বিয়ে ভাবনা (দুই) : উপযুক্ত বয়সে বিয়ে রোধ করতে পারে যৌনসন্ত্রাস

বিয়ের উপযুক্ত বয়স কোনটি? প্রাপ্তবয়স্ক একটি বালক অথবা একটি বালিকা যখন তীব্রভাবে যৌনমিলনে আকাঙ্খী হয়, তবে সে সময়টিই তার বিয়ের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ শুভক্ষণটি কারো জন্য ১২ বছরে হতে পারে, কারো জন্য ১৫ বছরে, কারো বা ১৮ বছরে আবার কারো সারা জীবনে নাও হতে পারে। এক কথায়, যৌনমিলনে শরীর ও মনের উপযুক্ততাই বিয়ের সঠিক বয়সের মাপকাঠি। বিয়ের সময় হয়েছে কি না, বিয়ের জন্য শরীর ও মন প্রস্তুত কি না তা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে ব্যক্তি নিজেই। যদিও কেউ কেউ আছে মন বিষন্ন করে বসে থাকে, কোন কাজে মন বসাতে পারে না, মহাশুন্যের মতো হৃদয়জুড়ে হাহাকার নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, কারনে অকারনে প্রাণখুলে কাঁদতে ভালোবাসে, এমন সব উপসর্গের পরও যারা বুঝতে পারে না যে আসলে মন নয়, বরং না পাওয়ার যন্ত্রণাই তার মনোযাতনার কারন, সে সকল বালক-বালিকাদের অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরী। আর সবচেয়ে বড় কথা অভিভাবকরা তো এ সময়টা পার করেই বুড়ো হয়েছেন, তাদের নতুন করে মিলনের গল্প শোনানের কোন মানে নেই।

কথায় বলে, ভদ্রতার দাম নেই। এ কথাটি রাজনীতি, সমাজনীতি, বিভিন্ন নীতিতে যেমন সত্য, বিয়ের ক্ষেত্রে ততোধিক বেশি সত্য বলে মনে হয়। যতক্ষণ না ছেলের বিরুদ্ধে পাশের বাড়ীর চালে ঢিল মারার অভিযোগ আসছে ততক্ষণ অনেক অভিভাবক বুঝতেই চাননা ছেলের বিয়ের বয়েস হয়েছে। এক কথায় অনেক অভিভাবকের কাছে ছেলের বিয়ের উপযুক্ততার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো ইভটিজিং। ছেলে ইভটিজিং করছে মানেই হলো ছেলের বিয়ের বয়েস হয়েছে, অপরদিকে ছেলেটি ভদ্রভাবে লেখাপড়া করছে, লেখাপড়া শেষে চাকুরী করছে, মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে, চুল পেকে যাচ্ছে, তবু্ও ছেলেটির বিয়ের বয়েস হয়নি, কারন সে অতি ভদ্র। যে সকল ছেলে মেয়েরা ভদ্রতা বজায় রেখে বিয়ের গোপন ইচ্ছেটা মনের সিন্দুকেই তালাবদ্ধ রাখে, আজকালকার অভিভাবকরা সবকিছু বুঝেও না বোঝার ভান করেন, পারেনতো মনের সিন্দুকটাকে শেকলবন্দী করে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেন। অবশ্য এ ক্ষেত্রে মেয়েরা অনেকটা ভাগ্যবতী। অতীতকাল থেকেই মেয়েদের উপাজর্নে বাবা-মা অভ্যস্ত নয় বলে যতদ্রুত পারেন মেয়েকে পার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইদানিং হঠাৎ করেই অভিভাবকরা অতিআধুনিক হয়ে উঠেছেন, মেয়ের লেখাপড়া শেষে রোজগেরে না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের চিন্তা করাকে তারা সেকেলে মনে করেন। ফলাফল, উপযুক্ত পাত্রের অভাবে দীর্ঘকাল আইবুড়ো থেকে থেকে কমবয়েসী ও কম যোগ্যতাসম্পন্ন ছেলেকে বিয়ে করছে। এক তথ্যে দেখা যায় যুক্তরাজ্যে স্বামীদের চেয়ে স্ত্রীদের বয়স ৫ বছর বেশী, এমনকি সদ্য বিবাহিত প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের মাঝেও ৫ মাসের বয়সের ফারাক।

আসল কথাই বলা হয় নি। এ প্রশ্নটি মনে জাগাটাই স্বাভাবিক যে বিয়ে কেন প্রয়োজন। বিয়ে পরিবার গঠনের জন্য একটি সামাজিক চুক্তি যা একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের মাঝে সম্পাদিত হয়। আর পরিবার গঠনের উদ্দেশ্যেই হলো মানব সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা, নতুন প্রজন্মকে স্থান করে দেয়া, আর প্রজননের মূলেই যে যৌন মিলন তা বুঝতে কারো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অনেকে যৌনতাকে প্রাকৃতিক ক্রিয়া কর্মের মতোই স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন এবং এ কাজের জন্য কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করার পক্ষপাতি। অথচ এমন কোন সভ্য দেশ নেই যে প্রাকৃতিক ক্রিয়া কর্মের জন্য একদমই নিয়মকানুন মানে না, জনসম্মুখে প্রস্রাব-পায়খানা করে সমাজকে কলুষিত করে না। এমনটি কেউ করলে সমাজের সবাই একবাক্যেই পাগল বলে। অথচ এরাই আবার আধুনিকতার নাম করে যেখানে সেখানে যেমন খুশি তেমন ভাবে যৌনমিলনকে বৈধ মনে করে। হ্যা, যৌন মিলন শারীরিক একটি অতি স্বাভাবিক বিষয়, তবে তা অবশ্যই নিয়মনীতি মেনে, নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আর মনে রাখা উচিত, যৌন মিলনের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখা, বংশ বৃদ্ধি করা; এক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক সুখটুকু বাড়তি পাওনা মাত্র। এটি মানবজাতির পরম সৌভাগ্য যে আল্লাহ মানুষকে তাদের সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা তথা ভালোবাসাকেই নির্ধারণ করেছেন। হাইড্রা কিংবা আণুবীক্ষণিক এ্যামিবার মতো মানুষের বংশবদ্ধি যন্ত্রণাদায়ক শরীর বিভাজনের মাধ্যমে হতে পারতো, তবে তাতে নতুন প্রজন্মের জন্য আদৌ ভালোবাসা থাকতো কি না তা চিন্তার বিষয়, কিংবা জানোয়ারের মতো মৌসুমী যৌনতাড়না দিয়ে প্রজনন ঘটাতে পারতেন, তাতে আর যাই হোক নারী-পুরুষের প্রাত্যহিক এই সীমাহীন ভালোবাসা তা থেকে মানবজাতি বঞ্চিত হতো। যে বংশবৃদ্ধির জন্য বছরে একবার যৌনমিলনই যথেষ্ট ছিল তাকে চীরস্থায়ী করার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের প্রতি সীমাহীন উদারতা দেখিয়েছেন, তা অনিয়ন্ত্রিতভাবে, যত্রতত্র ব্যবহারের মাধ্যমে অকৃতজ্ঞ আচরণ করা মানুষের জন্য মোটেই শোভনীয় নয়।

ছেলে-মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হোক বা নাই হোক বাংলাদেশে বিয়ের জন্য ন্যূনতম বয়স নির্ধারিত আছে, ছেলেদের জন্য ২১ বছর এবং মেয়েদের জন্য ১৮ বছর। এর পূর্বে কেউ বিয়ে করতে পারবে না। অবশ্য বিকৃত যৌনাচার করতে পারবে না এমন কোন নিয়ম বেধে দেয়া হয় নি। অথচ উন্নত বিশ্বে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। প্রতিটি দেশে বিয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ন্যূনতম বয়স নির্ধারিত আছে। যে আমেরিকা বলতে আমরা অজ্ঞান, সে দেশের স্টেটগুলোর মাঝে নেবরাস্কা স্টেটেই সর্বোচ্চ ১৯ বছরকে বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারন করা হয়েছে, বাকী সকল স্টেটেই বিয়ের ন্যূনতম বয়স  ১৩ থেকে ১৮ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। শুধু তাই নয়, কোন কোন স্টেটে এমন বিধানও রাখা হয়েছে যে, যদি কেউ এর আগেই গর্ভবতী হয়ে পরে তবে তাদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য অর্থাৎ গর্ভধারণ করে বিয়ের যোগ্যতার পরীক্ষায় পাশ করে তবেই বিয়ের অনুমোদন। ইউরোপিয়ান দেশগুলোতেও একই রকম বিষয় পরিলক্ষিত হয়। যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস এবং নর্থ আয়ারল্যান্ডে পুরুষের জন্য ১৮ এবং নারীর জন্য ১৬ বছর নির্ধারণ করা হয়েছেম তবে স্কটল্যান্ডের জন্য ন্যূনতম ১৬ বছর বয়স হলেই পুরুষ কিংবা নারী উভয়েই আইনত বিয়ের যোগ্য হয়, এমনকি এক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমোদনেরও কোন প্রয়োজন পড়ে না। মজার ব্যাপার হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিয়ের ন্যূনতম বিয়ের বয়স নির্ধারণ করা হলেও অভিভাবক কিংবা আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে আরো কম বয়সেই বিয়ে করার বিধান রাখা হয়েছে যেখানে বাংলাদেশে সুদীর্ঘকাল অপেক্ষা না করে বিয়ে করা যাবে না। তবে যে আইন সাধারণ বিবেক বুদ্ধি বিরোধী, তা মানতে জনগণের বয়েই গেছে, আর তাইতো আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত দেশের আনাচে কানাচে বাল্য বিয়ে ঘটেই চলেছে। কেন? কারন একটাই, শরীর ও মন যৌনমিলনে উপযুক্ত হলে বিয়ে দেয়াটাকেই সচেতন মহল গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

পাশ্চাত্যে বিয়ের প্রতি মানুষের অনীহা প্রকট। এর মানে এই নয় যে তারা যৌনবিমুখ, বরং বলা যায় প্রবলকামুক। বিয়ের পূর্বে যৌনাচার আমেরিকায় এখন আর অনৈতিক হিসেবে দেখা হয় না। ন্যাশনাল অপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টারের সমীক্ষায় দেখা যায় ৬৩% লোকই বিয়ে বহির্ভূত যৌনাচারকে অনৈতিক মনে করেন না। আরেক সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন বিয়ের পূর্বে পুরুষদের মাঝে মাত্র ১৬% এবং নারীদের ক্ষেত্রে মাত্র ২০% ভার্জিন ছিলেন। অর্থাৎ ছেলেদের ৮৪% এবং মেয়েদের ৮০% বিয়ের আগেই যৌনাচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এ থেকে বুঝা যায় মার্কিন মুল্লুকে বিয়ের বয়স নির্ধারণ কেবলমাত্র সংসারী হতে বিরত রাখার জন্য, অবৈধ যৌনাচার থেকে বিরত রাখার জন্য মোটেই নয়। আর এ অনৈতিক যৌনাচারে বিয়ের আগেই মেয়েরা গর্ভধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের অধিকাংশের ১ম সন্তান বিয়ে বহির্ভূত যৌনাচারে জন্মলাভ করে। অবৈধ গর্ভধারণের পরে অনেকেই বিয়ে করে ফেলেন, তারপরও ৩৫% সন্তানকে পৃথিবীতে স্থান হয় কুমারী মায়ের কোলে। মূলত পাশ্চাত্যে বিয়ে ভীতি দিনে দিনে প্রবল আকার ধারন করছে। বিয়ে মানেই বাড়তি ঝামেলা মনে করছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত নারীপুরুষের বাস, যা প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৪০% এরও বেশী, যাদের ১০% কোনদিনই বিয়ে করবেন না। তাই বিয়ের চেয়ে অবৈধ যৌনাচারকেই শ্রেয় মনে করছেন তারা। এমনকি রিপোর্টে প্রকাশ, যুক্তরাষ্ট্রে পচাত্তর লক্ষ নাগরিক লিভটুগেদার করেন এবং গত এক দশকে লিভটুগেদারের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আর বিবাহবিচ্ছেন আমেরিকার অতি সাধারণ বিষয়। আমেরিকার সন্তানদের অর্ধেককেই জীবনে কোন না কোন সময় বাবা কিংবা মায়ের সাথে থাকতে হয়, বাবা-মা দুজনার ভালোবাসা আমেরিকার অর্ধেক সন্তানের ভাগ্যেই জোটে না।

কিন্তু উপমহাদেশের সংস্কৃতি কি আদৌ পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যশীল। পাশ্চাত্যে যেখানে বিয়ে বহির্ভূত যৌনাচারকে অনৈতিক মনে করে না, এমনকি বিয়ে কেবল পুরুষ এবং নারীর মাঝে হতে হবে তাও মানতে নারাজ, সেক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশে কৌমার্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়। বাংলাদেশের ছেলে মেয়েদের বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ককে চরমভাবে ঘৃণ্য হিসেবে সমাজে দেখা হয়। এমনকি আজো বাংলাদেশে এমন হাজারো নজির পাওয়া যাবে যে নারীরা নিজেদের সম্ভ্রম বাঁচাতে জীবনকেও তুচ্ছ মনে করে। আর ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যার ঘটনাতো বাংলাদেশের প্রাত্যহিক ব্যাপার। তাই সম্মানের প্রশ্নই যেখানে বড়, যৌন জীবন কলুষমুক্ত রাখাই যেখানে মূখ্য বিষয়, সেখানে যৌনতাড়িত নারী পুরুষকে দিনের পর দিন আইনের ভয় দেখিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসতে বাধা দেয়া অবশ্যই অনৈতিক। এমনটি নয় যে বাংলাদেশের ছেলে ২১ বছরের আগে এবং মেয়েরা ১৮ বছরের আগে যৌন সম্পর্ক করছে না। যেমন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পল্লীতে বিয়ের দাবিতে ১১ বছরের এক কিশোরী তার প্রেমিকের (১৭) বাড়িতে গিয়ে অনশন করার খবরও পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের বয়স দেশীয় আইনে কম হওয়ায় অভিভাবকরা ইচ্ছে করলেও বিয়ে দিতে পারছেন না। আমার পরিচিতদের মধ্যে এমন এক মেয়েকে জানি যে সপ্তম শ্রেণী থেকেই কয়েকবার প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে, তবে আইনের কারনে বার বার তাকে ঘরে ফিরে আসতে হয়েছে। তাহলে যে আইন অনৈতিক যৌনাচারকে উস্কে দেয়, বয়সের দোহাই দিয়ে বিকৃত পন্থায় যৌনস্পৃহা নিবৃত করতে বাধ্য করে সে আইন নিয়ে সবার ভেবে দেখা উচিত নয় কি?

কম বয়সে বিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো কি কি? পাশ্চাত্যে যে সকল কারনে অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া হয় না তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১। সংসারের বিশেষ করে সন্তানদের দায় দায়িত্ব নিতে হয়।
২। কৈশোরের আনন্দফূর্তি ম্লান হয়ে যায়।
৩। বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৪। অল্পবয়সে সন্তান ধারণে স্বাস্থ্যগত ঝুকি বাড়ে।
৫। শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটে।
৬। বিবাহিতদের জন্য চাকুরীর দরজা প্রশস্ত নয়।
৭। শিশুদের লালন-পানল কষ্টকর।

মনে রাখতে হবে অল্পবয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে যতগুলো নেতিবাচক কারন রয়েছে তা পরিপূর্ণরূপেই পাশ্চাত্য সভ্যতার ক্ষেত্রে হয়তো সত্য, উপমহাদেশের জন্য মোটেই নয়। পাশ্চাত্যে একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর থেকে সন্তানদেরকে নিজের উপার্জন নিজেকেই করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সেসব অসুবিধা দেখা যায় না। বরং বাংলাদেশে একজনের রোজগারে দশজনের ভরণপোষণ হয়। বাংলাদেশে পারিবারিক বন্ধন এতটাই দৃঢ় যে এখানে একে অন্যের জন্য শুধু অর্থ-কড়ি নয় বরং জীবন দিতেও সর্বদা প্রস্তুত। আর পাশ্চাত্যের মতো বাংলাদেশে নবদম্পতিকে আলাদা ফ্লাটে থাকতে হয় না, তাই সংসারের দায় দায়িত্ব এখানে মৌলিক কোন সমস্যাই নয়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের অভিভাবকরা বিয়ে দিলে এ মানসিকতা নিয়েই দেবেন যে তাদের ভরণ পোষণ স্বনির্ভর না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদেরই করতে হবে। আর কৈশোরে আনন্দফূর্তি বলতে যদি পাশ্চাত্যসভ্যতা অসভ্য যৌনাচারকেই বুঝে থাকে তবে তা বৈধভাবেই নবদম্পতি ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। আর বিয়ে মানে এ নয় যে জাগতিক সকল কাজকর্ম বন্ধ করে শোবারঘরের খিড়কি এঁটে সারাক্ষণ শুয়ে থাকা, বরং বিবাহিত পুরুষরা যেমন চাকুরীও করে, ছাত্রছাত্রীরা বিয়ে করলেও তারাও তেমনি তাদের শিক্ষা চালিয়ে যাবে। আর শিক্ষাজীবন ধ্বংসের মুল যে হাতিয়ার, তথা প্রেম, সে থেকে ছাত্রছাত্রীরা নিশ্চিন্ত থাকায় স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের বেশী মনোযোগী হওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টান্ত দেয়া যেতে পারে। তিনি নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন বিয়ে করেন এবং তার হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বাল্যবিয়ে তাকে বাংলাদেশের স্থপতি হতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নি।

আর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা যদি আসে তবে বলতেই হয়, বিয়ে মানেই এ নয় যে প্রথম মিলনেই সন্তান জন্ম দিতে হবে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সফল কর্মসূচী। তাই নবদম্পতিদের যদি উপযুক্ত পরামর্শ দেয়া হয় তবে তারা সঠিক সময়েই সন্তান জন্ম দিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত ডাক্তারী পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে সন্তান ধারণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির প্রশ্ন আসার কথা নয়। একটা কথা মনে রাখা দরকার, অল্পবয়সে সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুকির আশংকা করা হয়, যৌনমিলনে স্বাস্থ্যঝুকির কোন প্রশ্ন আজো শোনা যায় নি। তাই অবৈধভাবে, অনৈতিক ভাবে যৌনসম্পর্ক গড়ার চেয়ে সমাজস্বীকৃত পন্থায় বৈধভাবে যৌনমিলনে কেন বাধা দেয়া হবে? অভিভাবকরা যদি নবদম্পতিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন তবে বিয়ের মাধ্যমেই সামাজিক অস্থিরতা অনেকাংশে প্রশমিত করা সম্ভব।

এবার একঝলক চোখ ফেরানো যাক কিছু ঐতিহাসিক মায়েদের দিকে যারা শৈশবেই মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছেন। ১৯৩৯ সালে পেরুতে ৫ বছর ৭ মাস ১৭ দিনে পিতার লাম্পট্যের শিকার হয়ে (স্বাক্ষীর অভাবে আদালতে প্রমানিত হয়নি) সন্তান জন্ম দিয়ে লিনা মদিনা পৃথিবীকে জানিয়ে গেল যৌনতাকে বয়সের ফ্রেমে বাধা যায় না।  লিনা এ দৃষ্টান্ত একেবারেই বিরল নয়। ১৯৩৪ সালে ইউক্রেনে মাত্র ৬ বছর বয়সে লিজা তার গ্রান্ডফাদারের অসভ্যতার শিকার হয়ে সন্তানের মা হন। স্বাস্থ্যঝুকির কারণে সোভিয়েত সরকার সিজারিয়ান অপারেশনে অসম্মতি দিলে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নেয় শিশুটি। লিনার মা হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ৬ বছর বয়সেও স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেয়া সম্ভব। তবে আমি শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের পক্ষে কথা বলছি না, বরং উদাহরণগুলো এ কারনেই টেনে এনেছি, যাতে সবাই বুঝতে সক্ষম হন যে যৌনতাকে নির্দিষ্ট একটি বয়সের সীমায় বেঁধে রাখা অযৌক্তিক। কারো জন্য হয়তো বিয়ের উপযুক্ত হতে কুড়ি বছর পেরিয়ে যেতে পারে, তবে সে বয়সটা সবার উপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। কারো কারো জীবনে বসন্ত অতি অল্প বয়সেই দোলা দিয়ে যেতে পারে। যেমন জানমুখের উদাহরনই দেয়া যাক। ২০০১ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে স্বামীর সাথে বৈধ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন থাইল্যান্ডের ওয়ানউইসা জানমুক।

এবার নানীদের খবর। নাইজেরিয়ার মুম-জি মাত্র ১৭ বছর বয়সে নানী হওয়ার রেকর্ড গড়েন। তিনি মাত্র ৮ বছর ৪ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে মা হন, তবে সন্তানের অতি অল্প বয়সে মা হওয়ার ব্যাপারে ধর্ষণের কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। আর সম্প্রতি সময়ে রোমানিয়ার  রিফকা স্টানেস্কু আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি ২০০৮ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বৈধভাবেই নানী হয়েছেন। তিনি নিজে যেমন অল্প বয়সে পালিয়ে বিয়ে করেছেন, ঠিক তেমনি তার মেয়েও অল্প বয়সে সন্তানের জন্ম দিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। অল্পবয়েসী নানী রিফকার এই রেকর্ডে তার মা মারিয়াও রেকর্ড করে ফেলেন হয়ে যান গ্রেট গ্রান্ডমাদার, ৪০ বছর বয়সেই ৪ প্রজন্মের অসাধারণ বেকর্ড করে চিন্তাবিদদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে স্পষ্ট করেন, বিয়েকে বয়সের ফ্রেমে বন্দী করা কতটা অযৌক্তিক। সন্তান ধারণের ক্ষেত্রেও যে বয়সের সীমারেখা অযৌক্তিক তা প্রমাণিত।

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষা যেমন মানুষের মৌলিক অধিকার, ঠিক তেমনি, সরকার স্কীকৃতি দিক বা না দিক, বংশবৃদ্ধিকরাও মানুষের মৌলিক অধিকার। আর বংশবৃদ্ধির প্রধান উপায় যৌনমিলন, যা মানুষের আদি প্রবৃত্তি। নিরাপদ ও পবিত্র যৌনমিলনে বাধা দেয়ার অধিকার কারোরই নেই, সরকারেরও নেই। ২১/১৮ এর ফাঁদে ফেলে যুবসমাজকে বৈধভাবে যৌনাচারে বাধা দিয়ে তাদেরকে অনৈতিক পাপাচারে লিপ্ত করার অধিকার সরকারের নেই। সরকার বাল্যবিয়ে বন্ধ করার নামে অশ্লীলতার ছড়িয়ে দিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করছে। একদিকে বাল্য বিয়ে বন্ধ করছে, অপরদিকে মরণব্যাধি এইডস থেকে বাঁচতে কনডমকে প্রেসক্রাইব করা হচ্ছে, কি স্বার্থে? স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এইডস প্রতিরোধে কনডম ব্যবহারের প্রশ্নই ওঠে না, তাহলে কাদের সাথে সেক্স করতে কনডম ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে সরকার? বিয়ে বহির্ভূত অবৈধ যৌনাচারেই নয় কি? যেখানে বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ করে যৌনাচারকে বন্ধ করা যায় না, সেখানে কনডম দিয়ে এইডস প্রতিরোধ হাস্যকর নয় কি? বিবেকবানরা কি একটিবার ভেবে দেখবেন না, বাল্যবিয়ে এইডসের চেয়ে মোটেই বেশী ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বাল্যবিয়ে প্রেমঘটিত শত শত আত্মহত্যার চেয়ে মোটেই প্রাণঘাতী নয়।

বাংলাদেশ আজ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। প্রতি মুহূর্তে দেশ বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে চলেছে যৌনতার কৃষ্ণগহ্বরের পানে। বাড়ছে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণেরপর হত্যা, ধর্ষিতার আত্মহত্যা। বাড়ছে প্রেম, বাড়ছে অবৈধ যৌনাচার, বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবনতা, যার জন্য মূলত প্রেমই দায়ী। যৌনতা ডেকে নিয়ে আসছে সামাজিক অস্থিরতা। আর এর মূলে ২১/১৮। এ আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নেই, তাই ২১/১৮ পূর্বেই দেশের আনাচে কানাচে বিয়ে হচ্ছে, বয়স গোপন করে। যে আইনের প্রতি দেশের মানুষের শ্রদ্ধা নেই সে আইন অবশ্যই বাতিল বলে গণ্য হওয়া উচিত। দেশের সকল মানুষের প্রতি আহ্বান, আসুন, ২১/১৮ এর বিরুদ্ধে শ্লোগান ধরি, যৌনসন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“বিয়ে ভাবনা (দুই) : উপযুক্ত বয়সে বিয়ে রোধ করতে পারে যৌনসন্ত্রাস” লেখাটিতে 20 টি মন্তব্য

  1. jahirul islam বলেছেন:

    অনেক সুন্দর লিখেছেন,কালকে (১৫/০৫/২০১১)জীবনের আরেকটি বছর শুরু হবে,হিসেব করলে বয়স অনেক,কিন্তু নিজেকে এখনো চোট মনে হয়,পরিবেশ সৃষ্টি হতে আরো সময় লাগবে,(আজানা কোন কারনে মনটা ভালো নাই,তাই ১লাইন মন্তব্য করতে গিয়ে ১ঘন্টা সময় লেগে গেল lol)

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    স্টার জলসার ‘টাপুর-টুপুরে’ বিয়ে নিয়ে টাপুরের বিবাহিত বান্ধবীর উপদেশ, ‘একটু স্বার্থপর হ’। আমার যে তা-ই বলার ইচ্ছে।

    [উত্তর দিন]

    mahfuzur rahman উত্তর দিয়েছেন:

    thanks brother

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ সময় করে পড়ার জন্য।

    [উত্তর দিন]

  2. monirul islam বলেছেন:

    How fine!

    [উত্তর দিন]

  3. মারদিয়া বলেছেন:

    কথাটা ঠিক। কিন্তু একটা মেয়ে বিয়ের পরে লেখাপড়ার পুরো বিষয়টাই ঝামেলা মনে হয়। আমি জানি আপনি এখন কি বলবেন, আমি নিজেও অনেককে বলেছি। যে লেখাপড়ার চেয়ে মেয়েদের সামাজিক দায়িত্বই বেশী। কিন্তু তার মানে কি এই যে, আমি ১৭ তে বিয়ে করে এরপর আর পড়ালেখা করবো না? তাহলে বাচ্চারা আমার কাছ থেকে কি পাবে?

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    আমি কিন্তু লেখাপড়া ছাড়ার কথা বলিনি। হ্যা, বিয়ের পর লেখাপড়ায় ঝামেলা হয়, তবে এক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকেই সহযোগিতার মন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে একটা নতুন পরিবর্তন চাচ্ছি, আর তা হলো বিয়ের বয়সটাকে শিথিল করা। এতবড় একটা পরিবর্তন করতে হলে মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন হবে।
    আর সত্যি কথা বলতে কি, সন্তানদেরকে মা-বাবা একটা নির্দিষ্ট ক্লাস পর্যন্ত সহযোগিতা করতে পারেন, প্রাইমারী কিংবা সর্বোচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। এর চেয়ে বেশী পড়ানোর যোগ্যতা খুব কম মা-বাবারই হয় সে যত উচ্চ শিক্ষিতই হোক না কেন, যদি না শিক্ষকতা তার পেশা হয়। আর ছেলেমেয়েদেরও একটা নির্দিষ্ট বয়সের পড় বাবা-মায়ের কাছে শিখতে ভালো লাগার কথা নয়। সন্তানদের শিক্ষিত করতে যতটুকু যোগ্যতা দরকার তা অবশ্যই একটি মেয়ে ১৭ বছরের মধ্যেই শিখে নেয়।
    আর মাতৃত্ব ভিন্ন বিষয়, আল্লাহর দান। এজন্য পর্যাপ্ত যোগ্যতা নারীদের ভেতর এমনিতেই সুপ্ত থাকে, এ যোগ্যতাকে শানীত করতে মেয়েদের বছরের পর বছর ট্রেনিং লাগে না।
    এ নিয়ে বিস্তারিত সামনে লেখার ইচ্ছে আছে। ধন্যবাদ।

    [উত্তর দিন]

  4. Md . Sohel Rana বলেছেন:

    লেখাটা যে কত ভাল লাগছে তা বলে বুঝাতে পারবনা…
    কিন্তু আমাদের এই সামাজিক পেক্ষাপটে আমরা কত টুকু সুবিধা পেতে পারি…আমাদের দেশের অনেক পরিবারে সন্তানের বাক স্বাধীনতাও নেই। তাছাড়া বিয়ে করব বললে সবাই ভাবে ছেলেটা নস্ট হয়ে গেছে।

    [উত্তর দিন]

  5. nahid বলেছেন:

    thanks

    [উত্তর দিন]

  6. nahid বলেছেন:

    actually without changing our mentality we may not change our negative activities so far …….. marriage is not fact. it is partially correct.

    [উত্তর দিন]

  7. taskin বলেছেন:

    লেখাটা পরে অসমভব ভাল লাগলো।কি বলে যে লেখক কে ধনযবাদ দিব বুঝতে পারছিনা।ভাইয়া এগিয়ে যান।আপনার যে কোন ধরনের সহযগিতায় আমাকে আপান্র পাশে পাবেন সবসময় ইনশাল্লাহ।আমি বাংলাদেশ এ থাকি দেশে আসলে কন সহযোগিতা করতে পারলে নিজে ধন্য মনে করব __phone number__

    [উত্তর দিন]

  8. taskin বলেছেন:

    মোহরানার বিষয় টি নিয়ে কিছু বলা হউক ঃঃ)একটা ছেলে সাবলম্বি না হলে কিভাবে মহরানা পরিশধ করবে??

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    মোহারানা কত ধার্য হবে তার উপর নির্ভর করে কতটা স্বাবলম্বী হতে হবে, নাকি কতটা স্বাবলম্বী তার উপর ভিত্তি করে মোহরানা হবে তা আগে বিবেচনা করতে হবে। যারা অশ্লীলতার চেয়ে নৈতিকতাকে গুরুত্ব দেয় তারা মোহরানার বোঝা বাড়িয়ে বিয়েকে ঠেকিয়ে রাখা সমীচীন মনে করবে না।

    [উত্তর দিন]

  9. taskin বলেছেন:

    আরেকটা প্রশ্ন আগে বিয়ে করলে কন বাবা মা ই মেয়ে দিবে না কারন তখন ত একটা ছেলে নিজের পায়ে দারায়নি এতার উত্তর কি হবে??

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    এর উত্তর একটাই, বিয়ের জন্য ছেলেকেই বিত্তশালী হতে হবে এমন মানসিকতা চেঞ্জ করার সময় এসেছে। বাবা-মাকে ভাবতে হবে তারা সন্তানকে উচ্ছন্নে ঠেলে দেবে না কি তার-ও তার স্ত্রীর ভরণপোষণের ভার নেবে যতদিন না তারা উপার্জনক্ষম হয়, মেয়ের বাবাকেও ভাবতে হবে বিত্তশালী বরের আশায় তার সন্তানকে অনৈতিকতার পথে ঠেলে দেবে নাকি কম উপার্জনক্ষম ছেলের হাতে বিয়ে দিয়ে তুলে দেবে। প্রাথমিকভাবে এ ধারায় চলতে সমাজের হয়তো বেগ পেতে হবে, তবে সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন সামাজিকভাবে উপযুক্ত বয়সে সন্তানের বিয়ে দেওয়াই রেওয়াজে পরিণত হবে।

    [উত্তর দিন]

  10. Md. Khalilur Rahman বলেছেন:

    Thanks for your nice writings . Go forward we are with you.

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ, অনুপ্রাণিত হলাম। সত্যের পথে আমৃত্যু যেন পর্বতের ন্যায় অটল, অনঢ় থাকতে পারি আল্লাহর কাছে এ-ই প্রার্থনা।

    [উত্তর দিন]

  11. শ্রাবণ বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগলো লেখাটি পড়ে। আজকাল সঠিক জ্ঞানের মানুষের খুবই অভাব। ধন্যবাদ।

    [উত্তর দিন]

  12. dr. abu sa-ada বলেছেন:

    লেখা ভালো লেগেছে। আমি একটি লেখা পাঠালাম।

    নারীকে আদর ও ভালোবাসতে শিখুন

    ড. আবু সাআদা

    মানব সমাজে কত ধরণের বিভ্রান্তিমূলক ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা গণনা করা কঠিন। একদিন এক লোকের কাছে শোনলাম, ‘পৃথিবীর সকল অপরাধের উৎস নারী’। কত বড় মিথ্যা ও বাজে কথা। কথাটা যদি এরকম হতো, ‘কিছু পুরুষের অপরাধের পেছনে নারীর ইন্ধন থাকে’ তাহলে এটি পৃথিবীর সত্য কথা গুলোর অন্যতম বলে ভাবা যেতো। ধরুন একটি মেয়ে পুরুষের সামনে নিজেকে নির্লজ্জ তথা অশালীন ভাবে উপস্থাপন করলো, তাহলে হতে পারে, তার প্রতি লোভ করতে গিয়ে কোনো পুরুষ নিজের বা ওই নারীর কিংবা পরিবার ও সমাজের অন্য কারো উপর অবিচার ও অন্যায় করে বসতে পারে। অথবা কোনো স্ত্রী স্বামীর কাছে তার সাধ্যের বাইরে কিছু কামনা করতে পারে। এতে স্বামী চুরি বা দুর্নীতির আশ্রয় নিতে পারে। কিংবা কোনো নারী স্বামীর কাছে তার ভাই, বোন বা অন্য কারো ব্যাপারে সত্যের মিথ্যা মিশিয়ে এমন কোনো কথা বলল, যাতে স্বামী ওই লোকদের প্রতি রক্তসম্পর্কের যে অধিকার রয়েছে, তা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করতে পারে।
    এ চরিত্রের প্রচুর নারী সমাজে থাকলেও সবাইতো এরকম না। আপনার স্ত্রী এ চরিত্রের হলে তাকে বুঝান। না বুঝতে চাইলে তাকে কিছুদিন অভিভাবকের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে আপনার গুরুত্ব বুঝার তাকে সুযোগ দিন। তা না করে প্রথমেই তার উপর শতভাগ আস্থা হারিয়ে ফেলা কোনো পরিপক্ক বা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। মনে রাখবেন, নারীকে যেহেতু আল্লাহ আপনার সুখের জন্য বানিয়েছেন এবং আপনাকে নারীর চেয়ে কঠিন পরীক্ষার জন্য সৃষ্টি করেছেন, সেহেতু তিনি তাতে কিছু সহনীয় পর্যায়ের সমস্যাও সৃষ্টি করে রেখেছেন। দেখেন না, ৫০০/১০০০ টাকায় একটি ইলিশ মাছ কিনেছেন, কিন্তু তাতে কত কাঁটা। আপনি নিশ্চয় কাঁটা পরিস্কারের কষ্ট করেই ওই মাছের স্বাদটা গ্রহণ করছেন। নারীর কিছু শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা নিশ্চয় রয়েছে। আপনি যেহেতু তার অভিভাবক, স্বামী সেহেতু আপনাকে সে দুর্বলতা মেনে নিতেই হবে। ওরা যদি আপনার মত ফিজিক্যালি-মেন্টালি স্ট্রং হতো, তাহলে আপনি তাদেরক আরো খারাপ পেতেন। তারা দুর্বল বলেই তাদেরকে আপনার এত ভালো লাগে, মায়া লাগে। অতএব, আপনি কেন তাদের সীমাবদ্ধতাকে সময়মত বুঝতে চাইবেন না। মনে রাখবেন, আপনি যদি একজন নারীকে আদর ও ভালোবাসতে না শেখেন, তাহলে পৃথিবীর কোনো নারীই আপনাকে সুখ দিতে পারবে না। কারণ, আপনার মত অসহিঞ্চু ও স্বার্থপর মানুষের জন্য স্রষ্টা সুখকে সৃষ্টি করেননি। সুখকে তিনি তাদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, যারা মানুষের দুঃখ বুঝে, তাদের প্রতি করুণাশীল হতে জানে। আমাদের নবী (স.) যথার্থই বলেছেন,
    হযরত আবু হুরারা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রওয়ালা মুমিনই সবচেয়ে পূর্ণ ঈমানের অধিকারী। তোমাদের মধ্যে সেইসব লোকই সর্বোত্তম, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম।” সুনানুত তিরমিযী (১১৬২), ছহীহু ইবনু হিব্বান (১১৬২) ও বাইহাকীর শুআবুল ঈমান (২৭)
    তিনি আরো বলেছেন,
    হযরত আমর বিন আহ্ওয়াছ আল-জুশামী রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিদায় হজে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন এবং (উম্মতকে) উপদেশ দেওয়ার পর বলতে শুনেছেন, “তোমরা (আমার কাছ থেকে) নারীদের সাথে সদ্ব্যহারের নির্দেশনা গ্রহণ কর। কারণ, তারা তোমাদের কাছে আবদ্ধ। তোমরা তাদের কাছ থেকে (দৈহিক) সুযোগ-সুবিধা লাভ করা ছাড়া অন্য কিছুর মালিক নও। তবে যদি তারা প্রকাশ্য মন্দ কাজে (অর্থাৎ, স্বামীর অবাধ্যতায়) লিপ্ত হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। যদি তারা এরূপ করে, তাহলে শয়নস্থল থেকে তাদেরকে পৃথক করে দাও এবং তাতে না হলে হাল্কাভাবে মাইর দাও। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে (তালাক বা কষ্ট দিতে) পথ খোঁজো না। শোনো! স্ত্রীদের উপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের উপরও তাদের অধিকার রয়েছে। তাদের উপর তোমাদের যে অধিকার রয়েছে, তাহল, তারা তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমাদের বিছানায় বসতে দিবে না এবং তোমাদের অপছন্দনীয় ব্যক্তিকে তোমাদের গৃহে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। আর তোমাদের উপর তাদের যে অধিকার রয়েছে, তা হল, তোমরা তাদের বস্ত্র ও খাবারের সঠিক ব্যবস্থা করবে।” সুনানুত তিরমিযী (৩০৮৭), সুনানু ইবনু মাজা (৩০৫৫), সুনানুন নাসায়ী কুবরা (৪১০০)
    তিনি আরো বলেছেন,
    হযরত মুআবিয়া বিন হায়দাহ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমাদের কারো উপর তার স্ত্রীর কি অধিকার রয়েছে? তিনি বললেন, “তুমি যা (অর্থাৎ, যে মানের) আহার কর, তাকেও (সে মানের) আহার করাও, তুমি যা (অর্থাৎ, যে মানের) পরিধান কর, তাকেও (সে মানের) পরিধান করাও। তার মুখমন্ডলে প্রহার করবে না, তাকে ‘তোমাকে আল্লাহ কুৎসিত করুক’ বলে গালি দিবে না এবং গৃহের অভ্যন্তরে ছাড়া অন্য কোথাও তাকে পৃথক রাখবে না (অর্থাৎ, বাড়ি থেকে বের করে দিবে না, শিক্ষা দিতে চাইলে বাড়িতেই আলাদা রুমে রাখবে)।” সুনানু আবু দাউদ (২১৪২), সুনানু ইবনু মাজা (১৮৫০) ও সুনানুন নাসায়ী কুবরা (৪১০০) প্রভৃতি
    কৃতজ্ঞা আপনার প্রতি হে নারী জাতির ত্রাণকর্তা আল্লাহর হাবীব ও প্রিয় নবী মুহম্মদ (স.)।

    ০৪.০১.২০১৩, জুমাবার

    [উত্তর দিন]

  13. মুঈন মাহমুদ বলেছেন:

    ভাই অসাধারণ । আল্লাহ্ আপনাকে সার্বিক সাচ্ছন্দ্য দান করুন । আমি আপনার সমর্থনে সর্বদা থাকব ইনশাহ্ আল্লাহ্ ।

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন