এমপির বাসায় ডাকাতি: আইন-শৃংখলার উন্নতি

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর আইন শৃংখলা পরিস্থিতি যে আগের যে কোন সময়ের তুলনায় ভালো তার একটি নমুনা হতে পারে আজকের ভোররাতে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার দূর্ধর্ষ ডাকাতি। মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য আলী নেওয়াজ খানের ২৪/বি, মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার বাড়িতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৬ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে বন্দী করে দেড়শ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও দুটি ডিজিট্যাল ক্যামেরা লুট করে (প্রকাশ্য তালিকা, অপ্রকাশ্য দীর্ঘ তালিকা আপাতত গোপনই থাক)।

এর দু’দিন আগে আওয়ামী লীগের এক নারী সংসদ সদস্যের বাসায় ডাকাতি হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন জোর গলায় চিৎকার করেছিলেন, দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অতীতের চেয়ে ভালো বলে এবং একই দিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ২০০ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ঘোষণা করেছিলেন দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো। আর এর একদিন পর ঢাকা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে মতিঝিলে দিনে দুপুরে যখন যুবদল নেতা খুন হলেন তখনও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললছেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলা যাবে না। দেখতে হবে সরকার এসকল ঘটনার পর কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রকৃত ঘটনা এই যে চোর-ডাকাত, খুনী-সন্ত্রাসীবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে বাংলাদেশে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি এখন অপরাধ জগতের বাসিন্দাদের জন্য এতটাই অনুকূল যে তা সবাইকে ৭২-৭৫ সালের রক্ষীবাহিনীর সোনালী যুগের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ বরাবরই লুটপাট আর সন্ত্রাসের সেই ৭২এর সময়ে ফিরে যেতে উদগ্রীব আর সে প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে একের পর এক অপরাধের মহাসড়ক তৈরী করে বাংলাদেশকে ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চিত অন্ধগহ্বরে।

দেশবাসী মুক্তি চায়, আওয়ামী জাহেলিয়াত থেকে মুক্তি চায়। চোর-ডাকাত আর লুটেরা-সন্ত্রাসীবান্ধব আইন-শৃংখলার শৃংখল থেকে মুক্তি চায়।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

মন্তব্য করুন