মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আকুল আবেদন

মহামান্য রাষ্ট্রপতি, জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার গুরুদায়িত্ব স্বীয় কাধে গ্রহণ করে দেশের ১৪ কোটি জনতার মনে যে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন তার জন্য আপনাকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও মোবারকবাদ। শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধ্যক্যের পেরেশানী সত্ত্বেও দেশের জনতার ভূলুষ্ঠিত জান ও মাল রক্ষার্থে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত জাতিকে অনিশ্চিত অন্ধকার থেকে মুক্তি দিয়েছে, তা জাতি চীরদিন সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করবে।

বিগত কয়েকটা দিন স্মরণকালের জঘন্যতম যে নারকীয় তান্ডব ১৪ দলীয় জোট দেশব্যাপী চালিয়েছে তা দেশের আম-জনতাকে ভীত সন্ত্রস্ত ও উৎকন্ঠিত করে তুলেছে। দেশের জনগনের অধিকার আদায়ের নামে নিরীহ নাগরিকদের প্রাণ স্পষ্ট দিবালোকে যে পৈশাচিক উন্মত্ততায় হরণ করা হলো তা বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। যে শিশু এ নিসংশতা দেখেছে সে শিশুর পক্ষে আর কোনদিনও কি সম্ভব হবে এ বিভ্যৎস দৃশ্য মন থেকে মুছে ফেলা? না সম্ভব নয়, বরং এ দৃশ্যের সাথে যোগ হবে আরো হাজারো হরর কল্পনা যা শিশুটিকে তাড়িয়ে বেড়াবে আমৃত্যু অনিশ্চয়তার দিকে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর কোন দিনই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশংসয় হতে পারবে না। যে মায়েরা টগবগে তরুনদের পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে উল্লাস করেতে দেখেছেন মানুষবেশী হায়েনাদের, তাদের পক্ষে কি আর কখনো সম্ভব হবে নাড়ীছেড়া ধন সন্তানদের ঘরের বাইরে পাঠিয়ে একদন্ড স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার। না সম্ভব নয়, বাংলায় মায়েদের চোখে ভাসবে হায়েনাদের বিভৎস মুখ, পৈশাচিক উল্লাস।

আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অপরিহার্য নাম, আমি যেমন তা জানি দেশের সকল নাগরিকই তা মানে। এ দলটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানের বীরত্বগাঁথা। আজো দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণে প্রাণে বাঁজে ৭ মার্চের ভাষণ।

তাহলে আওয়ামী লীগ এমন উন্মত্ত হায়েনার মতো আচরণ কেন করছে? আওয়ামী লীগের আচরণ জাতির কাছে একটা বড় প্রশ্ন বোধক চিহ্ন হয়ে ঝুলে ঝুলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ২০০১ সালে আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ জনগণের উপর যে পাশবিক দমন-নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, দাড়ি টুপি যেভাবে আক্রমনের টার্গেটে পরিণত হয়েছিল তা দেশের সাধারণ মানুষকে করেছিল বিক্ষুব্ধ। ৫ বছরের বিভীষিকাময় আওয়ামী শাসনামলে সাধারণ মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু মোদ্দাকথা পুরো দেশটাই জিম্মি হয়ে পড়েছিল। সাধারণ জনতার দল নামে খ্যাত আওয়ামী লীগ তাদের শরীর থেকে সাধারণ মানুষের পোষাকটাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসী লেবাস ঘরে ষোলআনা সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছিল। এর উপযুক্ত জবাবও সাধারণ জনগণ দিয়েছিল ব্যালটের মাধ্যমে, রাজনীতির আস্তাকুড়ে ছুড়ে মেরেছিল আওয়ামী অপশক্তিকে।

ইতিহাসের শিক্ষা এই যে বাঙালী ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না। যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য আওয়ামী লীগ আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, সেই অপকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হয়ে, শুদ্ধ না হয়ে সাধারণ জনতার উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে অপেক্ষা করে ৪দলীয় জোটের বিদায়ের জন্য। আর ৪দলীয় জোটের বিদায়ের মুহূর্তেই মোক্ষম আঘাতটি হানে ওরা, যার বিভৎসতা দেখে সাধারণ মানুষ আৎকে উঠেছে। একের পর এক নির্বিচারে মানুষ হত্যায় আওয়ামী অপশক্তির দক্ষতা ও স্বতস্ফুর্ততা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় যে মানুষ হত্যা করা এদের পেশা, মানুষ হত্যা করাকে রিতিমত শিল্প বলে মনে করে ওরা। বৈঠার আঘাতে হাজারো জনতার সামনে, অগুণিত ক্যামেরার সামনে, কোটি কোটি টিভি দর্শকের সামনে যেভাব পিটিয়ে পিটিয়ে মাথার ঘিলু বের করে দেয়া হলো তা কোন বিবেকবান সুস্থ্য মানুষ মুখবুজে সহ্য করতে পারে না।

৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য এক সচিবকে দিগম্বর করে তাদের আসল চরিত্র সবার সামনে তুলে ধরেছিল, ধর্ষণে সেঞ্চুরী করে মিষ্টি বিলিয়ে মা-বোনদের ইজ্জত হরণকে উৎসবে পরিণত করেছিল সেই একই চরিত্র দেখা গেছে গত কয়েকটি দিন। আবারো পুলিশসহ নিরীহ যুবকদেরকে দিগম্বর করে আওয়ামী লীগ সবার সামনে দিবালোকের মতো স্পষ্ট করে দিল যে তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের মা-বোন আর সাধারণ জনতা মোদ্দাকথা বাংলাদেশকে ঘর্ষণ করে, রক্তাক্ত করে গলাটিপে হত্যা করবে । আওয়ামী পৈশাচিক অত্যাচার নীপিড়ন দেখে সাধারণ মানুষের মনে ভেসে উঠেছে পূর্ববর্তী আওয়ামী অপশাসনের দুঃস্বপ্নের চিত্র। চৌদ্দকোটি মানুষের বুঝতে বাকী নেই যে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় সন্ত্রাসী অপশক্তি আবারো ক্ষমতায় এলে এদেশের সাধারণ মানুষকে কতটা চরম মূল্য দিতে হবে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আপনার কাছে আকুল আবেদন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অন্তত দেশের মানুষের জন্য একটি ভালো কাজ করুন, অন্তত একটি বার নিরপেক্ষ থেকে নির্ভয়ে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ করে দিন। আওয়ামী অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশের আপামর জনতার যে তীব্র ঘৃণা রয়েছে অন্তত একটি বার আমরা নির্ভয়ে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে এই অপশক্তিকে রাজনীতির নর্দমায় বিসর্জন দিতে চাই। ৩০লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মাবোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত সোনার বাংলার চৌদ্দকোটি সোনার মানুষের নিরাপদ জীবনের জন্য অন্তত এই একটি বার রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের রক্ষক হিসেবে আমাদের মুখ পানে তাকাবেন এতটুকু প্রত্যাশা কি আমরা আপনার কাছে করতে পারি না?

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন