অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে

Don’t Expect Overnight Gain” ঠিক জুয়াড়িদের ভাষায় শেয়ার বাজার ধ্বংসের মন্ত্র উচ্চারণ করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এবং কি আশ্চর্য, রাত পেরিয়ে সকাল হতে না হতেই জাতি প্রত্যক্ষ করল আসলেই overnight gain পরিণত হয়েছে nightmare এ।  পুঁজিবাজারের বিপর্যয়ের এই কঠিন সময়ে সাধারণ বিনিয়োগ কারীদের আশা ছিল অর্থমন্ত্রীর অর্থপূর্ণ কোন সিদ্ধান্তে পাল্টে যাবে শেয়ারবাজারের চিত্র, পতনের গতি রুদ্ধ করে আবার শেয়ার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নেবেন সফল সিদ্ধান্ত।  কিন্তু তিনি পুরো জাতিকে হতাশ করে পুঁজিবাজারের মৃত্যুঘন্টা বাজিয়ে দিলেন। একই সাথে ছোটখাট যে জুয়ারিরা তখনো বাজারে ছিল তাদেরও সতর্ক করে তুলে নিলেন, “Hurry up! Its time!”.

হ্যা, জুয়ারীদের ভাষা-ই তো! জুয়ারীদের জন্যই এ বচন প্রচলিত। আর এ কারণেই জুয়ারীরা জানে কখন জুয়ায় ডুবে থাকতে হয়, আবার কখন উঠে আসতে হয় জুয়ার আসর থেকে, কারণ তারা জানেন “overnight gain” চলে না, । পাঁকা জুয়ারীরা রাত জেগে জেগে জুয়ার আসরে একের পর এক দান জিতিয়ে ফাঁদপাতে, অবশেষে সর্বশান্ত হয়ে ঘরে ফিরতে হয় সাধারণ জুয়ারীদের। ঠিক তেমনি ডিএসই ও সিএসই নামের জুয়ার ক্যাসিনোয় আওয়ামী ও ভারতীয় জুয়ারীদের আগ্রাসী ভয়ংকর ফাঁদে সর্বস্ব হারিয়ে উদ্ভ্রান্ত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী। দিনের পর দিন বুনো ষাড়ের মতো শেয়ার বাজার লাফিয়ে লাফিয়ে অতিমূল্যায়িত করে জুয়ারীরা, তবু নিশ্চুপ ছিলেন অর্থমন্ত্রী, নিশ্চুপ ছিল সরকার। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ বার বার সতর্ক করেছেন, কানে তোলেন নি অর্থমন্ত্রী, বলেছেন, লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর শেয়ারে ধস নামানো যাবে না। কেন বলেছিলন? কার স্বার্থে?

শাহ এ এম এস কিবরিয়া হঠাৎ করেই রাজনীতিতে আসেন। রাজনীতির ঘোরপ্যাঁচ তখনো বুঝে উঠতে পারেন নি। শেয়ার বাজারের বয়েসও বেশী নয়। তাই শেয়ার বাজার সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেয়ার সুযোগও সাবেক এই অর্থমন্ত্রী হয়ে ওঠেনি। ৯৬ সালের ভয়াবহ শেয়ার বিপর্যয়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি অকপটে স্বীকার করেছিলেন, শেয়ার বাজার তিনি বোঝেন না। রাজনীতিদ হলেও তার তখনও সত্য মেনে নেয়ার মতো ভদ্রতাজ্ঞান ছিল। তবে দিন পাল্টেছে, শেয়ার বাজার পরিপক্ক হয়েছে ঠিক তেমনি অর্থমন্ত্রণালয়েও দায়িত্বে এসেছেন বয়সেরভারে ন্যুব্জ মেয়াদোত্তীর্ণ মন্ত্রী। শাহ কিবরিয়া জানতেন তিনি শেয়ার বাজার জানেন না, কিন্তু বর্তমান অর্থমন্ত্রী জানেন, তিনি শেয়ার বাজার ভালো বোঝেন, শুধু ভালো নয় বরং একটু বেশীই বোঝেন, ঠিক জুয়ারীদের মতো। আর তাইতো একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত দিয়ে শেয়ারবাজারের বারোটা বাজিয়ে দেশের মানুষকে সর্বশান্ত করে চলেছেন। কার স্বার্থে? অতি মূল্যায়িত পুঁজি বাজারের পতন ছিল অনিবার্য। কিন্তু অতিমূল্যায়ন কারা করছে কেন করছে তা খোঁজ না নিয়ে খাঁটি সরিষার তেলে নাক ডুবিয়ে দিব্যি বগল বাজিয়ে গেছেন অর্থমন্ত্রী। এখন তিনি কি বলবেন?

না, বিএনপি নয়, নয় জামায়াতে ইসলামী কিংবা অন্য কোন দল, এবার সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে লক্ষ লক্ষ সাধারণ বিনিয়োগকারী, যারা হারিয়েছেন তাদের জমি বেচা শেষ সম্বল, মায়ের নাকের নোলক, বউয়ের গলার হার, সন্তানের মুখের হাসি। এদের কেউ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, কেউ বা বিএনপির সমর্থক। সর্বস্ব হারিয়েছে সর্বদলের লোক। তাইতো মাঠে আজ সর্বদলীয় সর্বহারার দল। সরকার পতনে রাজনৈতিক আন্দোলন নয় বরং অস্তিত্ব রক্ষায় সর্বশান্ত মানুষের আন্দোলনই যথেষ্ট।

তাই সরকারের গদি বাঁচাতে হলে পুঁজি বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। পুঁজি বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ মুহুর্তে অবশ্যই কোন চমক দেখাতে হবে সরকারকে। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ চমকটি হতে পারে অর্থমন্ত্রীর পদচ্যুতি। জনতার শক্তি সম্পর্কে যদি ন্যূনতম আস্থা থাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অবিলম্বে অর্থমন্ত্রীকে বরখাস্ত করুন; নতুন কোন ক্যারিশম্যাটিক নেতার (প্রয়োজনে বিরোধীদল থেকে) হাতে অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার মাঝেই শেয়ারবাজারের আস্থা আপাত ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এখন দেখার বিষয় অর্থমন্ত্রী নিজেই পদত্যাগ করে বিচক্ষণতার পরিচয় দেবেন নাকি প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীকে পদচ্যুত করে শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হবেন নাকি জনতা নিজ হাতেই গড়ে নেবে তাদের ভবিষ্যত!!!

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. limon ahmed বলেছেন:

    Darun ekta dailog paisen, kissu hoilei stupid khaleda r BNPer moto bolen sorkar r montrira podottag koren. Ei mia ekbar vabsen,,, jokon share businesse lakh lakh taka lav hoy tokhon kuno halay jonogonre 1 poysa den na? 2 taka loss holei vangchur, lutpat kore kuti takar sompod nosto koren!! keno vai? r kotodin sobai osovvo hoye thakben? keno nijer dukkoke mante parenna? manush maren, gary vangen, agun jalan! keno bolben ki?

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন