নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছেই

দৈনিক সংবাদ ১৫ জানুয়ারী ২০১১ তারিখের প্রতিবেদন

বেড়েছে ভোজ্যতেল চালের দাম

বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নেই কোন সুখবর। গত এক সপ্তাহের ব্যাবধানে বাজারে চাল, রসুন, ভোজ্যতেলসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে নতুন করে। সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ভোজ্যতেলর দাম নির্ধারণ করে দিলেও নির্ধারিত দামের ধারে-কাছে নেই ভোজ্যতেল। এক নমুনা জরিপে দেখা গেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে গত এক বছরে মানুষের খাদ্য ব্যয় বেড়েছে সর্বাধিক ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে মানুষের আয়ের তুলনায় খরচ বেড়েছে ২৪ ভাগ। গতকাল কাঁঠালবাগান বাজারে প্রতি কেজি পারি চাল বিক্রি হয় ৩৫ টাকা দরে। গরিবের চাল নামে পরিচিত এ চালের দাম গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে। এ বাজারে সবচেয়ে ভাল মানের মিনিকেট চাল বিক্রি করতে দেখা যায় ৪৮ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ভালো মানের মিনিকেট চাল বিক্রি করতে দেখা যায় ৪৬ টাকা কজি দরে। বাজারে নতুন চাল এলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ টাক। মাঝারি মানের মিনিকেট চালের দাম আগের সপ্তাহে ৩৩ টাকা থাকলেও গতকাল এর দাম ছিল ৪৪ টাকা, ৩০ টাকার একটু নিম্ন মানের মিনিকেট এ বাজারে গতকাল বিক্রি হয় ৩৮ টাকা দরে। উৎসব নামে পরিচিত ভালো মানের নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয় ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায়, মাঝারি মানের নাজিরশাইল বিক্রি হয় ৪৪ টাকা, হাস্কি নাজির নামে খ্যাত চাল ৪২ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হয়। নিম্ন মানের নাজিরশাইলের চাল গতকাল এ বাজারে বিক্রি হয় ৪২ টাকা কেজি দরে। গতকাল প্রতি কেজি বিআর-২৮ চালের দাম ছিল ৪০ টাকা, একই প্রকার আবাছা চাল বিক্রি হয় ৩৮ টাকা। এদিকে চালের দাম কিছুটা বাড়ার কারণে ওএমএসএ চালের চাহিদা বেড়ে গেছে। চালের পরিমাণ কম হওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়েও চাল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেকে।
চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার চাল ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ মেয়াদ কমানো, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খোলা বাজারে ২৫ টাকা দরে ওএমএসরে চাল বিক্রিসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিলেও বাজারে এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়ছে না। গতকাল কাঁঠালবাগানে বাজার করতে আসা আনিছুর রহমানের কাছে চালের দাম যৌক্তিক কি না জানতে চাইলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন, এ দাম যৌক্তিক মনে না হলে সরকারকে আরও ৫০ টাকা বাড়াতে বলেন। কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে চালসহ নিত্যপণ্যের দামের ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা প্রত্যেকে বাজার দর নিয়ে বেশ ক্ষেপেছে বলে মনে হয় তাদের প্রতিক্রিয়ায়। আর চাল ব্যবসায়ীরা বরাবরের মতোই চালের দাম বৃদ্ধির জন্য পাইকারি ব্যবসায়ীদের দোষারাপ করেছে।
ভোজ্যতেল এতটাই পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে যে বাণিজ্যমন্ত্রী ও এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরা ধরতেই পারছে না এর লাগাম। চলতি মাসের প্রথম দিকে সারাদেশে পরিবেশক নিয়োগের মাধ্যমে একদামে ভোজ্যতেল বিক্রি ও প্যাকেটজাত তেল বিক্রির কথা থাকলেও দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও এর কোন প্রয়োগ চোখে পড়েনি রাজধানীর কোথাও। বরং আগের সপ্তাহের তুলনায় ভোজ্যতেল লিটারে ১০ টাকা ও পাঁচ লিটার বোতল ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। খোলা সয়াবিন কোথাও মিলছে না ১১০ টাকার নিচে। অথচ সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এর আগে কয়েকবার ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সরকারের বেঁধে দেয়া দামের কথা ভুলে গেছে ব্যবসায়ীরা।
গতকাল ফ্রেশ ব্যান্ডের ১ লিটার সয়াবিন তেল কাঁঠালবাগান বাজারে বিক্রি হয় ১১০ টাকায়, এ ব্র্যান্ডের ৫ লিটার সমপরিমাণ তেল বিক্রি হয় ৫৩০ টাকা দরে। সরকারের নির্ধারণ করা দাম অনুসারে এ ৫ লিটার তেরের দাম হওয়ার কথা ৫০০ টাকা। অথচ বাজারে সব ধররের সয়াবিন তেলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে অনেক বেশি। রূপচাঁদা, তীর ব্র্যান্ডের তেল ১১০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায় গতকাল। একই ব্র্যান্ডের ৫ লিটার তেলের দাম ছিল ৫৪০ থেকে ৫৩০ টাকা। এছাড়া প্রতি ৫ লিটার পুষ্টি ব্র্যান্ডের তেলের দাম ছিল ৫২০ টাকা। প্রতি দুই লিটার ফ্রেশ, রূপচাঁদা, তীর ব্র্যান্ডের তেল ২০৬ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। পুষ্টি ব্র্যান্ডের দুই লিটার তেল গতকাল রাজধানীর বাজারে বিক্রি হয় ১৯৪ টাকা দরে।
আগের বর্ধিত দামেই বিক্রি হচ্ছিল রসুন। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে এক দফা দাম বেড়েছে রসুনের। কাঁঠালবাগান বাজারে গতকাল ভারত থেকে আমদানি করা রসুন বিক্রি হয় ১৪০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহ এ মানের রসুনের দাম ছিল ১২৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে রসুনের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। গতকাল এক কড়া রসুনের প্রতি কেজির দাম ছিল ২৪০ টাকা। পিঁয়াজের ভরা মৌসুম ও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও গতকাল বাজারে প্রতি কেজি পিঁয়াজ বিক্রি হয় ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি দরে। অথচ প্রতি বছর এ সময়ে পিঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম থাকে ১২ থেকে ১৫ টাকা। গতকাল এ বাজারে প্রতি কেজি শুকনা মরিচের দাম ছিল ১৫০ টাকা, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এছাড়া আদা ১৪০ টাকা, মান ভেদে ২০০ টাকা।
গতকাল রাজধানীর কয়েকটি কাঁচা বাজারে আলু বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকা দরে, শিম ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। আগের দামের চেয়ে কিছুটা কম দামে সব সবজি বিক্রি হয় গতকাল। ধরন অনুযায়ী ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয় প্রতিটি ফুলকপি। বাঁধা কপির আকার অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গতকাল কাঁঠালবাগান বাজারে প্রতি কেজি করলা ৫০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, শসার দাম ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় গতকাল। গতকাল প্রতি হালি কলার দাম ছিল ১৪ থেকে ১৬ টাকা। মুলার দামও ছিল আগের মতোই। প্রতি কেজির দাম গতকাল ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এ বাজারে গতকাল প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে। ঢেঁড়শের দাম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল বিক্রি হয় ২০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে বাজারে প্রতি কেজি পটলের দাম ছিল ৩০ টাকা। একইভাবে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ৩৫ টাকা, ধুন্দল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। গতকাল কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।
বাজারে মসুর ডালের দাম অনেকটা স্থির রয়েছে। গতকাল কাপ্তান এবং কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি ছোট দানার নেপালি মসুর ডাল বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১০৫ টাকা, মোটা দানার মসুর ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, খেসারি ৪৪ টাকা, মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোলা ৫৫ টাকা, ডাবিস্ন ২৮, এংকর ২৮ টাকা, মাষকলাই ৯৫ থেকে ১০০ টাকা এবং সোনামুগ ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় ।
গতকাল কাঁঠালবাগান বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হয় ১২০টাকা কেজি দরে। গরুর মাংস বিক্রি হয় ২৫০ টাকা, খাসি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। গত সপ্তাহের মতো মাংসের বাজার ছিল স্থিতিশীল। এ ছাড়া আটা, চিনি, ময়দাসহ বেশ কিছু পণ্যের দামও স্থিতিশীল ছিল। গতকাল কাপ্তান বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম কিছুটা বেড়ে বিক্রি হয় ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, প্রতি দুই কেজি আটার দাম গতকাল ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় এর দাম একটু বেশি।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন