১১ নভেম্বর॥ ১১ দলের লম্ফঝম্ফের দিন

গতকাল আওয়ামী অপশক্তি ১১দফা দাবী পেশ করেছে পল্টনের জনসভায় এবং ১১ তারিখের একটি আলটিমেটাম জারী করেছে। এর মধ্যে ১১ দফা দাবী তত্ত্বাবধায়ক সরকার মেনে না নিলে লাগাতার অবরোধ (এবং অবশ্যই এই সুযোগে জনগণকে একহাত দেখে নেয়া, দাবী আদায়ের নামে গণহত্যা) পালন করবে বলে রণহুংকার দিয়েছে। এ হুংকারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কতটুকু নড়েচড়ে বসবে তা আমার জানা নেই তবে প্রাণভয়ে সাধারণ জনগণের যে নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাবে তা নিশ্চিত।

চৌদ্দদলের নেতৃত্ব কাদের হাতে প্রশ্ন আমাকে মাঝে মাঝে ভাবায়। আসলেই কি আওয়ামী অপশক্তি নিয়ন্ত্রিত চৌদ্দদল? আওয়ামী সমর্থকগোষ্ঠীর বিশাল বিশাল সমাবেশ দেখে তাই মনে হতে পারে কিন্তু খটকা থেকেই যায় কর্মসূচীগুলোর বামঘেষা চরিত্র দেখে।

এগারো দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ন্যাপ (মুজাফ্ফর) আর আওয়ামী অপশক্তি এই নিয়ে চৌদ্দদল, এর সাথে রয়েছে ড. কামাল হোসেনের গণ ফোরাম (নাকি গণফোঁড়া)। ১৪ দলের মাঝে আওয়ামী অপশক্তির হাতে রয়েছে দেশের একতৃতীয়াংশেরও বেশী জনগণ। আর এগার দলের এগারটি দল কি কি তার জবাব দিতে পারে এমন সচেতন নাগরিক লাখে একজন পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। রাশেদ খান মেননের ব্যক্তিসর্বস্ব দল ওয়ার্কার্স পার্টির কিছু গণভিত্তি আছে বরিশালে, রাশেদ খান মেননের জন্যই। এগারজন নেতা (এগার হবে কি না সন্দেহ আছে) নিয়ে যদি এগার দল হয় তবে দেশের ১৪ কোটি নাগরিকের দেশে ১৪কোটি দল থাকার কথা। আর গণ ফোরামের (অথবা গণফোঁড়া) কি আছে আমি শিউর নই, দলটাতে আমি শুধু মস্তিষ্কই দেখি, হাত পা দেহ নেই, এমনকি মস্তিষ্ক ধারণের খুলিটিও নেই, চলৎশক্তিহীন একতাল মংসপিন্ডের মতো অসহায়ভাবে জাতির ঘাড়ে চেপে বসে আছে দলটি।

কিন্তু দলে কর্মী থাকুক আর নাই থাকুক চলমান রাজনীতি দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে ১৪ দল মূলত ১১ দলের হাতের পুতুল। বুর্জোয়া খেদাতে খেদাতে ক্লান্ত বামপন্থী দলগুলো যখন কড়কড়ে টাকার ঘ্রান পেতে শুরু করে তখন সর্বহারার সংজ্ঞা পাল্টিয়ে বড় দুটো সর্বহারা দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মাঝে বিলীন হয়ে গেছে। এর পরও যে সকল বামপন্থী নেতা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো দুধের বাটে মুখ রাখতে পারে নি তারা পত্রিকা আর সংস্কৃতির সওদা নিয়ে বিভিন্ন দলের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষায় ব্যস্ত রয়েছে।

বামপন্থী দলগুলো পত্রপত্রিকা তথা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পাকাপোক্ত আসন গেড়ে চটকদার মনগড়া উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন করে জাতির রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রনে চেষ্টা চালাচ্ছে। মিডিয়া হাতের মুঠোয় থাকায় তিলকে যখন তখন তাল করে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে কাচকলা দেখিয়ে ভালই টুপাইস কামিয়ে নিচ্ছে ওরা। এতে আওয়ামী অপশক্তির আদৌ কোন লাভ হচ্ছে কি না তা ক্ষমতার মোহে অন্ধ আওয়ামী গডফাদার/মাদারদের সেদিকে দৃষ্টি নেই। বামদলগুলোর এটে দেয়া রঙীন চশমায় বিভ্রান্ত হয়ে আওয়ামী অপশক্তি ২০০১ সালের মতো আবারো ইসলামপন্থীদের নির্মূল করার টার্গেট নিয়ে নিজেদেরকেই যে কোনঠাসা করে ফেলছে তা দিব্যি চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে মিডিয়ার কল্যাণে। হিন্দুদের দল বলে এতোদিন যে দোষটা আওয়ামী অপশক্তির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে ছিল তা ধীরে ধীরে বাস্তবতায় পরিণত হতে যাচ্ছে। যে সকল এলাকায় হিন্দু সংখ্যাগরিষ্টতা রয়েছে কেবলমাত্র সেসক স্থানেই আওয়ামী অপশক্তির আস্তানাগুলো টিকে আছে বাকী স্থান থেকে ধীরে ধীরে পশ্চাদপসরণ হচ্ছে।

আগে সব সময়ই ১১ দল নভেম্বরের ১১ তারিখে একটা না একটা প্রোগ্রাম দিয়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিতো। কয়েক বছর ধরেই ১১ মাসের ১১ তারিখে ১১ দলের হরতাল, ধর্মঘট প্রভৃতি দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে বছরের ১১ তম মাসের ১১ তারিখটাই হলো ১১ দলের লম্ফঝম্ফের দিন। আর দেশের সকল জনগণের চাওয়া পাওয়াকে উপেক্ষা করে, দেশী বিদেশী কুটনীতিকদের অনুরোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে ১১ তারিখের ১১ দফা বাস্তবায়নের একটি আল্টিমেটাম জাতিকে উপহার দেয়ার কারণ কি ১১ দল? বিগত বছরগুলোতে ১১ দল ১১ নভেম্বরে যে নিষ্ফল কর্মসূচী পালন করেছে এবার আওয়ামী অপশক্তির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে একটু সফলতার স্বাদ নেয়ার জন্যই কি এ আল্টিমেটাম দিতে বাধ্য করলো ১১ দল? আওয়ামী অপশক্তির পতনের ঘন্টা কি এবার ১১ দলের হাতে, কখন বাঁজবে সেই ঘন্টা তারই অপেক্ষা শুধু এখন সাধারণ জনতার।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন