পুঁজিবাজার বিপর্যয় : মুহিতের ভুল স্বীকার

অবশেষে দায় স্বীকার করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। স্বীকার করলেন পূঁজিবাজারে কলংকজনক বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে সরকারের ভুল, রয়েছে অর্থমন্ত্রীর ব্যর্থতা, রয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ব্যর্থতা। অভিনন্দন মুহিত, অন্তত দায় স্বীকার করার মতো সৌজন্য দেখিয়েছেন।

মুহিত আরো স্বীকার করলেন পুঁজিবাজার নিয়ে তার পূর্ববর্তী বক্তব্যগুলোও ভুল ছিল। তিনি বলেছিলেন, শেয়ার বাজার অতি মূল্যায়িত নয়। তবে আজ স্বীকার করলেন তার এ দাবী ভুল ছিল। তিনি বলেছিলেন ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর পুঁজিবাজারে ধস নামানো যাবে না। তবে গত কয়েক দিনের দরপতন প্রমাণ করেছে তার সে আশ্বাসবাণী ভুল ছিল। অবশেষে অর্থমন্ত্রী স্বীকারও করলেন পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট রয়েছে। অবশ্য কিছুদিন আগেই এ ব্লগে বলেছিলাম পুঁজিবাজারের ধস ঠেকাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও অর্থমন্ত্রী আস্থার সংকট রয়েছে স্বীকার করেছেন, তবে বুঝতে পারছেন না কিভাবে আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে। তার সুবিধার্থে সবচেয়ে সহজ উপায়টিও তাকে বাতলে দিয়েছিলাম এ ব্লগে, বলেছিলাম, অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। প্রকৃতপক্ষে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট শুধুমাত্র পুঁজিবাজার কেন্দ্রিকই নয় বরং এ আস্থার সংকট পুরো সরকারের বিরুদ্ধেই আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির আগুণে শেখ হাসিনার “নৌকা মার্কায় ভোট দেব, দশ টাকা সের চাল খাব” স্লোগানে প্রশান্তির বারি বর্ষিত হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমারোহনের পরপরই বেমালুম সে কথা ভুলে গেলেন, এমনকি দশ টাকা সের চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি শেখ হাসিনা কখনো দেননি বলে প্রত্যাখ্যানও করেন। অথচ দেশের সাধারণ মানুষের সামনে দশ টাকা সের চালের মুলো ঝুলিয়ে আতাতের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতারোহনের পরে একের পর এক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা, আইন-শৃংখলার চরম অবনতি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রক্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সমস্যা, নারীর বিরুদ্ধে যৌন সন্ত্রাস, শিক্ষাঙ্গণে দলীয় ছাত্র সংগঠনের সীমাহীন সন্ত্রাস, দেশবিরোধী  চুক্তি, ভারতকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি, সবকিছুই সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করে, আস্থাহীন করে তোলে।

বিগত  পৌর নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন সরকারের প্রতি জনতার আস্থাহীনতাকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। এ মুহুর্তে আস্থার সংকট মোকাবেলায় অবশ্যই সরকারকে বিরোধী সাহায্য কামনা করতে হবে। অর্থমন্ত্রী যেভাবে তার দায় স্বীকার করলেন, সেভাবে সরকারকেও তাদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে হবে, জনসম্মুখে তাদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বিরোধীদলের সহায়তায় এ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলার ঘোষণা দিতে হবে। তবেই সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ফিরে আসতে পারে।

মনে রাখতে হবে সরকারের দিকে সুনিশ্চিত ভয়াবহ বিপর্যয়ের তেড়ে আসছে। বিপর্যয় এড়ানোর কোন সুযোগ এ মুহুর্তে দেখা যাচ্ছে না, তবে বিপর্যয়ের গতি কিছুটা শ্লথ করা যায় মাত্র। আর তা সম্ভব ব্যর্থতার দায় স্বীকারের মাধ্যমে এবং বিরোধী দলের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে। আর এ মুর্হুতে সবচেয়ে হলো জাতীয় ঐক্য। তাই জাতির বিভাজনের সকল কার্যক্রম থেকে সরকারকে সর্বাগ্রে বেরিয়ে আসতে হবে।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন