ভবিষ্যৎবাণী মিথ্যে প্রমাণ করে সত্য সাঁই বাবার ইহলোক ত্যাগ

নিজের ভবিষ্যতবাণীকে মিথ্য প্রমাণ করে ভারতের আধ্যাত্মিক গুরু “সত্য সাঁই বাবা” হৃদরোগ ও শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে আজ সকাল ৭টা ২৮ মিনিটেপরলোক গমন করেছেন। যিনি সবার ভূত-ভবিষ্যত বাতলে দিতেন, তিনি তার নিজের বেলাই সঠিক ভবিষ্যৎবাণী করে যেতে পারেন নি। তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, ৯৬ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করবেন। সে অনুযায়ী ২০২২ সালে তার মৃত্যুবরণ করার কথা। অথচ ১১টি বছর বাকী রেখেই তিনি আজ পরলোকে চলে গেলেন। আধ্যাত্মিকতার কথা বলে যিনি সারা বিশ্বের ১৬৬টি দেশে পাঁচ কোটি ভক্ত ছড়িয়ে দিয়েছেন, যিনি অর্জন করেছেন ৪০ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তি, অর্জন করেছেন প্রণামীর নগদ অর্থ, চেক, সোনা ও রত্মরাজির পাহাড়, তিনিই তার নিজের ভবিষ্যৎবাণীটি সঠিক বলে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যা সারাবিশ্বের ভক্তকূলকে হতবাক করেছে।

সত্য সাঁই বাবা ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন, তার শারীরিক মৃত্যুর এক বছর পরে তার নতুন উত্তরাধিকার কর্ণাটকের মান্ড্য জেলায় কস্তরী মায়ের গর্ভে জন্ম নেবেন, যার নাম হবে প্রেম। সুঠাম দেহ, তীক্ষ্ণ নাসা, কাধ পর্যন্ত লম্বা চুল, শ্মশ্রুমন্ডিত “প্রেম সাঁই” বিয়ে করবেন, এক সন্তানের জনক হবেন, যার ছবি অঙ্কিত রয়েছে ব্রিটিশ সাহেব জন হিসলপের আংটিতে। ইংরেজ প্রভূভক্ত সত্য সাঁই বাবা তার ভবিষ্যত অবতারের ছবিযুক্ত আংটি উপহার দিয়েছিলেন এই সাহেবকে। অন্তর্যামী সাঁই বাবা ভবিষ্যত অবতার প্রেম সাঁইয়ের যে ভবিষ্যতবাণী করেছেন তাতে তার আগামী ২০২৩ সালে জন্ম নেয়ার কথা। কিন্তু সত্য সাঁই বাবার অকাল মৃত্যুতে প্রেম সাইয়ের জন্মকি এগার বছর এগিয়ে যাবে, নাকি নতুন অবতারের জন্য অন্ধভক্ত পুঁজারীদের অতিরিক্ত আরো এগারোটি বছর অপেক্ষা করতে হবে তাই এখন বিবেচ্য বিষয়।

ভবিষ্যতবাণী করে লোক ঠকানো উপমহাদেশের অতি প্রাচীন একটি পেশা। ভারতীয় উপমহাদেশে আধ্যাত্মিকতার নামে যুগে যুগে সাধারণ মানুষকে ঠকানো হয়েছে, হাতিয়ে নেয়া হয়েছে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা। সাধারণ ভক্তকূলকে নিঃশ্ব করে প্রতারকগোষ্ঠী নিজেরাই একেকজন দেবতার আসন গেড়ে যাবতীয় সুখ সুবিধে আদায় করে নিয়েছেন। আধ্যাত্মিকতার এই এক ফাঁদ, হাজার জনের ভবিষ্যৎবাণী করা হয়, অধিকাংশেরটাই মেলে না, এক আধজনেরটা হয়তো কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়, অমনি ভক্তকূল সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, “জয়, সত্য সাঁই বাবার জয়”। কিন্তু তার নিজের বেলায় যে ভবিষ্যতবাণীটি করা হয়েছে তা মিথ্যে প্রমাণ হওয়ায় সকল জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের ১১ বছর আগেই তার এই অকাল মৃত্যুতে সারা বিশ্বের প্রতারিত কোটি কোটি ভক্তকূলের চোখ খুলে যাবে এটাই কামনা।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“ভবিষ্যৎবাণী মিথ্যে প্রমাণ করে সত্য সাঁই বাবার ইহলোক ত্যাগ” লেখাটিতে 4 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    তার মৃত্যুর আগেই তার সম্পদের দখল নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে হানাহানি শুরু হয়ে গেছে। এখন দেখা যাবে তার এই বিশাল সম্পত্তি রক্ষা ও ভবিষ্যতে তার পথ অনুসরনের জন্য তার ঘনিষ্ট ভক্তরা একটা কাহিনী দাড় করাবে। কোটি কোটি ভক্তরা তাই বিশ্বাস করে প্রেম সাঁইএর জন্য অপেক্ষা করবে।

    [উত্তর দিন]

  2. শাহনুর বলেছেন:

    আরাফাত রহমান ভাই আর কথায় যুক্তি রয়েছে । আমার ও তাই মনে হয় .।।

    [উত্তর দিন]

  3. Shoyeb বলেছেন:

    ভালো লিখেছেন ভাই। এই বিষয়গুল জানতাম না। ওদের মত আর আছে। সবগুলকেই সাইজ করা উচিত।

    [উত্তর দিন]

  4. সুরজিৎ সী বলেছেন:

    খুবই ভালো লাগলো দাদা।
    এসবের প্রতি আমার একটা ধারনা ছিল। কিন্তু এতটা খারাপ তা জানতাম না।
    শুধু এইটা নয় আরো শত শত ভণ্ড বাবা রাজ করছে মানব সমাজে।
    তাদের ব্যাপারে ও লিখুন, আমি ছোট্টো একটা উদাহরণ দেই—-

    “শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের” শিষ্যরা প্রত্যহ এক টাকা করে জমা করে বছরে 365 টাকা উনার কাছে পৌঁছে দেন।
    এই রকম কয়েক লক্ষ কিংবা তারও বেশি শিষ্য রয়েছে প্রত্যেক শিষ্য এক টাকা করে জমা করলে, প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা উনার ফান্ডে জমা হয়ে যাচ্ছে।
    যা মাসের শেষ কয়েক কোটি ও বছরের শেষ কয়েক শত কোটি টাকার বেশ মোটা অঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়।
    আবার অনেক ব্যবসায়ী, ফিল্ম স্টার, খেলোয়াড়রা লক্ষ লক্ষ টাকা উনার কাছে দান করছেন।
    যার জন্য কোন ইনকাম ট্যাক্স ও দিতে হয় না।
    কারণ তা দান হিসাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

    এত গুলো টাকা নিচ্ছে কোনো ভালো কাজ করেছেন, তাওতো দেখানোর দরকার আছে।
    তাই কোনো হাসপাতালে, স্কুলে, কিংবা কোনো অনাথ আশ্রমে এক কোটি, দুই কোটি, কিংবা দশ কোটি টাকা দান করে দিল।
    তাও বড় করে দেখতে হয়তো মিডিয়ার সাহায্য ও নিচ্ছে।
    যে খেটে খাওয়া মানুষেরা বছরে 365 টাকা দান করছেন, তাদের কোনো কৃতিত্ব প্রকাশ পাচ্ছে না।

    এত কিছুর পরেও থেকে যায় কয়েক শত কোটি টাকা।
    যা উনাদের বিলাসিতায় লাগে।

    একটি উদাহরণ দিলাম, বাস্তবে এরকম শত শত লোক ঠকানো ব্যবসা চলছে।

    আমি “সুরজিৎ সী” বলছি তাই নয়, আপনার নিজের পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা পর্যবেক্ষণ করুন, সজ্ঞানে নিজ বুদ্ধি দ্বারা বিচার করুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন, আমি ঠিক বলছি না ভুল বলছি।

    “”””””””সচেতন হও”””””””””
    ——সুরজিৎ-সী——-

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন