জনপ্রিয়তাই শেষ কথা নয়!

ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর উলানিয়া যাচ্ছিলাম বেশ কয়েক বছর আগে। নদীমাতৃক বাংলাদেশ, সে সময়ে নদীপথই ছিল দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। নদীপথে রাত কাটালাম। সকালের সোনালী সূর্য ধীরে ধীরে তেঁতে উঠে যাচ্ছে মাথার উপরে। পথের যেন শেষ নেই। একের পর এক ঘাটে লঞ্চ ভিড়ছে, যাত্রীরা নেমে যাচ্ছে, আবার লোকাল দু’য়েকজন যাত্রীও উঠছেন লঞ্চে।
হয়লার (গ্রাম্য গান) দেশে চলেছি, মাইকে ভেসে আসছে উচ্চ ভলিয়্যুমে নানান শিল্পীর গান। এর মাঝেই একটি গান হঠাৎ আমার মনোযোগ কেড়ে নেয়। “শালী কয় ও দুলাভাই গাছের নীচে ঝোলে কি….”। শালী দুলাভাইয়ের অশ্লীল গানে সমস্ত শরীর ঘেন্নায় রি রি করে ওঠে। কিন্তু কি আশ্চর্য, ডেকে সারি সারি শুয়ে বসে থাকা নানান বয়েসীয় নারী পুরুষ, মা-বাবা, ভাই-বোন কারো কোন প্রতিক্রিয়া নেই এ গানে। বুঝলাম, এ গান শুনেই এরা অভ্যস্ত, এ অঞ্চলে এ গানগুলো খুবই স্বাভাবিক। পাশাপাশি কারো কারো মুখে গানের কলি ভাজতে দেখে বুঝলাম, গানগুলো কি ভয়াবহ জনপ্রিয় গ্রামাঞ্চলের সাধারণ এ সকল মানুষের কাছে।
এমনই একজন জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ। নিদ্বির্ধায় বলা যায়, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী তিনি। আর জনপ্রিয়তার জন্য ইতোমধ্যে তিনি সরকারী দলের কৃপায় সাংসদের আসনও অলংকৃত করেছেন।
আমার স্পষ্ট মনে আছে, একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেছিলেন তিনি অশ্লীল সংগীত পরিবেশন করতেন। বলা বাহুল্য, তার গাওয়া অশ্লীল গানের পরিসংখ্যান দিতে হলে আলাদা একটি পরিসংখ্যান ব্যুরো গঠন করতে হবে। তবে তিনি অশ্লীল গান গাওয়ার ব্যাপারে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, জানালেন, অশ্লীল গান গেয়েছেন বলেই আজ তিনি “জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ”।
হ্যা, জনপ্রিয়তার জন্য অশ্লীলতার আশ্রয় নেয়া অতি প্রাচীন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে তিনি জয়ী হয়েছেন, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, সাংসদ হয়েছেন, দু’ শতাধিক দেশের কোটি কোটি দশর্কের সামনে “ছেলেতো নয় একখান আগুনেরই গোলা” গানে বিশ্বমাত করেছেন, হয়তো বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্বও পেয়ে যাবেন।
তবে জনপ্রিয়তাই যে শেষ কথা নয়, তা বোধহয় অনুধাবনের সময় এসেছে। সস্তা জনপ্রিয়তার স্রোতের কবলে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ভেসে যাবার আগেই শক্তিশালী বাঁধ নির্মান করা একান্ত জরুরী।

Be Sociable, Share!

3 Replies to “জনপ্রিয়তাই শেষ কথা নয়!”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।