সামাজিক মেলামেশায় এইচআইভি ছড়ায় না

এইডস একটি মরণব্যাধি হওয়ায় এ সম্পর্কে মানুষের রয়েছে ব্যাপক ভীতি তেমনি রয়েছে অজ্ঞতা। আর এ অজ্ঞতার ফলে এইচআইভি বহণকারী ব্যক্তি বা এইডস আক্রান্ত রোগীকে সামাজিকভাবে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়। এইডস সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে এবং অযৌক্তিক ঘৃণার কারণে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে অনেক এইডস রোগীকে। এইচআইভি বহনকারী ব্যক্তির সাথে অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক মেলামেশা ওঠাবসা করা হয় না, এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে পাশবিক অত্যাচার চালিয়ে বা গায়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে অতীতে। কিন্তু এইচআইভি বহনকারী ব্যক্তি বা এইডসের কোন রোগী কাউকে ছুয়ে দিলেই কি এইচআইভি সংক্রমিত হয়? না, এইচআইভি ছোঁয়াচে নয় এবং শুধুমাত্র স্পর্শের মাধ্যমেই এইচআইভি এক শরীর থেকে অন্য শরীরে স্থানান্তরিত হতে পারে না।

সামাজিক মেলামেশায় এইচআইভি ছড়ায় না
এইচআইভি বহনকারী ব্যক্তি অন্য সাধারণ ব্যক্তিদের মতোই স্বাভাবিক আচরণ প্রত্যাশা করতে পারে। এইচআইভি বহনকারী ব্যক্তির সাথে যে সকল সম্পর্ক করলে এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে না তা হলো:
১। এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি কারো শরীরের উপর হাঁচি, কাশি দিলে, চোখের জল,
থুথু, ঘাম ফেললে, নাক ঝাড়লে,
২। হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি, স্পর্শ, চুমু কিংবা কথা বললে।
৩। একই পুকুর, গোছলখানা, পায়খানা, তোয়ালে, লুঙ্গি, গামছা ব্যবহার করলে।
৪। একই থালা-বাসন, কাপ-পিরিচ, তৈজসপত্র ব্যবহার করলে।
৫। একই আসবাবপত্র ব্যবহার করলে।
৬। এইচআইভি বহনকারী ব্যক্তির রান্না করা খাবার খেলে।
৭। মশা,মাছি বা পোকামাকর কিংবা পশুর কামড়ে।
৮। একই বিছানা ব্যবহার করলে, একই বাড়ীতে অবস্থান করলে।
৯। একই টেলিফোন, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ব্যবহার করলে।
১০। এইচআইভি মুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার করে রক্তদান করলে।

চুমু দিলে কি এইচআইভি ছড়ায়?
এইচআইভিতে স্নেহ পদার্থের আবরণ envelop থাকায় এইচআইভি অত্যন্ত ভঙ্গুর ফলে এরা শরীরের বাইরে বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে না। শরীরের অধিকাংশ ক্ষরিত তরলেই এইচআইভি থাকে কিন্তু এর আয়ুষ্কার কম হওয়ায় রক্ত বা যৌন মিলনের মাধ্যমে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করতে না পারলে এইচআইভি সংক্রমনের তেমন আশংকা নেই। তাই এইচআইভি বহনকারী রোগীকে চুমুও দেয়া যায়। তবে চুমু দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। বিশেষ করে ফ্রেন্স কিস বা Deep Kissing পরিহার করা উচিত। যদিও ফ্রেঞ্চ কিসিং-এর মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ানোর তেমন রেকর্ড নেই তার পরও যেহেতু শরীরের অধিকাংশ তরল ক্ষরণেই এইচআইভি থাকে তাই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির মুখে যদি কোন কাটা-ছেড়া, ঘা বা ক্ষত থাকে তবে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর উভয়েরই যদি মুখে কাটা-ছেড়া, ঘা বা ক্ষত থাকে তবে বিপদের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তাই এইচআইভি বহণকারী ব্যক্তিকে যদিও চুমু দেয়া যায় তবুও ফ্রেঞ্চ কিস দেয়া থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন