মিথ্যে দিয়ে সত্যের গতিরোধ করা যায় না

এতোদিন শুনে এসেছি দেশে যত হত্যা, সন্ত্রাস, খুন-খারাবী হয় তা জামায়াতে ইসলামীর কাজ। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি তার উল্টো ছবি। হত্যা, সন্ত্রাস-নির্যাতনের যত ছবি পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে আমরা দেখতে পাই তাতে জামায়াত শিবিরকেই নির্যাতনের শিকার দেখতে পাই। অবশ্য কিছু পত্রিকা ছবিটার ক্যাপশন পাল্টে দিয়ে পুরো দৃশ্যপটটাই বদলে দেয়।

বিগত ২৮ অক্টোবর জামায়াত-শিবিরের কর্মীদেরকে নিশংসভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর যখন সারা বিশ্ববাসীর ধিক্কার কুড়িয়েছে আওয়ামী অপশক্তি তখন এ হীণ অপকর্ম ঢাকার জন্য তাদের পুরনো পেশা মিথ্যে প্রপাগান্ডার বাক্স মেলে ধরেছে। [email protected]@!153857 নামের এক নতুন ব্লগার সন্ত্রাসের পুরনো একটা ছবি এনে আবারও প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়েছেন যে ৪দলীয় জোট নিরপরাধ এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে । তার এই মিথ্যে কথাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আরো একটি লিংক দিয়েছে [email protected]@!153892 [email protected]@!153893 পত্রিকার। তাজুল ইসলাম নামে জনৈক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে নোয়াখালীর হাতিয়ায় চারদলীয় জোট এ আক্রমন চালিয়েছে কিন্তু সচেতন পত্রিকা পাঠকমাত্রই জানেন ছবিটি আদৌ চারদলীয় জোট সরকারের আমলের নয় ।

মিথ্যে বলারও একটা সীমা থাকা উচিত। নিয়মিত নামাজ পড়া ঢাকার প্রতিটি মুসলমানই ছবি দেখে চিনতে পারবে যে এটা বায়তুল মোকাররমের উত্তর দিকের বারান্দা। নামাজের সাথে যাদের সম্পর্ক নেই তারাতো পত্রিকার মিথ্যে লিংক দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেই। মিথ্যে সকল পাপের মা। মিথ্যে দিয়ে আর যা-ই হোক পতন ঠেকানো যাবে না, মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায় না।

যারা নিয়মিত পত্রিকার পড়েন তারা জানেন বিগত আওয়ামী অপশাসনামলে চরমোনাই পীরের অনুসারীদের হাতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মিয়া গোলাম কুদ্দুস নির্মমভাবে আহত হন। মিয়া গোলাম কুদ্দুস খুলনা থেকে ২০০১ সালে নির্বাচিত মিয়া গোলাম পারওয়ারের ভাই।

অথচ পরিতাপের বিষয় এই, যে ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী আক্রান্ত হলো, যে ঘটনায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ অপবিত্র হলো উগ্র ধর্মান্ধদের দ্বারা সেই ঘটনাকেই উল্টো জামায়াতে ইসলামীর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চলছে। যেহেতু ঘটনাটি অনেক পুরনো তাই ওরা ভেবেছিল যে পুরনো একটি ছবি সবাই ভুলে যাবে আর ইচ্ছেমতো রং দিয়ে কৈ-এর তেলে কৈ ভাজার মতো করে জামায়াতকে ঘায়েল করা যাবে।

গোটা জাতির চোখকে ধুলো দিয়ে একটি মিথ্যেকে সত্যে পরিণত করার অপচেষ্টা চালিয়ে মাহবুবরা পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চান। কিন্তু হেমায়েতপুরের বাসিন্দারা মানবজাতিকেই পাগল মনে করলেই যেমন সবাই পাগল হয়ে যায় না তেমনি মিথ্যে কথামালা দিয়ে একটি জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপেচষ্টা চালালে, পুরো জাতিকেই আহাম্মক মনে করলেই জাতির বিচার-বিবেচনা, জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাবে না।

বি:দ্র: অবশেষে মাহবুব সাহেবের মিথ্যাচার প্রমাণিত হয়েছে। (দেখুন ছবি ২)
মাহবুব সাহেব পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন যে সংবাদের ভাষ্য এবং ছবি সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি মূলত বুঝতে পারেন নি একটি ছবিকে অন্য সংবাদের সাথে জুড়ে দিয়ে তিনি যে তথ্য সন্ত্রাস করছেন তা সাধারণ জনতা বুঝে ফেলবে। পরবর্তীতে তাঁর এ মিথ্যাচার প্রমাণ হয়ে গেলে তিনি স্বীকার করেন যে ডেইলী স্টারে দেয়া সংবাদ ও ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন