নাচগানের জন্য মাইকে আজান বন্ধ!

অলীদ ইবনে মুগীরাহ , আস ইবনে ওয়ায়েল , আসওয়াদ ইবনুল মুত্তালিব ও উমাইয়া ইবনে খালফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত করে বলেন : “ হে মুহাম্মাদ ! এসো আমরা তোমার মাবুদের ইবাদাত করি এবং তুমি আমাদের মাবুদদের ইবাদাত করো। আর আমাদের সমস্ত কাজে আমরা তোমাকে শরীক করে নিই। তুমি যা এনেছো তা যদি আমাদের কাছে যা আছে তার চেয়ে ভালো হয় তাহলে আমরা তোমার সাথে তাতে শরীক হবো এবং তার মধ্য থেকে নিজেদের অংশ নিয়ে নেবো। আর আমাদের কাছে যা আছে তা যদি তোমার কাছে যা আছে তার চাইতে ভালো হয় , তাহলে তুমি আমাদের সাথে তাতে শরীক হবে এবং তা থেকে নিজের অংশ নেবে। ” একথায় মহান আল্লাহ আল কাফেরুন সূরাটি নাযিল করেন। ( ইবনে জারীর ও ইবনে আবী হাতেম । ইবনে হিশামও সীরাতে এ ঘটনাটি উদ্ধৃত করেছেন।) এ সূরা নাজিলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে সত্য আর মিথ্যার আপোষ সম্ভব নয়, ইসলামের সাথে ব্রাহ্মণ্যবাদকে গুলিয়ে ফেলার কোন সুযোগ নেই।

কয়েকদিন আগে একুশের বই মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা আসেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতেই একটা দীর্ঘ বক্তৃতা দেন তিনি। মজার মজার কথায় কখনো দর্শকদের হাসিয়েছেন, কখনো বক্তৃতায় খেই হারিয়ে দর্শকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছেন আবার এরই মাঝে দু’য়েকটি ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “পাশ্চাত্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বলতে ধর্মহীনতাকে বুঝায় আর উপমহাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বলতে সকল ধর্ম নিয়ে তৈরী মতবাদকে বুঝায় যার প্রবক্তা সম্রাট আকবর”। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের যে চাষাবাদ চলছে তার মূলমন্ত্র ঐ সম্রাট আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহী তথা সকল ধর্মের মিশ্রণে তৈরী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। আকবর বিশ্বাস করতেন, শুধুমাত্র ইসলাম সত্যধর্ম হতে পারে না , প্রতিটি ধর্মের মাঝেই সত্য আছে। তাই সকল সত্য একত্র করে একক একটি ধর্ম হওয়া উচিত। সকল ধর্মের সত্যকে স্থান দেয়ার কথা বলা হলেও আকবর মূলতপরিকল্পিতভাবে ইসলামকে কোনঠাসা করার জন্যই এ ধর্মমত প্রচার করেন যেখানে হিন্দু, খৃষ্টান, জৈন প্রভৃতি ধর্মমতকে প্রাধান্য দেয়া হয়। ইসলাম নিষিদ্ধ বিভিন্ন বিষয় যেমন সুদ, জুয়া ও শরাবকে হালাল করা হয়, সিংহ ও বাঘের গোশত হালাল করা হয়, শুকরকে অতি পবিত্র প্রাণী ঘোষণা করা হয়, বিদ্যালয়সমূহ থেকে আরবী হঠিয়ে হিন্দীকে প্রাধান্য দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে আশার কথা এই যে, আকবরের মতে সব ধর্মের ভালো বিষয়গুলো দিয়ে তৈরী জগাখিচুরি সাধারণ  মানুষকে গেলানো যায় নি, তার জীবদ্দশায় মাত্র ১৯ জন অনুসারীকে গেলানো সম্ভব হলেও তার মৃত্যুর পর তারাও তা উগড়ে দিয়েছেন। তদানিন্তন সময়ে তার এ ইসলাম ও নৈতিকতা বিরোধী ঘৃণ্য অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আলেম সমাজ রুখে দাড়িয়েছিলেন, শায়খ আহমদ সরহিন্দী (রঃ) ও বাংলা অঞ্চলের কাজীর মতো পূণ্যাবান ব্যক্তিদের নেতৃত্বে উপমহাদেশ থেকে আকবরের ভন্ডামী বিদায় নিয়েছিল।

তবে আকবর চলে গেলেও উপমহাদেশ থেকে শয়তান বিদায় নেয় নি বরং বিভিন্ন কাধ ঘুরে ঘুরে বর্তমানে শেখ হাসিনার ঘাড়ে সওয়ার হয়েছে। আর এরই অংশ হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশে চলছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত, সংবিধানকে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে বাহাত্তরের অন্ধকারে। আর আকবরের ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী তথা ইসলাম বিদ্বেষী বর্তমান আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইসলামের বিভিন্ন ভীতের উপর একের পর এক কুঠারাঘাত হেনে চলেছে। সবচেয়ে আশ্চর্য এই যে সরকারের পৌত্তলিক মতাদর্শের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে যৌনসন্ত্রাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। অথচ যৌনসন্ত্রাস প্রতিরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং যৌন সন্ত্রাসকে আরো উস্কে দিতে ভারতীয় পৌত্তলিক সংস্কৃতি আমদানী করে বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। যে দেশে নারীরা নেকাব পড়ে পথ চলতে পছন্দ করে, যে দেশে সালোয়ার কামিজেও নারীরা  শালীনভাবে চলাচলের চেষ্টা করেন সেখানে কোটি কোটি দর্শকের সামনে প্রায় নগ্ন নারীপুরুষের নর্তন-কুর্দন জাতিকে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের মতো আওয়ামী জাহেলিয়াতের মাঝে টেনে নিতে চায় বর্তমান সরকার।

গতকাল বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জমকালো উদ্বোধন হয়ে গেল। বিশ্বকাপ ক্রিকেট না বলে বঙ্গবন্ধুকাপ ক্রিকেট নাম দেয়াই উচিত যদিও “বঙ্গবন্ধুর উত্তাল আহ্বান যে খুব সাড়া ফেলল, তার প্রমাণ নেই” বলে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেলো আওয়ামী বান্ধব ভারতেরই আনন্দবাজার পত্রিকাকে। বঙ্গবন্ধু কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হলো বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পাশেই। আর বায়তুল মোকাররমের আজানে যাতে কিছুতে নাচগানে ছেদ না পড়ে তার জন্য ৩টি ওয়াক্তের নামাজের আজান মাইকে প্রচার বন্ধ রাখে সরকার। অথচ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে মাগরিবের পরে, ইচ্ছে করলে আসর ও মাগরিবের আজান প্রচারের সুযোগ দেয়া যেত। কিন্তু আসর, মাগরিব এশা তিনটি ওয়াক্তেই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের মাইকগুলো বন্ধ রাখা হয়। এতোটা দিন জেনে এসেছি, নামাজের সময় ঢোলবাদ্য, নর্তন কুর্দন বন্ধ রাখতে হয়। এমনকি যেসব নারীরা শালীনতার ধার ধারে না, ওড়নাকে মাফলারের মতো গলায় পেচিয়ে রাখে তারাও আজানের সময় ওড়না টেনে মাথা ঢাকে। আল্লাহর একত্ববাদের এই আহ্বানে শয়তান দ্বিগ্বিদিক পালাতে ব্যস্ত থাকে, আর তাই শয়তানের পুজারী আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এসে আজান প্রচারেই বাধা দিচ্ছে কিসের স্বার্থে?

মসজিদের শহর নামে ঢাকা যুগ যুগ ধরে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত। পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পরে মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন পেতে সে সব দেশের মেহমানদের এনে নামাজের সময় পরিকল্পিতভাবে বায়তুল মোকাররমসহ  ঢাকা শহর পরিদর্শন করানো হতো, যাতে শত শত মসজিদ থেকে ঘোষিত আযানের সুমধুর সুরে তাদের মন বিগলিত হয়, ভারতের প্রভাবে নব্য স্বাধীন বাংলাদেশ যে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হয় নি তা যেন বুঝতে পারেন মধ্যপ্রাচ্যের মেহমানেরা। অথচ কি এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটে গেল যে বর্তমানে সরকার এটা প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে উঠল যে বাংলাদেশের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই? যে দেশের ৯০ ভাগ জনতা ইসলামের অনুসারী সেখানে কাদের খুশী করার জন্য দেশটিকে অমুসলিম দেশ প্রমাণ করা জরুরী হয়ে পড়ল? যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কারণে বাংলাদেশ দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে, হঠাৎ করেই তাদের সাথে বৈরীতা সৃষ্টি করে সম্পূর্ণরূপে ভারতমুখীতা কিসের স্বার্থে? আশংকা হয় যে বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশে এতগর্ব, ভারতপ্রেমে অন্ধ সরকার পরিকল্পিতভাবে ভারতের কাছে মাঠে হেরে যাবে নাতো?

বাংলাদেশে ইসলাম রক্ষায় যুগে যুগে রক্ত দিয়েছে তৌহিদী জনতা। ১৯২৭ সালের ২ মার্চে দ্বিতীয় কোলকাতা নামে খ্যাত ঝালকাঠী জেলার কূলকাঠীতে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার্থে শহীদ হয়েছিলেন ১৯জন তৌহিদী জনতা। এএকই ভাবে কোলকাতায় কোরআন বাজেয়াপ্ত মামলার প্রতিবাদে আন্দোলন করে ১৯৮৫ সালের ১১ মে বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জে শহীদ হয়েছে ১১, নিখোঁজ রয়েছেন আরো অনেকে। বাংলাদেশে যেখানেই ইসলাম বিরোধী অপতৎপরতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, আল্লাহর সৈনিকেরা সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দিতেও পিছপা হয় নি। তাহলে আজ কেন তৌহিদী জনতা জেগে উঠবে না?

Be Sociable, Share!

4 Replies to “নাচগানের জন্য মাইকে আজান বন্ধ!”

  1. hamim vai @ apni secularism er against bolte ki bujate caichen daduuu . apnar masi ma hasina je nije musalim ghorer meye hoyeo islamer birudde obosthan nilo seta dekhben na ? bangladesh jonmer ager thkei azan prokasse hocche , othoco aj kar jonne hasina masi 3 three woakter azan off rakhlo . hasinar ei kaj korata ki ISMAM er against naki ei kotha bolata secularism er against . bevhe ans diven plsssssss

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।