গর্জে ওঠো রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দল! গর্জে ওঠো বাংলাদেশ!!

ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা বিশ্বের যে কোন দেশের চেয়ে বাংলাদেশে বেশী, এমনকি ভারতের চেয়েও। কোটি কোটি দর্শক শ্রোতা দিনরাত ইশ্বর-ভগবান-আল্লাহর নাম জপে যাচ্ছে প্রিয় দলের সাফল্য কামনায়। তবে ক্রিকেটের মতো খেলার প্রতি আল্লাহর আদৌ কোন আগ্রহ নেই বলে বরাবরই স্বাভাবিক নিয়মে যারা ভালো খেলে তারাই জিতে যায়। আর আল্লাহ যদি ক্রিকেট প্রেমীদের প্রার্থনায় সাড়া দিতেন তবে সব সময়ই ভারতেরই জয় হতো, সোয়া’শ কোটি ভক্তের দল বলে কথা। আসলে বিশ্বের সব সৃষ্টিকেই আল্লাহ স্বাভাবিক নিয়মে চলার সুযোগ দেন যতক্ষণ না বিশেষ কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

হ্যা, আগেই বলেছি, ক্রিকেটের প্রতি আমাদের আগ্রহ থাকলেও আল্লাহর আগ্রহ নেই। তাই মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে জিতিয়ে দিতে হবে এমন নয়। ক্রিকেটে জয় পেলেই পাকিস্তানী ক্রিকেটাররা মাঠে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, এতেও আল্লাহর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, জুমার নামাজের ওয়াক্তে ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি করে জয় পেয়ে একটা সিজদা দিলেই আল্লাহর ক্রোধ প্রশমিত হওয়ার কথা নয়। তবে ক্রিকেটের প্রতি আল্লাহর আগ্রহ না থাকলেও ক্রিকেট উন্মাদনায় বেসামাল হয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অশ্লীল নর্তন-কুর্দন নির্বিঘ্ন করতে যখন আল্লাহ ঘোষিত সর্বোত্তম কাজে বাধার সৃষ্টি করা হয়, তখন খেলায় জয় পরাজয়ে আল্লাহর হস্তক্ষেপ মোটেই অস্বাভাবিক নয়।

“তার কথার চেয়ে উত্তম আর কার কথা হতে পারে, যে মানুষদেরকে আল্লাহর পথে ডাকে” কোরআনের এ বাণীই প্রমাণ করে সালাত কায়েমে জন্য মসজিদে মসজিদে আজানের কি অপরিসীম গুরুত্ব। আজানে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয়া হয়, রাসূলের (সাঃ) নেতৃত্ব মেনে নেয়া হয়, কল্যাণের পথে আহ্বান করা হয়, যা বিতাড়িত শয়তানকে দিশেহারা করে ফেলে। অথচ সর্বোত্তম এই দাওয়াতকেই মাইকে প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল শুধুমাত্র বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অশ্লীলতাকে নির্বিঘ্ন করতে। আজ যদি সরকারের এমন ইসলাম বিদ্বেষী ধৃষ্টতার জন্য বাংলাদেশ পরাজিত হয় তবে তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় কি?

প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটারদের নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনে নিষেধ করলেন, নেতিবাচক সংবাদে মনোবল ভেঙ্গে যায়। কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের খেলোয়ারদের শুধু প্রশংসা আর সামর্থের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী খরচ করে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপের খরচ মেটাতে গিয়ে এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারী মাসের বেতন আজ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয় নি। তবু ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুঃখ ভুলে সবাই বাংলাদেশ দলের সাফল্য কামনা করছে। কিন্তু সকল প্রস্তুতির পরও বাংলাদেশের সামনে যখন ৪ উইকেটের বিনিময়ে ভারত ৩৭০ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, যেখানে মিরপুর স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ৩৩০, তখন সবকিছুর মাঝেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়। কেন প্রধানমন্ত্রী আগেভাগেই নেতিবাচক সংবাদ প্রচারে নিষেধ করলেন? কথার কথা নাকি উদ্দেশ্যপূর্ণ? কেন মাশরাফিকে খেলতে দেয়া হলো না, নিছক ইনজুরি নাকি অন্য কিছু? শেখ হাসিনা কি তবে জানতেন বাংলাদেশকে হারতে হবে ভারতের কাছে?

সবকিছুর পরও ষোল কোটি বাংলাদেশীর মতো আশায় বুক বেধে আছি, বাংলাদেশের টাইগারেরা বিশ্বের সামনে গর্জে উঠে প্রমাণ করবে, কারো চেয়ে ওরা কোন অংশেই কম নয়, সকল চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় ওরা নির্ভয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট যোদ্ধাদের প্রশান্ত মহাসাগরের মতো অতলান্ত হৃদয় পরিপূর্ণ দেশপ্রেম আর দেশের ষোল কোটি মানুষের ভালোবাসায়, এমটা প্রমাণে কার্পণ্য করবে না ওরা, এমনটাই প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“গর্জে ওঠো রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দল! গর্জে ওঠো বাংলাদেশ!!” লেখাটিতে 7 টি মন্তব্য

  1. আরাফাত রহমান বলেছেন:

    আমার একটি প্রশ্নের উত্তর কেউ দেবেন ?
    টসে জেতার পরেও ভারতকে ব্যাটিংএ করতে দেয়া হলো কার নির্দেশে?

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    চারিদিকে শুধুই রহস্য। রহস্যময় চাঁদও উঠেছে আজ আকাশে। শোনা যায়, পূর্ণিমার সময়ে পাগলামি বেড়ে যায়। হয়তো প্রকৃতিরই দোষ।

    [উত্তর দিন]

  2. শাহরিয়ার বলেছেন:

    বাংলাদেশের উচিত নয় আগামী ৫ বছরে আর আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়া। রানের বিশাল পাহাড় দেখলে কিছুটা হলেও স্নায়ুচাপ বাড়ে, আর একটা সময় পর স্পষ্ট হয়ে যায়, আর জেতা সম্ভব নয়। কিন্তু আগে ব্যাটিং করে যে কোন স্কোরই করুক না কেন শেষ পর্যন্ত আশা থাকে সব উইকেট ফেলে দিয়ে জয় আসবে। সম্ভব মাথা ঠান্ডা রেখে লাইন লেন্থ মেপে বল করা। ক্রিকেট বোদ্ধাদের কাছে এ কথা ইললজিক্যাল মনে হলেও মাঝে মাঝে দীললজিক্যাল হতে ইচ্ছে হয়।

    [উত্তর দিন]

  3. সালাম বলেছেন:

    কিছু ভালো লাগেনা কিছুই বলবনা কান্না আসতেছে! আপনার লেখা পড়ে মনটায় একটু শান্তি পাচ্ছি . লেখার কিছু অংশ কপি করলাম .

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    কিছুই বলার নেই আসলে। হাজারো সমস্যা ভুলে বাংলাদেশ এ মুহুর্তে টিভি সেটের সামনে, আর টাইগাররা কি বেইজ্জতিই না করছে তাদের।
    কপি পেস্ট করায় দোষ নেই, পূর্বানুমোদনও লাগবে না আমার সাইট থেকে, তবে সোর্স উল্লেখ করলে লেখায় আগ্রহ বাড়বে।

    [উত্তর দিন]

    সালাম উত্তর দিয়েছেন:

    প্রায় সময়ই ব্লগ পড়ি কিছুদিন আগে সোনার বাংলায় আপনার একটা লেখা দেখেছিলাম কপি – খালেদা জিয়া মেট্রিক ফেল : ড. শেখ হাসিনা ! লেখাটা ভালো লেগেছে বলে কমেন্ট করব করতে গিয়ে দেখি লেখা নাই! কিহল লেখা নাই কেন ? লেখক বললেন তাকে নাকি নোটিশ দিয়েছে লেখায় নাকি খারাপ, কুরুচিপূর্ণ , হেয় করার মত কিছু ছিল . অথচ পুরা লেখায় কিছু ছিলনা হক কথা ছাড়া . যাইহক তার পরেও লেখক জানতে চেয়ে আরেকটা পোষ্ট দিয়েছেন কিন্তু মডু তাকে ব্যান করে আসল ঘটনা কি জানেন আসলে লেখায় কিছু ছিলনা তারা লেখার সোর্স টাকে ভয় পেয়েছে! সেই একই লেখা আরেক জন দিয়েছে কিন্তু সোর্স দেয়নি তার লেখা সরায়নি ব্যান ও করেনি ! তাহলে বুঝাই যায় আপনার উপর “বতঃ” নজর আছে কিছু কিছু লোকের তাই সাবধানে থেক ভাইডি .

    [উত্তর দিন]

    শাহরিয়ার উত্তর দিয়েছেন:

    ধন্যবাদ, ভালো পরামর্শের জন্য।
    আসলে অনেক দিন থেকেই নজরে আছি। ইতোমধ্যে “সাপ্তাহিক” এ প্রচ্ছদ প্রবন্ধ ছেপেছে। সামু ও আলু ব্লগে ব্লক করা হয়েছে। ইচ্ছে করে অন্য ব্লগ গুলোও তাই ছেড়ে এসেছি।
    তবে সত্য বলায় ভয়কে জয় করতেই হয়। আল্লাহই সর্বশক্তিমান।

মন্তব্য করুন