গ্রীন ব্যাংকিং চালু করছে ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ব প্রথম ইসলামী শরী’আহ ভিত্তিক ব্যাংক। কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ধারার প্রবর্তক এ ব্যাংকটি শুরু থেকেই গ্রীন ব্যাংকিং পরিচালনা করে আসছে যদিও ইদানিং গ্রীন ব্যাংকিং শব্দটি বেশী বেশী আলোচিত হওয়ায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের ২০১১ সালের স্লোগানে (2011: year of welfare & green banking)  গ্রীন ব্যাংকিং ধারণাটিকে স্থান দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ধারণাটাই গ্রীন ব্যাংকিংয়ের পরিপূরক। তবে নৈতিকতাকে যদি হিসেবে আনা না হয় তবে প্রকৃতিবান্ধব ব্যাংকিং ব্যবস্থাকেই গ্রীন ব্যাংকিং বলা হয় এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড সম্ভবত ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ধারণার সাথে পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিংকে আরো বেশী গুরুত্ব দিয়ে এ সেশনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছে বিধায় ২০১১ সালের শ্লোগানে গ্রীন ব্যাংকিং ধারণাটিকে যুক্ত করা হয়েছে।

তবে গ্রীন ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক পেপারলেস ব্যাংকিং এর দিকে বেশী মনোযোগী হবে বলে আশা করা যায়, বিশেষ করে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দিকে তাদের দৃষ্টি আরো বেশী সম্প্রসারণ করবে বলে মনে হয়। আর ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অন্তত আগামী ১০ বছরের মাঝে পুরো বিশ্ব থেকে কাগুজে নোটের প্রচলন বন্ধ হবে এমনটা আশা করা বোধহয় বাতুলতা হবে না। গ্রামে গঞ্জে ইতোমধ্যেই মোবাইল ব্যবহারে শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়াগুলো যদি সাধারণ মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং বিষয়টি ৫ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী টার্গেট নিয়ে শেখাতে পারে তবে সেদিন বেশী দূরে নয় যে কাঁচাবাজারেও এক কেজি আলুর দাম মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক পরিবেশ বান্ধব খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগে সচেষ্ট হবে এমনটাই আশা করা যায়। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে যে ব্যাপক দূর্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে সে ক্ষেত্রে ব্যাংকটির ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, পরিবেশ বান্ধক শিল্পস্থাপন, সৌরবিদ্যুৎ চালিত গাড়ি, বোট ইত্যাদি আমদানীর ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষি নির্ভর শিল্প ও রিসাইকেলিং শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে অন্যান্য শহরমুখী ব্যাংকগুলোকেও গ্রামের দিকে নজর দিতে হবে। আর অবশ্যই ব্যাংকের নিজস্ব পরিবেশে গ্রীন ব্যাংকিংয়ের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে, বিশেষ করে অফিসে বিদ্যুৎ ও অফিস স্টেশনারীর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক আলো বাতাসের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিতে প্রয়োজনে অফিসগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।

সারা বিশ্বে পরিবেশ বাঁচানোর  আন্দোলন শুরু হয়েছে এমনকি সার্চ ইঞ্চিনের ক্ষেত্রেও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সম্পৃক্ত হয়েছে। এবার বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকও এগিয়ে এল। এভাবে প্রতিটি সেক্টরই যদি পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসে তবে আগামীর পৃথিবী হবে বিশুদ্ধ বাতাস আর সোনালী আলোয় ভরা  ভূস্বর্গ। আর সে আন্দোলনে কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ধারার পথিকৃত ইসলামী ব্যাংক  অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এটাই স্বাভাবিক। ব্যাংকটি তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যদি প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিকে বেশী গুরুত্ব দেন তবে তা সহজেই সম্ভব হবে। আর এক্ষেত্রে ব্যাংকিং সেক্টরের অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা বন্ধে সবারই এগিয়ে আসতে হবে। বিগত বছরের শেষ সপ্তাহে ব্যাংকগুলো যে অসুস্থ্য ব্যাংকিংয়ের নজীর স্থাপন করেছে তাতে গ্রীণ ব্যাংকিং খুব বেশী অগ্রগতি সব ব্যাংকের কাছ থেকে আশা করা যায় না। যে সকল ব্যাংক১৯০% সুদে কলমানিতে টাকা খাটায় সে ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিরা ব্যক্তিজীবনে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা ভাববার বিষয়। যারা দূর্বলতাকে সম্বল করে ১০০ টাকায় ১৯০ টাকা সুদ চাওয়ার মতো নির্লজ্জ হতে পারে তাদের কাছ থেকে গ্রীন ব্যাংকিং আশা করা অমূলক। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো শুরু থেকেই কলমানি মার্কেট টাকা খাটানো থেকে বিরত থেকে গ্রীন ব্যাংকিং তথা এথিক্যাল ব্যাংকিংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছ। আমানত গ্রহণ, বিনিয়োগ প্রদান, মূলধন পরিচালনা, পুঁজিবাজার, কলমানি মার্কেট, বৈদেশিক বাণিজ্য সবক্ষেত্রে নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে সুস্থ্যধারা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই সফল গ্রীন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।অনৈতিক ও বিবেকবর্জিত ব্যাংকিং করেনি করেনা বিধায় ইসলামী ব্যাংকের দ্বারাই  গ্রীন ব্যাংকিংয়ে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, সবুজ জীবনের প্রতীক, সুস্থ্যতার প্রতীক।

Be Sociable, Share!

এ লেখাটি প্রিন্ট করুন এ লেখাটি প্রিন্ট করুন

“গ্রীন ব্যাংকিং চালু করছে ইসলামী ব্যাংক” লেখাটিতে একটি মন্তব্য

  1. zia বলেছেন:

    Green banking and Welfare are linked each other, but to establish Green Banking, central bank should set up some long term framework.
    Besides, all the in-hose activities of a banker should eco-friendly.

    [উত্তর দিন]

মন্তব্য করুন