আর অভ্যস্ত হতে না হতেই ঘড়ির কাটা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে, ফলে আবার অনেকটা দিন লাগবে নতুন অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে।আশার কথা যে আবহাওয়া অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় ঘড়ির কাটা এগিয়ে না এনে বরং অফিস সময় এক ঘন্টা এগিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছে। তাদের এ দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সবচেয়ে আগে যাদের এ কথাটি বলা উচিত ছিল সেই ধর্ম মন্ত্রণালয় পর্যন্ত ঘড়ির কাটা এগিয়ে আনার পক্ষে মৌখিক মত দিয়েছে। অথচ ঘড়ির কাটা এগিয়ে আনা হবে সবচেয়ে বেশি জটিলতায় পরবে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে কয়েকলক্ষ মসজিদে এবং বাসাবাড়িতে নামাজ রোজার চীরস্থায়ী সময় সূচী টানানো আছে। হঠাৎ করে ঘড়ির কাটা এগিয়ে আনা হলে নামাজের সময়সূচী এলেমেলো হয়ে যাবে ফলে সাধারণ মুসল্লীদের প্রধান ফরজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়েই বিশৃংঙ্খলার সৃষ্টি হবে যা গণরোষেরও কারণ হতে পারে। এছাড়া এছরের পুরো রমজান মাসটিই পড়বে সরকার ঘোষিত নতুন সময়ের মধ্যেই। ফলে নাজামের পাশাপাশি রোজা নিয়েও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে, যা ধর্মপ্রাণ কোন মুসলমানেরই কাম্য নয়।সরকার ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী। তাদের কর্শকান্ড যদি কোন একটি ধর্মের সাধারণ অনুসারীদের ধর্মকর্মে অন্তরায় হয় তবে তাদের ধর্মনিরপেক্ষতা আর নিরপেক্ষ থাকবে না বরং ধর্মবিদ্বেষী বলে প্রতিয়মান হতে পারে। তাই সময় থাকতেই সরকারের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা উচিত। ঘড়ির কাটা এক ঘন্টা এগিয়ে এনে নিজেদেরকে ওভার স্মার্ট প্রমাণ করার হাস্যকর প্রচেষ্টা না চালিয়ে প্রয়োজনে অফিস সময় এক ঘন্টা এগিয়ে আনাই হবে যথোপযুক্ত।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ঘড়ির কাঁটা, যেন না হয় গলার কাঁটা” লেখাটিতে 4 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    মাথা… সব মাথার দোষ। এদের মাথায় কিছু নাইতো….. পুরা খালি।

    [উত্তর দিন]

  2. Tanvir Ahmed বলেছেন:

    Dear brother,

    I read your full posting about ঘড়ির কাঁটা, যেন না হয় গলার কাঁটা. You r too some extent right but one more thing you have to know about this issue. Government want to use daylight for daily activities rather than producing electricity. They dont want to change the time for prayer or anything related with this. Yah you r right that government dont know how much benefit we can get from this practice because government dont have enough database to calculate actual things. But think you r in the market upto 9PM and also upto 8PM. Is there any benefit we can get from this? I think yes. Actually government are trying to find better solution but we r here can not give the actual suggestion on the other hand possibilities are there that ur ideas would not get chance to evaluate. Excuse me if I heart you.

    Thanks
    Tanvir

    [উত্তর দিন]

  3. শাহরিয়ার বলেছেন:

    ধন্যবাদ তানভীর আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
    আসলে অফিসের সময় এক ঘন্টা এগিয়ে আনার ব্যাপারে আমার কোন বিরোধ নেই। মূলত: অফিসের সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে ৮টায় শুরু করা যেতে পারে কিন্তু ঘড়ির কাটাকে এক ঘন্টা এগিয়ে অফিসের সময় এগিয়ে আনার কোন যুক্তি আমি খুঁজে পাই না। আমি মনে করি এখনো সময় আছে, অফিসের সময় কে সরাসরি একঘন্টা এগিয়ে এনে এবং ঘড়ির কাটাকে পরিবর্তন না করেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টা চালানো হোক।

    [উত্তর দিন]

  4. ডিজিটাল টাইমের ভূত নেমেছে | শাহরিয়ারের স্বপ্নবিলাস বলেছেন:

    […] সরকারকে বিরত থাকতে ব্লগ লিখেছিলাম “ঘড়ির কাটা যেন না হয় গলার কাঁটা” শিরোনামে। যদিও আওয়ামী তৈলবিদ আমলা ও […]

মন্তব্য করুন